ঢাকা ১০:৩৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বার্সায় পা রেখেই বিশ্বজয়ী তারকা বললেন, ‘স্বপ্ন সত্যি’

ম্যানচেস্টার সিটির মিডফিল্ডার রদ্রি বার্সেলোনায় যোগ দেয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে ইতোমধ্যে কাতালান শহরটিতে পৌঁছেছেন। ৩০ বছর বয়সী এই স্প্যানিশ মিডফিল্ডারকে দলে নিতে দুই ক্লাবের সমঝোতায় ট্রান্সফার ফি নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ৬৫.৩ মিলিয়ন পাউন্ড বা ৭৬.৫ মিলিয়ন ইউরো। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) মেডিকেল পরীক্ষার পর চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। 

বার্সেলোনার এল প্রাত বিমানবন্দরে পৌঁছে নিজের উচ্ছ্বাসের কথা জানিয়েছেন রদ্রি। সেখানে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, আমি এখানে এসে খুবই আনন্দিত। গত কয়েকটি দিন বেশ কঠিন ও ব্যস্ত ছিল, তবে সবকিছু শেষ পর্যন্ত ঠিকঠাক সম্পন্ন হওয়ায় আমি খুশি।

বার্সেলোনায় খেলা তার দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিল বলেও জানিয়েছেন রদ্রি। নতুন ক্লাবে যোগ দেয়ার অপেক্ষায় থাকা এই মিডফিল্ডার বলেন, বার্সেলোনার হয়ে খেলা আমার জন্য স্বপ্ন সত্যি হওয়ার মতো। সতীর্থদের সঙ্গে যোগ দেয়ার জন্য আমি খুবই আগ্রহী। তাদের বেশিরভাগকেই আমি জাতীয় দলের হয়ে খেলার সময় থেকেই চিনি। এখন আমাদের কঠোর পরিশ্রম করতে হবে এবং নিজেদের সেরাটা দিতে হবে।

নতুন ক্লাবে তার লক্ষ্যও স্পষ্ট করে দিয়েছেন রদ্রি। বার্সেলোনার হয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগসহ সব শিরোপা জেতার লড়াইয়ে নামতে চান তিনি। তিনি বলেন, আমরা চ্যাম্পিয়নস লিগ জিততে চাই, আমরা সামনে যা কিছু আসবে সবকিছুর জন্যই লড়াই করব।

সিটির সঙ্গে চুক্তির শেষ বছরে ছিলেন রদ্রি। তাকে দলে নিতে বার্সেলোনার পাশাপাশি আগ্রহ দেখিয়েছিল রিয়াল মাদ্রিদও। তবে শেষ পর্যন্ত দুই ক্লাবের লড়াইয়ে এগিয়ে যায় বার্সেলোনা। গত সপ্তাহে রদ্রিকে পেতে প্রায় ৫০ মিলিয়ন ইউরোর প্রাথমিক প্রস্তাব দিয়েছিল বার্সা, যা প্রত্যাখ্যান করে সিটি। এরপর বার্সেলোনা আরও একটি প্রস্তাব দিলেও সেটিও গ্রহণ করেনি ইংলিশ ক্লাবটি। শেষ পর্যন্ত রোববার দুই ক্লাব চুক্তিতে পৌঁছায়।

চুক্তি অনুযায়ী, বার্সেলোনার সঙ্গে চার বছরের চুক্তিতে সই করবেন রদ্রি। মঙ্গলবারের মেডিকেল পরীক্ষায় সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে সেদিনই তার বার্সেলোনায় যোগ দেয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে। বুধবার (১৯ আগস্ট) তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে সমর্থকদের সামনে পরিচয় করিয়ে দেয়ার কথা রয়েছে।

রদ্রিকে ধরে রাখতে চেয়েছিল ম্যানচেস্টার সিটিও। কমিউনিটি শিল্ডের পর সিটির কোচ এনজো মারেস্কা তাকে ‘দারুণ একজন খেলোয়াড়’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেছিলেন, সব দলেরই রদ্রির মতো একজন খেলোয়াড় দরকার। তবে শেষ পর্যন্ত নতুন চুক্তিতে তাকে ধরে রাখতে পারেনি সিটি।

২০১৯ সালে অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদ থেকে ম্যানচেস্টার সিটিতে যোগ দেয়ার পর ক্লাবটির হয়ে দীর্ঘ ও সফল সময় কাটিয়েছেন রদ্রি। সিটির জার্সিতে ২৯৮ ম্যাচে মাঠে নেমেছেন তিনি। এ সময়ে জিতেছেন ১২টি প্রধান শিরোপা। এর মধ্যে রয়েছে চারটি প্রিমিয়ার লিগ, একটি চ্যাম্পিয়নস লিগ, দুটি এফএ কাপ ও তিনটি ইএফএল কাপের ট্রফি।

