ঢাকা ০১:০৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo আকর্ষণীয় ব্যক্তিদের আলাদা করে তোলে যে অভ্যাস Logo তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকের পর দিল্লি গেলেন ভারতীয় হাইকমিশনার Logo প্রধানমন্ত্রীকে কাশ্মীরি ‘কালো’ শাল : ফ্যাশন নাকি ডিপ্লোম্যাসির চতুর চাল! Logo ফিলিপাইনে ভারী বৃষ্টিপাতে ১৬ জনের প্রাণহানি Logo মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীকে ‘জাতির মূল্যবান বন্ধু’ বললেন তারেক রহমান Logo গোপনীয়তা লঙ্ঘনের অভিযোগ, আইনি ব্যবস্থার প্রস্তুতি মেসির আইনজীবীদের Logo বাংলাদেশ সফরে আসছেন ভিসার এশিয়া প্যাসিফিকের প্রেসিডেন্ট Logo দেশের সব ব্যাংককে সতর্ক করলো বাংলাদেশ ব্যাংক Logo ‎দেশের রিজার্ভ আরও বাড়ল Logo ঢাকার পার্শ্ববর্তী জেলাগুলো দ্রুতগতির রেল নেটওয়ার্কের আওতায় আসবে: রেলমন্ত্রী
হাসিনা-কাদের ও হাছান মাহমুদের ফোনালাপ

জুলাই গণঅভ্যুত্থান : হেলিকপ্টার থেকে গুলি চালিয়ে ছাত্র-জনতা দমনের নির্দেশ

২০২৪ সালের জুলাইয়ে ছাত্রদের নেতৃত্বাধীন আন্দোলন দমাতে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার সরকারের মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ও হাছান মাহমুদকে ফোনে বিভিন্ন নির্দেশনা দিয়েছিলেন। একই সঙ্গে তিনি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) মাধ্যমে হেলিকপ্টার থেকে আন্দোলনরত ছাত্র-জনতার ওপর গুলি করে হত্যাযজ্ঞ চালানোর নির্দেশনা দেন। এ ছাড়া বিভিন্ন স্থাপনায় অগ্নিসংযোগ করতে এবং সেটির দায় আন্দোলনকারীদের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

এসব ফোনালাপের রেকর্ড আজ সোমবার (১০ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দাখিল করে প্রসিকিউশন। ওবায়দুল কাদেরসহ আট আসামির বিরুদ্ধে যুক্তিতর্ক শুনানিকালে প্রসিকিউশন এটি উপস্থাপন করে।

শেখ হাসিনা, হাছান মাহমুদ ও ওবায়দুল কাদেরের মধ্যে কথোপকোথন নিম্নে তুলে ধরা হলো—

তৎকালীন মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ : আপা, আসসালামু আলাইকুম। কাদের ভাই একটু কথা বলবে, কাদের ভাই।

তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা : হ্যাঁ, বলো বলো।

তৎকালীন মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের : আসসালামু আলাইকুম, না। সর্বশেষ যেটা সকালে ডিএমপি কমিশনার বলেছিল, মিটিং আমরাও করব না এবং তারাও করবে না, করতে দেওয়া হবে না, যেটা…. আপনি নির্দেশ দিয়েছিলেন।

শেখ হাসিনা : আমিতো নির্দেশ দিইনি। আমি কখন কী নির্দেশ দিছি?

ওবায়দুল কাদের : কাল নাছিম বলল, আমরা একটা সমাবেশ করি। আপনি বললেন, না। সমাবেশের দরকার নেই।

শেখ হাসিনা : না, কিন্তু তোমরা তো বললা—এখানে আমাদের একটা সমাবেশ থাকবে।

ওবায়দুল কাদের : এখন পুলিশ কমিশনার জানাল, সমাবেশের দিকে তাদের কোনো নজর নেই। কোথাও কোনো সমাবেশের দিকে তারা নজর দিচ্ছে না। তারা বিভিন্ন জায়গায় আগুন দেবে বলে মনে হচ্ছে। তাই ডিএমপি কমিশনার বলল, এখন কী করব আমরা?

শেখ হাসিনা : না, ডিএমপি কমিশনার বুঝলাম না, সে একা একাই নিজের মতো করে কথা বলতেছে কিসের জন্য? আমি তো জানি না।

ওবায়দুল কাদের : সে বলতেছে, ওরা কোনো সমাবেশস্থলে নেই। এরা বিভিন্ন জায়গায় জড়ো হচ্ছে। এরা ভায়োলেন্স করবে। এই কাঁটাবন, মৎস্য ভবন, পল্টন, নাইটিংগেল, তারপর বসিলায় বিভিন্ন জায়গায় তারা সমাবেশ করতেছে, জড়ো হচ্ছে এবং মিরপুরও আছে এর মধ্যে।

শেখ হাসিনা : হ্যাঁ, এসব জায়গায় আমাদের নেতা-কর্মীদের নামাতে হবে। একটা বড় মিটিং ডেকে আমাদের নেতাকর্মী নামতে হবে, সঙ্গে… পাঠাতে হবে। আর সে যে একা একা করতেছে, আইজিপির সঙ্গে কথা বলে নিচ্ছে না?

