ঢাকা ০৫:০৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo রংপুর-রাজশাহীর পর চট্টগ্রামের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী Logo নারায়ণগঞ্জে অবৈধ জ্বালানি তেলের গোডাউনে আগুন Logo বিরোধীদল না এলেও সংবিধান সংশোধন কমিটির কার্যক্রম চলবে: আইনমন্ত্রী Logo বাংলাদেশে চীনা ব্যাংকের কার্যক্রম শুরুর সুযোগ তুলে ধরল চায়না এক্সিম ব্যাংক Logo কম্বোডিয়ার বন্দিদশা থেকে দেশে ফিরলেন ৩০ বাংলাদেশি Logo উত্তেজনার মধ্যে তেহরান সফরে পাক সেনাপ্রধান, কী বার্তা এলো Logo পুলিশ সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হলো অতিরিক্ত ডিআইজি জহিরকে Logo ভারতে কেন আম্বানির তেল শোধনাগারে যাচ্ছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী, কীসের ইঙ্গিত? Logo প্রধানমন্ত্রীর পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে কৃতজ্ঞতা হিন্দু সম্মিলন সংঘের Logo কালীগঞ্জে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষ, আহত ৩০

কতদূর পৌঁছাবে তেলের দাম

বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের কাছাকাছি রয়েছে। তেলের আরেকটি প্রধান মানদণ্ড ব্রেন্টের দামও প্রায় ১১০ ডলারে পৌঁছেছে।

এমন পরিস্থিতিতে তেলের দাম আরো বড় ব্যবধানে বাড়তে পারে বলে মনে করছেন জ্বালানি খাতের বিশ্লেষকেরা। তাদের আশঙ্কা, তেলের দামে অস্বাভাবিক বড় উল্লম্ফন দেখা যেতে পারে।

ইয়াহু ফাইন্যান্স জানায়, উইলিয়াম ব্লেয়ারের জ্বালানি খাতের গবেষণা বিশ্লেষক নিল ডিংম্যান ইয়াহু ফাইন্যান্সের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক ব্রুক ডিপালমাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন। ডিংম্যান বলেন, ‘বড় বড় তেল কম্পানির প্রধান নির্বাহীরা যেমনটা বলেছেন, তেমন বড় উল্লম্ফন আমরা দেখতে পারি।

আমি কি মনে করি, এটা সম্ভব? অবশ্যই।’

তেল কম্পানিগুলোর প্রধান নির্বাহীরা তাকে বারবার বলেছেন, আগামী কয়েক প্রান্তিক তেলের দাম আগের তুলনায় বেশি থাকবে। ডিংম্যানও তাদের সঙ্গে একমত। তার মতে, আগে বিশ্লেষকেরা তেলের স্বাভাবিক দাম ব্যারেলপ্রতি ৭০ থেকে ৮০ ডলার ধরে হিসাব করতেন।

এখন সেই দাম ৮০ থেকে ৯০ ডলারের মধ্যে থাকতে পারে। তবে কিছু সময়ের জন্য দাম ১০০ ডলারও ছাড়িয়ে যেতে পারে।

ডিংম্যান বলেন, ‘ইরানের ট্যাংকারে হামলার ঘটনা ঘটেছে। পণ্য পরিবহনের খরচও রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছে। মূলত তেল সরবরাহ ও কেনাবেচার বাজারে চাপ ক্রমেই বাড়ছে।

তেলের দাম বাড়ায় যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি খাতের কম্পানিগুলো লাভবান হচ্ছে। চলতি বছরে দেশটির শেয়ারবাজারে জ্বালানি খাতের শেয়ারের দাম ৫০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচকের ১১টি খাতের মধ্যে এই খাতেই সবচেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি হয়েছে। সূচকটির সামগ্রিক প্রবৃদ্ধি প্রায় ১২ শতাংশ।

গত ৩১ ডিসেম্বরের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের দাম ৭০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। একই সময়ে বিশ্ববাজারে ব্রেন্টের দাম বেড়েছে প্রায় ৮০ শতাংশ। ডিংম্যানের মতে, ভূরাজনৈতিক ও রাজনৈতিক ঘটনাগুলো এখন সরাসরি তেলের সরবরাহে প্রভাব ফেলছে। ফলে সরবরাহের সংকট সামাল দিতে অস্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের তেল মজুত থেকে তেল ছাড়া বা অন্য কোনো অস্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করা এখন খুব কঠিন হবে।’ যুক্তরাষ্ট্রের তেল মজুত ইতিমধ্যে ১৯৮২ সালের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে।