সিটির হয়ে তার সবচেয়ে স্মরণীয় মুহূর্তগুলোর একটি আসে ২০২৩ সালের চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালে। ইন্টার মিলানের বিপক্ষে ১-০ ব্যবধানের জয়ে ম্যাচের একমাত্র গোলটি করেছিলেন রদ্রি। পরের বছর তার ব্যক্তিগত সাফল্যের মুকুটে যোগ হয় ব্যালন ডি’অর। তবে পুরস্কারটি গ্রহণের সময় মাঠে ছিলেন না তিনি। অ্যান্টেরিয়র ক্রুসিয়েট লিগামেন্টের (এসিএল) চোটের কারণে ২০২৪-২৫ মৌসুমের বড় একটি সময় মাঠের বাইরে থাকতে হয়েছিল তাকে।

এরপর হ্যামস্ট্রিং ও কুঁচকির সমস্যাও ভুগিয়েছে রদ্রিকে। ফলে ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে তার শেষ মৌসুমে মাত্র ৩৩টি ম্যাচ খেলতে পেরেছেন তিনি। বিশ্বকাপের পর পিঠের অস্ত্রোপচারও করাতে হয়েছিল এই মিডফিল্ডারকে। সেই অস্ত্রোপচারের পর গত শুক্রবার সিটির অনুশীলনে ফিরেছিলেন তিনি।

রদ্রির বিদায়ের সময়ে সিটির মিডফিল্ডেও বড় পরিবর্তন এসেছে। এলিয়ট অ্যান্ডারসনকে দলে নিতে ১৩৫ মিলিয়ন ইউরো খরচ করেছে ক্লাবটি। একই সময়ে তিজানি রেইনডার্সকে আল কাদসিয়াহর কাছে বিক্রির চুক্তিও করেছে তারা। এর বাইরে লিলের তরুণ মিডফিল্ডার আইয়ুব বুয়াদ্দি এবং চেলসির এনজো ফার্নান্দেজকে দলে নেয়ার সঙ্গেও সিটির নাম জড়িয়েছে।

ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে সাত মৌসুম কাটিয়ে এবার রদ্রির সামনে নতুন অধ্যায়। সিটির জার্সিতে সাফল্যে ভরা সময়ের পর স্পেনের এই মিডফিল্ডার এবার বার্সেলোনার মাঝমাঠের দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত। মেডিকেল পরীক্ষার আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলেই নতুন ক্লাবে তার যাত্রা শুরু হবে।

সূত্র: ইএসপিএন

বাংলা৭১নিউজ/জেএস

Tag :

বার্সায় পা রেখেই বিশ্বজয়ী তারকা বললেন, ‘স্বপ্ন সত্যি’

আপডেট সময় ০৯:৩১:২৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬

ম্যানচেস্টার সিটির মিডফিল্ডার রদ্রি বার্সেলোনায় যোগ দেয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে ইতোমধ্যে কাতালান শহরটিতে পৌঁছেছেন। ৩০ বছর বয়সী এই স্প্যানিশ মিডফিল্ডারকে দলে নিতে দুই ক্লাবের সমঝোতায় ট্রান্সফার ফি নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ৬৫.৩ মিলিয়ন পাউন্ড বা ৭৬.৫ মিলিয়ন ইউরো। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) মেডিকেল পরীক্ষার পর চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। 

বার্সেলোনার এল প্রাত বিমানবন্দরে পৌঁছে নিজের উচ্ছ্বাসের কথা জানিয়েছেন রদ্রি। সেখানে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, আমি এখানে এসে খুবই আনন্দিত। গত কয়েকটি দিন বেশ কঠিন ও ব্যস্ত ছিল, তবে সবকিছু শেষ পর্যন্ত ঠিকঠাক সম্পন্ন হওয়ায় আমি খুশি।

বার্সেলোনায় খেলা তার দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিল বলেও জানিয়েছেন রদ্রি। নতুন ক্লাবে যোগ দেয়ার অপেক্ষায় থাকা এই মিডফিল্ডার বলেন, বার্সেলোনার হয়ে খেলা আমার জন্য স্বপ্ন সত্যি হওয়ার মতো। সতীর্থদের সঙ্গে যোগ দেয়ার জন্য আমি খুবই আগ্রহী। তাদের বেশিরভাগকেই আমি জাতীয় দলের হয়ে খেলার সময় থেকেই চিনি। এখন আমাদের কঠোর পরিশ্রম করতে হবে এবং নিজেদের সেরাটা দিতে হবে।

নতুন ক্লাবে তার লক্ষ্যও স্পষ্ট করে দিয়েছেন রদ্রি। বার্সেলোনার হয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগসহ সব শিরোপা জেতার লড়াইয়ে নামতে চান তিনি। তিনি বলেন, আমরা চ্যাম্পিয়নস লিগ জিততে চাই, আমরা সামনে যা কিছু আসবে সবকিছুর জন্যই লড়াই করব।

