ঢাকা ১১:৩৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo তুরস্ক গেলেন জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান Logo অনুমোদনের অপেক্ষায় রামপালে ৪৪২ মেগাওয়াটের সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র Logo ১০টি এয়ারবাস কিনতে আজ চুক্তি সই করবে বিমান Logo ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় ২৩ ভারতীয় ক্রুবাহী তেল ট্যাঙ্কারে আগুন Logo পেশা ও শ্রমজীবী মানুষের নাভিশ্বাস, নাগালের বাইরে জীবনযাপনের ব্যয় Logo যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ Logo মেসির বিদায়ে আবেগে ভাসলেন বাংলাদেশের তারকারা Logo দেনমোহর স্ত্রীর অধিকার, আর্থিক সংকট দেখিয়ে দায় এড়াতে পারবেন না স্বামী: হাইকোর্ট Logo আপসের পর এমপি গাজী নজরুলের শুনানি আজ Logo সন্ত্রাসী হামলা ঠেকানো ভারতীয় পাইলট স্মিতকে সম্মান জানাবে যুক্তরাষ্ট্র

পানি কমলেও তীব্র স্রোতের কারণে থামছে না পদ্মার ভাঙন

পদ্মা নদীর সদরপুর অংশে পানি কমলেও তীব্র স্রোতের কারণে নদীভাঙন থামছে না। চোখের সামনে নদীগর্ভে তলিয়ে যাচ্ছে শত শত বিঘা ফসলি জমি ও বসতবাড়ি।

এছাড়া নদীপারে গড়ে ওঠা ২০০ বছরের প্রাচীন পিঁয়াজখালীর হাট, ঘাট, বাজার, আশ্রয়ণ প্রকল্প ভবনসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা মারাত্মক হুমকির মুখে রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, সদরপুর উপজেলার ঢেউখালী ইউনিয়নের শয়তানখালী ঘাট, চেয়ারম্যান ঘাট ও মুন্সীরচর এবং পার্শ্ববর্তী চরনাছিরপুর ইউনিয়নের বাবুরালি মোল্যার কান্দি, শিমুলতলী, নাজির শিকদার কান্দি, মনিরদ্দিন ফকির কান্দি, কাজি কান্দি ও শিকদার কান্দিসহ মাইলের পর মাইল নদীপাড় একযোগে ভেঙে নদীগর্ভে তলিয়ে যাচ্ছে। নদী পাড়ের বাসিন্দারা তাদের বসতি নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নিলেও রোপিত ফসলসহ জমিগুলো ভাঙনের কবলে রয়েছে। বাধ্য হয়ে ভুক্তভোগী কৃষকেরা আধাপাকা বা কাঁচা ধান গোখাদ্য হিসেবে কেটে নিয়ে যাচ্ছেন।

এদিকে, ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে চরনাসিরপুর ইউনিয়নের আশ্রয়ণ প্রকল্প ভবন, ঢেউখালীর শতবর্ষী পিঁয়াজখালী হাট, জনসংঘ আদর্শ উচ্চবিদ্যালয়, চরনাসিরপুর উচ্চ বিদ্যালয়সহ বেশ কয়েকটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মসজিদ, ছোট-বড় বাজার ও লোকালয়। এতে চরম আতঙ্ক দিন কাটাচ্ছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয়রা জানান, পদ্মার সদরপুর অংশে এর আগে কখনো এমন তীব্র স্রোত দেখা যায়নি। বাগড়া ঘাট থেকে দিয়ারা ও চরনাসিরপুর ঝাউকান্দা হয়ে পদ্মা নদী শাসনের মাত্র ১৭ কিলোমিটার কাজ হওয়ার পর তা স্থগিত থাকায় নদীর মূল প্রবাহ সদরপুরের দিকে ঘুরে গেছে।

পদ্মাতীরের সদরপুর অংশে এখনই টেকসই বাঁধ বা স্থায়ী সমাধান না মিললে, তীব্র স্রোতের কারণে সৃষ্ট এই ভাঙনে অচিরেই গ্রাস হয়ে যাবে একটি স্বাবলম্বী ও প্রাণবন্ত বিশাল জনপদ।

শয়তানখালী ঘাটের ইজারাদার মানিক বেপারি জানান, যে হারে নদী ভাঙছে, তাতে আগামী বছর পিঁয়াজখালী হাট বলে আর কিছু থাকবে না।

