বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে নাটকীয় লড়াই জমে উঠেছে শেষ মুহূর্তে। আটলান্টায় গোলশূন্য প্রথমার্ধের পর দ্বিতীয়ার্ধে অ্যান্থনি গর্ডনের গোলে এগিয়ে গিয়েছিল ইংল্যান্ড। তবে ম্যাচের ৮৫তম মিনিটে লিওনেল মেসির দুর্দান্ত অ্যাসিস্ট থেকে এনজো ফার্নান্দেজের অসাধারণ গোলে সমতায় ফেরে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।
লড়াই যখন ১-১ সমতায়, তখন আবারও জ্বলে উঠলো আর্জেন্টিনা। জ্বলে উঠলেন মেসি। ডানপ্রান্ত থেকে তার দুর্দান্ত একটি ক্রস বাম কোনে দাঁড়িয়ে আলতো হেডে ইংল্যান্ডের জালে জড়িয়ে দেন লাউতারো মার্টিনেজ। ২-১ গোলে এগিয়ে গেলো আর্জেন্টিনা।
বিরতির পর আক্রমণাত্মক ফুটবল শুরু করে আর্জেন্টিনা। ৪৭তম মিনিটে হুলিয়ান আলভারেজের জোরালো শট দারুণভাবে ঠেকিয়ে দেন জর্ডান পিকফোর্ড। ফিরতি বলেও আলভারেজ গোলের চেষ্টা করলেও ইংল্যান্ডের ডিফেন্ডাররা কর্নারের বিনিময়ে বিপদ সামাল দেন। ৫১ মিনিটে জুড বেলিংহ্যামকে টেনে ফেলে হলুদ কার্ড দেখেন ক্রিস্তিয়ান রোমেরো।
৫৫তম মিনিটে দারুণ এক দলগত আক্রমণ থেকে এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড। হ্যারি কেইনের আক্রমণ ভেস্তে দিলেও বল যায় ডেকলান রাইসের কাছে। রাইস দ্রুত বল বাড়ান মরগান রজার্সকে। অ্যাস্টন ভিলার এই মিডফিল্ডার নিখুঁত ক্রসে খুঁজে নেন অ্যান্থনি গর্ডনকে। নাহুয়েল মোলিনাকে ফাঁকি দিয়ে দৌড়ে এসে এমিলিয়ানো মার্তিনেজকে পরাস্ত করেন গর্ডন।
চলতি বিশ্বকাপে এটি গর্ডনের দ্বিতীয় গোল। সব মিলিয়ে জাতীয় দলের হয়ে শেষ সাত ম্যাচে তিনি ছয়টি গোলে সরাসরি অবদান রাখলেন।
গোল হজমের পর একের পর এক আক্রমণ চালাতে থাকে লিওনেল স্কালোনির দল। ৫৮ মিনিটে জুলিয়ানো সিমিওনের নিশ্চিত গোলের সুযোগ শেষ মুহূর্তে দুর্দান্ত ট্যাকলে নষ্ট করে দেন জেড স্পেন্স।
৬৪ মিনিটে একসঙ্গে কৌশলগত পরিবর্তন আনেন স্কালোনি। পারেদেসের জায়গায় নিকো গঞ্জালেসকে নামিয়ে আক্রমণের ধার বাড়ান। পরে সিমিওনের বদলে রদ্রিগো ডি পল, লিসান্দ্রো মার্তিনেজের বদলে নিকোলাস ওতামেন্দি এবং মোলিনার জায়গায় গঞ্জালো মন্টিয়েলকে মাঠে নামান।
৬৯ মিনিটে মেসির দারুণ ক্রস থেকে বদলি নিকো গঞ্জালেসের শক্তিশালী হেড অবিশ্বাস্য দক্ষতায় রুখে দেন পিকফোর্ড। এরপর ৭৬ মিনিটে ডি পলের ক্রসে অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের হেড পোস্টে লেগে ফিরে আসে। মাত্র এক মিনিট পর মেসির আরেকটি নিখুঁত ক্রসে গঞ্জালেসের হেড অল্পের জন্য পোস্টের বাইরে যায়। শেষ ১৫ মিনিটে পুরোপুরি চাপে পড়ে যায় ইংল্যান্ড।
বারবার আক্রমণ চালিয়েও গোল পাচ্ছিল না আর্জেন্টিনা। কিন্তু ৮৫তম মিনিটে আবারও বড় মঞ্চে নিজের ছাপ রাখলেন লিওনেল মেসি। বক্সের বাইরে বল পেয়ে ইংল্যান্ডের ডিফেন্ডারদের টেনে আনেন আটবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী। এরপর নিখুঁতভাবে বল বাড়িয়ে দেন এনজো ফার্নান্দেজের কাছে। প্রায় ২৫ গজ দূর থেকে নেওয়া এনজোর বাঁকানো শট নিচের কোণ দিয়ে জালে জড়িয়ে যায়। কোনো সুযোগই পাননি পিকফোর্ড।
গোলের আগে দূরপাল্লার আরেকটি শটও দারুণভাবে কর্নারের বিনিময়ে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন ইংল্যান্ড গোলরক্ষক। তবে দ্বিতীয়বার আর রক্ষা হয়নি। গোলের পর অফসাইডের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হলেও রিপ্লেতে দেখা যায়, মেসি অনসাইডেই ছিলেন।
গোল হজমের পর ডেকলান রাইস ও রিস জেমসকে তুলে ড্যান বার্ন ও নিকো ও’রাইলিকে নামান টমাস টুখেল, যাতে রক্ষণ আরও শক্ত করা যায়। অন্যদিকে লাউতারো মার্তিনেজকে মাঠে নামিয়ে জয়সূচক গোলের খোঁজে ঝাঁপায় আর্জেন্টিনা।
শেষ কয়েক মিনিটে দুই দলই জয়সূচক গোলের জন্য মরিয়া হয়ে খেলছে। ১-১ সমতায় ম্যাচ এখন প্রবেশ করেছে সবচেয়ে নাটকীয় অধ্যায়ে, যেখানে একটি মুহূর্তই নির্ধারণ করে দিতে পারে কে উঠবে ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে।
বাংলা৭১নিউজ/জেএস





















