ঢাকা ০৭:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে একে-৪৭ ব্যবহার, জেলা পুলিশ সুপার পদচ্যুত Logo ৬ ঘণ্টার পথ ১৪ ঘণ্টায় পৌঁছে কেমন আছেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা Logo ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, ভোট দেবেন ৩৪৯ সংসদ সদস্য Logo শিক্ষার্থীর ক্যান্সার আক্রান্ত মায়ের পাশে দাঁড়ালেন প্রধানমন্ত্রী Logo নবম শ্রেণির ছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, প্রেমিকসহ তিনজনের যাবজ্জীবন Logo ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চারুকলায় শুরু হয়েছে ‘দোলন বর্ষা আর্ট এক্সিবিশন’ Logo কম বয়সী পুরুষের প্রেমে মজেছিলেন যেসব অভিনেত্রী Logo বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্য বাড়াতে দুটি যৌথ টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব Logo ‘পান মশলার বিজ্ঞাপন করি না’ মন্তব্যের পর ভাইরাল সানির মাদকের বিজ্ঞাপন Logo ন্যাড়া মাথায় মন্দিরে বলিউড অভিনেত্রী নয়নতারা, ভিডিও ভাইরাল

নবম শ্রেণির ছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, প্রেমিকসহ তিনজনের যাবজ্জীবন

ফরিদপুরে নবম শ্রেণির এক ছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের মামলায় প্রেমিকসহ তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ১ লাখ টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। জরিমানার অর্থ ভুক্তভোগীর পরিবারকে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বেলা পৌনে ১টার দিকে ফরিদপুর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. আবুল বাশার মিঞা এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামিই আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে পুলিশ পাহারায় তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন মাগুরার মহম্মদপুর থানার বাবুখালী গ্রামের বাবু মোল্যার ছেলে নাসির মোল্যা (২৬), ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার লংকারচর গ্রামের তারক চন্দ্র মণ্ডলের ছেলে নাসির মোল্যা (২৬) এবং সোরাপ মোল্যার ছেলে নাসির মোল্যা (৩৬)। মামলার অপর দুই আসামির বিচার কার্যক্রম শিশু আদালতে চলমান।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বোয়ালমারীর একটি বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ওই ছাত্রীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে মাগুরার মহম্মদপুরের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র নাসির মোল্যার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ২০২০ সালের ২৮ জানুয়ারি রাত ৮টার দিকে নাসির ওই ছাত্রীর গ্রামের বাড়ির পাশে একটি বাগানে গিয়ে অপেক্ষা করছিলেন। পরে ছাত্রী সেখানে গেলে নাসিরের সঙ্গে আরও দুই যুবককে দেখতে পান।

এজাহার অনুযায়ী, তিন যুবক ওই ছাত্রীকে জোর করে তুলে নৌকায় করে মধুমতি নদীর একটি চরে নিয়ে যান। সেখানে তাকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করা হয়। এ সময় আসামিরা ঘটনার ভিডিও ধারণ ও ছবি তোলেন। পরে ছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে বাড়ির পাশে ফেলে রেখে তারা চলে যান।

পরদিন ভুক্তভোগী বোয়ালমারী থানায় পাঁচজনকে আসামি করে মামলা করেন। মামলা দায়েরের দুই দিনের মধ্যে পাঁচ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। ২০২০ সালের ২৩ মার্চ তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আহাদুজ্জামান শেখ পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

আদালত সূত্র জানায়, মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণ ও উপযুক্ত প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে বিচারক তিন আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করে এ রায় দেন।

শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি অ্যাডভোকেট গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া রতন বলেন, ভুক্তভোগী আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। তদন্তের সময় আসামিদের কাছ থেকে ঘটনার ধারণ করা ভিডিও উদ্ধার করা হয়। সাক্ষ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে ঘটনাটি আদালতে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তিন আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ

Tag :

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে একে-৪৭ ব্যবহার, জেলা পুলিশ সুপার পদচ্যুত

নবম শ্রেণির ছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, প্রেমিকসহ তিনজনের যাবজ্জীবন

আপডেট সময় ০৬:৪০:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬

ফরিদপুরে নবম শ্রেণির এক ছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের মামলায় প্রেমিকসহ তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ১ লাখ টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। জরিমানার অর্থ ভুক্তভোগীর পরিবারকে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বেলা পৌনে ১টার দিকে ফরিদপুর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. আবুল বাশার মিঞা এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামিই আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে পুলিশ পাহারায় তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন মাগুরার মহম্মদপুর থানার বাবুখালী গ্রামের বাবু মোল্যার ছেলে নাসির মোল্যা (২৬), ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার লংকারচর গ্রামের তারক চন্দ্র মণ্ডলের ছেলে নাসির মোল্যা (২৬) এবং সোরাপ মোল্যার ছেলে নাসির মোল্যা (৩৬)। মামলার অপর দুই আসামির বিচার কার্যক্রম শিশু আদালতে চলমান।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বোয়ালমারীর একটি বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ওই ছাত্রীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে মাগুরার মহম্মদপুরের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র নাসির মোল্যার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ২০২০ সালের ২৮ জানুয়ারি রাত ৮টার দিকে নাসির ওই ছাত্রীর গ্রামের বাড়ির পাশে একটি বাগানে গিয়ে অপেক্ষা করছিলেন। পরে ছাত্রী সেখানে গেলে নাসিরের সঙ্গে আরও দুই যুবককে দেখতে পান।

এজাহার অনুযায়ী, তিন যুবক ওই ছাত্রীকে জোর করে তুলে নৌকায় করে মধুমতি নদীর একটি চরে নিয়ে যান। সেখানে তাকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করা হয়। এ সময় আসামিরা ঘটনার ভিডিও ধারণ ও ছবি তোলেন। পরে ছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে বাড়ির পাশে ফেলে রেখে তারা চলে যান।

পরদিন ভুক্তভোগী বোয়ালমারী থানায় পাঁচজনকে আসামি করে মামলা করেন। মামলা দায়েরের দুই দিনের মধ্যে পাঁচ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। ২০২০ সালের ২৩ মার্চ তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আহাদুজ্জামান শেখ পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

আদালত সূত্র জানায়, মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণ ও উপযুক্ত প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে বিচারক তিন আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করে এ রায় দেন।

শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি অ্যাডভোকেট গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া রতন বলেন, ভুক্তভোগী আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। তদন্তের সময় আসামিদের কাছ থেকে ঘটনার ধারণ করা ভিডিও উদ্ধার করা হয়। সাক্ষ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে ঘটনাটি আদালতে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তিন আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