ওবায়দুল কাদের : সেটাতো পুলিশের ব্যাপার। আমরা কী করব? না। আমাদের লোক তো… আমরা বসেই আছি, যেখান থেকে যা পারছি জয়েন করাচ্ছি।

শেখ হাসিনা : আমাদের লোক জড়ো করাতে হবে।

ওবায়দুল কাদের : তাহলে আমরাও এভাবে যে পয়েন্টগুলোতে ওরা গেদারিং করছে, আশপাশে আমাদের গেদারিং বাড়ানোর চেষ্টা একবার করি।

শেখ হাসিনা : আমাদের লোক তো থাকতেই হবে।

ওবায়দুল কাদের : বঙ্গবন্ধু এভিনিওতে সমাবেশ না করে আমরা একটা গায়েবানা জানাজা পড়তে চাই, এতগুলো লোক মারা গেছে। পরে দোয়া করি।

শেখ হাসিনা : আমাদের কর্মীরা যেন অ্যালার্ট থাকে।

ওবায়দুল কাদের : ঠিক আছে।

শেখ হাসিনা : আর যেখানে বেশি ওরা গেদারিং করতে থাকবে, র‍্যাবকে বলতে হবে। বিজিবির ওরা রেডি আছে। হেলিকপ্টার থেকে ইয়ে করবে, ছত্রভঙ্গ করবে।

ওবায়দুল কাদের : আর সন্ধ্যা সাতটায় ১৪ দলকে বলেছি।

শেখ হাসিনা : হ্যাঁ, ১৪ দলকে বলবা কি—মেনন ভাইতো বলছে, এদেরকে সর্মথন দিতে। এখানে তো আবার জামায়াত আছে। জামায়াত আছে তো কি হয়েছে? এদেরকে সর্মথন দিতে হবে। কাকে বলবে? হ্যাঁ, বলো। মেনন ভাইকে জিজ্ঞেস করো।

ওবায়দুল কাদের : তার পরেও আমরা অফিসিয়ালি…। আমাদের নওফেলকে বলছে, আপনারা তো একা। আর তো কেউ নেই, আওয়ামী লীগ একা ফাইট করতেছে।

শেখ হাসিনা : হ্যাঁ, আমরা একাই ফাইট করতেছি রাজাকারদের সঙ্গে বলে দিছে তো… মেনন ভাই। বলছে না? জামায়াত-শিবির কোটা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আমাদের আলোচনা চলতেছিল সব সময়। ওরা যখনি যেটা চাচ্ছে তখনি তো সেটা করা হচ্ছে, তারা তো একজন একটা কথা বলে যায়, পরে আবার সে রাখতে পারে না, যেয়ে আর একটা করে। এই তো চলতেছে। এই খেলাই তো চলতেছে। এ পর্যন্ত এরা যা বলছে, একটাও তো রাখতে পারেনি। ওদের তো নেতৃত্বই নেই।

ওবায়দুল কাদের : তাহলে বড় সমাবেশ না করে আমরা এখন যেসব যায়গায় ওদের গেদারিং, তার আশপাশে আমাদের গেদারিং করি।

শেখ হাসিনা : আমাদের গেদারিং যেন পুলিশের সাপোর্ট পায়। আমি তো ভাবছিলাম ওরা বোধহয় প্রেসক্লাবের সামনে করবে। ওদের কথা ছিল প্রেসক্লাবে করবে আর বায়তুল মোকাররমে ইসলামিক দলগুলো করবে।

ওবায়দুল কাদের : প্রেসক্লাবের সামনে নাকি কোনো গেদারিং নেই, কিছুই নেই, খালি।

শেখ হাসিনা : বায়তুল মোকাররম?

ওবায়দুল কাদের : না, না, প্রেসক্লাব।

শেখ হাসিনা : প্রেসক্লাব। না, ঐ রিজভীকে তো অ্যারেস্ট করে নিয়ে গেছে।

ওবায়দুল কাদের : সেটা জানি।

শেখ হাসিনা : আমি বলছি—যে কয়টারে পারো, উঠায়া নিয়া যাও।

ওবায়দুল কাদের : ঐখানে কোনো গেদারিংয়ের কোনো আলামত নেই এই মূহূত পর্যন্ত।

ড. হাছান মাহমুদ : আপা, আসসালামু আলাইকুম।

শেখ হাসিনা : ফোন করছিলা? বলো।

হাছান মাহমুদ : না, না, তখন চাপ পড়ে গেছে, সরি।

শেখ হাসিনা : ও..।

হাছান মাহমুদ : কাদের ভাই ফোন রেখেছিল, তখন আবার চাপ পড়ে হঠাৎ করে…।

শেখ হাসিনা : আচ্ছা, ঠিক আছে। ওরা সব ঐ জায়গায় আবার তৈরি হচ্ছে, শুধু আগুন দিয়ে পোড়াবে সব।

