ঢাকা ০৪:৫২ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
নারী চিকিৎসকের অদম্য কীর্তি

৯২ বছরেও নিয়মিত অস্ত্রোপচার এবং গাড়ি চালানোতেও পারদর্শী

বয়স কেবলই একটা সংখ্যা; এই বহুল প্রচলিত কথাটিকেই জীবন দিয়ে সত্য প্রমাণিত করে চলেছেন হায়দ্রাবাদের প্রবীণ স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ ৯২ বছর বয়সী ড. সূরি শ্রীমাথী। যেখানে পেশাগত ক্লান্তি ও অবসাদ চিকিৎসা জীবনকে অনেক আগেই থমকে দেয়, সেখানে দীর্ঘ ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে নিয়মিত অস্ত্রোপচার ও রোগী দেখে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তিনি। জীবন সায়াহ্নে এসেও যার অবসর নেওয়ার কোনো ভাবনাই নেই।

চিকিৎসক হিসেবে ড. শ্রীমাথীর এই যাত্রা মোটেও সহজ ছিল না। ১৯৫৮ সালে চিকিৎসা শাস্ত্রে স্নাতক এবং ১৯৬৫ সালে ওসমানিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিদ্যায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। শৈশবে ভাইবোনদের গুটিবসন্তে আক্রান্ত হতে দেখে চিকিৎসক হওয়ার যে স্বপ্ন তিনি বুনেছিলেন। আর সেই স্বপ্ন পূরণ করতে গিয়ে তৎকালীন সমাজের তীব্র বাধার মুখে পড়তে হয় তাকে। নারী হয়ে শবদেহ ব্যবচ্ছেদ ও চিকিৎসাবিদ্যা পড়ার অপরাধে তার পুরো পরিবারকে সামাজিক বয়কটের সম্মুখীন হতে হয়েছিল। স্বজনরা মুখ ফিরিয়ে নিলেও নিজের লক্ষ্য থেকে একচুলও সরে দাঁড়াননি তিনি। ১৯৫৯ সালে সাঙ্গারেড্ডির একটি সরকারি হাসপাতালে এক ১৫ বছর বয়সী কিশোরীর সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার স্বাধীন কর্মজীবন শুরু হয়, যেখানে অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট, গাইনোকোলজিস্ট ও প্রিয়াট্রিশিয়ান; সব ভূমিকাই তাকে একাই সামলাতে হয়েছিল।

দীর্ঘ ছয় দশকের এই কর্মজীবনে প্রায় দুই লাখেরও বেশি শিশু ভূমিষ্ঠ করার কৃতিত্ব রয়েছে তার ঝুলিতে। এমনকি বর্তমানে একই পরিবারের টানা তিন প্রজন্মের চিকিৎসা দেওয়ার অনন্য অভিজ্ঞতা রয়েছে এই প্রবীণ চিকিৎসকের। বয়সের কারণে শুরুতে রোগীরা সামান্য সংশয়ে থাকলেও তার দৃঢ় মনোভাব ও দক্ষতার কারণে দ্রুতই তৈরি হয় গভীর আস্থা। তার সাবেক শিক্ষার্থী ও সহকর্মীরা জানান, এই বয়সে এসেও তার হাত বিন্দুমাত্র কাঁপে না। একজন নিখুঁত ও অত্যন্ত সতর্ক সার্জন হিসেবে রাত জেগে রোগীদের পাশে থাকার যে মানসিকতা তিনি দেখিয়েছেন, তা তরুণ চিকিৎসকদের জন্য এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত।

নিজের এমন বিস্ময়কর ফিটনেস ও কর্মক্ষমতার পেছনে রয়েছে কঠোর দৈনন্দিন শৃঙ্খলা। প্রতিদিন ভোর সাড়ে পাঁচটায় যোগব্যায়ামের মাধ্যমে তার দিন শুরু হয়। এরপর সকাল সাড়ে আটটার মধ্যেই দিনের অস্ত্রোপচারের পরিকল্পনা ও রোগীদের খবরাখবর নেওয়া শেষ করেন। সন্ধ্যায় নিজের ক্লিনিকাল চেম্বারে রোগী দেখেন। এমনকি নিজের গাড়িটি তিনি নিজেই চালান। চিকিৎসাবিজ্ঞানের আধুনিক খবরাখবর রাখতে তিনি নিয়মিত বিভিন্ন সম্মেলনে অংশ নেন এবং মেডিক্যাল জার্নাল পড়েন।

সেবাকেই জীবনের পরম ব্রত হিসেবে গ্রহণ করা ড. শ্রীমাথী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চিকিৎসাসেবা থেকে অবসরে যাওয়ার কোনো ইচ্ছা তার নেই। দূর-দূরান্ত থেকে সহায়তার আশায় আসা মানুষদের ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব নয় বলেই তিনি আজীবন এই সাদা অ্যাপ্রন পরে মানুষের সেবা করে যেতে চান।

সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস

বাংলা৭১নিউজ/জেএস

Tag :

