ঢাকা ১২:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ববি ছাত্রীকে র‍্যাগিংয়ের অভিযোগে দুই বিভাগের সংঘর্ষ, আহত ২০

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) ইংরেজি ও অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নবীন এক শিক্ষার্থীকে র‍্যাগিং দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয় বলে জানা গেছে।

শনিবার (১৫ আগস্ট) রাত সাড়ে ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি গেটের সামনে প্রথমে হাতাহাতি এবং পরে তা সংঘর্ষের রূপ নেয়। এরপরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই দুটি বিভাগের মধ্যে রাতভর ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ চলে। এই সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন শিক্ষার্থী আহত হন। আহত ১০ শিক্ষার্থীকে রাতেই শেরেবাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাতভর ক্যাম্পাসে উত্তেজনা বিরাজ করে। রাত দেড়টা পর্যন্ত দুই পক্ষের শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসে অবস্থান করতে দেখা যায়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মেহেদী হাসান সোহাগ জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়েছে। মধ্যরাতে পরিস্থিতি শান্ত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ইংরেজি বিভাগের ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মুসা হোসাইন নবীনবরণ অনুষ্ঠানের দিন অর্থনীতি বিভাগের ১৫তম ব্যাচের প্রথম বর্ষের এক ছাত্রীকে প্রেমের প্রস্তাব দেন। এসময় ওই ছাত্রীর মুঠোফোন নিয়ে নিজের ফেসবুক আইডি থেকে তাকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠান মুসা। পরে ওই ছাত্রী প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ায় তাকে র‍্যাগিং ও উত্ত্যক্ত করার অভিযোগ ওঠে মুসার বিরুদ্ধে।

বিষয়টি অর্থনীতি বিভাগের ১৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা তাদের সিনিয়রদের জানালে তারা ঘটনাস্থলে আসেন।

এসময় সেখানে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে মুসাকে মারধর করা হয়। এরপর পরিস্থিতি আরো উত্তপ্ত হয়ে দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। পরে রাতভর ক্যাম্পাসের ভেতরে ও বাইরে কয়েক দফা ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলে। রাত সাড়ে ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাম্বুলেন্সে করে অর্থনীতি বিভাগের সাত শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে নেওয়ার সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩ নম্বর গেট এলাকায় তাদের গাড়ি থেকে নামিয়ে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অর্থনীতি বিভাগের ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আব্দুল আজিজ বলেন, ‘আমাদের বিভাগের জুনিয়র এক মেয়েকে র‍্যাগিং ও উত্ত্যক্ত করে প্রেমের প্রস্তাব দেয় ইংরেজি বিভাগের মুসা। মেয়েটি রাজি না হওয়ায় তাকে আটকে রাখে মুসা। বিষয়টি জানতে পেরে সিনিয়র-জুনিয়র শিক্ষার্থীরা ভিসি গেটের বিপরীতে জড়ো হন। একপর্যায়ে ইংরেজি বিভাগের ১৩তম ব্যাচের এক শিক্ষার্থী আকস্মিকভাবে মারধরের জন্য এগিয়ে এলে হাতাহাতির সূত্রপাত হয় এবং পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।’

অভিযুক্ত মুসা আহত হওয়ায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে ইংরেজি বিভাগের একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ঘটনাটিকে অতিরঞ্জিত করে মিথ্যা অভিযোগ করা হচ্ছে। মুসা কোনো অপরাধ করে থাকলে তার বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করা যেত।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ

Tag :

ববি ছাত্রীকে র‍্যাগিংয়ের অভিযোগে দুই বিভাগের সংঘর্ষ, আহত ২০

আপডেট সময় ১২:১২:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) ইংরেজি ও অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নবীন এক শিক্ষার্থীকে র‍্যাগিং দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয় বলে জানা গেছে।

শনিবার (১৫ আগস্ট) রাত সাড়ে ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি গেটের সামনে প্রথমে হাতাহাতি এবং পরে তা সংঘর্ষের রূপ নেয়। এরপরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই দুটি বিভাগের মধ্যে রাতভর ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ চলে। এই সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন শিক্ষার্থী আহত হন। আহত ১০ শিক্ষার্থীকে রাতেই শেরেবাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাতভর ক্যাম্পাসে উত্তেজনা বিরাজ করে। রাত দেড়টা পর্যন্ত দুই পক্ষের শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসে অবস্থান করতে দেখা যায়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মেহেদী হাসান সোহাগ জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়েছে। মধ্যরাতে পরিস্থিতি শান্ত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ইংরেজি বিভাগের ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মুসা হোসাইন নবীনবরণ অনুষ্ঠানের দিন অর্থনীতি বিভাগের ১৫তম ব্যাচের প্রথম বর্ষের এক ছাত্রীকে প্রেমের প্রস্তাব দেন। এসময় ওই ছাত্রীর মুঠোফোন নিয়ে নিজের ফেসবুক আইডি থেকে তাকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠান মুসা। পরে ওই ছাত্রী প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ায় তাকে র‍্যাগিং ও উত্ত্যক্ত করার অভিযোগ ওঠে মুসার বিরুদ্ধে।

বিষয়টি অর্থনীতি বিভাগের ১৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা তাদের সিনিয়রদের জানালে তারা ঘটনাস্থলে আসেন।

এসময় সেখানে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে মুসাকে মারধর করা হয়। এরপর পরিস্থিতি আরো উত্তপ্ত হয়ে দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। পরে রাতভর ক্যাম্পাসের ভেতরে ও বাইরে কয়েক দফা ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলে। রাত সাড়ে ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাম্বুলেন্সে করে অর্থনীতি বিভাগের সাত শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে নেওয়ার সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩ নম্বর গেট এলাকায় তাদের গাড়ি থেকে নামিয়ে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অর্থনীতি বিভাগের ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আব্দুল আজিজ বলেন, ‘আমাদের বিভাগের জুনিয়র এক মেয়েকে র‍্যাগিং ও উত্ত্যক্ত করে প্রেমের প্রস্তাব দেয় ইংরেজি বিভাগের মুসা। মেয়েটি রাজি না হওয়ায় তাকে আটকে রাখে মুসা। বিষয়টি জানতে পেরে সিনিয়র-জুনিয়র শিক্ষার্থীরা ভিসি গেটের বিপরীতে জড়ো হন। একপর্যায়ে ইংরেজি বিভাগের ১৩তম ব্যাচের এক শিক্ষার্থী আকস্মিকভাবে মারধরের জন্য এগিয়ে এলে হাতাহাতির সূত্রপাত হয় এবং পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।’

অভিযুক্ত মুসা আহত হওয়ায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে ইংরেজি বিভাগের একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ঘটনাটিকে অতিরঞ্জিত করে মিথ্যা অভিযোগ করা হচ্ছে। মুসা কোনো অপরাধ করে থাকলে তার বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করা যেত।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