সিটির সঙ্গে চুক্তির শেষ বছরে ছিলেন রদ্রি। তাকে দলে নিতে বার্সেলোনার পাশাপাশি আগ্রহ দেখিয়েছিল রিয়াল মাদ্রিদও। তবে শেষ পর্যন্ত দুই ক্লাবের লড়াইয়ে এগিয়ে যায় বার্সেলোনা। গত সপ্তাহে রদ্রিকে পেতে প্রায় ৫০ মিলিয়ন ইউরোর প্রাথমিক প্রস্তাব দিয়েছিল বার্সা, যা প্রত্যাখ্যান করে সিটি। এরপর বার্সেলোনা আরও একটি প্রস্তাব দিলেও সেটিও গ্রহণ করেনি ইংলিশ ক্লাবটি। শেষ পর্যন্ত রোববার দুই ক্লাব চুক্তিতে পৌঁছায়।

চুক্তি অনুযায়ী, বার্সেলোনার সঙ্গে চার বছরের চুক্তিতে সই করবেন রদ্রি। মঙ্গলবারের মেডিকেল পরীক্ষায় সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে সেদিনই তার বার্সেলোনায় যোগ দেয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে। বুধবার (১৯ আগস্ট) তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে সমর্থকদের সামনে পরিচয় করিয়ে দেয়ার কথা রয়েছে।

রদ্রিকে ধরে রাখতে চেয়েছিল ম্যানচেস্টার সিটিও। কমিউনিটি শিল্ডের পর সিটির কোচ এনজো মারেস্কা তাকে ‘দারুণ একজন খেলোয়াড়’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেছিলেন, সব দলেরই রদ্রির মতো একজন খেলোয়াড় দরকার। তবে শেষ পর্যন্ত নতুন চুক্তিতে তাকে ধরে রাখতে পারেনি সিটি।

২০১৯ সালে অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদ থেকে ম্যানচেস্টার সিটিতে যোগ দেয়ার পর ক্লাবটির হয়ে দীর্ঘ ও সফল সময় কাটিয়েছেন রদ্রি। সিটির জার্সিতে ২৯৮ ম্যাচে মাঠে নেমেছেন তিনি। এ সময়ে জিতেছেন ১২টি প্রধান শিরোপা। এর মধ্যে রয়েছে চারটি প্রিমিয়ার লিগ, একটি চ্যাম্পিয়নস লিগ, দুটি এফএ কাপ ও তিনটি ইএফএল কাপের ট্রফি।

সিটির হয়ে তার সবচেয়ে স্মরণীয় মুহূর্তগুলোর একটি আসে ২০২৩ সালের চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালে। ইন্টার মিলানের বিপক্ষে ১-০ ব্যবধানের জয়ে ম্যাচের একমাত্র গোলটি করেছিলেন রদ্রি। পরের বছর তার ব্যক্তিগত সাফল্যের মুকুটে যোগ হয় ব্যালন ডি’অর। তবে পুরস্কারটি গ্রহণের সময় মাঠে ছিলেন না তিনি। অ্যান্টেরিয়র ক্রুসিয়েট লিগামেন্টের (এসিএল) চোটের কারণে ২০২৪-২৫ মৌসুমের বড় একটি সময় মাঠের বাইরে থাকতে হয়েছিল তাকে।

এরপর হ্যামস্ট্রিং ও কুঁচকির সমস্যাও ভুগিয়েছে রদ্রিকে। ফলে ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে তার শেষ মৌসুমে মাত্র ৩৩টি ম্যাচ খেলতে পেরেছেন তিনি। বিশ্বকাপের পর পিঠের অস্ত্রোপচারও করাতে হয়েছিল এই মিডফিল্ডারকে। সেই অস্ত্রোপচারের পর গত শুক্রবার সিটির অনুশীলনে ফিরেছিলেন তিনি।

রদ্রির বিদায়ের সময়ে সিটির মিডফিল্ডেও বড় পরিবর্তন এসেছে। এলিয়ট অ্যান্ডারসনকে দলে নিতে ১৩৫ মিলিয়ন ইউরো খরচ করেছে ক্লাবটি। একই সময়ে তিজানি রেইনডার্সকে আল কাদসিয়াহর কাছে বিক্রির চুক্তিও করেছে তারা। এর বাইরে লিলের তরুণ মিডফিল্ডার আইয়ুব বুয়াদ্দি এবং চেলসির এনজো ফার্নান্দেজকে দলে নেয়ার সঙ্গেও সিটির নাম জড়িয়েছে।

ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে সাত মৌসুম কাটিয়ে এবার রদ্রির সামনে নতুন অধ্যায়। সিটির জার্সিতে সাফল্যে ভরা সময়ের পর স্পেনের এই মিডফিল্ডার এবার বার্সেলোনার মাঝমাঠের দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত। মেডিকেল পরীক্ষার আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলেই নতুন ক্লাবে তার যাত্রা শুরু হবে।

সূত্র: ইএসপিএন

বাংলা৭১নিউজ/জেএস