দীর্ঘ ছয় মাস ঝুলে থাকার পর অবশেষে জট খুললো ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের জট। দেশের উত্তরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্নের ও যানজটমুক্ত চলাচলের এই মেগা প্রকল্পটির দ্বিতীয় সংশোধনী প্রস্তাব জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
এর ফলে এবারের সংশোধনীতে প্রকল্পটির সঙ্গে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তিনটি নতুন অঙ্গ যুক্ত হচ্ছে। এগুলো হলো, বাইপাইল ইন্টারসেকশন, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল এবং নির্মাণাধীন পাতাল মেট্রোরেলের (এমআরটি লাইন-১) সঙ্গে সরাসরি সংযোগ। নতুন এই সংযোজনগুলোর ফলে প্রকল্পটির ব্যয় মূল বরাদ্দের চেয়ে প্রায় ৫৫ দশমিক ১৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) বুধবার ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ ব্যয় সম্বলিত ৮টি প্রকল্প অনুমোদন করেছে। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ১০ হাজার ৪৯৪ কোটি ২১ লাখ টাকা এবং প্রকল্প ঋণ ৩ হাজার ৫৫০ কোটি ৪৪ লাখ টাকা।
প্রধানমন্ত্রী এবং একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সভাপতিত্বে বুধবার মন্ত্রিসভা (কক্ষ নং-১০০, ১০ম তলা, ভবন নং-১) বাংলাদেশ সচিবালয় কক্ষে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় এ অনুমোদন দেওয়া হয়। এর মধ্যে নতুন প্রকল্প ৩টি ও সংশোধিত প্রকল্প ৫টি।
অর্থ এবং পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর; শিল্প, বস্ত্র ও পাট এবং বাণিজ্য মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান; স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, পানি সম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকিসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা সভায় অংশগ্রহণ করেন।
২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এই এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে কাওলা থেকে শুরু হয়ে আব্দুল্লাহপুর, কামারপাড়া, ধউর, আশুলিয়া, জিরাবো ও বাইপাইল অতিক্রম করবে। এরপর ঢাকা ইপিজেড এড়িয়ে সাভারের শ্রীপুর বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে শেষ হবে।
ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের সঙ্গে সংযুক্ত এই সড়কটি চালু হলে ঢাকার যানজটপূর্ণ সড়ক এড়িয়ে চট্টগ্রাম বন্দর ও দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের মধ্যে একটি দ্রুতগতির যোগাযোগ করিডোর তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রস্তাবে আরও বলা হয়েছে, সমন্বিত পরিবহন অবকাঠামো গড়ে তোলা, নগরীর যানজট কমানো এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করার সরকারি লক্ষ্যের সঙ্গে প্রকল্পটি সামঞ্জস্যপূর্ণ। পাশাপাশি রাজধানী ও আশপাশের শিল্পাঞ্চলের মধ্যে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ নিশ্চিত হওয়ায় পণ্য পরিবহন ব্যয় ও যাতায়াতের সময়ও কমে আসবে।
একনেক সভা জানায়, প্রাথমিকভাবে ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের মূল ব্যয় ধরা হয়েছিল ১৬ হাজার ৯০১ কোটি ৩২ লাখ টাকা, যার মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ৫ হাজার ৯৫১ কোটি ৪১ লাখ এবং চীনের ঋণ থেকে ১০ হাজার ৯৪৯ কোটি ৯০ লাখ টাকা জোগাড়ের কথা ছিল। পরবর্তীতে প্রথম সংশোধনীতে ব্যয় বাড়িয়ে ১৭ হাজার ৫৫৩ কোটি টাকা করা হয়।
তবে এবার দ্বিতীয় সংশোধনীতে আরও ৯ হাজার ৬৮০ কোটি টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে, যার ফলে প্রকল্পের মোট প্রাক্কলিত ব্যয় দাঁড়াচ্ছে ২৬ হাজার ৫৮১ কোটি টাকায়। বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হারের ঊর্ধ্বগতি, ভ্যাট-আয়কর ও কাস্টমস শুল্ক বৃদ্ধি, ইউটিলিটি স্থানান্তর, ভূমি অধিগ্রহণ এবং পরামর্শক সেবার খরচ বেড়ে যাওয়ায় এই ব্যয় সংশোধন করতে হলো।
ব্যয়ের পাশাপাশি বাড়ছে প্রকল্পের সময়সীমাও। ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত মেয়াদে শুরু হওয়া এই প্রকল্পটির বাণিজ্যিক চুক্তি স্বাক্ষরের ৫ বছর পর ঋণ চুক্তি সম্পন্ন হওয়ায় এর আগে মেয়াদ ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছিল।
বর্তমান বাস্তবতায় প্রকল্পটির কাজ পুরোপুরি শেষ করতে আরও চার বছর সময় চেয়ে ২০৩০ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত প্রকল্পটিতে মোট ১১ হাজার ৭৩৫ কোটি ১৭ লাখ টাকা খরচ হয়েছে, যার আর্থিক অগ্রগতি ৬৬ দশমিক ৮৬ শতাংশ এবং ভৌত কাজের অগ্রগতি দাঁড়িয়েছে ৫২ শতাংশে।
সর্বজনীন সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন-২ (জিএসআইডিপি-২),“বৃহত্তর দিনাজপুর (দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়) জেলা সমন্বিত উন্নয়ন, পল্লী সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ ও কর্মসংস্থান, “দুর্যোগ আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ, সংস্কার ও উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়েছে।
১টি মূল্যায়ন কাম উন্নয়ন কূপ (বেগমগঞ্জ-৫) এবং ২টি অনুসন্ধান কূপ (বেগমগঞ্জ-৬ ও সুনেত্র-২) খনন” “মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসমূহে বিদ্যমান কিডনী ডায়ালাইসিস সেন্টার ৫০ শয্যায় উন্নীতকরণ এবং জেলা সদর হাসপাতালসমূহে ১০ শয্যার কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপন ( ২য় সংশোধন)” প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে।
বাংলা৭১নিউজ/এসএএইচ

























