ঢাকা ১০:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo জুলাই শহিদ আবু সাঈদ, মুগ্ধ ও ওয়াসিমের ছবি যুক্ত হচ্ছে পাসপোর্টে Logo জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিতল বাংলাদেশ Logo নাগরপুরের কৃতি সন্তান আমিনুর রহমান আর নেই Logo জুলাইয়ের চেতনা বিক্রি করে বেশিদিন রাজনীতি করা যাবে না : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান ঠেকাতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে: আমান উল্লাহ Logo তেজগাঁও রেলগেট এলাকায় দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে অজ্ঞাত ব্যক্তি নিহত Logo জাতীয় বৃক্ষমেলা ১০ দিনেই সাড়ে তিন কোটি টাকার চারা বিক্রি Logo ইরানের নির্মাণাধীন পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে মার্কিন হামলা Logo ব্রেন ক্যান্সারে মারা গেলেন খ্যাতিমান ব্যান্ড তারকা জেনিফার ফিঞ্চ Logo সত্যিই কি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অনুমতি পাচ্ছে সৌদি আরব? সামনে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

১০০ বৈদ্যুতিক বাস চালাতে ৪০০ কোটি টাকা চায় বিআরটিসি

ঢাকাসহ দেশের বিভাগীয় শহরগুলোতে পরিবেশবান্ধব গণপরিবহন চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি)। প্রাথমিক পর্যায়ে ১০০টি ইলেকট্রিক বাস কেনা, ২৫টি চার্জিং স্টেশন স্থাপন এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণে ৪০০ কোটি টাকা অনুদান বা ইক্যুইটি (ইকুইটি) হিসেবে বরাদ্দ চেয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠিয়েছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ।

সম্প্রতি সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের বিআরটিসি শাখা থেকে অর্থ বিভাগে পাঠানো এক চিঠিতে এ অনুরোধ করা হয়েছে। চিঠিতে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব অজিত দেব সই করেন।

চিঠিতে বলা হয়েছে, বিআরটিসি একটি রাষ্ট্রীয় সেবামূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী মহানগর ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের দোরগোড়ায় পরিবহনসেবা পৌঁছে দিতে কাজ করছে। দেশের পরিবেশবান্ধব ও টেকসই গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিআরটিসির বহরে ইলেকট্রিক বাস সংযোজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এতে আরও বলা হয়, বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারে সমন্বিত, দক্ষ ও সবুজ পরিবহন করিডোর গড়ে তোলা, কার্বন নিঃসরণ কমানো এবং আধুনিক ও টেকসই গণপরিবহন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি রয়েছে। সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে বিআরটিসির বহরে ইলেকট্রিক বাস সংযোজনকে জরুরি ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

সড়ক পরিবহন বিভাগ জানিয়েছে, ইলেকট্রিক বাস চালু হলে জ্বালানি ব্যয় কমবে, বায়ুদূষণ হ্রাস পাবে, যাত্রীসেবার মান বাড়বে এবং দীর্ঘমেয়াদে পরিচালন ব্যয়ও কমে আসবে। এ লক্ষ্যেই প্রথম ধাপে আনুমানিক ১০০টি ইলেকট্রিক বাস, ২৫টি চার্জিং স্টেশন এবং প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ ও অবকাঠামো নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এসব বাস ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ রুটের পাশাপাশি বিভাগীয় শহরগুলোর আন্তঃনগর রুটে পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।

জানা গেছে, এর আগে একই উদ্দেশে ৪০০ কোটি টাকা অনুদান চেয়ে অর্থ বিভাগে আবেদন করা হয়েছিল। তবে, অর্থ বিভাগ উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের পরামর্শ দেয়।

কিন্তু, বিআরটিসির বর্তমান আর্থিক সক্ষমতা ও নিজস্ব তহবিলের সীমাবদ্ধতার কারণে পুরো ব্যয় নিজস্ব অর্থায়নে বহন করা সম্ভব নয় বলে জানানো হয়েছে।

