আইসিসির বোর্ড সদস্য হিসেবে তামিমকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিয়েছে আইসিসি, যেটির মানে, বিসিবির বর্তমান পরিচালনা পর্ষদকেও বৈধতা দিয়েছে বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্তা সংস্থাটি।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে স্রেফ একটি বাক্যই আছে বাংলাদেশকে নিয়ে। তামিম ইকবাল ও তার নেতৃত্বে পরিচালনা পর্ষদের জন্য সেই একটি লাইনই বড় স্বস্তির। আইসিসির বোর্ড সদস্য হিসেবে তামিমকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিয়েছে আইসিসি। যেটির মানে, এই পরিচালনা পর্ষদকেও বৈধতা দিয়েছে বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্তা সংস্থাটি।
সম্প্রতি স্কটল্যান্ডে আইসিসির বার্ষিক সাধারণ সভা শেষ হওয়ার পর বুধবার বিকেলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এটি জানায় আইসিসি। তামিম নিজেও এই সভায় অংশ নেন। বিসিবি সভাপতি হিসেবে এটিই ছিল আইসিসি সভায় তার প্রথম যোগদান।
আইসিসির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে “আইসিসি সদস্যপদ সংক্রান্ত বিষয়” অংশে বিসিবিকে নিয়ে বলা হয়, “বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের নবনির্বাচিত সভাপতিকে সদস্যদের পূর্ণ সদস্য পরিচালক হিসেবে নিয়োগকে স্বীকৃতি দিয়েছে আইসিসি বোর্ড।”
গত ৭ জুন বিসিবির পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচনে সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে পরিচালক নির্বাচিত হন তামিম, পরে সেদিনই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন সভাপতি। আইসিসির স্বীকৃতি নিয়ে জটিলতার কারণে আইসিসি বোর্ডে তখনও পর্যন্ত বিসিবির সভাপতি ছিলেন প্রধান নির্বাহী নিজাম উদ্দিন চৌধুরি।
গত এপ্রিলে বোর্ডের অ্যাডহক কমিটির প্রধানের দায়িত্ব নেওয়ার পরই আইসিসি ও এসিসিতে বিসিবির প্রতিনিধি হিসেবে তামিমকে মনোনয়ন দেন বোর্ড সদস্যরা। কিন্তু তখন বিসিবির পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, আইসিসির পরামর্শক্রমে আইসিসিতে প্রতিনিধি হিসেবে প্রধান নির্বাহীকেও রাখা হয়েছে। নির্বাচনে জিতে বিসিবি সভাপতি হওয়ার পরও আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি না আসায় আইসিসি বোর্ডে জায়গা পাচ্ছিলেন না তামিম।
তার আইসিসির স্বীকৃতির ব্যাপারটি ঝুলে ছিল মূলত সাবেক সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের অভিযোগের প্রেক্ষিতে। গত অক্টোবরে বিসিবি নির্বাচনে জিতে সভাপতি হয়েছিলেন আমিনুল। তবে সেই নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়ম ও অনৈতিক হস্তক্ষেপের অভিযোগে গত ৭ এপ্রিল সেই পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেয় জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ। এরপরই আইসিসি অভিযোগ জানান আমিনুল।
সেই অভিযোগের প্রেক্ষিতে দুই সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল গঠন করে আইসিসি। আইসিসি বোর্ড পরিচালক ড. মোহাম্মদ এ. এস. মুসাজি (ক্রিকেট দক্ষিণ আফ্রিকা) এবং জনাব তাভেঙ্গুয়া মুকুলানিকে (জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট) নিয়ে গঠিত কমিটি বাংলাদেশে এসে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে কথা বলে একটি প্রতিবেদন দেন আইসিসিতে।
এখন বলা যেতে পারে, সেই প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতেই তামিমকে স্বীকৃতি দিল আইসিসি।
এই প্রক্রিয়া চলার সময় অবশ্য ভেঙে দেওয়া বোর্ডের পরিচালকদের একটি অংশ বেশ কয়েকবার আদালতে রিট করেছে জুনের বিসিবি নির্বাচন স্থগিত চেয়ে। প্রতিটি রিটই খারিজ হয়ে যায়। এছাড়াও আইসিসিতে দফায় দফায় চিঠি দিয়েছেন সাবেক সভাপতি আমিনুল। সেরকম একটি চিঠিতে তিনি অনুরোধ করেছিলেন বর্তমান বোর্ড দায়িত্বে থাকলে যেন বাংলাদেশের পূর্ণ সদস্যপদ স্থগিত করা হয়, আইসিসির তহবিল বন্ধ করা হয় ও আইসিসি টুর্নামেন্টগুলো থেকে বাদ দেওয়া হয়।
তবে আইসিসি সেসবে সাড়া দেয়নি।
আইসিসি বোর্ডে জায়গা পেয়েই স্কটল্যান্ডে সাধারণ সভায় অংশ নেন তামিম। স্রেফ ঘোষণাটি এখন আনুষ্ঠানিকভাবে দেওয়া হলো।
বিসিবি ছাড়াও আরও কয়েকটি দেশের বোর্ড বিভিন্ন সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে বিসিবি।
শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের বিষয়ে একটি হালনাগাদ তথ্য পেয়েছে আইসিসি বোর্ড এবং একটি সংশোধিত গঠনতন্ত্রের দিকে অগ্রগতির বিষয়টি লক্ষ্য করেছে। সেখানে যত দ্রুত সম্ভব নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রয়োজনীয়তার ওপর পুনরায় জোর দিয়েছে বোর্ড এবং এই মর্মে সম্মত হয়েছে যে, আপাতত আইসিসি বোর্ডের সভায় প্রতিনিধিত্ব করতে পারবে না শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট।
ক্রিকেট কানাডার জন্য পুনর্বহালের শর্তাবলী অনুমোদন করেছে আইসিসি বোর্ড, যেখানে আইসিসি সদস্যপদ থেকে তাদের স্থগিতাদেশ তুলে নেওয়ার আগে অবশ্যই পূরণ করতে হবে এমন শর্তগুলো উল্লেখ করা হয়েছে। এই শর্তগুলো সম্পূর্ণরূপে পূরণ না হওয়া পর্যন্ত ক্রিকেট কানাডার সদস্যপদ স্থগিত থাকবে।
এছাড়াও আইসিসি সদস্যপদের মানদণ্ড লঙ্ঘনের জন্য ফ্রান্স ক্রিকেটকে সতর্ক করার বিষয়ে সম্মত হয়েছে আইসিসি।
বাংলা৭১নিউজ/জেএস























