পেরুর সাবেক প্রেসিডেন্ট ওলান্তা হুমালার বিরুদ্ধে দেওয়া ১৫ বছরের কারাদণ্ড বাতিল করেছে দেশটির সাংবিধানিক আদালত। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে পরিচালিত পুরো ফৌজদারি মামলার কার্যক্রমও বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। আদালতের এ সিদ্ধান্তের পর শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাতে রাজধানী লিমার বারবাদিয়ো কারাগার থেকে মুক্তি পান তিনি।
২০১১ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত পেরুর প্রেসিডেন্ট ছিলেন হুমালা। ২০২৫ সালে অর্থ পাচারের মামলায় তাকে ১৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। অভিযোগ ছিল, ২০০৬ ও ২০১১ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী প্রচারের জন্য তিনি ভেনেজুয়েলার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট উগো চাভেজ এবং ব্রাজিলের নির্মাণ প্রতিষ্ঠান ওডেব্রেখটের কাছ থেকে অবৈধ অর্থ নিয়েছিলেন।
রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের পর বিষয়টি সাংবিধানিক আদালতে গড়ায়। আদালত শুনানি শেষে মামলার পুরো ফৌজদারি কার্যক্রমই বাতিল করে দেয়। এর ফলে হুমালাকে কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হয়। মুক্তির পর কারাগারের বাইরে জড়ো হওয়া সমর্থকদের উদ্দেশে হুমালা বলেন, তিনি ও তার পরিবার রাজনৈতিক ও বিচারিক হয়রানির শিকার হয়েছেন। তার আইনজীবী হুলিও এস্পিনোজা গোয়েনা জানান, আদালতের মতে নির্বাচনী প্রচারের জন্য নেওয়া অর্থ অর্থ পাচারের অপরাধের আওতায় পড়ে না। এখন সংশ্লিষ্ট ফৌজদারি আদালত আনুষ্ঠানিকভাবে মামলাটি খারিজ করবে।
একই মামলায় হুমালার স্ত্রী নাদিন এরেদিয়াকেও ২০২৫ সালে ১৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। তবে রায়ের পর তিনি ব্রাজিলের দূতাবাসে আশ্রয় নেন এবং পরে ব্রাজিলে যাওয়ার অনুমতি পান।
হুমালা ছিলেন পেরুর চার সাবেক প্রেসিডেন্টের একজন, যাদের নাম ব্রাজিলভিত্তিক নির্মাণ প্রতিষ্ঠান ওডেব্রেখটের বহুল আলোচিত দুর্নীতি কেলেঙ্কারিতে উঠে আসে। অভিযোগ ছিল, তিনি ও তার স্ত্রী মিলে গড়া ন্যাশনালিস্ট পার্টির জন্য ওডেব্রেখটের কাছ থেকে ৩০ লাখ ডলার এবং ২০০৬ সালের নির্বাচনী প্রচারের জন্য উগো চাভেজের কাছ থেকে আরও দুই লাখ ডলার নিয়েছিলেন। তবে শুরু থেকেই তারা এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছিলেন।
ওডেব্রেখট কেলেঙ্কারিতে পেরুর আরও কয়েকজন সাবেক প্রেসিডেন্টও আইনি জটিলতায় পড়েছেন। সাবেক প্রেসিডেন্ট আলেহান্দ্রো তোলেদো ঘুষ নেওয়ার দায়ে ২০ বছরের বেশি কারাদণ্ড পেয়েছেন। আলান গার্সিয়া ২০১৯ সালে গ্রেপ্তার এড়াতে আত্মহত্যা করেন। আর সাবেক প্রেসিডেন্ট পেদ্রো পাবলো কুচিনস্কির বিরুদ্ধেও একই কেলেঙ্কারিতে তদন্ত চলছে।
সাবেক সেনা কর্মকর্তা হুমালা ২০০০ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আলবার্তো ফুহিমোরির বিরুদ্ধে স্বল্প সময়ের সামরিক বিদ্রোহের নেতৃত্ব দিয়ে আলোচনায় আসেন। ২০০৬ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে পরাজিত হলেও ২০১১ সালে মধ্যপন্থী নীতি নিয়ে প্রচার চালিয়ে কেইকো ফুহিমোরিকে হারিয়ে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।
২০১৬ সালে ক্ষমতা ছাড়ার পর তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়। পরে ওডেব্রেখটের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মামলা হয় এবং ২০২৫ সালে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। তবে সাংবিধানিক আদালতের সর্বশেষ রায়ে তার সাজা বাতিল হওয়ায় তিনি মুক্তি পেয়েছেন।
তথ্য সূত্র- আলজাজিরা।
বাংলা৭১নিউজ/এসএএইচ