একই সঙ্গে বলা হয়েছে, উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ঋণ নিয়ে অর্থায়ন করা হলে প্রতিষ্ঠানের ওপর অতিরিক্ত ঋণ ও সুদের বোঝা তৈরি হবে, যা জনস্বার্থে পরিচালিত গণপরিবহন সেবার জন্য দীর্ঘমেয়াদে টেকসই হবে না।

এ কারণে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের পরিচালন বাজেট থেকে বিআরটিসির অনুকূলে ৪০০ কোটি টাকা অনুদান বা ইক্যুইটি হিসেবে বরাদ্দ দেওয়ার জন্য অর্থ বিভাগের কাছে পুনরায় অনুরোধ জানিয়েছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ।

বরাদ্দ পাওয়া অর্থ শুধু নির্ধারিত উদ্দেশেই ব্যয় করা হবে এবং সরকারি আর্থিক বিধিবিধান ও সরকারি ক্রয় আইন-বিধিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হবে বলে জানিয়েছে বিআরটিসি।

বিআরটিসি আরও জানিয়েছে, প্রকল্পটির মূল উদ্দেশ্য হলো পরিবেশবান্ধব গণপরিবহন চালু করা, কার্বন নিঃসরণ ও জ্বালানি ব্যয় কমানো, আধুনিক ও টেকসই পরিবহনসেবা নিশ্চিত করা এবং সরকারের ঘোষিত সবুজ পরিবহন করিডোর বাস্তবায়নে সহায়তা করা।

বিআরটিসির ১০০টি ইলেকট্রিক বাস কিনতে ব্যয় ধরা হয়েছে ২৫০ কোটি টাকা। এছাড়া ২৫টি চার্জিং স্টেশন স্থাপনে ৫০ কোটি টাকা, আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতি ও স্পেয়ার পার্টস কিনতে ৩৫ কোটি টাকা, প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তায় ২০ কোটি টাকা, পরিবহন, রেজিস্ট্রেশন ও অন্যান্য ব্যয়ে ২৫ কোটি টাকা এবং ডিপোসহ সংশ্লিষ্ট স্থাপনা উন্নয়ন ও মেরামতে ২০ কোটি টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব করা হয়েছে। সব মিলিয়ে প্রকল্পের মোট সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৪০০ কোটি টাকা।

প্রস্তাবে বলা হয়েছে, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের গণপরিবহন ব্যবস্থায় পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়বে, জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরতা কমবে, বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করবে এবং যাত্রীদের জন্য আরও আধুনিক, নিরাপদ ও টেকসই সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

বাংলা৭১নিউজ/এসএএইচ

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

জুলাই শহিদ আবু সাঈদ, মুগ্ধ ও ওয়াসিমের ছবি যুক্ত হচ্ছে পাসপোর্টে

১০০ বৈদ্যুতিক বাস চালাতে ৪০০ কোটি টাকা চায় বিআরটিসি

আপডেট সময় ১২:৪৩:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬

ঢাকাসহ দেশের বিভাগীয় শহরগুলোতে পরিবেশবান্ধব গণপরিবহন চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি)। প্রাথমিক পর্যায়ে ১০০টি ইলেকট্রিক বাস কেনা, ২৫টি চার্জিং স্টেশন স্থাপন এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণে ৪০০ কোটি টাকা অনুদান বা ইক্যুইটি (ইকুইটি) হিসেবে বরাদ্দ চেয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠিয়েছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ।

সম্প্রতি সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের বিআরটিসি শাখা থেকে অর্থ বিভাগে পাঠানো এক চিঠিতে এ অনুরোধ করা হয়েছে। চিঠিতে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব অজিত দেব সই করেন।

চিঠিতে বলা হয়েছে, বিআরটিসি একটি রাষ্ট্রীয় সেবামূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী মহানগর ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের দোরগোড়ায় পরিবহনসেবা পৌঁছে দিতে কাজ করছে। দেশের পরিবেশবান্ধব ও টেকসই গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিআরটিসির বহরে ইলেকট্রিক বাস সংযোজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এতে আরও বলা হয়, বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারে সমন্বিত, দক্ষ ও সবুজ পরিবহন করিডোর গড়ে তোলা, কার্বন নিঃসরণ কমানো এবং আধুনিক ও টেকসই গণপরিবহন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি রয়েছে। সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে বিআরটিসির বহরে ইলেকট্রিক বাস সংযোজনকে জরুরি ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

