ঢাকা ০২:০২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মাটির কাজ শেষে রং-তুলির টান, প্রাণ পাচ্ছে প্রতিমা

কোথাও মাটির কাজ শেষ করে প্রতিমায় লাগানো হচ্ছে রঙের শেষ আঁচড়, কোথাও দেবী দুর্গার চোখ-মুখ ফুটিয়ে তুলতে ব্যস্ত কারিগর। কোথাও আবার মণ্ডপে চলছে প্রতিমার সাজসজ্জার কাজ।

খড়, কাদামাটিতে গড়া প্রতিমা প্রাণ পাচ্ছে শিল্পীর চূড়ান্ত ছোঁয়ায়।

দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে দেশের অন্যান্য স্থানের মতো এখন ভীষণ ব্যস্ত নাটোরের লালপুরের শিল্পী-কারিগররাও। প্রত্যেক মণ্ডপে প্রতিমা তৈরির কাজ এগিয়ে নিতে দিন-রাত পরিশ্রম করছেন তারা। প্রতিমার গঠন, অলংকরণ ও রং করার কাজ শেষ করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পূজার জন্য প্রস্তুত করাই এখন তাদের প্রধান লক্ষ্য।

এ বছর লালপুর উপজেলায় ৪৬টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা উদযাপনের প্রস্তুতি চলছে।

শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ ঘুরে দেখা যায়, কোথাও শিল্পীরা প্রতিমার শরীরে রং লাগাচ্ছেন; কোথাও তুলির সূক্ষ্ম টানে ফুটিয়ে তুলছেন দেবীর চোখ, মুখমণ্ডল ও অলংকারের নকশা।

স্থানীয়রা জানান, দুর্গাপূজা শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি এলাকার মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি ও মিলনমেলারও উপলক্ষ। পূজা ঘিরে প্রতিবছর মণ্ডপগুলোতে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়।

প্রতিমা গড়ার কাজ শেষ পর্যায়ে পৌঁছানোয় তাদের মধ্যেও উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শ্রী শিমুল কুমার বলেন, ‘দুর্গাপূজা আমাদের কাছে আনন্দ ও সম্প্রীতির উৎসব। প্রতিমা তৈরির কাজ এগিয়ে যেতে দেখে ভালো লাগছে। পূজার দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই মণ্ডপগুলোতে উৎসবের পরিবেশ সৃষ্টি হচ্ছে। আমরা চাই, সবাই মিলে শান্তিপূর্ণ ও আনন্দঘন পরিবেশে পূজা উদযাপন করতে।

স্থানীয় বাসিন্দা শ্রী নন্দিতা কুমারী বলেন, ‘প্রতিমার কাজ দেখে অনেক ভালো লাগছে। শিল্পীরা খুব যত্ন নিয়ে প্রতিমা সাজাচ্ছেন। তাদের হাতের কাজেই প্রতিমাগুলো সুন্দর হয়ে উঠছে। পূজার সময় পরিবার-পরিজন নিয়ে মণ্ডপে ঘুরব, প্রার্থনা করব—এটাই আমাদের আনন্দ।’

প্রতিমা তৈরির কারিগর সাগর কুমার কালের কণ্ঠকে জানান, এ বছর তিনি চারটি প্রতিমা গড়েছেন। প্রতিমা করতে হয় কয়েকটি ধাপে। প্রথমে কাঠামো তৈরি; এরপর খড়বাঁধা, মাটির প্রলেপ, শুকানো, রং করা এবং সবশেষে সাজসজ্জার কাজ। প্রতিটি ধাপে যথেষ্ট সময় ও পরিশ্রম লাগে। এখন চলছে প্রতিমায় রং করা ও সৌন্দর্য বাড়ানোর কাজ।

সাগর বলেন, ‘প্রতিমা তৈরির কাজ আমাদের বংশপরম্পরার পেশা। এই কাজের সঙ্গে শুধু জীবিকা নয়, আমাদের আবেগ ও ঐতিহ্যও জড়িত। দর্শনার্থীরা যখন সুন্দর প্রতিমা দেখে প্রশংসা করেন, তখন আমাদের পরিশ্রম সার্থক মনে হয়।’

লালপুর উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি শ্রী দীপেন্দ্রনাথ সাহা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘প্রতিমা তৈরির কাজসহ মণ্ডপগুলোর সার্বিক প্রস্তুতি এগিয়ে চলেছে। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পূজা উদযাপনে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। আমরা চাই, ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য বজায় রেখে উৎসবটি আনন্দমুখর হোক।’

লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল বলেন, ‘দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ সচেষ্ট। মণ্ডপগুলোতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ ও স্থানীয়দের সমন্বয়ে কাজ করা হচ্ছে।’

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ

Tag :

