ঢাকা ০৪:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo অবশেষে মুখ খুললেন ভারতের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক Logo রংপুরে চার খুন : আসামিদের পক্ষে লড়বেন না আইনজীবীরা Logo হাসপাতালে যাওয়ার পথে বন্যার কবলে, ৫৬ ঘণ্টা পর মায়ের সন্ধ্যান পেল ছেলে Logo সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষায় খাস জমি বরাদ্দে সহযোগিতার আশ্বাস ভূমিমন্ত্রীর Logo মদনে কলেজে সহকর্মীকে ধর্ষণের অভিযোগ, তদন্ত কমিটি গঠন Logo খাদ্য নিরাপত্তা ও নিরাপদ খাদ্য সংগ্রহ করাই আমার মূল কাজ : খাদ্যমন্ত্রী Logo লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারে তথ্য দিলে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত পুরস্কার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo টানা দুই ম্যাচে প্রত্যাবর্তন, এনরিকে বললেন এটাই আসল পিএসজি Logo জামালপুরে বদ্ধ ঘর থেকে দুর্গন্ধ, দরজা ভেঙে কলেজছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার Logo পিংক বাসে নারী চালক নিয়োগ, সরাসরি সাক্ষাৎকারে নিয়োগ

রংপুরে চার খুন : আসামিদের পক্ষে লড়বেন না আইনজীবীরা

রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চার সদস্যকে হত্যার ঘটনায় আসামিদের পক্ষে কোনো আইনগত লড়াই না করার ঘোষণা দিয়েছে রংপুর আইনজীবী সমিতি। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে থেকে সব ধরনের আইনি সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি।

তবে হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানিয়েছে রংপুর মহানগর নাগরিক কমিটি।

শনিবার (২৯ আগস্ট) সকালে রংপুর আইনজীবী সমিতি ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আফতাব উদ্দিন এ ঘোষণা দেন।

সংবাদ সম্মেলনে অ্যাডভোকেট আফতাব উদ্দিন বলেন, রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ তার পরিবারের চার সদস্যকে হত্যার ঘটনা অত্যন্ত নৃশংস ও নিকৃষ্টতম। আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকে এ হত্যাকাণ্ডের তীব্র প্রতিবাদ জানানো হচ্ছে।

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে থাকার পাশাপাশি তাদের প্রয়োজনীয় সব ধরনের আইনগত সহায়তা দেওয়ার কথাও জানান তিনি।

আফতাব উদ্দিন বলেন, কয়েকজন সরকারি আইনজীবী ও রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসককে সঙ্গে নিয়ে তারা ইতোমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। হত্যাকাণ্ডের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা এবং তদন্ত কার্যক্রম তারা পর্যবেক্ষণ করছেন।

তিনি আরো বলেন, চারজনের লাশ উদ্ধারের পর দুজনকে আটক করেছে পুলিশ।

তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে লুণ্ঠিত গহনা উদ্ধারের কথাও পুলিশ জানিয়েছে। আটক দুই ব্যক্তি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে জবানবন্দি দিয়েছেন। এখন পর্যন্ত পুলিশের তদন্ত ও কার্যক্রম সঠিক পথেই রয়েছে বলে আইনজীবী সমিতি মনে করছে।

তবে হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা ধরনের গুজব ও গল্প ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। তার ভাষ্য, কেউ কেউ এ ঘটনাকে রাজনৈতিক প্রচারণার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের চেষ্টা করছেন।

আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকে সবাইকে এ ধরনের অপপ্রচার ও গুজব থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

তিনি বলেন, এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে কেউ রাজনীতি করবেন না। কোনো ধরনের গুজব ছড়াবেন না। সাংবাদিকদেরও সঠিক তথ্য তুলে ধরার আহ্বান জানাচ্ছি।

আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক বলেন, সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে-গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চার সদস্য হত্যাকাণ্ডের মামলায় আসামিদের পক্ষে আইনজীবী সমিতির কোনো সদস্য আইনগত লড়াই করবেন না। তবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পক্ষে আইনজীবী সমিতি থাকবে এবং তাদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সব ধরনের আইনি সহযোগিতা করা হবে।

এদিকে, একই হত্যাকাণ্ড নিয়ে শনিবার দুপুরে পৃথক সংবাদ সম্মেলন করেছে রংপুর মহানগর নাগরিক কমিটি। সংগঠনটির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট পলাশ কান্তি নাগ বলেন, হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রয়োজন।

