ঢাকা ০২:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

লগি-বৈঠা আন্দোলন: দুই দশক পূর্তিতে জামায়াতের দুই দিনের কর্মসূচি

আলোচিত ও রক্তক্ষয়ী ‘লগি-বৈঠা আন্দোলন’-এর দুই দশক (২০ বছর) পূর্তি উপলক্ষে দুই দিনের কেন্দ্রীয় কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। আগামী ২৭ ও ২৮ অক্টোবর দেশব্যাপী এই কর্মসূচি পালন করা হবে। রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে এক বিবৃতির মাধ্যমে এই কর্মসূচি ঘোষণা করে দলটি।

জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়, ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর ঢাকার রাজপথে লগি-বৈঠার নজিরবিহীন তাণ্ডব ও নৃশংসতা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি কলঙ্কজনক ও কালো অধ্যায়। সেদিনের সেই নির্মম হত্যাকাণ্ড ও নৈরাজ্যের মাধ্যমেই দেশে দীর্ঘ দুই দশকের ফ্যাসিবাদ, গণতন্ত্র হত্যা এবং নাগরিক অধিকার হরণের বিষবৃক্ষ রোপিত হয়েছিল।

তিনি আরও বলেন, ঐতিহাসিক এই ঘটনার দুই দশক পূর্ণ হতে চললেও আজও মূল হত্যাকারীদের বিচার হয়নি, যা অত্যন্ত দুঃখজনক ও লজ্জাজনক। এই পৈশাচিক ও বর্বর হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত দুর্বৃত্তদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।

ঘোষিত কর্মসূচি:

২৭ অক্টোবর: রাজধানী ঢাকায় একটি বিশেষ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।

২৮ অক্টোবর: ঢাকা সহ সারা দেশে বিক্ষোভ মিছিল, আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠান পালিত হবে।

জামায়াতের সব শাখা এবং দেশের কৃষক, শ্রমিক, ছাত্র-জনতা ও পেশাজীবীসহ সর্বস্তরের মানুষকে এই কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল।

প্রেক্ষাপট:
২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর তৎকালীন বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের মেয়াদের শেষ দিনে ঢাকায় মহাসমাবেশ ডাকে বিরোধী দল আওয়ামী লীগ ও ১৪ দলীয় জোট। সদ্য অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি কে এম হাসান যাতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নিতে না পারেন, সেই বিরোধিতাকে কেন্দ্র করে তখন তুমুল আন্দোলন গড়ে তোলা হয়েছিল।

ওইদিন পল্টন ও বায়তুল মোকাররম এলাকায় জামায়াতে ইসলামী এবং আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে মুখোমুখি ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ বাধে। সেদিন ঢাকার রাজপথে প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শন, গুলিবর্ষণ এবং মানুষ পিটিয়ে হত্যার দৃশ্য দেশজুড়ে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করে। ২৮ অক্টোবরের আগে ও পরের তিন দিনের তুমুল রক্তক্ষয়ী এই রাজনৈতিক সংঘাতে সেবার রাজপথের নিয়ন্ত্রণ নেয় আওয়ামী লীগ, যা পরবর্তীতে দেশের রাজনীতিতে ‘লগি-বৈঠার আন্দোলন’ নামে পরিচিতি লাভ করে।

বাংলা৭১নিউজ/এসএইচবি

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

লগি-বৈঠা আন্দোলন: দুই দশক পূর্তিতে জামায়াতের দুই দিনের কর্মসূচি

আপডেট সময় ০১:৫১:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

আলোচিত ও রক্তক্ষয়ী ‘লগি-বৈঠা আন্দোলন’-এর দুই দশক (২০ বছর) পূর্তি উপলক্ষে দুই দিনের কেন্দ্রীয় কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। আগামী ২৭ ও ২৮ অক্টোবর দেশব্যাপী এই কর্মসূচি পালন করা হবে। রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে এক বিবৃতির মাধ্যমে এই কর্মসূচি ঘোষণা করে দলটি।

জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়, ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর ঢাকার রাজপথে লগি-বৈঠার নজিরবিহীন তাণ্ডব ও নৃশংসতা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি কলঙ্কজনক ও কালো অধ্যায়। সেদিনের সেই নির্মম হত্যাকাণ্ড ও নৈরাজ্যের মাধ্যমেই দেশে দীর্ঘ দুই দশকের ফ্যাসিবাদ, গণতন্ত্র হত্যা এবং নাগরিক অধিকার হরণের বিষবৃক্ষ রোপিত হয়েছিল।

তিনি আরও বলেন, ঐতিহাসিক এই ঘটনার দুই দশক পূর্ণ হতে চললেও আজও মূল হত্যাকারীদের বিচার হয়নি, যা অত্যন্ত দুঃখজনক ও লজ্জাজনক। এই পৈশাচিক ও বর্বর হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত দুর্বৃত্তদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।

ঘোষিত কর্মসূচি:

২৭ অক্টোবর: রাজধানী ঢাকায় একটি বিশেষ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।

২৮ অক্টোবর: ঢাকা সহ সারা দেশে বিক্ষোভ মিছিল, আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠান পালিত হবে।

জামায়াতের সব শাখা এবং দেশের কৃষক, শ্রমিক, ছাত্র-জনতা ও পেশাজীবীসহ সর্বস্তরের মানুষকে এই কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল।

প্রেক্ষাপট:
২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর তৎকালীন বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের মেয়াদের শেষ দিনে ঢাকায় মহাসমাবেশ ডাকে বিরোধী দল আওয়ামী লীগ ও ১৪ দলীয় জোট। সদ্য অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি কে এম হাসান যাতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নিতে না পারেন, সেই বিরোধিতাকে কেন্দ্র করে তখন তুমুল আন্দোলন গড়ে তোলা হয়েছিল।

ওইদিন পল্টন ও বায়তুল মোকাররম এলাকায় জামায়াতে ইসলামী এবং আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে মুখোমুখি ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ বাধে। সেদিন ঢাকার রাজপথে প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শন, গুলিবর্ষণ এবং মানুষ পিটিয়ে হত্যার দৃশ্য দেশজুড়ে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করে। ২৮ অক্টোবরের আগে ও পরের তিন দিনের তুমুল রক্তক্ষয়ী এই রাজনৈতিক সংঘাতে সেবার রাজপথের নিয়ন্ত্রণ নেয় আওয়ামী লীগ, যা পরবর্তীতে দেশের রাজনীতিতে ‘লগি-বৈঠার আন্দোলন’ নামে পরিচিতি লাভ করে।

বাংলা৭১নিউজ/এসএইচবি