তেলের পাশাপাশি ডিজেলের দাম নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। ডিজেলের দামের গুরুত্বপূর্ণ মানদণ্ড হিসেবে ব্যবহৃত হিটিং অয়েলের আগাম চুক্তির দাম চলতি বছরে দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। হিটিং অয়েল মূলত ঘরবাড়ি গরম রাখতে ব্যবহৃত হয়।

ডিংম্যান বলেন, ‘আমার মনে হয়, আমরা ইতিমধ্যে রেকর্ড সর্বোচ্চ দাম দেখেছি। সামনে দাম আরো বাড়তে পারে।’ শীত ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে ডিজেল, পেট্রল ও ঘরবাড়ি গরম রাখার জ্বালানির দাম আরো বাড়তে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

তেলের দাম বাড়লে সাধারণ ভোক্তাদের খরচ বাড়বে। তবে এতে যুক্তরাষ্ট্রের তেল উৎপাদক কম্পানিগুলো লাভবান হবে। ডিংম্যানের ভাষায়, এসব কম্পানি এভাবেই বিপুল অর্থ আয় করতে থাকবে। তিনি জানান, তার বিশ্লেষণের আওতায় থাকা বেশির ভাগ তেল কম্পানি চলতি বছরের দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে রেকর্ড পরিমাণ অবাধ নগদ প্রবাহের কথা জানিয়েছে। তৃতীয় বা চতুর্থ ত্রৈমাসিকেও নতুন রেকর্ড হতে পারে বলে আশা করছেন তিনি।

তবে সব বিশ্লেষকই মনে করছেন না, তেলের দাম শিগগিরই বড় ধরনের উল্লম্ফন ঘটাবে। সোমবার গোল্ডম্যান স্যাকস আগামী ডিসেম্বর মাসে ব্রেন্টের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯০ ডলার এবং যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের দাম ৮১ ডলারে নামতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে। এই দুই দামই বর্তমানে বাজারে থাকা দামের চেয়ে কম। তবে ব্যাংকটির মতে, তেলের অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হলে, জাহাজে হামলা বাড়লে অথবা নিরাপত্তাঝুঁকির কারণে দামের ওপর চাপ দীর্ঘস্থায়ী হলে ব্রেন্টের দাম ব্যারেলপ্রতি ১২৫ ডলারে পৌঁছাতে পারে।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ

Tag :

রংপুর-রাজশাহীর পর চট্টগ্রামের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী

কতদূর পৌঁছাবে তেলের দাম

আপডেট সময় ০৩:১৫:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের কাছাকাছি রয়েছে। তেলের আরেকটি প্রধান মানদণ্ড ব্রেন্টের দামও প্রায় ১১০ ডলারে পৌঁছেছে।

এমন পরিস্থিতিতে তেলের দাম আরো বড় ব্যবধানে বাড়তে পারে বলে মনে করছেন জ্বালানি খাতের বিশ্লেষকেরা। তাদের আশঙ্কা, তেলের দামে অস্বাভাবিক বড় উল্লম্ফন দেখা যেতে পারে।

ইয়াহু ফাইন্যান্স জানায়, উইলিয়াম ব্লেয়ারের জ্বালানি খাতের গবেষণা বিশ্লেষক নিল ডিংম্যান ইয়াহু ফাইন্যান্সের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক ব্রুক ডিপালমাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন। ডিংম্যান বলেন, ‘বড় বড় তেল কম্পানির প্রধান নির্বাহীরা যেমনটা বলেছেন, তেমন বড় উল্লম্ফন আমরা দেখতে পারি।

আমি কি মনে করি, এটা সম্ভব? অবশ্যই।’

তেল কম্পানিগুলোর প্রধান নির্বাহীরা তাকে বারবার বলেছেন, আগামী কয়েক প্রান্তিক তেলের দাম আগের তুলনায় বেশি থাকবে। ডিংম্যানও তাদের সঙ্গে একমত। তার মতে, আগে বিশ্লেষকেরা তেলের স্বাভাবিক দাম ব্যারেলপ্রতি ৭০ থেকে ৮০ ডলার ধরে হিসাব করতেন।

