ঢাকা ১২:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬, ৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম

তীব্র গরমে আল্লাহর সৃষ্টি নিয়ে ভাবার আহ্বান জানিয়েছেন শায়খ হুজাইফি

শুক্রবার মসজিদে নববীতে প্রদত্ত জুমার খুতবায় মসজিদে নববীর ইমাম ও খতিব শায়খ ড. আহমদ বিন আলী আল-হুযাইফি বলেন, আল্লাহ তাআলা তাকওয়া অবলম্বনকারী, সৎকর্মশীল ও উত্তম প্রতিদানের প্রতি বিশ্বাসী বান্দাদের জন্য কল্যাণের পথ সহজ করে দেন। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘যে ব্যক্তি দান করে, আল্লাহকে ভয় করে এবং সর্বোত্তম পুরস্কারে বিশ্বাস রাখে, আমরা তাকে সহজতার দিকে আরও সহজ করে দেব।

’ (সুরা : লাইল, আয়াত : ৫-৭)

শায়খ হুযাইফি বলেন, বর্তমানে অনুভূত তীব্র গ্রীষ্মের তাপ ও প্রখর মধ্যাহ্নের সূর্য মুমিনের জন্য আল্লাহর কুদরত ও প্রভুত্ব নিয়ে চিন্তা করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ। দিন-রাতের পরিবর্তন, ঋতুর আবর্তন এবং বছর ও যুগের পরিক্রমা—সবকিছুই আল্লাহর অসীম ক্ষমতা ও নিখুঁত পরিচালনার নিদর্শন।

তিনি বলেন, আল্লাহই দিন ও রাতের পরিবর্তন ঘটান, সময়ের প্রবাহ পরিচালনা করেন এবং সমগ্র সৃষ্টিজগতকে তাঁর নির্ধারিত বিধান অনুযায়ী পরিচালিত করেন। তাই একমাত্র তিনিই প্রকৃত ইবাদতের যোগ্য।

এ প্রসঙ্গে তিনি পবিত্র কোরআনের সেই আয়াত স্মরণ করিয়ে দেন, যেখানে আল্লাহ বলেন, ‘বলুন, তোমরা কি ভেবে দেখেছ, আল্লাহ যদি কিয়ামতের দিন পর্যন্ত তোমাদের ওপর রাতকে স্থায়ী করে দেন, তবে আল্লাহ ছাড়া কোন উপাস্য তোমাদের আলো এনে দিতে পারে? তবু কি তোমরা শুনবে না?’ (সুরা : কাসাস, আয়াত : ৭১)

এরপর তিনি বলেন, এর বিপরীতে যদি আল্লাহ কিয়ামত পর্যন্ত দিনকে স্থায়ী করে দিতেন, তাহলে এমন কোনো উপাস্য আছে কি, যে মানুষকে বিশ্রামের জন্য রাত এনে দিতে পারত? এসব নিদর্শন মানুষকে স্মরণ করিয়ে দেয়—পরম কর্তৃত্ব ও সার্বভৌমত্ব একমাত্র আল্লাহর।

আল্লাহ তাআলা এই পৃথিবীকে এমনভাবে সৃষ্টি করেছেন যে এখানে কোনো অবস্থাই চিরস্থায়ী নয়। সুখের পর দুঃখ আসে, সমৃদ্ধির পর সংকট আসে, আবার সংকটের পর স্বস্তিও ফিরে আসে। মানুষের জীবনও ঠিক এভাবেই পরিবর্তনশীল।

তিনি দুনিয়ার জীবনের ক্ষণস্থায়ী প্রকৃতি বোঝাতে সুরা হাদিদের ২০ নম্বর আয়াতের মর্ম তুলে ধরেন। সেখানে আল্লাহ দুনিয়ার জীবনকে খেলাধুলা, বিনোদন, সৌন্দর্য প্রদর্শন, পারস্পরিক অহংকার এবং ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততিতে প্রতিযোগিতার সঙ্গে তুলনা করেছেন।

