আজ ৩১ জুলাই বিশ্ব রেঞ্জার দিবস। বন, বন্যপ্রাণী ও প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় নিরলসভাবে কাজ করা রেঞ্জারদের অবদানকে সম্মান জানাতে এবং দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে নিহত ও আহত রেঞ্জারদের স্মরণে প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দিবসটি পালন করা হয়।
বিশ্ব রেঞ্জার দিবসের যাত্রা শুরু হয় ২০০৭ সালে। আন্তর্জাতিক রেঞ্জার ফেডারেশন এবং দ্য থিন গ্রিন লাইন ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে প্রতিবছর দিবসটি পালন করা হচ্ছে। এ উপলক্ষে বিভিন্ন দেশে আলোচনা সভা, সচেতনতামূলক কর্মসূচি, স্মরণসভা এবং বন ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণবিষয়ক নানা আয়োজন করা হয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তন, বন উজাড়, বন্যপ্রাণী পাচার এবং অবৈধ শিকারের মতো বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় রেঞ্জারদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তারা শুধু বন ও বন্যপ্রাণী রক্ষা করেন না, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলাতেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও দুর্গম বনাঞ্চলে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তারা দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।
বাংলাদেশেও বন বিভাগের রেঞ্জাররা সুন্দরবন, পার্বত্য বনাঞ্চল, জাতীয় উদ্যান এবং সংরক্ষিত বন এলাকায় বনসম্পদ ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। রয়েল বেঙ্গল বাঘ, হাতি, হরিণ, কুমিরসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণী রক্ষা, বনাঞ্চলে নিয়মিত টহল, অবৈধ দখল প্রতিরোধ এবং বনজ সম্পদ পাচার ঠেকাতে তাদের অবদান উল্লেখযোগ্য।
পরিবেশবিদদের মতে, রেঞ্জারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, আধুনিক প্রশিক্ষণ, পর্যাপ্ত সরঞ্জাম এবং প্রযুক্তিগত সহায়তা বাড়ানো গেলে বন ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ আরও শক্তিশালী হবে। পাশাপাশি বন রক্ষায় জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং স্থানীয় জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণও জরুরি।
বিশ্ব রেঞ্জার দিবস উপলক্ষে পরিবেশ ও বন সংরক্ষণে নিয়োজিত সব রেঞ্জারের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় কাজ করা এই নীরব যোদ্ধাদের অবদান যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা সময়ের দাবি।
বাংলা৭১নিউজ/জেএস


















