চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াত নেতা শাহজাহান চৌধুরীর ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) আরমান উদ্দিন ও তার ভাই আরিফ উদ্দিনসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, লুট, হামলা ও হত্যার হুমকির অভিযোগে মামলা হয়েছে।
আজ রবিবার (২৪ আগস্ট) চট্টগ্রাম চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি করা হয়।
মামলার বাদী লোহাগাড়ার পশ্চিম কলাউজান এলাকার বাসিন্দা আমির হোসেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।
বাদীপক্ষের আইনজীবী আদনান কবির জিলান জানান, আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে নিকটস্থ সার্কেল অফিসারকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার আসামিরা হলেন, আরমান উদ্দিন, তার ভাই আরিফ উদ্দিন (৩৭), লোহাগাড়ার শওকত আলী (৪২), আদিল (৩২), আনোয়ার (২৮) ও জয়নাল আবেদীন (৩৩)।
এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরো চার-পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে।
এজাহারের তথ্য মতে, ২০০৬-২০০৭ সালের দিকে লোহাগাড়ায় বাদী জায়গা কিনে একটি চারতলা ভবন নির্মাণ করেন। ভবনের নিচতলায় একটি আলমারির দোকান এবং অন্য অংশে বাসা হিসেবে ভাড়া দেওয়া হয়। কিছুদিন ধরে আরমান উদ্দিনের নেতৃত্বে তার ভাই আরিফ উদ্দিনসহ অন্যরা বাদীর কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন।
চাঁদা না দিলে ঘর ও মার্কেট দখলে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। ভিন্ন এলাকা থেকে এসে তাদের এলাকায় বসবাস করার কারণেও তাদের কাছ থেকে চাঁদা দাবি করা হয়।
গত ৩ এপ্রিল রাত আনুমানিক ২টার দিকে আরমান উদ্দিন মোবাইল ফোনে ফের বাদীর কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তার ঘর দখল করে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। এরপর ওই রাতেই আসামিরা বাদীর আজিজ কমপ্লেক্সের নিচতলায় ভাড়াটিয়া ওবায়দুলের আলমারির দোকানের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন।
সেখান থেকে বিভিন্ন মালামাল নিয়ে যাওয়ারও অভিযোগ করেন বাদী। যেগুলোর আনুমানিক মূল্য ১১ লাখ ৫৮ হাজার ৬৫৯ টাকা বলেও জানান বাদী।
এ ছাড়া দোকানের একটি ক্যাশ টেবিল, যার ভেতরে নগদ এক লাখ ২০ হাজার টাকা ছিল, সেটিও নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে দোকানে নতুন তালা লাগিয়ে দেন আসামিরা।
অভিযোগে আরো বলা হয়, আসামিরা ভবনের ওপরের তলার ভাড়াটিয়াদের কাছে গিয়ে আগামিতে তাদের কাছে বাসা ভাড়া দিতে নির্দেশ দেন।
ঘটনার সময় বাদী দেশের বাইরে ছিলেন বলে জানান। পরে দেশে ফিরে গত ২০ আগস্ট বিষয়টি নিয়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। ওই দিন সকাল ৯টার দিকে বৈঠকের কথা বলে আসামিরা বাদীর ভবনে বসেন। সেখানে আরিফ উদ্দিন ফের ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন এবং টাকা না দিলে দোকান ও ঘরের দখল ছেড়ে দেবেন না বলে জানান।
এজাহারের তথ্য মতে, আরমান উদ্দিন মোবাইল ফোনে বাদীকে তার কথা শুনতে হবে বলে বিভিন্ন নির্দেশনা দেন। এ ছাড়া চাঁদা না দিলে বাদীকে হত্যা করে লাশ গুম করে ফেলার হুমকি দেন।
বাদী অভিযোগ জানিয়ে বলেন, দ্বিতীয় দফার ঘটনার পর লোহাগাড়া থানায় গিয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। পুলিশ মামলা নেওয়ার কথা বলে ঘটনাস্থলেও যায়। তবে পরে মামলা না নেওয়ায় তিনি আদালতের শরণাপন্ন হতে বাধ্য হন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে আরমান উদ্দিনকে ফোন করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
এদিকে মামলার তদন্তের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাননি বলে জানিয়েছেন সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী। তিনি বলেন, চিঠি পাওয়ার পর অভিযোগগুলো তদন্ত শেষে সত্যতা যাচাই এবং আদালতের পরবর্তী কার্যক্রমের মাধ্যমে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।
বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ



