বৃষ্টির পর যেমন জমিনের ফসল সতেজ ও সবুজ হয়ে ওঠে, তা দেখে মানুষ আনন্দিত হয়; কিন্তু কিছুদিন পর সেই ফসল শুকিয়ে যায়, হলুদ হয়ে যায় এবং শেষ পর্যন্ত খড়কুটোয় পরিণত হয়—তেমনি দুনিয়ার চাকচিক্যও সাময়িক। আজ যে ব্যক্তি সুখ-সমৃদ্ধিতে আছে, কাল সে হয়তো পরীক্ষা ও সংকটের মুখোমুখি হবে।

তিনি বলেন, দুনিয়ার এই পরিবর্তনশীলতা মুমিনকে হতাশ করার জন্য নয়; বরং তাকে আখিরাতের স্থায়ী জীবনের জন্য প্রস্তুত করার শিক্ষা দেয়।

কারণ দুনিয়ার জীবন ক্ষণস্থায়ী, আর আল্লাহর সন্তুষ্টিই চূড়ান্ত সফলতার পথ।

শায়খ আল-হুযাইফি খুতবায় আরও বলেন, মানুষের স্বভাব হলো আরাম ও স্বাচ্ছন্দ্যের দিকে ঝুঁকে পড়া। যখন জীবনে বিলাসিতা আসে, তখন অনেক সময় মানুষ ইবাদত, সৎকর্ম ও আত্মসংযমে অলস হয়ে পড়ে। আবার কোনো ভালো কাজে সামান্য কষ্ট থাকলেও নফস তা এড়িয়ে যেতে চায়।

এ প্রসঙ্গে তিনি তাবুক অভিযানের সময় মুনাফিকদের মনোভাবের কথা উল্লেখ করেন। তারা প্রচণ্ড গরমের অজুহাত দেখিয়ে আল্লাহর পথে বের হতে অনীহা প্রকাশ করেছিল। আল্লাহ তাদের জবাবে বলেন, ‘বলুন, জাহান্নামের আগুন উত্তাপে আরও তীব্র।’ (সুরা : তাওবা, আয়াত : ৮১)

এই আয়াত মুমিনকে শিক্ষা দেয়—সাময়িক কষ্টকে ভয় পেয়ে সৎকর্ম থেকে পিছিয়ে যাওয়া উচিত নয়। কারণ নেক আমলের পথে কিছু কষ্ট থাকলেও তার পরিণতি সুন্দর। বিপরীতে আরাম-আয়েশের জন্য আল্লাহর আনুগত্য ও সৎকর্ম পরিত্যাগ করা মারাত্মক পরিণতি ডেকে আনতে পারে।

খুতবার শেষাংশে শায়খ আল-হুযাইফি বলেন, মুমিনের জীবনে যখন আরাম-আয়েশ ও পার্থিব সুবিধা তাকে আত্মতুষ্ট করে তোলে, তখন তার উচিত আল্লাহর কিতাবের শিক্ষা স্মরণ করা। আবার যখন দুঃখ-কষ্ট ও সংকট আসে, তখনও মনে রাখতে হবে—কোনো অবস্থাই চিরস্থায়ী নয়।

দিনের পর রাত আসে, শুষ্কতার পর বৃষ্টি আসে, কষ্টের পর স্বস্তি আসে—তেমনি দুনিয়ার প্রতিটি অবস্থারও পরিবর্তন রয়েছে। তাই মুমিনের কর্তব্য হলো সুখের সময় আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা, দুঃখের সময় ধৈর্য ধারণ করা এবং প্রতিটি অবস্থায় আল্লাহর আনুগত্যে অটল থাকা।

তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, দুনিয়ার সাময়িক স্বাচ্ছন্দ্যের পেছনে ছুটে আখিরাতের স্থায়ী কল্যাণকে বিসর্জন দেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ নয়। বরং মুমিনকে নিজের নফসকে নিয়ন্ত্রণ করে সৎকর্ম, ধৈর্য ও আল্লাহভীতির পথে অগ্রসর হতে হবে। তাই দুনিয়ার পরিবর্তনশীলতা মেনে নিয়ে মুমিনকে স্থায়ী আখিরাতের জন্য প্রস্তুত হতে হবে। কেননা তাকওয়া, ধৈর্য, সৎকর্ম ও আল্লাহর সন্তুষ্টিই মানুষের প্রকৃত সফলতার পাথেয়।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ

Tag :