সুমন নামের একজন বলেন, ‘শুনেছি উজানে নদী শাসনের কাজ বন্ধ রয়েছে এবং সেখানে বিশাল বালুর স্তূপ জমে আছে, যার ফলে নদীর স্রোতের গতিও পরিবর্তন হতে পারে।’

জনসংঘ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. আইয়ুব আলী বলেন, ‘নদীর ভাঙন অত্যন্ত তীব্র এবং প্রতিদিনই ভাঙন বাড়ছে। আমরা চরম আতঙ্কের মধ্যে আছি।

কখনো ভাবিনি এত অল্প সময়ের মধ্যে নদী আমাদের এতটা কাছাকাছি চলে আসবে।’

নদীভাঙনের মুখে পড়া চরনাসিরপুরের কৃষক জয়নাল আধাপাকা ধান কাটতে কাটতে বলেন, ‘আর কিছুদিন থাকলেই ধান ঘরে তুলতে পারতাম। এখন বাধ্য হয়ে তা গরুর খাদ্য হিসেবে কেটে নিয়ে যাচ্ছি।’

চরনাসিরপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. রোকন উদ্দিন জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো তাদের ঘরবাড়ি সরিয়ে নিচ্ছে। আশ্রয়ণ প্রকল্পের ভবনটিও চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। দ্রুত স্থায়ী সমাধান না হলে এই ইউনিয়নটি মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে।

ঢেউখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. মিজানুর রহমান বয়াতি বলেন, ‘আমার জীবনে এত তীব্র ভাঙন দেখিনি. চোখের সামনে মাত্র ২০ মিনিটে ৫০০ ফুট লম্বা ও ৩০ ফুট প্রস্থের এলাকা নদীগর্ভে তলিয়ে গেল। অথচ কয়েক বছর আগেও এমন পরিস্থিতি ছিল না। ভাঙনের গতি ভয়াবহ, তাই সরকারের উচিত দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে স্থায়ী বাঁধ বা নদী শাসন কাজ বাস্তবায়ন করা।’

সদরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শরীফ শাওন বলেন, ‘এ এলাকার মানুষের দুর্ভোগের বিষয়টি সরকার অবগত রয়েছে। পদ্মা নদী শাসনের বিষয়টি প্রকল্প আকারে একনেকে (ECNEC) তোলা হয়েছে এবং তা বর্তমানে পর্যালোচনার অধীনে রয়েছে। দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞরা এ নিয়ে কাজ করছেন, আশা করি খুব শিগগিরই একটি স্থায়ী সমাধান পাওয়া যাবে।’

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ

Tag :

তুরস্ক গেলেন জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান

পানি কমলেও তীব্র স্রোতের কারণে থামছে না পদ্মার ভাঙন

আপডেট সময় ১০:১৯:২৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬

পদ্মা নদীর সদরপুর অংশে পানি কমলেও তীব্র স্রোতের কারণে নদীভাঙন থামছে না। চোখের সামনে নদীগর্ভে তলিয়ে যাচ্ছে শত শত বিঘা ফসলি জমি ও বসতবাড়ি।

এছাড়া নদীপারে গড়ে ওঠা ২০০ বছরের প্রাচীন পিঁয়াজখালীর হাট, ঘাট, বাজার, আশ্রয়ণ প্রকল্প ভবনসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা মারাত্মক হুমকির মুখে রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, সদরপুর উপজেলার ঢেউখালী ইউনিয়নের শয়তানখালী ঘাট, চেয়ারম্যান ঘাট ও মুন্সীরচর এবং পার্শ্ববর্তী চরনাছিরপুর ইউনিয়নের বাবুরালি মোল্যার কান্দি, শিমুলতলী, নাজির শিকদার কান্দি, মনিরদ্দিন ফকির কান্দি, কাজি কান্দি ও শিকদার কান্দিসহ মাইলের পর মাইল নদীপাড় একযোগে ভেঙে নদীগর্ভে তলিয়ে যাচ্ছে। নদী পাড়ের বাসিন্দারা তাদের বসতি নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নিলেও রোপিত ফসলসহ জমিগুলো ভাঙনের কবলে রয়েছে। বাধ্য হয়ে ভুক্তভোগী কৃষকেরা আধাপাকা বা কাঁচা ধান গোখাদ্য হিসেবে কেটে নিয়ে যাচ্ছেন।