হাছান মাহমুদ : হ্যাঁ, হ্যাঁ, জ্বি আপা। আপনি কাদের ভাইকে যেভাবে নির্দেশ দিয়েছেন।

শেখ হাসিনা : না, আমাদের লোক থাকতে বলো। ওরা আগুন দিয়ে পোড়াবে, তো তাদের বাড়ি-গাড়ি আছে। এখন সেগুলো পাবলিক দিয়ে পোড়াবে, আর কী করবে।

হাছান মাহমুদ : জ্বি, জ্বি।

শেখ হাসিনা : এখন অন্য কিছু করে লাভ নেই। তোরাও পোড়াবি আয়, আমরাও পোড়াব।

হাছান মাহমুদ : জ্বি, জ্বি, রাইট। এটাই টিট ফর ট্রেট। জ্বি আপা। এখন কাদের ভাই আছে, কাদের ভাইকে দেবো। জাস্ট একটা গায়েবানা জানাজা পড়ে আমারা চলে আসব, যেহেতু পোগ্রাম দিয়ে দেওয়া হয়েছে, জাস্ট একটা গায়েবানা জানাজা পড়ে আমরা ১০ মিনিটের মধ্যে চলে আসব, যার যার গন্তব্যে মহল্লায় মহল্লায় চলে যাব।

শেখ হাসিনা : না, যার যার এলাকায়।

হাছান মাহমুদ : যার যার এলাকায় চলে যাব, রাইট।

শেখ হাসিনা : বিভিন্ন এলাকায় লোক ঠিক করো, সব নেতাকর্মীদের এভাবে ব্যবস্থা করো। প্রত্যেক এমপিকে ডাকো, খবর দাও, প্রত্যেক এলাকায় যার যার প্রটেকশন দিতে হবে।

হাছান মাহমুদ : জ্বি, কাদের ভাইকে দিচ্ছি।

ওবায়দুল কাদের : জ্বি, জ্বি।

শেখ হাসিনা : না, ঐ যে সেতু ভবনে আবার আগুন লাগাচ্ছে। আমি র‍্যাব পাঠাচ্ছি আর আমি বলেছি, যেখানে যেখানে গেদারিং আছে, সব জায়গায় র‍্যাব। আর ওরা আগুন দিচ্ছে, ওদের বাড়িঘর আছে না? এখন আর বসে থাকার সময় নেই। আমাদেরও বাড়িঘরে আগুন দিচ্ছে, ওদের বাড়িঘরে আগুন পাবলিক দেবে। ওদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান কী কী আছে, খুঁজে বের করো। আজ তাদের একটাই কাজ, সব জায়গায় বসে থাকবে আর খালি আগুন দেবে।

ওবায়দুল কাদের : সেটাই, পুলিশ কমিশনার সে কথাই বলল। জ্বি, আমাদের তো ঠেকাইতে হবে।

শেখ হাসিনা : হ্যাঁ। না, এখন বলতে হবে। তারপরে সরকারের পক্ষ থেকে আবার আপিল করা হয়। যখন এটা আদালতে তখন এই আন্দোলন। আদালতের ওপর ভরসা না রেখে এ আন্দোলন করার কী প্রয়োজন ছিল?

হাছান মাহমুদ : এটা, অযৌক্তিক ছিল। রাইট, হ্যাঁ।

শেখ হাসিনা : আন্দোলনের ফলে কী হলো, সেই কোর্টেই তো ফয়সালা করতে হলো।

হাছান মাহমুদ : সেটাই…।

শেখ হাসিনা : সেই কোর্টেই ফয়সালা হলো, কিন্তু আন্দোলন করে এতগুলো মানুষ হত্যা। এতগুলো জিনিষ নষ্ট, ধ্বংস এবং আগুন দিয়ে পোড়ানো, কোটা আন্দোলনের জন্য আগুন দিয়ে পুড়িয়ে রাষ্ট্রের সম্পদ কেন ধ্বংস করা হলো?

হাছান মাহমুদ : জ্বি, এটাকে মেইন স্ট্রিম করে আরও রেগুলার বলতে হবে, রাইট।

শেখ হাসিনা : এটা আমাদের সবাইকেই বলতে হবে। আমরাতো আগেই বলছিলাম। আমি আমার বক্তৃতায়ও বলেছি, তোমরা অপেক্ষা করো, ধৈর্য ধরো। কোর্ট থেকেই ফয়সালা হবে তোমারা হতাশ হবে না।

হাছান মাহমুদ : না, না। এভাবেই সমাধান হয়েছে। এটাকে আমরা প্রচার করতে হবে।

শেখ হাসিনা : এটাকে তোমার হাইলাইট করতে হবে। এটাকে বলতে হবে এবং ওদেরকে তোমরা বলো। এই কথাটাই বলতে হবে বারবার।

হাছান মাহমুদ : আমরা ভিডিও পাঠাব, বলছি।

শেখ হাসিনা : আর একটা কথা হচ্ছে—ছাত্ররা যখন বলল, ‘আমরা এই অগ্নি-সন্ত্রাসের সঙ্গে নেই। আমরা এর দায়-দায়িত্ব নেব না’। তারপর পুলিশ অ্যাকশনে গেছে, তার আগে না। তারপর আমরা অ্যাকশনে গেছি। কারণ ছাত্ররা যখন নেই, তাহলে এরা কারা সন্ত্রাস-জঙ্গি? তোমাদের সবার…।

হাছান মাহমুদ : এই লাইনই বলতে হবে, রাইট।

শেখ হাসিনা : হ্যাঁ, এই খুনের দায়িত্ব কাদের?

