ঢাকা ০২:২৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম

আগুন লাগতেই মালিকের কুকুর-বিড়াল নিয়ে বেরিয়ে যান টুপটুপের কর্মীরা

কক্সবাজারের উখিয়ায় টুপটুপ রেস্ট্রো অ্যান্ড রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১০ পর্যটকের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় নানা প্রশ্ন উঠেছে। আগুন লাগার পর রিসোর্টটির কয়েকজন কর্মী মালিক তানভীর সুলতান মিয়ার পোষা দুটি কুকুর ও ৪টি বিড়াল নিয়ে দ্রুত বাইরে বেরিয়ে আসেন রিসোর্টের কয়েকজন কর্মী।

তাদের অভিযোগ, আগুন ছড়িয়ে পড়ার সময় রিসোর্টের নিরাপত্তাকর্মী ও কয়েকজন কর্মীকে মালিকের পোষা কুকুর-বিড়াল উদ্ধারে ব্যস্ত দেখা গেছে। এ সময় ভেতরে থাকা পর্যটকদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে যথাযথ উদ্যোগ দেখা যায়নি।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল ৭টার দিকে আগুনের সূত্রপাতের সময়কার দৃশ্য বর্ণনা করতে গিয়ে এসব কথা বলেন পাটোয়ারটেক এলাকার বাসিন্দা মো. মামুন। তার দাবি, আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার সময় রিসোর্টের নিরাপত্তাকর্মী মো. কফিল উদ্দিন কর্মীদের বেরিয়ে যেতে বলছিলেন।

একই সময়ে তাকে পোষা প্রাণীগুলোর খোঁজ করতেও দেখা যায়। তখন সে চিল্লাচিল্লি করে বলে কুকুর কই কই?

মামুনের ভাষ্য, আগুন ছড়িয়ে পড়ার দৃশ্য দেখে তিনি দিশাহারা মানুষের ছোটাছুটি লক্ষ্য করেন। তার অভিযোগ, ওই সময় নিরাপত্তাকর্মী পর্যটকদের কক্ষ থেকে বের করে আনার উদ্যোগ নিলে আরও কয়েকজনকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে নেওয়া যেত।

মামুন জানান, রিসোর্টের দ্বিতীয় তলায় মালিকের পোষা দুটি কুকুর ও চারটি বিড়াল ছিল। আগুন লাগার পর রিসোর্টের নিরাপত্তাকর্মীসহ পাঁচজন কর্মী প্রাণীগুলো নিয়ে বাইরে চলে আসেন।

রিসোর্টের কাছেই বসবাস করেন মামুন। তিনি বলেন, বিস্ফোরণের শব্দ শুনে ঘুম ভেঙে যায়। বাইরে বেরিয়ে দেখি, রিসোর্টে আগুন জ্বলছে। কয়েকজন কর্মী কুকুর-বিড়াল নিয়ে ছোটাছুটি করছেন। তানভীরকে (রিসোর্টের মালিক) আগে অনেকবার পোষা কুকুর নিয়ে সৈকতে হাঁটতে দেখেছি।

একই এলাকার বাসিন্দা নুর হোসেনও আগুনের সময় কর্মীদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তার অভিযোগ, আগুনের মধ্যে পোষা প্রাণী উদ্ধারের তৎপরতা দেখা গেলেও পর্যটকদের উদ্ধারে কোনো ধরনের উদ্যোগ হয়নি, তা স্পষ্ট দেখছি আমরা।

নুর হোসেন বলেন, মানুষের জীবন বাঁচানোই তখন সবচেয়ে জরুরি ছিল। আগুনের মধ্যে মানুষকে খুঁজে বের করে নিরাপদ স্থানে নেওয়ার চেষ্টা আরো জোরালো হওয়া দরকার ছিল। সেদিন দ্রুত উদ্ধার তৎপরতা চালানো গেলে হয়তো আরো কিছু প্রাণ বাঁচানো সম্ভব হতো।

টুপটুপ রেস্টো অ্যান্ড রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড ও প্রাণহানির ঘটনায় মালিক তানভীর সুলতান মিয়াকে প্রধান আসামি করে চারজনের নাম উল্লেখ করে উখিয়া থানায় মামলা করেছে পুলিশ। মামলার তদন্ত ও দায় নির্ধারণের বিষয়টি এখন পুলিশের হাতে।

রিসোর্টটির নিরাপত্তাব্যবস্থা ও অগ্নিনিরাপত্তা তদারকি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে নিয়মিত তদারকির ক্ষেত্রে জনবলসংকটের কথা জানানো হয়েছে।

অগ্নিকাণ্ডের পর রিসোর্ট পরিদর্শনে গিয়ে ফায়ার সার্ভিসের লেফটেন্যান্ট কর্নেল আজাদ আনোয়ার বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ রিসোর্টগুলোকে নোটিশ দেওয়া হয়। কিন্তু সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে সতর্ক করার পরও কয়েক বছর পর আবার সেখানে গিয়ে একই ধরনের অনিয়ম পাওয়া যায়।

তিনি আরও বলেন, ব্যবসায়ীরা নিজেরা সচেতন না হলে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো কঠিন। আমাদের নিজস্বভাবে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার জন্য ম্যাজিস্ট্রেট নেই। কাউকে জরিমানা করতে হলে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে সমন্বয় করতে হয়।

উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান জানান, মামলার প্রধান আসামি তানভীর সুলতান মিয়াসহ অন্য আসামিদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

বাংলা৭১নিউজ/জেএস

Tag :