বিশ্বকাপে মেসিকে ‘বোমা মেরে উড়িয়ে দেওয়ার’ হুমকি, চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস

নারী চিকিৎসকের অদম্য কীর্তি

৯২ বছরেও নিয়মিত অস্ত্রোপচার এবং গাড়ি চালানোতেও পারদর্শী

আপডেট সময় ০৩:২৪:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬

বয়স কেবলই একটা সংখ্যা; এই বহুল প্রচলিত কথাটিকেই জীবন দিয়ে সত্য প্রমাণিত করে চলেছেন হায়দ্রাবাদের প্রবীণ স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ ৯২ বছর বয়সী ড. সূরি শ্রীমাথী। যেখানে পেশাগত ক্লান্তি ও অবসাদ চিকিৎসা জীবনকে অনেক আগেই থমকে দেয়, সেখানে দীর্ঘ ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে নিয়মিত অস্ত্রোপচার ও রোগী দেখে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তিনি। জীবন সায়াহ্নে এসেও যার অবসর নেওয়ার কোনো ভাবনাই নেই।

চিকিৎসক হিসেবে ড. শ্রীমাথীর এই যাত্রা মোটেও সহজ ছিল না। ১৯৫৮ সালে চিকিৎসা শাস্ত্রে স্নাতক এবং ১৯৬৫ সালে ওসমানিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিদ্যায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। শৈশবে ভাইবোনদের গুটিবসন্তে আক্রান্ত হতে দেখে চিকিৎসক হওয়ার যে স্বপ্ন তিনি বুনেছিলেন। আর সেই স্বপ্ন পূরণ করতে গিয়ে তৎকালীন সমাজের তীব্র বাধার মুখে পড়তে হয় তাকে। নারী হয়ে শবদেহ ব্যবচ্ছেদ ও চিকিৎসাবিদ্যা পড়ার অপরাধে তার পুরো পরিবারকে সামাজিক বয়কটের সম্মুখীন হতে হয়েছিল। স্বজনরা মুখ ফিরিয়ে নিলেও নিজের লক্ষ্য থেকে একচুলও সরে দাঁড়াননি তিনি। ১৯৫৯ সালে সাঙ্গারেড্ডির একটি সরকারি হাসপাতালে এক ১৫ বছর বয়সী কিশোরীর সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার স্বাধীন কর্মজীবন শুরু হয়, যেখানে অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট, গাইনোকোলজিস্ট ও প্রিয়াট্রিশিয়ান; সব ভূমিকাই তাকে একাই সামলাতে হয়েছিল।

দীর্ঘ ছয় দশকের এই কর্মজীবনে প্রায় দুই লাখেরও বেশি শিশু ভূমিষ্ঠ করার কৃতিত্ব রয়েছে তার ঝুলিতে। এমনকি বর্তমানে একই পরিবারের টানা তিন প্রজন্মের চিকিৎসা দেওয়ার অনন্য অভিজ্ঞতা রয়েছে এই প্রবীণ চিকিৎসকের। বয়সের কারণে শুরুতে রোগীরা সামান্য সংশয়ে থাকলেও তার দৃঢ় মনোভাব ও দক্ষতার কারণে দ্রুতই তৈরি হয় গভীর আস্থা। তার সাবেক শিক্ষার্থী ও সহকর্মীরা জানান, এই বয়সে এসেও তার হাত বিন্দুমাত্র কাঁপে না। একজন নিখুঁত ও অত্যন্ত সতর্ক সার্জন হিসেবে রাত জেগে রোগীদের পাশে থাকার যে মানসিকতা তিনি দেখিয়েছেন, তা তরুণ চিকিৎসকদের জন্য এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত।

নিজের এমন বিস্ময়কর ফিটনেস ও কর্মক্ষমতার পেছনে রয়েছে কঠোর দৈনন্দিন শৃঙ্খলা। প্রতিদিন ভোর সাড়ে পাঁচটায় যোগব্যায়ামের মাধ্যমে তার দিন শুরু হয়। এরপর সকাল সাড়ে আটটার মধ্যেই দিনের অস্ত্রোপচারের পরিকল্পনা ও রোগীদের খবরাখবর নেওয়া শেষ করেন। সন্ধ্যায় নিজের ক্লিনিকাল চেম্বারে রোগী দেখেন। এমনকি নিজের গাড়িটি তিনি নিজেই চালান। চিকিৎসাবিজ্ঞানের আধুনিক খবরাখবর রাখতে তিনি নিয়মিত বিভিন্ন সম্মেলনে অংশ নেন এবং মেডিক্যাল জার্নাল পড়েন।

সেবাকেই জীবনের পরম ব্রত হিসেবে গ্রহণ করা ড. শ্রীমাথী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চিকিৎসাসেবা থেকে অবসরে যাওয়ার কোনো ইচ্ছা তার নেই। দূর-দূরান্ত থেকে সহায়তার আশায় আসা মানুষদের ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব নয় বলেই তিনি আজীবন এই সাদা অ্যাপ্রন পরে মানুষের সেবা করে যেতে চান।

সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস

বাংলা৭১নিউজ/জেএস