ঢাকা ১২:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম

মেসির অ্যাসিস্টে টানা তৃতীয়বার প্লে-অফে মায়ামি

পিএসজি-মাদ্রিদের জয়রথ কিংবা ইউরোপীয় ফুটবলের উন্মাদনার মাঝেই আটলান্টিকের ওপারে নিজেদের নতুন ইতিহাস লিখলো ইন্টার মায়ামি। ম্যাচে দলের গোল দুটি।

তবে ইন্টার মায়ামি ও লিওনেল মেসির জন্য সংখ্যাটি দাঁড়াল ‘তিন’। নিউ ইয়র্ক সিটি এফসিকে ২-০ গোলে হারিয়ে টানা তৃতীয় মৌসুমে মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) প্লে-অফসের টিকিট নিশ্চিত করেছে ফ্লোরিডার দলটি।

ঘরের মাঠে ম্যাচের শুরু থেকেই প্রতিপক্ষকে চেপে ধরে মায়ামি। প্রথমার্ধেই দুই গোল আদায় করে নেওয়া ম্যাচে জয়ের নায়ক হার্মান বের্তেরামে ও রদ্রিগো দি পল।

নিজে গোল না পেলেও দি পলের চমৎকার গোলটির পেছনের মূল কারিগর ছিলেন অধিনায়ক মেসি নিজেই। এছাড়া মায়ামির জয়ে বিশাল অবদান রেখেছেন গোলরক্ষক ডেইন সেন্ট ক্লেয়ার, পেনাল্টিসহ ম্যাচের চারটি প্রায় নিশ্চিত গোল বাঁচিয়ে পোস্টের নিচে একাই দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি।

২০২৩ সালে মায়ামিতে যোগ দেওয়ার পর প্রথম বছর প্লে-অফসে উঠতে না পারলেও, এরপর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি মেসিকে। টানা তিন মৌসুম ধরে এই ধারাবাহিক সাফল্য ধরে রেখেছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।

এমএলএসের মূল শিরোপার চূড়ান্ত লড়াই শুরু হয় এই প্লে-অফস পর্ব দিয়েই। নিয়মিত মৌসুমে দুই কনফারেন্সের শীর্ষ ৯টি করে দল এই লড়াইয়ের টিকিট পায়। তবে কোয়ার্টার-ফাইনালে সরাসরি খেলে সেরা ৭টি দল, আর বাকি দুই দলকে পেরোতে হয় ‘ওয়াইল্ড কার্ড’ রাউন্ড। এরপর প্লে-অফসের চূড়ান্ত চ্যাম্পিয়ন দলই মাথায় তোলে লিগের কাঙ্ক্ষিত ট্রফি ‘এমএলএস কাপ’। গত আসরে এই শিরোপা জেতা মায়ামি এবার ২০১১-১২ মৌসুমে লস অ্যাঞ্জেলেস গ্যালাক্সির পর প্রথম দল হিসেবে টানা দ্বিতীয়বার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার দৌড়ে নামবে।

এদিকে ব্যক্তিগত অর্জনেও নতুন রেকর্ডের সামনে দাঁড়িয়ে মেসি। টানা তৃতীয়বারের মতো এমএলএসের ‘মোস্ট ভ্যালুয়েবল প্লেয়ার’ (এমভিপি) হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা তার। চলতি মৌসুমে ২৩টি গোল করার পাশাপাশি ১৪টি গোলে সরাসরি সহায়তা করেছেন তিনি। টানা দ্বিতীয়বার গোল্ডেন বুট জেতার লড়াইয়েও সবার চেয়ে এগিয়ে আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী পিটার মুসা পিছিয়ে আছেন ৪ গোলে।

বৃহস্পতিবার সকালে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে ২০তম মিনিটে পরিকল্পিত এক আক্রমণ থেকে এগিয়ে যায় মায়ামি। বক্সের ওপর থেকে মেসি বল বাড়ান দে পলের দিকে। দে পল সেই বল গোলের মুখে থাকা লুইস সুয়ারেসকে দিলে, তিনি প্রতিপক্ষ গোলকিপার ম্যাট ফ্রিসকে ফাঁকি দিয়ে পাস দেন বের্তেরামেকে। সহজ শটে বল জালে জড়িয়ে প্রায় পাঁচ মাস পর লিগে গোলের দেখা পান এই মেক্সিকান ফরোয়ার্ড।

প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে দ্বিতীয় গোলটি পায় স্বাগতিকরা। পাল্টা আক্রমণ থেকে বের্তেরামের পাস ধরে মেসি ডান প্রান্ত থেকে নিখুঁত ক্রস বাড়ান বক্সের মুখে থাকা দে পলের দিকে। সেখান থেকে দুর্দান্ত এক শটে বল জালে পাঠান এই আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার।

ম্যাচের শেষ মুহূর্তে নিউ ইয়র্ক সিটি পেনাল্টি পেলেও দুর্দান্তভাবে তা রুখে দেন মায়ামি গোলরক্ষক সেন্ট ক্লেয়ার। পুরো ম্যাচে নিউ ইয়র্ক ১৪টি শট নিয়েও মায়ামির জালের দেখা পায়নি। এর আগে সর্বশেষ মার্চে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা দুই ম্যাচে ক্লিন শিট বা গোল হজম না করার কৃতিত্ব দেখিয়েছিল মায়ামি।

সব হিসাব চুকিয়ে আগামী ১৮ নভেম্বর থেকে শুরু হবে এমএলএসের আসল রোমাঞ্চ প্লে-অফসের লড়াই।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ

Tag :

