প্রচলিত নাট্যমঞ্চের প্রথাগত দেয়াল ভেঙে লিভিং থিয়েটারের এক অনন্য নান্দনিকতায় দর্শকদের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে নাট্যদল ‘নাট্যধারা’। ইরাকের নিপীড়িত ইয়াজিদি তরুণী ও শান্তিতে নোবেলজয়ী নাদিয়া মুরাদের জীবনসংগ্রামের প্রেক্ষাপটে নির্মিত নতুন প্রযোজনা ‘দোজখের শেষ মেয়েটি’-র উদ্বোধনী মঞ্চায়ন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আগামী ২৮ আগস্ট, শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির এক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটার হলে নাটকটির প্রথম প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে।
মঞ্চ ও দর্শকের দূরত্ব ঘুচিয়ে ‘লিভিং থিয়েটার’
প্রথাগত নাট্যরীতির গণ্ডি পেরিয়ে এ প্রযোজনায় লিভিং থিয়েটারের স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে, যা দর্শক ও মঞ্চের মধ্যকার দূরত্ব মুছে দিয়ে নাট্যমুহূর্তগুলোকে দৃশ্যমান বাস্তবতার মতো প্রত্যক্ষ ও অনুভবনির্ভর করে তোলে। শরীরী ভাষা, প্রখর প্রতীকী অভিনয়, আলোর আলো-আঁধারি খেলা এবং সুর ও আবহের মূর্চ্ছনায় রূপায়িত করা হয়েছে এই নান্দনিক নাট্যভাষা।
ব্যক্তি নাদিয়া থেকে সময়ের প্রতিচ্ছবি
নাটকটির কেন্দ্রীয় চরিত্র নাদিয়া মুরাদ—যিনি উগ্রবাদী মৌলবাদের নিষ্ঠুর থাবায় বন্দিত্ব ও অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয়েও হার মানেননি। পরবর্তীতে ইউরোপে আশ্রয় নিয়ে বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার ও পীড়িতদের পক্ষে সোচ্চার হয়ে ২০১৮ সালে নোবেল শান্তিতে ভূষিত হন। তবে ‘দোজখের শেষ মেয়েটি’ কেবল নাদিয়ার আত্মজীবনীতে সীমাবদ্ধ নয়; বরং যুদ্ধ, রাষ্ট্রযন্ত্র, বিশ্বরাজনীতির নিষ্ঠুর সমীকরণ, অর্থনৈতিক স্বার্থসিদ্ধি এবং জাতিগত সহিংসতার শিকার হওয়া অগণিত মানুষের ক্রন্দনকে সার্বজনীন রূপে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
অনুভূতির ক্যানভাসে পাঁচটি শাশ্বত প্রশ্ন
দর্শককে কেবল গল্পের শ্রোতা না বানিয়ে ঘটনার জীবন্ত সাক্ষী হিসেবে দাঁড় করানোই এই নাট্যপ্রযোজনার মূল লক্ষ্য। নাটকটির সমাপ্তিলগ্নে পৌঁছাতে পৌঁছাতে দর্শককে অবধারিতভাবে মুখোমুখি হতে হয় পাঁচটি চিরন্তন প্রশ্নের:
নাদিয়াই কি পৃথিবীর দৃশ্যমান ও অদৃশ্য দোজখের শেষ মেয়ে?
চলমান এই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধই কি পৃথিবীর শেষ যুদ্ধ?
মৌলবাদের তৈরি এই দোজখই কি মানবতার শেষ দোজখ?
নাদিয়াই কি তবে শেষ দোজখের শেষ মেয়ে?
আর পৃথিবীর এসব ‘যুদ্ধশিশু’ কি তবে কোনো নিষ্ঠুর পরিকল্পনার ফসল?
কুশীলব ও নেপথ্য কারিগর
সুইডেনপ্রবাসী খ্যাতিমান নাট্যকার আনিসুর রহমানের রচনায় নাটকটির নাট্যনির্মাণ, সংগীত ও পোশাক পরিকল্পনায় রয়েছেন বিশিষ্ট নাট্যজন আশীষ খন্দকার। সহযোগী নির্দেশনায় রিয়াদ মাহমুদ এবং মঞ্চ ও আলো পরিকল্পনার দায়িত্বে রয়েছেন পলাশ সেন হেনরী। প্রযোজনাটির সার্বিক নির্মাণ সহায়তায় যুক্ত রয়েছে বিডিজবস ডট কম ও সাইমন কালিনারী ইনস্টিটিউট।
বিভিন্ন চরিত্র রূপায়ণে মঞ্চ কাঁপাবেন মো. কামাল হোসেন, ফাহমিদা রহমান তৃষা, রিয়াদ মাহমুদ, হাফসা আক্তার, মো. আব্দুল আজিজ, মো. রফিকুল ইসলাম, রহিম পারভেজ, আল হাছিবুর রহমান, জাহাঙ্গীর সিকদার, ইমতিয়াজ আহমেদ দুলু ও শিশুশিল্পী হাফসা মাহমুদ ঋদ্ধি।
শিল্পকলা একাডেমির এক্সপেরিমেন্টাল হলে লিভিং থিয়েটারের ভিন্নধর্মী ও পরীক্ষামূলক ভাষার এই প্রযোজনাটি সমকালীন বাংলা নাট্যমঞ্চে এক গভীর ও নজিরবিহীন রেখাপাত করবে বলে আশা করছেন নাট্যপ্রেমী ও উদ্যোক্তারা।
বাংলা৭১নিউজ / এসএইচবি






