হাছান মাহমুদ : এই খুনের দায়িত্ব…। হুম, সেটাই, সেটাই বলতে হবে।

শেখ হাসিনা : ওরা আন্দোলন করার জন্যই তো এই খুনটা হলো, এর দায়-দায়িত্ব তো ওদের নিতে হবে।

হাছান মাহমুদ : ওদেরও বর্তায় তো। আমি তো সেটাই বলতে চাচ্ছি। ওরা যে করল ঐটার জন্যই তো এইটা হলো। এইটা তো ওদের ওপরেও কিছুটা বর্তায়। এটা বলতে হবে।

শেখ হাসিনা : আমি তো আগেই সাবধান করছিলাম, কারণ আমার কাছে এ খবর ছিল। আমি আগেই সাবধান করিনি? আমার ভাষণেই তো বলেছি, তোমাদের ওপর ভর করে যেন অন্য দিকে না নিয়ে যায়। রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার না করে।

হাছান মাহমুদ : এটা আগেই বলছেন, আপনি রাইট।

শেখ হাসিনা : আমি এটা আগেই বলছি। আমার এই বক্তব্যের কথা ধরে ধরে তোমাদের বলা উচিত।

হাছান মাহমুদ : জ্বি, জ্বি, রাইট। এভাবেই বলব। তবে আজকে আমরা ব্রিফিংটা করছি খুব ভালো হয়েছে। ওদের মনে অনেক প্রশ্ন… ১২-১৩টা কোয়েশ্চেন করছে।

শেখ হাসিনা : তোমার ইউনিভার্সিটিতে যখন আন্দোলন, তুমি কী করছিলা? আমেরিকার হাসকে জিজ্ঞাস করতা। আমরা তো তা-ও করিনি। অথচ আমাদের আর এই বিএনপি-জামায়াত-শিবির…। কথাটা বলছো? না, বলোনি।

হাছান মাহমুদ : বলছি, আমার নোটেই আছে।

শেখ হাসিনা : বলবা, বিএনপি-জামায়াত এটা করছে।

হাছান মাহমুদ : আমরা আর একটা যোগ করছি। রিলিজিয়াস অ্যাক্টিভিস্ট, এটা যোগ করছি। বিএনপি-জামায়াত রিলিজিয়াস অ্যাকটিভিস্ট। কারণ এটা তো ওরা খায়, এজন্যই দিয়েছি ঐ শব্দটা, ছিঃ।

শেখ হাসিনা : এরা সব তালেবানি স্টাইলেই তো করছে।

হাছান মাহমুদ : জ্বি, জ্বি এজন্যই দিয়েছি।

শেখ হাসিনা : আর গুলি করে তো ছাত্র মারা হয়নি। ছাত্ররা নিজেরা নিজেরাই তো করছে। এরাইতো গুলি করে মারছে। তোমারা এখন ওবায়দুল কাদের থেকে… যারা কথা বলবা, এই একই সুরে কতগুলো প্রশ্ন রেখে দিতে হবে। এই ছাত্ররা দমবে না। এদের ওপরেই থাকবে এই হত্যার দায়-দায়িত্ব, ওদের উপর ফেলতে হবে।

হাছান মাহমুদ : রাইট। আস্তে আস্তে ওই লাইনেই যেতে হবে।

শেখ হাসিনা : হ্যাঁ, না, কারণ হচ্ছে—এটা একটা কথা বলছি, তুমি জানো না। হ্যাঁ, সেটা তো হলো না। আমি খুনি আমি এত মানুষ হত্যা করলাম!

হাছান মাহমুদ : জ্বি, এখন ঐ লাইনে আপনি যেটা বলেছেন, ঐ লাইনে কাল থেকেই শুরু করব।

শেখ হাসিনা : তারা এটা বলছে—আমি বাতিল করছি। কোর্ট বাতিল করে দিছে আমার প্রজ্ঞাপন। আমরাই আপিল করছি, সেটার রায় পাইছো তোমরা।

হাছান মাহমুদ : সেটাই, আমাদের আপিলের প্রেক্ষিতেই তো রায় পেয়েছো।

শেখ হাসিনা : হ্যাঁ, তাহলে তোমরা খুনি বলো কেন?

