ঢাকাই চলচ্চিত্রের নন্দিত অভিনেতা সোহেল রানার শৌখিনতার কথা সবারই জানা। রুচিশীল পোশাক ও দামি ঘড়ির প্রতি তাঁর একটি দুর্বলতা রয়েছে। এবার প্রায় চার দশক আগের কথা মনে রেখে বড় ভাইকে দামি একটি ঘড়ি উপহার দিয়েছেন অভিনেতা রুবেল। সম্প্রতি এক পোস্টে বিষয়টি জানিয়েছেন সোহেল রানা নিজেই।
তিনি জানান, প্রায় ৪০ বছর আগে চিকিৎসার জন্য তাকে সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। সেই সময় তার সফরসঙ্গী ছিলেন হুমায়ুন ফরিদী, শহিদুল ইসলাম খোকন এবং ছোট ভাই রুবেল। হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে ডাক্তার তাকে জনানা তিনি সুস্থ আছেন। তখন মনের আনন্দে হাসপাতাল ছেড়ে হোটেলে ওঠেন তিনি।
বিকালে ঘড়ি কেনার শখ থেকে রুবেল ও খোকনকে সাথে নিয়ে বেরিয়ে পড়েন। অভিনেতা ভাষ্য, তখন আমার হাতে বিখ্যাত ব্র্যান্ডের রাডো ঘড়ি ছিল। যার উপর দিয়ে ট্রাক গেলেও ঘড়ির কিছুই হতো না। তারপরও মনে হলো আরও একটা দামি ঘড়ি কিনব। দোকানে গেলাম সঙ্গে রুবেল এবং খোকন। একটা বিরাট শোরুমে সবচেয়ে দামি ঘড়িটা আমার সামনে আনা হলো। দাম শুনে একটু চমকে উঠলাম, ভাবলাম এত টাকা তো আমার কাছে নেই। কিনে আনলাম বুচারার। কিন্তু চোখ বারবারই আমার দৃষ্টি পড়ছিল সেই ঘড়িটার দিকে, যেটা টাকার জন্য আমি কিনতে পারিনি।
প্রায় চার দশক আগের কথা একপ্রকার ভুলেই গিয়েছিলেন অভিনেতা। কিন্তু ভাইয়ের মনের কথা ভোলেননি চিত্রনায়ক রুবেল। সোহাল রানা লেখেন, ‘প্রায় ৪০ বছর আগের কথা আমি ভুলেই গিয়েছিলাম। কিন্তু ভোলেনি রুবেল। প্রায় ৪০ বছর পর গতকাল আমার বাসায় এসে আমার হাতটা টেনে নিয়ে একটা ঘড়ি পরিয়ে দিল। বলল, যে ঘড়িটার দিকে তুমি তাকিয়েছিলে, তার দাম এখন আমার নাগালের বাইরে, এক কোটি থেকে দেড় কোটি। কিন্তু তারপরেও যে ঘড়িটা আমাকে দিল, দাম বলব না, শুধু এটুকু বলতে পারি, আমার সেই ইচ্ছেটা সে মনে রেখেছে।’
ভাইয়ের ভালোবাসা দেখে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি ঢাকাই সিনেমার জীবন্ত কিংবদন্তি। উপহার পাওয়ার পর অনুভূতি প্রকাশ করে সোহেল রানা বলেন, ‘দাম দিয়ে সবকিছু কেনা যায় না, হৃদয় থাকতে হয়, ভালোবাসা থাকতে হয়। আমার সেই ইচ্ছেটা মনে রেখে চল্লিশ বছর পরে বড় ভাইয়ের জন্য অনেক অনেক দামি একটা ঘড়ি নিয়ে এল। বলল, সব সময় পরে থাকবে। আমি শুধু তাকিয়ে রইলাম আর মনে মনে ভাবলাম, কথাটা না বললেও চলত, আমৃত্যু এই ঘড়ি আমার হাতেই থাকবে।’
মুক্তিযুদ্ধের সিনেমা ‘ওরা ১১ জন’ প্রযোজনার মাধ্যমে পথচলা শুরু সোহেল রানার। এর বছর দুয়েক পর ‘মাসুদ রানা’ সিনেমার মাধ্যমে নায়ক ও পরিচালক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন তিনি।
বাংলা৭১নিউজ/জেএস
























