ঢাকা ০৩:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo রাশিয়ায় ড্রোন হামলায় নিহত ২, ক্ষতিগ্রস্ত তেল শোধনাগার Logo হাইকোর্টের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ Logo শেখ হাসিনাসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন ১০ ডিসেম্বর Logo ২০৩০ সালের মধ্যে ১০৬.৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদনের লক্ষ্য সরকারের Logo ককটেল বিস্ফোরণে জড়িত কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ.লীগ: ডিএমপি Logo অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে ৪ আসামি গ্রেপ্তার, তারা অপরাধ স্বীকার করেছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo পদ্মায় মিলছে না রুপালি ইলিশ, জীবিকা হারিয়ে দিশেহারা মানিকগঞ্জের জেলেরা Logo অপ্রতীমের নির্মম মৃত্যুতে তারকাদের আহাজারি, বিচারের দাবি Logo লং মার্চে যাওয়ার পথে জামায়াত নেতাকে কুপিয়ে জখম Logo একজনের কারণেই মেসিকে বার্সায় ফেরানো যায়নি, হাটে হাঁড়ি ভাঙলেন জাভি

ভারতের টাটা গ্রুপের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধ, অচলাবস্থার মুখে পরিচালনা পর্ষদ

ভারতের অন্যতম প্রাচীন ও বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী টাটা গ্রুপের মূল হোল্ডিং কম্পানি ‘টাটা সন্স’-এর শীর্ষ নেতৃত্ব ও শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তি (আইপিও) নিয়ে চরম অভ্যন্তরীণ বিরোধ দেখা দিয়েছে। কম্পানির ৬৬ শতাংশ শেয়ারের মালিক ‘টাটা ট্রাস্টস’-কে না জানিয়ে পর্ষদ চেয়ারম্যান এন চন্দ্রশেখরনকে পুনর্বাহাল করা এবং আইপিও-তে যাওয়ার সিদ্ধান্তের পর এই দ্বন্দ্ব এখন আইনি লড়াইয়ের রূপ নিতে যাচ্ছে।

বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৫৮ বছরের পুরনো এই বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের এই অচলাবস্থার পেছনে মূল দুটি বিতর্ক রয়েছে। প্রথমত, টাটা সন্সের পরিচালনা পর্ষদের মনোনয়ন কমিটি সম্প্রতি এন চন্দ্রশেখরনকে আগামী পাঁচ বছরের জন্য চেয়ারম্যান হিসেবে পুনর্নিয়োগ দিয়েছে। তবে টাটা ট্রাস্টস এই সিদ্ধান্তকে অবৈধ ও গঠনতন্ত্রবিরোধী বলে দাবি করেছে। ট্রাস্টসের মতে, কম্পানির করপোরেট নীতি অনুযায়ী ৬৫ বছরের বেশি বয়সে কোনো নির্বাহী পদে থাকার নিয়ম নেই, আর চন্দ্রশেখরন ২০২৮ সালে ৬৫ বছর পূর্ণ করবেন।

এ ছাড়া পর্ষদের মনোনয়ন কমিটির এই ধরনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করার কোনো আইনি এখতিয়ার নেই, তারা কেবল সুপারিশ করতে পারে। আগামী বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) টাটা ট্রাস্টস এই পুনর্নিয়োগের বিরুদ্ধে ভোট দিলে সিদ্ধান্তটি বাতিল হয়ে যেতে পারে।

দ্বিতীয়ত, রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়া (আরবিআই) ২০২২ সালে টাটা সন্সকে ‘উচ্চ স্তরের নন-ব্যাংকিং আর্থিক সংস্থা’ হিসেবে চিহ্নিত করে নিয়ম অনুযায়ী শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হতে নির্দেশ দিয়েছিল। টাটা সন্স ব্যাংক ঋণ শোধ করে এই বাধ্যবাধকতা থেকে অব্যাহতির আবেদন জানালেও চলতি মাসে আরবিআই তা প্রত্যাখ্যান করেছে।

রতন টাটাসহ ট্রাস্টের প্রবীণ পরিচালকরা বরাবরই কম্পানিকে ব্যক্তিমালিকানাধীন রাখার পক্ষে ছিলেন। তাদের মতে, শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হলে ট্রাস্টের একক নিয়ন্ত্রণ কমবে এবং সাধারণ শেয়ারহোল্ডাররা মুনাফাকেন্দ্রিক সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিতে পারে। এতে হাসপাতাল, বিশ্ববিদ্যালয় ও সামাজিক গবেষণায় ট্রাস্টের দেওয়া অনুদান বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ ছাড়া এয়ার ইন্ডিয়ার মতো সদ্য অর্জিত প্রকল্পগুলোর ঋণের চাপ শেয়ারবাজারের বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট নাও করতে পারে।

তবে করপোরেট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টাটার অধীনস্থ বিভিন্ন কম্পানির মোট বাজারমূল্য ২৬০ বিলিয়ন ডলারের বেশি।

এত বড় একটি শিল্পগোষ্ঠীর পরিচালনা কাঠামো, মূলধন ব্যবহার ও সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে শেয়ারবাজারে আসা প্রয়োজন।