এদিকে, ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে চরনাসিরপুর ইউনিয়নের আশ্রয়ণ প্রকল্প ভবন, ঢেউখালীর শতবর্ষী পিঁয়াজখালী হাট, জনসংঘ আদর্শ উচ্চবিদ্যালয়, চরনাসিরপুর উচ্চ বিদ্যালয়সহ বেশ কয়েকটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মসজিদ, ছোট-বড় বাজার ও লোকালয়। এতে চরম আতঙ্ক দিন কাটাচ্ছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয়রা জানান, পদ্মার সদরপুর অংশে এর আগে কখনো এমন তীব্র স্রোত দেখা যায়নি। বাগড়া ঘাট থেকে দিয়ারা ও চরনাসিরপুর ঝাউকান্দা হয়ে পদ্মা নদী শাসনের মাত্র ১৭ কিলোমিটার কাজ হওয়ার পর তা স্থগিত থাকায় নদীর মূল প্রবাহ সদরপুরের দিকে ঘুরে গেছে।

পদ্মাতীরের সদরপুর অংশে এখনই টেকসই বাঁধ বা স্থায়ী সমাধান না মিললে, তীব্র স্রোতের কারণে সৃষ্ট এই ভাঙনে অচিরেই গ্রাস হয়ে যাবে একটি স্বাবলম্বী ও প্রাণবন্ত বিশাল জনপদ।

শয়তানখালী ঘাটের ইজারাদার মানিক বেপারি জানান, যে হারে নদী ভাঙছে, তাতে আগামী বছর পিঁয়াজখালী হাট বলে আর কিছু থাকবে না।

সুমন নামের একজন বলেন, ‘শুনেছি উজানে নদী শাসনের কাজ বন্ধ রয়েছে এবং সেখানে বিশাল বালুর স্তূপ জমে আছে, যার ফলে নদীর স্রোতের গতিও পরিবর্তন হতে পারে।’

জনসংঘ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. আইয়ুব আলী বলেন, ‘নদীর ভাঙন অত্যন্ত তীব্র এবং প্রতিদিনই ভাঙন বাড়ছে। আমরা চরম আতঙ্কের মধ্যে আছি।

কখনো ভাবিনি এত অল্প সময়ের মধ্যে নদী আমাদের এতটা কাছাকাছি চলে আসবে।’

নদীভাঙনের মুখে পড়া চরনাসিরপুরের কৃষক জয়নাল আধাপাকা ধান কাটতে কাটতে বলেন, ‘আর কিছুদিন থাকলেই ধান ঘরে তুলতে পারতাম। এখন বাধ্য হয়ে তা গরুর খাদ্য হিসেবে কেটে নিয়ে যাচ্ছি।’

চরনাসিরপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. রোকন উদ্দিন জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো তাদের ঘরবাড়ি সরিয়ে নিচ্ছে। আশ্রয়ণ প্রকল্পের ভবনটিও চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। দ্রুত স্থায়ী সমাধান না হলে এই ইউনিয়নটি মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে।

ঢেউখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. মিজানুর রহমান বয়াতি বলেন, ‘আমার জীবনে এত তীব্র ভাঙন দেখিনি. চোখের সামনে মাত্র ২০ মিনিটে ৫০০ ফুট লম্বা ও ৩০ ফুট প্রস্থের এলাকা নদীগর্ভে তলিয়ে গেল। অথচ কয়েক বছর আগেও এমন পরিস্থিতি ছিল না। ভাঙনের গতি ভয়াবহ, তাই সরকারের উচিত দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে স্থায়ী বাঁধ বা নদী শাসন কাজ বাস্তবায়ন করা।’

সদরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শরীফ শাওন বলেন, ‘এ এলাকার মানুষের দুর্ভোগের বিষয়টি সরকার অবগত রয়েছে। পদ্মা নদী শাসনের বিষয়টি প্রকল্প আকারে একনেকে (ECNEC) তোলা হয়েছে এবং তা বর্তমানে পর্যালোচনার অধীনে রয়েছে। দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞরা এ নিয়ে কাজ করছেন, আশা করি খুব শিগগিরই একটি স্থায়ী সমাধান পাওয়া যাবে।’

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