গফরগাঁওয়ে ইঞ্জিন বিকল, সোয়া দুই ঘণ্টা পর ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক

তীব্র গরমে আল্লাহর সৃষ্টি নিয়ে ভাবার আহ্বান জানিয়েছেন শায়খ হুজাইফি

আপডেট সময় ১১:৩৮:৫৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬

শুক্রবার মসজিদে নববীতে প্রদত্ত জুমার খুতবায় মসজিদে নববীর ইমাম ও খতিব শায়খ ড. আহমদ বিন আলী আল-হুযাইফি বলেন, আল্লাহ তাআলা তাকওয়া অবলম্বনকারী, সৎকর্মশীল ও উত্তম প্রতিদানের প্রতি বিশ্বাসী বান্দাদের জন্য কল্যাণের পথ সহজ করে দেন। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘যে ব্যক্তি দান করে, আল্লাহকে ভয় করে এবং সর্বোত্তম পুরস্কারে বিশ্বাস রাখে, আমরা তাকে সহজতার দিকে আরও সহজ করে দেব।

’ (সুরা : লাইল, আয়াত : ৫-৭)

শায়খ হুযাইফি বলেন, বর্তমানে অনুভূত তীব্র গ্রীষ্মের তাপ ও প্রখর মধ্যাহ্নের সূর্য মুমিনের জন্য আল্লাহর কুদরত ও প্রভুত্ব নিয়ে চিন্তা করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ। দিন-রাতের পরিবর্তন, ঋতুর আবর্তন এবং বছর ও যুগের পরিক্রমা—সবকিছুই আল্লাহর অসীম ক্ষমতা ও নিখুঁত পরিচালনার নিদর্শন।

তিনি বলেন, আল্লাহই দিন ও রাতের পরিবর্তন ঘটান, সময়ের প্রবাহ পরিচালনা করেন এবং সমগ্র সৃষ্টিজগতকে তাঁর নির্ধারিত বিধান অনুযায়ী পরিচালিত করেন। তাই একমাত্র তিনিই প্রকৃত ইবাদতের যোগ্য।

এ প্রসঙ্গে তিনি পবিত্র কোরআনের সেই আয়াত স্মরণ করিয়ে দেন, যেখানে আল্লাহ বলেন, ‘বলুন, তোমরা কি ভেবে দেখেছ, আল্লাহ যদি কিয়ামতের দিন পর্যন্ত তোমাদের ওপর রাতকে স্থায়ী করে দেন, তবে আল্লাহ ছাড়া কোন উপাস্য তোমাদের আলো এনে দিতে পারে? তবু কি তোমরা শুনবে না?’ (সুরা : কাসাস, আয়াত : ৭১)

এরপর তিনি বলেন, এর বিপরীতে যদি আল্লাহ কিয়ামত পর্যন্ত দিনকে স্থায়ী করে দিতেন, তাহলে এমন কোনো উপাস্য আছে কি, যে মানুষকে বিশ্রামের জন্য রাত এনে দিতে পারত? এসব নিদর্শন মানুষকে স্মরণ করিয়ে দেয়—পরম কর্তৃত্ব ও সার্বভৌমত্ব একমাত্র আল্লাহর।

আল্লাহ তাআলা এই পৃথিবীকে এমনভাবে সৃষ্টি করেছেন যে এখানে কোনো অবস্থাই চিরস্থায়ী নয়। সুখের পর দুঃখ আসে, সমৃদ্ধির পর সংকট আসে, আবার সংকটের পর স্বস্তিও ফিরে আসে। মানুষের জীবনও ঠিক এভাবেই পরিবর্তনশীল।

তিনি দুনিয়ার জীবনের ক্ষণস্থায়ী প্রকৃতি বোঝাতে সুরা হাদিদের ২০ নম্বর আয়াতের মর্ম তুলে ধরেন। সেখানে আল্লাহ দুনিয়ার জীবনকে খেলাধুলা, বিনোদন, সৌন্দর্য প্রদর্শন, পারস্পরিক অহংকার এবং ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততিতে প্রতিযোগিতার সঙ্গে তুলনা করেছেন।