হাছান মাহমুদ : সেটাই।

শেখ হাসিনা : হ্যাঁ, খুব এটা ছড়াচ্ছে। এটা বলতে হবে, খুনি তারা, এই আন্দোলনের নেমে। আর তাদের ওপর ভর করে জামায়াত-বিএনপি সমস্ত খুন করছে।

হাছান মাহমুদ : তারা আন্দোলন কারার প্রেক্ষিতেই জামায়াত-বিএনপি সুযোগ পাইছে মানুষ মারার।

শেখ হাসিনা : সুযোগ করে দিছে মানুষ মারার, তারপর সমস্ত স্থাপনা, প্রত্যেকটা জিনিস ভাঙছে, পোড়াইছে। তুমি হাসকে বলোনি, ইন্টারনেট ব্যবহার…. সব তো আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দিয়েছে।

বাংলা৭১নিউজ/এসএইচবি

Tag :

আকর্ষণীয় ব্যক্তিদের আলাদা করে তোলে যে অভ্যাস

হাসিনা-কাদের ও হাছান মাহমুদের ফোনালাপ

জুলাই গণঅভ্যুত্থান : হেলিকপ্টার থেকে গুলি চালিয়ে ছাত্র-জনতা দমনের নির্দেশ

আপডেট সময় ১১:০০:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

২০২৪ সালের জুলাইয়ে ছাত্রদের নেতৃত্বাধীন আন্দোলন দমাতে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার সরকারের মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ও হাছান মাহমুদকে ফোনে বিভিন্ন নির্দেশনা দিয়েছিলেন। একই সঙ্গে তিনি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) মাধ্যমে হেলিকপ্টার থেকে আন্দোলনরত ছাত্র-জনতার ওপর গুলি করে হত্যাযজ্ঞ চালানোর নির্দেশনা দেন। এ ছাড়া বিভিন্ন স্থাপনায় অগ্নিসংযোগ করতে এবং সেটির দায় আন্দোলনকারীদের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

এসব ফোনালাপের রেকর্ড আজ সোমবার (১০ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দাখিল করে প্রসিকিউশন। ওবায়দুল কাদেরসহ আট আসামির বিরুদ্ধে যুক্তিতর্ক শুনানিকালে প্রসিকিউশন এটি উপস্থাপন করে।

শেখ হাসিনা, হাছান মাহমুদ ও ওবায়দুল কাদেরের মধ্যে কথোপকোথন নিম্নে তুলে ধরা হলো—

তৎকালীন মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ : আপা, আসসালামু আলাইকুম। কাদের ভাই একটু কথা বলবে, কাদের ভাই।

তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা : হ্যাঁ, বলো বলো।

তৎকালীন মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের : আসসালামু আলাইকুম, না। সর্বশেষ যেটা সকালে ডিএমপি কমিশনার বলেছিল, মিটিং আমরাও করব না এবং তারাও করবে না, করতে দেওয়া হবে না, যেটা…. আপনি নির্দেশ দিয়েছিলেন।

শেখ হাসিনা : আমিতো নির্দেশ দিইনি। আমি কখন কী নির্দেশ দিছি?

ওবায়দুল কাদের : কাল নাছিম বলল, আমরা একটা সমাবেশ করি। আপনি বললেন, না। সমাবেশের দরকার নেই।

শেখ হাসিনা : না, কিন্তু তোমরা তো বললা—এখানে আমাদের একটা সমাবেশ থাকবে।

ওবায়দুল কাদের : এখন পুলিশ কমিশনার জানাল, সমাবেশের দিকে তাদের কোনো নজর নেই। কোথাও কোনো সমাবেশের দিকে তারা নজর দিচ্ছে না। তারা বিভিন্ন জায়গায় আগুন দেবে বলে মনে হচ্ছে। তাই ডিএমপি কমিশনার বলল, এখন কী করব আমরা?

শেখ হাসিনা : না, ডিএমপি কমিশনার বুঝলাম না, সে একা একাই নিজের মতো করে কথা বলতেছে কিসের জন্য? আমি তো জানি না।

ওবায়দুল কাদের : সে বলতেছে, ওরা কোনো সমাবেশস্থলে নেই। এরা বিভিন্ন জায়গায় জড়ো হচ্ছে। এরা ভায়োলেন্স করবে। এই কাঁটাবন, মৎস্য ভবন, পল্টন, নাইটিংগেল, তারপর বসিলায় বিভিন্ন জায়গায় তারা সমাবেশ করতেছে, জড়ো হচ্ছে এবং মিরপুরও আছে এর মধ্যে।

শেখ হাসিনা : হ্যাঁ, এসব জায়গায় আমাদের নেতা-কর্মীদের নামাতে হবে। একটা বড় মিটিং ডেকে আমাদের নেতাকর্মী নামতে হবে, সঙ্গে… পাঠাতে হবে। আর সে যে একা একা করতেছে, আইজিপির সঙ্গে কথা বলে নিচ্ছে না?