কান্তি নাগ বলেন, দুই আসামি গ্রেপ্তার এবং আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেওয়ার বিষয়টি ইতোমধ্যে সামনে এসেছে। এখন পর্যন্ত পুলিশের তদন্ত সঠিক পথেই রয়েছে বলে মহানগর নাগরিক কমিটি মনে করছে। তবে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদ্‌ঘাটন এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে তদন্তের পাশাপাশি বিচার বিভাগীয় তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ

Tag :

অবশেষে মুখ খুললেন ভারতের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক

রংপুরে চার খুন : আসামিদের পক্ষে লড়বেন না আইনজীবীরা

আপডেট সময় ০৪:০৩:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬

রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চার সদস্যকে হত্যার ঘটনায় আসামিদের পক্ষে কোনো আইনগত লড়াই না করার ঘোষণা দিয়েছে রংপুর আইনজীবী সমিতি। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে থেকে সব ধরনের আইনি সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি।

তবে হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানিয়েছে রংপুর মহানগর নাগরিক কমিটি।

শনিবার (২৯ আগস্ট) সকালে রংপুর আইনজীবী সমিতি ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আফতাব উদ্দিন এ ঘোষণা দেন।

সংবাদ সম্মেলনে অ্যাডভোকেট আফতাব উদ্দিন বলেন, রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ তার পরিবারের চার সদস্যকে হত্যার ঘটনা অত্যন্ত নৃশংস ও নিকৃষ্টতম। আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকে এ হত্যাকাণ্ডের তীব্র প্রতিবাদ জানানো হচ্ছে।

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে থাকার পাশাপাশি তাদের প্রয়োজনীয় সব ধরনের আইনগত সহায়তা দেওয়ার কথাও জানান তিনি।

আফতাব উদ্দিন বলেন, কয়েকজন সরকারি আইনজীবী ও রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসককে সঙ্গে নিয়ে তারা ইতোমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। হত্যাকাণ্ডের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা এবং তদন্ত কার্যক্রম তারা পর্যবেক্ষণ করছেন।

তিনি আরো বলেন, চারজনের লাশ উদ্ধারের পর দুজনকে আটক করেছে পুলিশ।

তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে লুণ্ঠিত গহনা উদ্ধারের কথাও পুলিশ জানিয়েছে। আটক দুই ব্যক্তি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে জবানবন্দি দিয়েছেন। এখন পর্যন্ত পুলিশের তদন্ত ও কার্যক্রম সঠিক পথেই রয়েছে বলে আইনজীবী সমিতি মনে করছে।

তবে হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা ধরনের গুজব ও গল্প ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। তার ভাষ্য, কেউ কেউ এ ঘটনাকে রাজনৈতিক প্রচারণার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের চেষ্টা করছেন।

আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকে সবাইকে এ ধরনের অপপ্রচার ও গুজব থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

তিনি বলেন, এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে কেউ রাজনীতি করবেন না। কোনো ধরনের গুজব ছড়াবেন না। সাংবাদিকদেরও সঠিক তথ্য তুলে ধরার আহ্বান জানাচ্ছি।

আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক বলেন, সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে-গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চার সদস্য হত্যাকাণ্ডের মামলায় আসামিদের পক্ষে আইনজীবী সমিতির কোনো সদস্য আইনগত লড়াই করবেন না। তবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পক্ষে আইনজীবী সমিতি থাকবে এবং তাদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সব ধরনের আইনি সহযোগিতা করা হবে।

এদিকে, একই হত্যাকাণ্ড নিয়ে শনিবার দুপুরে পৃথক সংবাদ সম্মেলন করেছে রংপুর মহানগর নাগরিক কমিটি। সংগঠনটির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট পলাশ কান্তি নাগ বলেন, হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রয়োজন।

কান্তি নাগ বলেন, দুই আসামি গ্রেপ্তার এবং আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেওয়ার বিষয়টি ইতোমধ্যে সামনে এসেছে। এখন পর্যন্ত পুলিশের তদন্ত সঠিক পথেই রয়েছে বলে মহানগর নাগরিক কমিটি মনে করছে। তবে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদ্‌ঘাটন এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে তদন্তের পাশাপাশি বিচার বিভাগীয় তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