সড়ক পরিবহন বিভাগ জানিয়েছে, ইলেকট্রিক বাস চালু হলে জ্বালানি ব্যয় কমবে, বায়ুদূষণ হ্রাস পাবে, যাত্রীসেবার মান বাড়বে এবং দীর্ঘমেয়াদে পরিচালন ব্যয়ও কমে আসবে। এ লক্ষ্যেই প্রথম ধাপে আনুমানিক ১০০টি ইলেকট্রিক বাস, ২৫টি চার্জিং স্টেশন এবং প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ ও অবকাঠামো নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এসব বাস ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ রুটের পাশাপাশি বিভাগীয় শহরগুলোর আন্তঃনগর রুটে পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।

জানা গেছে, এর আগে একই উদ্দেশে ৪০০ কোটি টাকা অনুদান চেয়ে অর্থ বিভাগে আবেদন করা হয়েছিল। তবে, অর্থ বিভাগ উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের পরামর্শ দেয়।

কিন্তু, বিআরটিসির বর্তমান আর্থিক সক্ষমতা ও নিজস্ব তহবিলের সীমাবদ্ধতার কারণে পুরো ব্যয় নিজস্ব অর্থায়নে বহন করা সম্ভব নয় বলে জানানো হয়েছে।

একই সঙ্গে বলা হয়েছে, উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ঋণ নিয়ে অর্থায়ন করা হলে প্রতিষ্ঠানের ওপর অতিরিক্ত ঋণ ও সুদের বোঝা তৈরি হবে, যা জনস্বার্থে পরিচালিত গণপরিবহন সেবার জন্য দীর্ঘমেয়াদে টেকসই হবে না।

এ কারণে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের পরিচালন বাজেট থেকে বিআরটিসির অনুকূলে ৪০০ কোটি টাকা অনুদান বা ইক্যুইটি হিসেবে বরাদ্দ দেওয়ার জন্য অর্থ বিভাগের কাছে পুনরায় অনুরোধ জানিয়েছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ।

বরাদ্দ পাওয়া অর্থ শুধু নির্ধারিত উদ্দেশেই ব্যয় করা হবে এবং সরকারি আর্থিক বিধিবিধান ও সরকারি ক্রয় আইন-বিধিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হবে বলে জানিয়েছে বিআরটিসি।

বিআরটিসি আরও জানিয়েছে, প্রকল্পটির মূল উদ্দেশ্য হলো পরিবেশবান্ধব গণপরিবহন চালু করা, কার্বন নিঃসরণ ও জ্বালানি ব্যয় কমানো, আধুনিক ও টেকসই পরিবহনসেবা নিশ্চিত করা এবং সরকারের ঘোষিত সবুজ পরিবহন করিডোর বাস্তবায়নে সহায়তা করা।

বিআরটিসির ১০০টি ইলেকট্রিক বাস কিনতে ব্যয় ধরা হয়েছে ২৫০ কোটি টাকা। এছাড়া ২৫টি চার্জিং স্টেশন স্থাপনে ৫০ কোটি টাকা, আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতি ও স্পেয়ার পার্টস কিনতে ৩৫ কোটি টাকা, প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তায় ২০ কোটি টাকা, পরিবহন, রেজিস্ট্রেশন ও অন্যান্য ব্যয়ে ২৫ কোটি টাকা এবং ডিপোসহ সংশ্লিষ্ট স্থাপনা উন্নয়ন ও মেরামতে ২০ কোটি টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব করা হয়েছে। সব মিলিয়ে প্রকল্পের মোট সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৪০০ কোটি টাকা।

প্রস্তাবে বলা হয়েছে, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের গণপরিবহন ব্যবস্থায় পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়বে, জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরতা কমবে, বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করবে এবং যাত্রীদের জন্য আরও আধুনিক, নিরাপদ ও টেকসই সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

বাংলা৭১নিউজ/এসএএইচ