এখন সেই দাম ৮০ থেকে ৯০ ডলারের মধ্যে থাকতে পারে। তবে কিছু সময়ের জন্য দাম ১০০ ডলারও ছাড়িয়ে যেতে পারে।

ডিংম্যান বলেন, ‘ইরানের ট্যাংকারে হামলার ঘটনা ঘটেছে। পণ্য পরিবহনের খরচও রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছে। মূলত তেল সরবরাহ ও কেনাবেচার বাজারে চাপ ক্রমেই বাড়ছে।

তেলের দাম বাড়ায় যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি খাতের কম্পানিগুলো লাভবান হচ্ছে। চলতি বছরে দেশটির শেয়ারবাজারে জ্বালানি খাতের শেয়ারের দাম ৫০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচকের ১১টি খাতের মধ্যে এই খাতেই সবচেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি হয়েছে। সূচকটির সামগ্রিক প্রবৃদ্ধি প্রায় ১২ শতাংশ।

গত ৩১ ডিসেম্বরের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের দাম ৭০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। একই সময়ে বিশ্ববাজারে ব্রেন্টের দাম বেড়েছে প্রায় ৮০ শতাংশ। ডিংম্যানের মতে, ভূরাজনৈতিক ও রাজনৈতিক ঘটনাগুলো এখন সরাসরি তেলের সরবরাহে প্রভাব ফেলছে। ফলে সরবরাহের সংকট সামাল দিতে অস্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের তেল মজুত থেকে তেল ছাড়া বা অন্য কোনো অস্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করা এখন খুব কঠিন হবে।’ যুক্তরাষ্ট্রের তেল মজুত ইতিমধ্যে ১৯৮২ সালের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে।

তেলের পাশাপাশি ডিজেলের দাম নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। ডিজেলের দামের গুরুত্বপূর্ণ মানদণ্ড হিসেবে ব্যবহৃত হিটিং অয়েলের আগাম চুক্তির দাম চলতি বছরে দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। হিটিং অয়েল মূলত ঘরবাড়ি গরম রাখতে ব্যবহৃত হয়।

ডিংম্যান বলেন, ‘আমার মনে হয়, আমরা ইতিমধ্যে রেকর্ড সর্বোচ্চ দাম দেখেছি। সামনে দাম আরো বাড়তে পারে।’ শীত ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে ডিজেল, পেট্রল ও ঘরবাড়ি গরম রাখার জ্বালানির দাম আরো বাড়তে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

তেলের দাম বাড়লে সাধারণ ভোক্তাদের খরচ বাড়বে। তবে এতে যুক্তরাষ্ট্রের তেল উৎপাদক কম্পানিগুলো লাভবান হবে। ডিংম্যানের ভাষায়, এসব কম্পানি এভাবেই বিপুল অর্থ আয় করতে থাকবে। তিনি জানান, তার বিশ্লেষণের আওতায় থাকা বেশির ভাগ তেল কম্পানি চলতি বছরের দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে রেকর্ড পরিমাণ অবাধ নগদ প্রবাহের কথা জানিয়েছে। তৃতীয় বা চতুর্থ ত্রৈমাসিকেও নতুন রেকর্ড হতে পারে বলে আশা করছেন তিনি।

তবে সব বিশ্লেষকই মনে করছেন না, তেলের দাম শিগগিরই বড় ধরনের উল্লম্ফন ঘটাবে। সোমবার গোল্ডম্যান স্যাকস আগামী ডিসেম্বর মাসে ব্রেন্টের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯০ ডলার এবং যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের দাম ৮১ ডলারে নামতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে। এই দুই দামই বর্তমানে বাজারে থাকা দামের চেয়ে কম। তবে ব্যাংকটির মতে, তেলের অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হলে, জাহাজে হামলা বাড়লে অথবা নিরাপত্তাঝুঁকির কারণে দামের ওপর চাপ দীর্ঘস্থায়ী হলে ব্রেন্টের দাম ব্যারেলপ্রতি ১২৫ ডলারে পৌঁছাতে পারে।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