ওবায়দুল কাদের : সেটাতো পুলিশের ব্যাপার। আমরা কী করব? না। আমাদের লোক তো… আমরা বসেই আছি, যেখান থেকে যা পারছি জয়েন করাচ্ছি।

শেখ হাসিনা : আমাদের লোক জড়ো করাতে হবে।

ওবায়দুল কাদের : তাহলে আমরাও এভাবে যে পয়েন্টগুলোতে ওরা গেদারিং করছে, আশপাশে আমাদের গেদারিং বাড়ানোর চেষ্টা একবার করি।

শেখ হাসিনা : আমাদের লোক তো থাকতেই হবে।

ওবায়দুল কাদের : বঙ্গবন্ধু এভিনিওতে সমাবেশ না করে আমরা একটা গায়েবানা জানাজা পড়তে চাই, এতগুলো লোক মারা গেছে। পরে দোয়া করি।

শেখ হাসিনা : আমাদের কর্মীরা যেন অ্যালার্ট থাকে।

ওবায়দুল কাদের : ঠিক আছে।

শেখ হাসিনা : আর যেখানে বেশি ওরা গেদারিং করতে থাকবে, র‍্যাবকে বলতে হবে। বিজিবির ওরা রেডি আছে। হেলিকপ্টার থেকে ইয়ে করবে, ছত্রভঙ্গ করবে।

ওবায়দুল কাদের : আর সন্ধ্যা সাতটায় ১৪ দলকে বলেছি।

শেখ হাসিনা : হ্যাঁ, ১৪ দলকে বলবা কি—মেনন ভাইতো বলছে, এদেরকে সর্মথন দিতে। এখানে তো আবার জামায়াত আছে। জামায়াত আছে তো কি হয়েছে? এদেরকে সর্মথন দিতে হবে। কাকে বলবে? হ্যাঁ, বলো। মেনন ভাইকে জিজ্ঞেস করো।

ওবায়দুল কাদের : তার পরেও আমরা অফিসিয়ালি…। আমাদের নওফেলকে বলছে, আপনারা তো একা। আর তো কেউ নেই, আওয়ামী লীগ একা ফাইট করতেছে।

শেখ হাসিনা : হ্যাঁ, আমরা একাই ফাইট করতেছি রাজাকারদের সঙ্গে বলে দিছে তো… মেনন ভাই। বলছে না? জামায়াত-শিবির কোটা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আমাদের আলোচনা চলতেছিল সব সময়। ওরা যখনি যেটা চাচ্ছে তখনি তো সেটা করা হচ্ছে, তারা তো একজন একটা কথা বলে যায়, পরে আবার সে রাখতে পারে না, যেয়ে আর একটা করে। এই তো চলতেছে। এই খেলাই তো চলতেছে। এ পর্যন্ত এরা যা বলছে, একটাও তো রাখতে পারেনি। ওদের তো নেতৃত্বই নেই।

ওবায়দুল কাদের : তাহলে বড় সমাবেশ না করে আমরা এখন যেসব যায়গায় ওদের গেদারিং, তার আশপাশে আমাদের গেদারিং করি।

শেখ হাসিনা : আমাদের গেদারিং যেন পুলিশের সাপোর্ট পায়। আমি তো ভাবছিলাম ওরা বোধহয় প্রেসক্লাবের সামনে করবে। ওদের কথা ছিল প্রেসক্লাবে করবে আর বায়তুল মোকাররমে ইসলামিক দলগুলো করবে।

ওবায়দুল কাদের : প্রেসক্লাবের সামনে নাকি কোনো গেদারিং নেই, কিছুই নেই, খালি।

শেখ হাসিনা : বায়তুল মোকাররম?

ওবায়দুল কাদের : না, না, প্রেসক্লাব।

শেখ হাসিনা : প্রেসক্লাব। না, ঐ রিজভীকে তো অ্যারেস্ট করে নিয়ে গেছে।

ওবায়দুল কাদের : সেটা জানি।

শেখ হাসিনা : আমি বলছি—যে কয়টারে পারো, উঠায়া নিয়া যাও।

ওবায়দুল কাদের : ঐখানে কোনো গেদারিংয়ের কোনো আলামত নেই এই মূহূত পর্যন্ত।

ড. হাছান মাহমুদ : আপা, আসসালামু আলাইকুম।

শেখ হাসিনা : ফোন করছিলা? বলো।

হাছান মাহমুদ : না, না, তখন চাপ পড়ে গেছে, সরি।

শেখ হাসিনা : ও..।

হাছান মাহমুদ : কাদের ভাই ফোন রেখেছিল, তখন আবার চাপ পড়ে হঠাৎ করে…।

শেখ হাসিনা : আচ্ছা, ঠিক আছে। ওরা সব ঐ জায়গায় আবার তৈরি হচ্ছে, শুধু আগুন দিয়ে পোড়াবে সব।

হাছান মাহমুদ : হ্যাঁ, হ্যাঁ, জ্বি আপা। আপনি কাদের ভাইকে যেভাবে নির্দেশ দিয়েছেন।

শেখ হাসিনা : না, আমাদের লোক থাকতে বলো। ওরা আগুন দিয়ে পোড়াবে, তো তাদের বাড়ি-গাড়ি আছে। এখন সেগুলো পাবলিক দিয়ে পোড়াবে, আর কী করবে।

