ঢাকা ০১:০৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইলিশ নিয়ে সুখবর

চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনায় ইলিশের আমদানি বাড়তে শুরু করায় কিছুটা কমেছে দাম। কয়েকদিন আগেও যে এক কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হয়েছে ৩ হাজার ২০০ টাকায়, বর্তমানে তা বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার ৬০০ টাকায়। ভরা মৌসুমে ইলিশের সরবরাহ আরও বাড়লে দাম আরও কমতে পারে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বিকেলে চাঁদপুর সদর উপজেলার হানারচর ইউনিয়নের হরিণা ফেরিঘাট সংলগ্ন ইলিশের আড়ত ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। এই আড়তে জেলেরা পদ্মা-মেঘনা থেকে আহরণ করা ইলিশসহ বিভিন্ন মাছ সরাসরি এনে বরফ ছাড়াই বিক্রি করেন।

হরিণা আড়তে গিয়ে দেখা যায়, ইলিশ কেনাবেচায় ব্যস্ত সময় পার করছেন জেলে ও ব্যবসায়ীরা। তবে মাত্র এক সপ্তাহ আগেও পরিস্থিতি ছিল ভিন্ন। নদীতে ইলিশের দেখা কম থাকায় জেলেরা অনেক সময় খালি হাতে ফিরেছেন। ফলে আড়তেও ক্রেতার উপস্থিতি ছিল তুলনামূলক কম।

হরিণা ঘাটসংলগ্ন বহরিয়া এলাকার জেলে রনি বলেন, গত কয়েক সপ্তাহ জ্বালানি খরচ না ওঠায় তারা নদীতে মাছ ধরতে যেতে পারেননি। তবে গত দুই দিন ধরে নদীতে ইলিশের বিচরণ বাড়তে শুরু করেছে। তাই আবারও মাছ ধরতে নদীতে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারা।

তাজা ইলিশ কিনতে আসা একজন বলেন, ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের চারটি ইলিশ ৯ হাজার টাকায় কিনেছেন। এছাড়া বিভিন্ন আকারের ইলিশ মিলিয়ে মোট ১৮ হাজার টাকার মাছ কিনেছেন তিনি। এই ঘাটে আসার মূল কারণ হলো, বরফ ছাড়াই পদ্মা-মেঘনার তাজা ইলিশ সরাসরি পাওয়া যায়।

ঘাটের পাইকারি ইলিশ বিক্রেতা বলেন, এক সপ্তাহ আগেও ইলিশের আমদানি ছিল খুবই কম। তবে গত কয়েকদিন ধরে জেলেদের জালে বিভিন্ন আকারের ইলিশ ধরা পড়ছে।

তিনি জানান, বর্তমানে এক কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার ৬০০ টাকায়, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল প্রায় ৩ হাজার ২০০ টাকা। ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকায়। আর ছোট আকারের ইলিশের দাম প্রতি কেজি ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা।

একই আড়তের আরেক মাছ বিক্রেতা বলেন, নদীতে এখন পর্যাপ্ত পানি রয়েছে এবং ইলিশের ভরা মৌসুম চলছে। এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে নদীতে ইলিশের বিচরণ ও আহরণ আরও বাড়বে। আর সরবরাহ বাড়লে দামও কমে আসবে। 

চাঁদপুর সদর উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা মির্জা ওমর ফারুক বলেন, এখন ইলিশের ভরা মৌসুম চলছে। সামনে নদীতে ইলিশের বিচরণ আরও বাড়বে এবং জেলেরাও ভালো পরিমাণে ইলিশ পাবেন।

তিনি বলেন, ইলিশ নিয়ে হতাশ হওয়ার কোনো কারণ নেই। মৌসুমের বাকি সময়ে ইলিশের আহরণ আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বাংলা৭১নিউজ/জেএস

Tag :

ইলিশ নিয়ে সুখবর

আপডেট সময় ১০:৪৮:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬

চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনায় ইলিশের আমদানি বাড়তে শুরু করায় কিছুটা কমেছে দাম। কয়েকদিন আগেও যে এক কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হয়েছে ৩ হাজার ২০০ টাকায়, বর্তমানে তা বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার ৬০০ টাকায়। ভরা মৌসুমে ইলিশের সরবরাহ আরও বাড়লে দাম আরও কমতে পারে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বিকেলে চাঁদপুর সদর উপজেলার হানারচর ইউনিয়নের হরিণা ফেরিঘাট সংলগ্ন ইলিশের আড়ত ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। এই আড়তে জেলেরা পদ্মা-মেঘনা থেকে আহরণ করা ইলিশসহ বিভিন্ন মাছ সরাসরি এনে বরফ ছাড়াই বিক্রি করেন।

হরিণা আড়তে গিয়ে দেখা যায়, ইলিশ কেনাবেচায় ব্যস্ত সময় পার করছেন জেলে ও ব্যবসায়ীরা। তবে মাত্র এক সপ্তাহ আগেও পরিস্থিতি ছিল ভিন্ন। নদীতে ইলিশের দেখা কম থাকায় জেলেরা অনেক সময় খালি হাতে ফিরেছেন। ফলে আড়তেও ক্রেতার উপস্থিতি ছিল তুলনামূলক কম।

হরিণা ঘাটসংলগ্ন বহরিয়া এলাকার জেলে রনি বলেন, গত কয়েক সপ্তাহ জ্বালানি খরচ না ওঠায় তারা নদীতে মাছ ধরতে যেতে পারেননি। তবে গত দুই দিন ধরে নদীতে ইলিশের বিচরণ বাড়তে শুরু করেছে। তাই আবারও মাছ ধরতে নদীতে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারা।

তাজা ইলিশ কিনতে আসা একজন বলেন, ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের চারটি ইলিশ ৯ হাজার টাকায় কিনেছেন। এছাড়া বিভিন্ন আকারের ইলিশ মিলিয়ে মোট ১৮ হাজার টাকার মাছ কিনেছেন তিনি। এই ঘাটে আসার মূল কারণ হলো, বরফ ছাড়াই পদ্মা-মেঘনার তাজা ইলিশ সরাসরি পাওয়া যায়।

ঘাটের পাইকারি ইলিশ বিক্রেতা বলেন, এক সপ্তাহ আগেও ইলিশের আমদানি ছিল খুবই কম। তবে গত কয়েকদিন ধরে জেলেদের জালে বিভিন্ন আকারের ইলিশ ধরা পড়ছে।

তিনি জানান, বর্তমানে এক কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার ৬০০ টাকায়, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল প্রায় ৩ হাজার ২০০ টাকা। ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকায়। আর ছোট আকারের ইলিশের দাম প্রতি কেজি ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা।

একই আড়তের আরেক মাছ বিক্রেতা বলেন, নদীতে এখন পর্যাপ্ত পানি রয়েছে এবং ইলিশের ভরা মৌসুম চলছে। এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে নদীতে ইলিশের বিচরণ ও আহরণ আরও বাড়বে। আর সরবরাহ বাড়লে দামও কমে আসবে। 

চাঁদপুর সদর উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা মির্জা ওমর ফারুক বলেন, এখন ইলিশের ভরা মৌসুম চলছে। সামনে নদীতে ইলিশের বিচরণ আরও বাড়বে এবং জেলেরাও ভালো পরিমাণে ইলিশ পাবেন।

তিনি বলেন, ইলিশ নিয়ে হতাশ হওয়ার কোনো কারণ নেই। মৌসুমের বাকি সময়ে ইলিশের আহরণ আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বাংলা৭১নিউজ/জেএস