বিদ্যালয়ে ভর্তিতে কোন শ্রেণিতে ফি কত

মেসির অ্যাসিস্টে টানা তৃতীয়বার প্লে-অফে মায়ামি

আপডেট সময় ১০:৪২:১৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

পিএসজি-মাদ্রিদের জয়রথ কিংবা ইউরোপীয় ফুটবলের উন্মাদনার মাঝেই আটলান্টিকের ওপারে নিজেদের নতুন ইতিহাস লিখলো ইন্টার মায়ামি। ম্যাচে দলের গোল দুটি।

তবে ইন্টার মায়ামি ও লিওনেল মেসির জন্য সংখ্যাটি দাঁড়াল ‘তিন’। নিউ ইয়র্ক সিটি এফসিকে ২-০ গোলে হারিয়ে টানা তৃতীয় মৌসুমে মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) প্লে-অফসের টিকিট নিশ্চিত করেছে ফ্লোরিডার দলটি।

ঘরের মাঠে ম্যাচের শুরু থেকেই প্রতিপক্ষকে চেপে ধরে মায়ামি। প্রথমার্ধেই দুই গোল আদায় করে নেওয়া ম্যাচে জয়ের নায়ক হার্মান বের্তেরামে ও রদ্রিগো দি পল।

নিজে গোল না পেলেও দি পলের চমৎকার গোলটির পেছনের মূল কারিগর ছিলেন অধিনায়ক মেসি নিজেই। এছাড়া মায়ামির জয়ে বিশাল অবদান রেখেছেন গোলরক্ষক ডেইন সেন্ট ক্লেয়ার, পেনাল্টিসহ ম্যাচের চারটি প্রায় নিশ্চিত গোল বাঁচিয়ে পোস্টের নিচে একাই দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি।

২০২৩ সালে মায়ামিতে যোগ দেওয়ার পর প্রথম বছর প্লে-অফসে উঠতে না পারলেও, এরপর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি মেসিকে। টানা তিন মৌসুম ধরে এই ধারাবাহিক সাফল্য ধরে রেখেছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।

এমএলএসের মূল শিরোপার চূড়ান্ত লড়াই শুরু হয় এই প্লে-অফস পর্ব দিয়েই। নিয়মিত মৌসুমে দুই কনফারেন্সের শীর্ষ ৯টি করে দল এই লড়াইয়ের টিকিট পায়। তবে কোয়ার্টার-ফাইনালে সরাসরি খেলে সেরা ৭টি দল, আর বাকি দুই দলকে পেরোতে হয় ‘ওয়াইল্ড কার্ড’ রাউন্ড। এরপর প্লে-অফসের চূড়ান্ত চ্যাম্পিয়ন দলই মাথায় তোলে লিগের কাঙ্ক্ষিত ট্রফি ‘এমএলএস কাপ’। গত আসরে এই শিরোপা জেতা মায়ামি এবার ২০১১-১২ মৌসুমে লস অ্যাঞ্জেলেস গ্যালাক্সির পর প্রথম দল হিসেবে টানা দ্বিতীয়বার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার দৌড়ে নামবে।

এদিকে ব্যক্তিগত অর্জনেও নতুন রেকর্ডের সামনে দাঁড়িয়ে মেসি। টানা তৃতীয়বারের মতো এমএলএসের ‘মোস্ট ভ্যালুয়েবল প্লেয়ার’ (এমভিপি) হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা তার। চলতি মৌসুমে ২৩টি গোল করার পাশাপাশি ১৪টি গোলে সরাসরি সহায়তা করেছেন তিনি। টানা দ্বিতীয়বার গোল্ডেন বুট জেতার লড়াইয়েও সবার চেয়ে এগিয়ে আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী পিটার মুসা পিছিয়ে আছেন ৪ গোলে।

বৃহস্পতিবার সকালে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে ২০তম মিনিটে পরিকল্পিত এক আক্রমণ থেকে এগিয়ে যায় মায়ামি। বক্সের ওপর থেকে মেসি বল বাড়ান দে পলের দিকে। দে পল সেই বল গোলের মুখে থাকা লুইস সুয়ারেসকে দিলে, তিনি প্রতিপক্ষ গোলকিপার ম্যাট ফ্রিসকে ফাঁকি দিয়ে পাস দেন বের্তেরামেকে। সহজ শটে বল জালে জড়িয়ে প্রায় পাঁচ মাস পর লিগে গোলের দেখা পান এই মেক্সিকান ফরোয়ার্ড।

প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে দ্বিতীয় গোলটি পায় স্বাগতিকরা। পাল্টা আক্রমণ থেকে বের্তেরামের পাস ধরে মেসি ডান প্রান্ত থেকে নিখুঁত ক্রস বাড়ান বক্সের মুখে থাকা দে পলের দিকে। সেখান থেকে দুর্দান্ত এক শটে বল জালে পাঠান এই আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার।

ম্যাচের শেষ মুহূর্তে নিউ ইয়র্ক সিটি পেনাল্টি পেলেও দুর্দান্তভাবে তা রুখে দেন মায়ামি গোলরক্ষক সেন্ট ক্লেয়ার। পুরো ম্যাচে নিউ ইয়র্ক ১৪টি শট নিয়েও মায়ামির জালের দেখা পায়নি। এর আগে সর্বশেষ মার্চে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা দুই ম্যাচে ক্লিন শিট বা গোল হজম না করার কৃতিত্ব দেখিয়েছিল মায়ামি।

সব হিসাব চুকিয়ে আগামী ১৮ নভেম্বর থেকে শুরু হবে এমএলএসের আসল রোমাঞ্চ প্লে-অফসের লড়াই।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