বৃষ্টির পর যেমন জমিনের ফসল সতেজ ও সবুজ হয়ে ওঠে, তা দেখে মানুষ আনন্দিত হয়; কিন্তু কিছুদিন পর সেই ফসল শুকিয়ে যায়, হলুদ হয়ে যায় এবং শেষ পর্যন্ত খড়কুটোয় পরিণত হয়—তেমনি দুনিয়ার চাকচিক্যও সাময়িক। আজ যে ব্যক্তি সুখ-সমৃদ্ধিতে আছে, কাল সে হয়তো পরীক্ষা ও সংকটের মুখোমুখি হবে।

তিনি বলেন, দুনিয়ার এই পরিবর্তনশীলতা মুমিনকে হতাশ করার জন্য নয়; বরং তাকে আখিরাতের স্থায়ী জীবনের জন্য প্রস্তুত করার শিক্ষা দেয়।

কারণ দুনিয়ার জীবন ক্ষণস্থায়ী, আর আল্লাহর সন্তুষ্টিই চূড়ান্ত সফলতার পথ।

শায়খ আল-হুযাইফি খুতবায় আরও বলেন, মানুষের স্বভাব হলো আরাম ও স্বাচ্ছন্দ্যের দিকে ঝুঁকে পড়া। যখন জীবনে বিলাসিতা আসে, তখন অনেক সময় মানুষ ইবাদত, সৎকর্ম ও আত্মসংযমে অলস হয়ে পড়ে। আবার কোনো ভালো কাজে সামান্য কষ্ট থাকলেও নফস তা এড়িয়ে যেতে চায়।

এ প্রসঙ্গে তিনি তাবুক অভিযানের সময় মুনাফিকদের মনোভাবের কথা উল্লেখ করেন। তারা প্রচণ্ড গরমের অজুহাত দেখিয়ে আল্লাহর পথে বের হতে অনীহা প্রকাশ করেছিল। আল্লাহ তাদের জবাবে বলেন, ‘বলুন, জাহান্নামের আগুন উত্তাপে আরও তীব্র।’ (সুরা : তাওবা, আয়াত : ৮১)

এই আয়াত মুমিনকে শিক্ষা দেয়—সাময়িক কষ্টকে ভয় পেয়ে সৎকর্ম থেকে পিছিয়ে যাওয়া উচিত নয়। কারণ নেক আমলের পথে কিছু কষ্ট থাকলেও তার পরিণতি সুন্দর। বিপরীতে আরাম-আয়েশের জন্য আল্লাহর আনুগত্য ও সৎকর্ম পরিত্যাগ করা মারাত্মক পরিণতি ডেকে আনতে পারে।

খুতবার শেষাংশে শায়খ আল-হুযাইফি বলেন, মুমিনের জীবনে যখন আরাম-আয়েশ ও পার্থিব সুবিধা তাকে আত্মতুষ্ট করে তোলে, তখন তার উচিত আল্লাহর কিতাবের শিক্ষা স্মরণ করা। আবার যখন দুঃখ-কষ্ট ও সংকট আসে, তখনও মনে রাখতে হবে—কোনো অবস্থাই চিরস্থায়ী নয়।

দিনের পর রাত আসে, শুষ্কতার পর বৃষ্টি আসে, কষ্টের পর স্বস্তি আসে—তেমনি দুনিয়ার প্রতিটি অবস্থারও পরিবর্তন রয়েছে। তাই মুমিনের কর্তব্য হলো সুখের সময় আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা, দুঃখের সময় ধৈর্য ধারণ করা এবং প্রতিটি অবস্থায় আল্লাহর আনুগত্যে অটল থাকা।

তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, দুনিয়ার সাময়িক স্বাচ্ছন্দ্যের পেছনে ছুটে আখিরাতের স্থায়ী কল্যাণকে বিসর্জন দেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ নয়। বরং মুমিনকে নিজের নফসকে নিয়ন্ত্রণ করে সৎকর্ম, ধৈর্য ও আল্লাহভীতির পথে অগ্রসর হতে হবে। তাই দুনিয়ার পরিবর্তনশীলতা মেনে নিয়ে মুমিনকে স্থায়ী আখিরাতের জন্য প্রস্তুত হতে হবে। কেননা তাকওয়া, ধৈর্য, সৎকর্ম ও আল্লাহর সন্তুষ্টিই মানুষের প্রকৃত সফলতার পাথেয়।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