২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড মুখোমুখি হওয়ার আগে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে দুই অধিনায়ক লিওনেল মেসি ও হ্যারি কেইন। একজন আধুনিক ফুটবলের অন্যতম সেরা কিংবদন্তি, অন্যজন ইংল্যান্ডের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা। ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে দুই দলের কৌশল, রক্ষণ কিংবা মাঝমাঠ যতটা গুরুত্বপূর্ণ, ততটাই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে এই দুই নেতার পারফরম্যান্স।
৩৯ বছর বয়সী মেসির জন্য এটি শেষ বিশ্বকাপ। ২০২২ সালে কাতারে বিশ্বকাপ জয়ের পরও তিনি জাতীয় দলের জার্সিতে নিজের প্রভাব ধরে রেখেছেন। ২০২৬ বিশ্বকাপে নকআউট পর্বেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন এবং সেমিফাইনালের আগে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে অন্যতম শীর্ষ দাবিদার হিসেবে রয়েছেন। তার গোল করার ক্ষমতার পাশাপাশি খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ, সতীর্থদের জন্য সুযোগ তৈরি এবং বড় ম্যাচে নেতৃত্ব দেওয়ার সামর্থ্যই আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় শক্তি।
অন্যদিকে ৩২ বছর বয়সী হ্যারি কেইন ইংল্যান্ডের আক্রমণের মূল ভরসা। ওয়েন রুনিকে পেছনে ফেলে তিনি ইতোমধ্যেই ইংল্যান্ডের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছেন। এবারের বিশ্বকাপেও গোল করার পাশাপাশি আক্রমণভাগকে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। জুড বেলিংহাম, বুকায়ো সাকাদের সঙ্গে তার সমন্বয় ইংল্যান্ডকে সেমিফাইনালে পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
মেসি ও কেইনের খেলার ধরন অবশ্য এক নয়। মেসি অনেক সময় মাঝমাঠে নেমে এসে আক্রমণ গড়ে তোলেন, ড্রিবলিং ও নিখুঁত পাসে ম্যাচের ছন্দ বদলে দেন। কেইন আবার শুধু বক্সের স্ট্রাইকার নন প্রয়োজনে নিচে নেমে বল ধরে রেখে আক্রমণ সাজান এবং সতীর্থদের জন্য জায়গা তৈরি করেন। তাই এই ম্যাচে দুজনের প্রভাব শুধু গোলে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং পুরো দলের আক্রমণাত্মক কাঠামোর ওপরও পড়বে।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে এটাই প্রথমবার লিওনেল মেসি ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বিশ্বকাপের কোনো ম্যাচ খেলতে নামছেন। অন্যদিকে কেইনের জন্যও এটি আর্জেন্টিনার বিপক্ষে প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচ। ফলে দুই অধিনায়কের ব্যক্তিগত অধ্যায়েও এটি একটি নতুন ইতিহাস।
তবে এই ম্যাচকে শুধুই ‘মেসি বনাম কেইন’ বলা পুরো চিত্র তুলে ধরে না। আর্জেন্টিনার জুলিয়ান আলভারেস, এনসো ফার্নান্দেস, অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার কিংবা ইংল্যান্ডের জুড বেলিংহাম, ডেকলান রাইস ও বুকায়ো সাকারাও ম্যাচের গতিপথ বদলে দিতে পারেন। তবু বড় ম্যাচে নেতৃত্ব, অভিজ্ঞতা এবং গোল করার সামর্থ্যের কারণে দুই অধিনায়কের দিকেই থাকবে সবচেয়ে বেশি নজর।
বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল এমন এক মঞ্চ, যেখানে একটি মুহূর্তই একজন ফুটবলারের ক্যারিয়ারকে অমর করে দিতে পারে। মেসি কি শেষ বিশ্বকাপে আরেকবার আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে তুলবেন, নাকি কেইন ইংল্যান্ডকে ১৯৬৬ সালের পর প্রথম বিশ্বকাপ শিরোপার আরও এক ধাপ কাছে নিয়ে যাবেন সেই উত্তরই মিলবে এই বহুল প্রতীক্ষিত মহারণে।
বাংলা৭১নিউজ/জেএস