মাটির কাজ শেষে রং-তুলির টান, প্রাণ পাচ্ছে প্রতিমা

আপডেট সময় ১১:১৮:২৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬

কোথাও মাটির কাজ শেষ করে প্রতিমায় লাগানো হচ্ছে রঙের শেষ আঁচড়, কোথাও দেবী দুর্গার চোখ-মুখ ফুটিয়ে তুলতে ব্যস্ত কারিগর। কোথাও আবার মণ্ডপে চলছে প্রতিমার সাজসজ্জার কাজ।

খড়, কাদামাটিতে গড়া প্রতিমা প্রাণ পাচ্ছে শিল্পীর চূড়ান্ত ছোঁয়ায়।

দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে দেশের অন্যান্য স্থানের মতো এখন ভীষণ ব্যস্ত নাটোরের লালপুরের শিল্পী-কারিগররাও। প্রত্যেক মণ্ডপে প্রতিমা তৈরির কাজ এগিয়ে নিতে দিন-রাত পরিশ্রম করছেন তারা। প্রতিমার গঠন, অলংকরণ ও রং করার কাজ শেষ করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পূজার জন্য প্রস্তুত করাই এখন তাদের প্রধান লক্ষ্য।

এ বছর লালপুর উপজেলায় ৪৬টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা উদযাপনের প্রস্তুতি চলছে।

শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ ঘুরে দেখা যায়, কোথাও শিল্পীরা প্রতিমার শরীরে রং লাগাচ্ছেন; কোথাও তুলির সূক্ষ্ম টানে ফুটিয়ে তুলছেন দেবীর চোখ, মুখমণ্ডল ও অলংকারের নকশা।

স্থানীয়রা জানান, দুর্গাপূজা শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি এলাকার মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি ও মিলনমেলারও উপলক্ষ। পূজা ঘিরে প্রতিবছর মণ্ডপগুলোতে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়।

প্রতিমা গড়ার কাজ শেষ পর্যায়ে পৌঁছানোয় তাদের মধ্যেও উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শ্রী শিমুল কুমার বলেন, ‘দুর্গাপূজা আমাদের কাছে আনন্দ ও সম্প্রীতির উৎসব। প্রতিমা তৈরির কাজ এগিয়ে যেতে দেখে ভালো লাগছে। পূজার দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই মণ্ডপগুলোতে উৎসবের পরিবেশ সৃষ্টি হচ্ছে। আমরা চাই, সবাই মিলে শান্তিপূর্ণ ও আনন্দঘন পরিবেশে পূজা উদযাপন করতে।

স্থানীয় বাসিন্দা শ্রী নন্দিতা কুমারী বলেন, ‘প্রতিমার কাজ দেখে অনেক ভালো লাগছে। শিল্পীরা খুব যত্ন নিয়ে প্রতিমা সাজাচ্ছেন। তাদের হাতের কাজেই প্রতিমাগুলো সুন্দর হয়ে উঠছে। পূজার সময় পরিবার-পরিজন নিয়ে মণ্ডপে ঘুরব, প্রার্থনা করব—এটাই আমাদের আনন্দ।’

প্রতিমা তৈরির কারিগর সাগর কুমার কালের কণ্ঠকে জানান, এ বছর তিনি চারটি প্রতিমা গড়েছেন। প্রতিমা করতে হয় কয়েকটি ধাপে। প্রথমে কাঠামো তৈরি; এরপর খড়বাঁধা, মাটির প্রলেপ, শুকানো, রং করা এবং সবশেষে সাজসজ্জার কাজ। প্রতিটি ধাপে যথেষ্ট সময় ও পরিশ্রম লাগে। এখন চলছে প্রতিমায় রং করা ও সৌন্দর্য বাড়ানোর কাজ।

সাগর বলেন, ‘প্রতিমা তৈরির কাজ আমাদের বংশপরম্পরার পেশা। এই কাজের সঙ্গে শুধু জীবিকা নয়, আমাদের আবেগ ও ঐতিহ্যও জড়িত। দর্শনার্থীরা যখন সুন্দর প্রতিমা দেখে প্রশংসা করেন, তখন আমাদের পরিশ্রম সার্থক মনে হয়।’

লালপুর উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি শ্রী দীপেন্দ্রনাথ সাহা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘প্রতিমা তৈরির কাজসহ মণ্ডপগুলোর সার্বিক প্রস্তুতি এগিয়ে চলেছে। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পূজা উদযাপনে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। আমরা চাই, ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য বজায় রেখে উৎসবটি আনন্দমুখর হোক।’

লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল বলেন, ‘দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ সচেষ্ট। মণ্ডপগুলোতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ ও স্থানীয়দের সমন্বয়ে কাজ করা হচ্ছে।’

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