হাছান মাহমুদ : জ্বি, জ্বি।

শেখ হাসিনা : এখন অন্য কিছু করে লাভ নেই। তোরাও পোড়াবি আয়, আমরাও পোড়াব।

হাছান মাহমুদ : জ্বি, জ্বি, রাইট। এটাই টিট ফর ট্রেট। জ্বি আপা। এখন কাদের ভাই আছে, কাদের ভাইকে দেবো। জাস্ট একটা গায়েবানা জানাজা পড়ে আমারা চলে আসব, যেহেতু পোগ্রাম দিয়ে দেওয়া হয়েছে, জাস্ট একটা গায়েবানা জানাজা পড়ে আমরা ১০ মিনিটের মধ্যে চলে আসব, যার যার গন্তব্যে মহল্লায় মহল্লায় চলে যাব।

শেখ হাসিনা : না, যার যার এলাকায়।

হাছান মাহমুদ : যার যার এলাকায় চলে যাব, রাইট।

শেখ হাসিনা : বিভিন্ন এলাকায় লোক ঠিক করো, সব নেতাকর্মীদের এভাবে ব্যবস্থা করো। প্রত্যেক এমপিকে ডাকো, খবর দাও, প্রত্যেক এলাকায় যার যার প্রটেকশন দিতে হবে।

হাছান মাহমুদ : জ্বি, কাদের ভাইকে দিচ্ছি।

ওবায়দুল কাদের : জ্বি, জ্বি।

শেখ হাসিনা : না, ঐ যে সেতু ভবনে আবার আগুন লাগাচ্ছে। আমি র‍্যাব পাঠাচ্ছি আর আমি বলেছি, যেখানে যেখানে গেদারিং আছে, সব জায়গায় র‍্যাব। আর ওরা আগুন দিচ্ছে, ওদের বাড়িঘর আছে না? এখন আর বসে থাকার সময় নেই। আমাদেরও বাড়িঘরে আগুন দিচ্ছে, ওদের বাড়িঘরে আগুন পাবলিক দেবে। ওদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান কী কী আছে, খুঁজে বের করো। আজ তাদের একটাই কাজ, সব জায়গায় বসে থাকবে আর খালি আগুন দেবে।

ওবায়দুল কাদের : সেটাই, পুলিশ কমিশনার সে কথাই বলল। জ্বি, আমাদের তো ঠেকাইতে হবে।

শেখ হাসিনা : হ্যাঁ। না, এখন বলতে হবে। তারপরে সরকারের পক্ষ থেকে আবার আপিল করা হয়। যখন এটা আদালতে তখন এই আন্দোলন। আদালতের ওপর ভরসা না রেখে এ আন্দোলন করার কী প্রয়োজন ছিল?

হাছান মাহমুদ : এটা, অযৌক্তিক ছিল। রাইট, হ্যাঁ।

শেখ হাসিনা : আন্দোলনের ফলে কী হলো, সেই কোর্টেই তো ফয়সালা করতে হলো।

হাছান মাহমুদ : সেটাই…।

শেখ হাসিনা : সেই কোর্টেই ফয়সালা হলো, কিন্তু আন্দোলন করে এতগুলো মানুষ হত্যা। এতগুলো জিনিষ নষ্ট, ধ্বংস এবং আগুন দিয়ে পোড়ানো, কোটা আন্দোলনের জন্য আগুন দিয়ে পুড়িয়ে রাষ্ট্রের সম্পদ কেন ধ্বংস করা হলো?

হাছান মাহমুদ : জ্বি, এটাকে মেইন স্ট্রিম করে আরও রেগুলার বলতে হবে, রাইট।

শেখ হাসিনা : এটা আমাদের সবাইকেই বলতে হবে। আমরাতো আগেই বলছিলাম। আমি আমার বক্তৃতায়ও বলেছি, তোমরা অপেক্ষা করো, ধৈর্য ধরো। কোর্ট থেকেই ফয়সালা হবে তোমারা হতাশ হবে না।

হাছান মাহমুদ : না, না। এভাবেই সমাধান হয়েছে। এটাকে আমরা প্রচার করতে হবে।

শেখ হাসিনা : এটাকে তোমার হাইলাইট করতে হবে। এটাকে বলতে হবে এবং ওদেরকে তোমরা বলো। এই কথাটাই বলতে হবে বারবার।

হাছান মাহমুদ : আমরা ভিডিও পাঠাব, বলছি।

শেখ হাসিনা : আর একটা কথা হচ্ছে—ছাত্ররা যখন বলল, ‘আমরা এই অগ্নি-সন্ত্রাসের সঙ্গে নেই। আমরা এর দায়-দায়িত্ব নেব না’। তারপর পুলিশ অ্যাকশনে গেছে, তার আগে না। তারপর আমরা অ্যাকশনে গেছি। কারণ ছাত্ররা যখন নেই, তাহলে এরা কারা সন্ত্রাস-জঙ্গি? তোমাদের সবার…।

হাছান মাহমুদ : এই লাইনই বলতে হবে, রাইট।

শেখ হাসিনা : হ্যাঁ, এই খুনের দায়িত্ব কাদের?