সামগ্রিক পরিস্থিতিতে টাটা গ্রুপে বড় ধরনের প্রশাসনিক ও আইনি জটিলতা তৈরির আশঙ্কা করছেন করপোরেট বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, আগামী দিনগুলোতে পরিচালনা পর্ষদ ও ট্রাস্টের মধ্যকার এই টানাপোড়েন ভারতের পুঁজিবাজার ও বৈশ্বিক ব্যবসায়িক পরিমণ্ডলে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ

Tag :

রাশিয়ায় ড্রোন হামলায় নিহত ২, ক্ষতিগ্রস্ত তেল শোধনাগার

ভারতের টাটা গ্রুপের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধ, অচলাবস্থার মুখে পরিচালনা পর্ষদ

আপডেট সময় ১১:৫১:১০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ভারতের অন্যতম প্রাচীন ও বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী টাটা গ্রুপের মূল হোল্ডিং কম্পানি ‘টাটা সন্স’-এর শীর্ষ নেতৃত্ব ও শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তি (আইপিও) নিয়ে চরম অভ্যন্তরীণ বিরোধ দেখা দিয়েছে। কম্পানির ৬৬ শতাংশ শেয়ারের মালিক ‘টাটা ট্রাস্টস’-কে না জানিয়ে পর্ষদ চেয়ারম্যান এন চন্দ্রশেখরনকে পুনর্বাহাল করা এবং আইপিও-তে যাওয়ার সিদ্ধান্তের পর এই দ্বন্দ্ব এখন আইনি লড়াইয়ের রূপ নিতে যাচ্ছে।

বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৫৮ বছরের পুরনো এই বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের এই অচলাবস্থার পেছনে মূল দুটি বিতর্ক রয়েছে। প্রথমত, টাটা সন্সের পরিচালনা পর্ষদের মনোনয়ন কমিটি সম্প্রতি এন চন্দ্রশেখরনকে আগামী পাঁচ বছরের জন্য চেয়ারম্যান হিসেবে পুনর্নিয়োগ দিয়েছে। তবে টাটা ট্রাস্টস এই সিদ্ধান্তকে অবৈধ ও গঠনতন্ত্রবিরোধী বলে দাবি করেছে। ট্রাস্টসের মতে, কম্পানির করপোরেট নীতি অনুযায়ী ৬৫ বছরের বেশি বয়সে কোনো নির্বাহী পদে থাকার নিয়ম নেই, আর চন্দ্রশেখরন ২০২৮ সালে ৬৫ বছর পূর্ণ করবেন।

এ ছাড়া পর্ষদের মনোনয়ন কমিটির এই ধরনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করার কোনো আইনি এখতিয়ার নেই, তারা কেবল সুপারিশ করতে পারে। আগামী বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) টাটা ট্রাস্টস এই পুনর্নিয়োগের বিরুদ্ধে ভোট দিলে সিদ্ধান্তটি বাতিল হয়ে যেতে পারে।

দ্বিতীয়ত, রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়া (আরবিআই) ২০২২ সালে টাটা সন্সকে ‘উচ্চ স্তরের নন-ব্যাংকিং আর্থিক সংস্থা’ হিসেবে চিহ্নিত করে নিয়ম অনুযায়ী শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হতে নির্দেশ দিয়েছিল। টাটা সন্স ব্যাংক ঋণ শোধ করে এই বাধ্যবাধকতা থেকে অব্যাহতির আবেদন জানালেও চলতি মাসে আরবিআই তা প্রত্যাখ্যান করেছে।

রতন টাটাসহ ট্রাস্টের প্রবীণ পরিচালকরা বরাবরই কম্পানিকে ব্যক্তিমালিকানাধীন রাখার পক্ষে ছিলেন। তাদের মতে, শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হলে ট্রাস্টের একক নিয়ন্ত্রণ কমবে এবং সাধারণ শেয়ারহোল্ডাররা মুনাফাকেন্দ্রিক সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিতে পারে। এতে হাসপাতাল, বিশ্ববিদ্যালয় ও সামাজিক গবেষণায় ট্রাস্টের দেওয়া অনুদান বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ ছাড়া এয়ার ইন্ডিয়ার মতো সদ্য অর্জিত প্রকল্পগুলোর ঋণের চাপ শেয়ারবাজারের বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট নাও করতে পারে।

তবে করপোরেট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টাটার অধীনস্থ বিভিন্ন কম্পানির মোট বাজারমূল্য ২৬০ বিলিয়ন ডলারের বেশি।

এত বড় একটি শিল্পগোষ্ঠীর পরিচালনা কাঠামো, মূলধন ব্যবহার ও সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে শেয়ারবাজারে আসা প্রয়োজন।

সামগ্রিক পরিস্থিতিতে টাটা গ্রুপে বড় ধরনের প্রশাসনিক ও আইনি জটিলতা তৈরির আশঙ্কা করছেন করপোরেট বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, আগামী দিনগুলোতে পরিচালনা পর্ষদ ও ট্রাস্টের মধ্যকার এই টানাপোড়েন ভারতের পুঁজিবাজার ও বৈশ্বিক ব্যবসায়িক পরিমণ্ডলে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