ধর্মীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে সবাইকে দেশ গড়তে হবে: প্রধানমন্ত্রী

আগুন লাগতেই মালিকের কুকুর-বিড়াল নিয়ে বেরিয়ে যান টুপটুপের কর্মীরা

আপডেট সময় ১০:৪৪:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

কক্সবাজারের উখিয়ায় টুপটুপ রেস্ট্রো অ্যান্ড রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১০ পর্যটকের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় নানা প্রশ্ন উঠেছে। আগুন লাগার পর রিসোর্টটির কয়েকজন কর্মী মালিক তানভীর সুলতান মিয়ার পোষা দুটি কুকুর ও ৪টি বিড়াল নিয়ে দ্রুত বাইরে বেরিয়ে আসেন রিসোর্টের কয়েকজন কর্মী।

তাদের অভিযোগ, আগুন ছড়িয়ে পড়ার সময় রিসোর্টের নিরাপত্তাকর্মী ও কয়েকজন কর্মীকে মালিকের পোষা কুকুর-বিড়াল উদ্ধারে ব্যস্ত দেখা গেছে। এ সময় ভেতরে থাকা পর্যটকদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে যথাযথ উদ্যোগ দেখা যায়নি।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল ৭টার দিকে আগুনের সূত্রপাতের সময়কার দৃশ্য বর্ণনা করতে গিয়ে এসব কথা বলেন পাটোয়ারটেক এলাকার বাসিন্দা মো. মামুন। তার দাবি, আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার সময় রিসোর্টের নিরাপত্তাকর্মী মো. কফিল উদ্দিন কর্মীদের বেরিয়ে যেতে বলছিলেন।

একই সময়ে তাকে পোষা প্রাণীগুলোর খোঁজ করতেও দেখা যায়। তখন সে চিল্লাচিল্লি করে বলে কুকুর কই কই?

মামুনের ভাষ্য, আগুন ছড়িয়ে পড়ার দৃশ্য দেখে তিনি দিশাহারা মানুষের ছোটাছুটি লক্ষ্য করেন। তার অভিযোগ, ওই সময় নিরাপত্তাকর্মী পর্যটকদের কক্ষ থেকে বের করে আনার উদ্যোগ নিলে আরও কয়েকজনকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে নেওয়া যেত।

মামুন জানান, রিসোর্টের দ্বিতীয় তলায় মালিকের পোষা দুটি কুকুর ও চারটি বিড়াল ছিল। আগুন লাগার পর রিসোর্টের নিরাপত্তাকর্মীসহ পাঁচজন কর্মী প্রাণীগুলো নিয়ে বাইরে চলে আসেন।

রিসোর্টের কাছেই বসবাস করেন মামুন। তিনি বলেন, বিস্ফোরণের শব্দ শুনে ঘুম ভেঙে যায়। বাইরে বেরিয়ে দেখি, রিসোর্টে আগুন জ্বলছে। কয়েকজন কর্মী কুকুর-বিড়াল নিয়ে ছোটাছুটি করছেন। তানভীরকে (রিসোর্টের মালিক) আগে অনেকবার পোষা কুকুর নিয়ে সৈকতে হাঁটতে দেখেছি।

একই এলাকার বাসিন্দা নুর হোসেনও আগুনের সময় কর্মীদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তার অভিযোগ, আগুনের মধ্যে পোষা প্রাণী উদ্ধারের তৎপরতা দেখা গেলেও পর্যটকদের উদ্ধারে কোনো ধরনের উদ্যোগ হয়নি, তা স্পষ্ট দেখছি আমরা।

নুর হোসেন বলেন, মানুষের জীবন বাঁচানোই তখন সবচেয়ে জরুরি ছিল। আগুনের মধ্যে মানুষকে খুঁজে বের করে নিরাপদ স্থানে নেওয়ার চেষ্টা আরো জোরালো হওয়া দরকার ছিল। সেদিন দ্রুত উদ্ধার তৎপরতা চালানো গেলে হয়তো আরো কিছু প্রাণ বাঁচানো সম্ভব হতো।

টুপটুপ রেস্টো অ্যান্ড রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড ও প্রাণহানির ঘটনায় মালিক তানভীর সুলতান মিয়াকে প্রধান আসামি করে চারজনের নাম উল্লেখ করে উখিয়া থানায় মামলা করেছে পুলিশ। মামলার তদন্ত ও দায় নির্ধারণের বিষয়টি এখন পুলিশের হাতে।

রিসোর্টটির নিরাপত্তাব্যবস্থা ও অগ্নিনিরাপত্তা তদারকি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে নিয়মিত তদারকির ক্ষেত্রে জনবলসংকটের কথা জানানো হয়েছে।

অগ্নিকাণ্ডের পর রিসোর্ট পরিদর্শনে গিয়ে ফায়ার সার্ভিসের লেফটেন্যান্ট কর্নেল আজাদ আনোয়ার বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ রিসোর্টগুলোকে নোটিশ দেওয়া হয়। কিন্তু সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে সতর্ক করার পরও কয়েক বছর পর আবার সেখানে গিয়ে একই ধরনের অনিয়ম পাওয়া যায়।

তিনি আরও বলেন, ব্যবসায়ীরা নিজেরা সচেতন না হলে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো কঠিন। আমাদের নিজস্বভাবে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার জন্য ম্যাজিস্ট্রেট নেই। কাউকে জরিমানা করতে হলে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে সমন্বয় করতে হয়।

উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান জানান, মামলার প্রধান আসামি তানভীর সুলতান মিয়াসহ অন্য আসামিদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

বাংলা৭১নিউজ/জেএস