হাছান মাহমুদ : এই খুনের দায়িত্ব…। হুম, সেটাই, সেটাই বলতে হবে।

শেখ হাসিনা : ওরা আন্দোলন করার জন্যই তো এই খুনটা হলো, এর দায়-দায়িত্ব তো ওদের নিতে হবে।

হাছান মাহমুদ : ওদেরও বর্তায় তো। আমি তো সেটাই বলতে চাচ্ছি। ওরা যে করল ঐটার জন্যই তো এইটা হলো। এইটা তো ওদের ওপরেও কিছুটা বর্তায়। এটা বলতে হবে।

শেখ হাসিনা : আমি তো আগেই সাবধান করছিলাম, কারণ আমার কাছে এ খবর ছিল। আমি আগেই সাবধান করিনি? আমার ভাষণেই তো বলেছি, তোমাদের ওপর ভর করে যেন অন্য দিকে না নিয়ে যায়। রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার না করে।

হাছান মাহমুদ : এটা আগেই বলছেন, আপনি রাইট।

শেখ হাসিনা : আমি এটা আগেই বলছি। আমার এই বক্তব্যের কথা ধরে ধরে তোমাদের বলা উচিত।

হাছান মাহমুদ : জ্বি, জ্বি, রাইট। এভাবেই বলব। তবে আজকে আমরা ব্রিফিংটা করছি খুব ভালো হয়েছে। ওদের মনে অনেক প্রশ্ন… ১২-১৩টা কোয়েশ্চেন করছে।

শেখ হাসিনা : তোমার ইউনিভার্সিটিতে যখন আন্দোলন, তুমি কী করছিলা? আমেরিকার হাসকে জিজ্ঞাস করতা। আমরা তো তা-ও করিনি। অথচ আমাদের আর এই বিএনপি-জামায়াত-শিবির…। কথাটা বলছো? না, বলোনি।

হাছান মাহমুদ : বলছি, আমার নোটেই আছে।

শেখ হাসিনা : বলবা, বিএনপি-জামায়াত এটা করছে।

হাছান মাহমুদ : আমরা আর একটা যোগ করছি। রিলিজিয়াস অ্যাক্টিভিস্ট, এটা যোগ করছি। বিএনপি-জামায়াত রিলিজিয়াস অ্যাকটিভিস্ট। কারণ এটা তো ওরা খায়, এজন্যই দিয়েছি ঐ শব্দটা, ছিঃ।

শেখ হাসিনা : এরা সব তালেবানি স্টাইলেই তো করছে।

হাছান মাহমুদ : জ্বি, জ্বি এজন্যই দিয়েছি।

শেখ হাসিনা : আর গুলি করে তো ছাত্র মারা হয়নি। ছাত্ররা নিজেরা নিজেরাই তো করছে। এরাইতো গুলি করে মারছে। তোমারা এখন ওবায়দুল কাদের থেকে… যারা কথা বলবা, এই একই সুরে কতগুলো প্রশ্ন রেখে দিতে হবে। এই ছাত্ররা দমবে না। এদের ওপরেই থাকবে এই হত্যার দায়-দায়িত্ব, ওদের উপর ফেলতে হবে।

হাছান মাহমুদ : রাইট। আস্তে আস্তে ওই লাইনেই যেতে হবে।

শেখ হাসিনা : হ্যাঁ, না, কারণ হচ্ছে—এটা একটা কথা বলছি, তুমি জানো না। হ্যাঁ, সেটা তো হলো না। আমি খুনি আমি এত মানুষ হত্যা করলাম!

হাছান মাহমুদ : জ্বি, এখন ঐ লাইনে আপনি যেটা বলেছেন, ঐ লাইনে কাল থেকেই শুরু করব।

শেখ হাসিনা : তারা এটা বলছে—আমি বাতিল করছি। কোর্ট বাতিল করে দিছে আমার প্রজ্ঞাপন। আমরাই আপিল করছি, সেটার রায় পাইছো তোমরা।

হাছান মাহমুদ : সেটাই, আমাদের আপিলের প্রেক্ষিতেই তো রায় পেয়েছো।

শেখ হাসিনা : হ্যাঁ, তাহলে তোমরা খুনি বলো কেন?

হাছান মাহমুদ : সেটাই।

শেখ হাসিনা : হ্যাঁ, খুব এটা ছড়াচ্ছে। এটা বলতে হবে, খুনি তারা, এই আন্দোলনের নেমে। আর তাদের ওপর ভর করে জামায়াত-বিএনপি সমস্ত খুন করছে।

হাছান মাহমুদ : তারা আন্দোলন কারার প্রেক্ষিতেই জামায়াত-বিএনপি সুযোগ পাইছে মানুষ মারার।

শেখ হাসিনা : সুযোগ করে দিছে মানুষ মারার, তারপর সমস্ত স্থাপনা, প্রত্যেকটা জিনিস ভাঙছে, পোড়াইছে। তুমি হাসকে বলোনি, ইন্টারনেট ব্যবহার…. সব তো আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দিয়েছে।

বাংলা৭১নিউজ/এসএইচবি