ঢাকা ০৩:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo রাশিয়ায় ড্রোন হামলায় নিহত ২, ক্ষতিগ্রস্ত তেল শোধনাগার Logo হাইকোর্টের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ Logo শেখ হাসিনাসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন ১০ ডিসেম্বর Logo ২০৩০ সালের মধ্যে ১০৬.৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদনের লক্ষ্য সরকারের Logo ককটেল বিস্ফোরণে জড়িত কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ.লীগ: ডিএমপি Logo অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে ৪ আসামি গ্রেপ্তার, তারা অপরাধ স্বীকার করেছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo পদ্মায় মিলছে না রুপালি ইলিশ, জীবিকা হারিয়ে দিশেহারা মানিকগঞ্জের জেলেরা Logo অপ্রতীমের নির্মম মৃত্যুতে তারকাদের আহাজারি, বিচারের দাবি Logo লং মার্চে যাওয়ার পথে জামায়াত নেতাকে কুপিয়ে জখম Logo একজনের কারণেই মেসিকে বার্সায় ফেরানো যায়নি, হাটে হাঁড়ি ভাঙলেন জাভি

ইসরায়েলকে ৪০ হাজার বোমা বিক্রির অর্থায়ন আটকে দিলেন মার্কিন আইনপ্রণেতারা

ইসরায়েলের কাছে ২ দশমিক ৮ বিলিয়ন (২৮০ কোটি) মার্কিন ডলারের সামরিক অস্ত্র বিক্রির অর্থায়নে আপত্তি জানিয়ে প্রক্রিয়াটি আটকে দিয়েছেন মার্কিন সিনেটের ফরেন রিলেশনস কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সিনেটর জিন শ্যাহিন। একই অবস্থানে সংহতি জানিয়ে অস্ত্র চালানে বাধা দিয়েছেন মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সদস্য গ্রেগরি মিকসও। এর মধ্য দিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন ও ইসরায়েলের নেতানিয়াহু সরকারের প্রতি মার্কিন আইনপ্রণেতাদের গভীর অনাস্থা ফের প্রকাশ্যে এলো।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য হিল ও সেমাফোর-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রস্তাবিত এ চুক্তির আওতায় প্রতিটি এক টন (২ হাজার পাউন্ড) ওজনের প্রায় ৪০ হাজার শক্তিশালী বোমা ইসরায়েলকে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল ট্রাম্প প্রশাসন। গাজায় ব্যাপক বেসামরিক প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞের আশঙ্কায় সাবেক বাইডেন প্রশাসন এসব ভারী বোমার চালান স্থগিত রেখেছিল।

সিনেটর জিন শ্যাহিন অভিযোগ করেন, গাজায় নির্বিচার বেসামরিক মানুষ হত্যা বন্ধে এবং ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতাদের উদ্বেগ দূর করতে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেননি। এ ছাড়া সিরিয়ায় ইসরায়েলের আগ্রাসী বোমাবর্ষণ এবং অধিকৃত পশ্চিম তীরে উগ্র ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের মাধ্যমে ফিলিস্তিনিদের ওপর বাড়তে থাকা সহিংসতা নিয়েও তিনি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

মার্কিন নিয়ম অনুযায়ী, সিনেটের ফরেন রিলেশনস ও প্রতিনিধি পরিষদের ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটির শীর্ষ সদস্যদের বড় অঙ্কের অস্ত্র বিক্রির সিদ্ধান্তে অনানুষ্ঠানিক স্থগিতাদেশ বা ভেটো দেওয়ার আইনি ক্ষমতা রয়েছে। পররাষ্ট্র দপ্তরকে সাধারণত এ ধরনের অস্ত্র বিক্রির প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করার আগে সংশ্লিষ্ট কমিটির আইনপ্রণেতাদের উদ্বেগ নিরসন করে সম্মতি নিতে হয়।

প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্র্যাট নেতা গ্রেগরি মিকস সম্প্রতি এক বিরল প্রকাশ্য বিবৃতিতে জানান, নেতানিয়াহু সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সরবরাহ করা প্রাণঘাতী অস্ত্র আন্তর্জাতিক মানবিক আইন ও মার্কিন বিধি মেনে ব্যবহার করবে কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।

এ বিষয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-কে জিন শ্যাহিন বলেন, “ইসরায়েল যা করছে, তা নিয়ে আমরা সবাই গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। গাজায় তারা যে ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে এবং সিরিয়ায় যেভাবে বোমাবর্ষণ করছে—তা মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক শান্তি প্রক্রিয়ার জন্য মারাত্মক হুমকি।”

নেতানিয়াহু সরকারকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে শ্যাহিন আরও বলেন, “নেতানিয়াহুকে আমেরিকার কাছ থেকে পরিষ্কার শুনতে হবে যে, তিনি যা করছেন তা আমরা কোনোভাবেই সমর্থন করি না। পশ্চিম তীরে উগ্র বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় ফিলিস্তিনিরা নিহত হচ্ছে, বাস্তুচ্যুত হচ্ছে এবং অবকাঠামো ধ্বংস হচ্ছে। অথচ নেতানিয়াহু সরকার এ বর্বরতা থামাতে কিছুই করেনি।”

ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, গত তিন বছরে ইসরায়েলি আগ্রাসনে গাজায় নিহতের সংখ্যা প্রায় ৭০ হাজারে পৌঁছেছে, যার বড় অংশই নারী ও শিশু। এমন পরিস্থিতিতে ইসরায়েলকে আবারও ভারী মারণাস্ত্র সরবরাহের মার্কিন উদ্যোগ ওয়াশিংটনেই তীব্র অভ্যন্তরীণ বিরোধের মুখে পড়ল।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ

Tag :

রাশিয়ায় ড্রোন হামলায় নিহত ২, ক্ষতিগ্রস্ত তেল শোধনাগার

ইসরায়েলকে ৪০ হাজার বোমা বিক্রির অর্থায়ন আটকে দিলেন মার্কিন আইনপ্রণেতারা

আপডেট সময় ১১:২৬:০৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইসরায়েলের কাছে ২ দশমিক ৮ বিলিয়ন (২৮০ কোটি) মার্কিন ডলারের সামরিক অস্ত্র বিক্রির অর্থায়নে আপত্তি জানিয়ে প্রক্রিয়াটি আটকে দিয়েছেন মার্কিন সিনেটের ফরেন রিলেশনস কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সিনেটর জিন শ্যাহিন। একই অবস্থানে সংহতি জানিয়ে অস্ত্র চালানে বাধা দিয়েছেন মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সদস্য গ্রেগরি মিকসও। এর মধ্য দিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন ও ইসরায়েলের নেতানিয়াহু সরকারের প্রতি মার্কিন আইনপ্রণেতাদের গভীর অনাস্থা ফের প্রকাশ্যে এলো।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য হিল ও সেমাফোর-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রস্তাবিত এ চুক্তির আওতায় প্রতিটি এক টন (২ হাজার পাউন্ড) ওজনের প্রায় ৪০ হাজার শক্তিশালী বোমা ইসরায়েলকে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল ট্রাম্প প্রশাসন। গাজায় ব্যাপক বেসামরিক প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞের আশঙ্কায় সাবেক বাইডেন প্রশাসন এসব ভারী বোমার চালান স্থগিত রেখেছিল।

সিনেটর জিন শ্যাহিন অভিযোগ করেন, গাজায় নির্বিচার বেসামরিক মানুষ হত্যা বন্ধে এবং ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতাদের উদ্বেগ দূর করতে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেননি। এ ছাড়া সিরিয়ায় ইসরায়েলের আগ্রাসী বোমাবর্ষণ এবং অধিকৃত পশ্চিম তীরে উগ্র ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের মাধ্যমে ফিলিস্তিনিদের ওপর বাড়তে থাকা সহিংসতা নিয়েও তিনি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

মার্কিন নিয়ম অনুযায়ী, সিনেটের ফরেন রিলেশনস ও প্রতিনিধি পরিষদের ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটির শীর্ষ সদস্যদের বড় অঙ্কের অস্ত্র বিক্রির সিদ্ধান্তে অনানুষ্ঠানিক স্থগিতাদেশ বা ভেটো দেওয়ার আইনি ক্ষমতা রয়েছে। পররাষ্ট্র দপ্তরকে সাধারণত এ ধরনের অস্ত্র বিক্রির প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করার আগে সংশ্লিষ্ট কমিটির আইনপ্রণেতাদের উদ্বেগ নিরসন করে সম্মতি নিতে হয়।

প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্র্যাট নেতা গ্রেগরি মিকস সম্প্রতি এক বিরল প্রকাশ্য বিবৃতিতে জানান, নেতানিয়াহু সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সরবরাহ করা প্রাণঘাতী অস্ত্র আন্তর্জাতিক মানবিক আইন ও মার্কিন বিধি মেনে ব্যবহার করবে কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।

এ বিষয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-কে জিন শ্যাহিন বলেন, “ইসরায়েল যা করছে, তা নিয়ে আমরা সবাই গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। গাজায় তারা যে ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে এবং সিরিয়ায় যেভাবে বোমাবর্ষণ করছে—তা মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক শান্তি প্রক্রিয়ার জন্য মারাত্মক হুমকি।”

নেতানিয়াহু সরকারকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে শ্যাহিন আরও বলেন, “নেতানিয়াহুকে আমেরিকার কাছ থেকে পরিষ্কার শুনতে হবে যে, তিনি যা করছেন তা আমরা কোনোভাবেই সমর্থন করি না। পশ্চিম তীরে উগ্র বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় ফিলিস্তিনিরা নিহত হচ্ছে, বাস্তুচ্যুত হচ্ছে এবং অবকাঠামো ধ্বংস হচ্ছে। অথচ নেতানিয়াহু সরকার এ বর্বরতা থামাতে কিছুই করেনি।”

ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, গত তিন বছরে ইসরায়েলি আগ্রাসনে গাজায় নিহতের সংখ্যা প্রায় ৭০ হাজারে পৌঁছেছে, যার বড় অংশই নারী ও শিশু। এমন পরিস্থিতিতে ইসরায়েলকে আবারও ভারী মারণাস্ত্র সরবরাহের মার্কিন উদ্যোগ ওয়াশিংটনেই তীব্র অভ্যন্তরীণ বিরোধের মুখে পড়ল।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