ঢাকা ০৩:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo নিউইয়র্কে তিন দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক Logo অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে ক্ষতিগ্রস্ত কোনো মানুষকে সরকার একা ছেড়ে দেবে না Logo দায়িত্ববোধ-সচেতনতা তৈরি করা গেলে পরিচ্ছন্ন শহর গড়ে তোলা যাবে: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী Logo সমুদ্র বন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত Logo বংশালের সেলুনে এসি বিস্ফোরণে দগ্ধ ১০ Logo এসডিজি বাস্তবায়নে জাতিসংঘের জোরালো সহযোগিতা চাইলেন উপদেষ্টা ড. তিতুমীর Logo শেখ হাসিনার ফেরার বার্তা: বিচার, নাকি ঢাকা-দিল্লির নতুন সমীকরণ? Logo শিশুদের বছরে একটি করে গাছ লাগানোর পরামর্শ প্রধানমন্ত্রীর Logo নীলক্ষেতে বিজিবি, সায়েন্সল্যাবে পুলিশ মোতায়েন Logo ৫২৭ কোটির বাঁধে কাজ শেষ না হতেই ধস

দায়িত্ববোধ-সচেতনতা তৈরি করা গেলে পরিচ্ছন্ন শহর গড়ে তোলা যাবে: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী

পরিচ্ছন্ন, বাসযোগ্য ও আধুনিক ঢাকা গড়তে নাগরিক সচেতনতার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, নগরের আয়তন ও জনসংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন সমস্যাও বাড়ছে। এসব সমস্যা সমাধানে নাগরিকদের সবার মধ্যে দায়িত্ববোধ-সচেতনতা তৈরি করতে হবে।

তিনি বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকেই শিশুদের মধ্যে শহর পরিচ্ছন্ন রাখার শিক্ষা, দায়িত্ববোধ ও সচেতনতা তৈরি করতে পারলে ভবিষ্যতে একটি পরিচ্ছন্ন শহর ও দেশ গড়ে তোলা অনেক সহজ হবে। 

বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুরে গুলশান-২ এর নগর ভবনে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) আয়োজিত ‘নগরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা : আমার-আপনার সবার দায়িত্ব’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, দেশে এখনো নির্ধারিত স্থানে ময়লা ফেলার সংস্কৃতি গড়ে ওঠেনি। অথচ বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে মানুষ নিয়ম মেনে নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য ফেলে। এ পরিবর্তনের জন্য জনসচেতনতার বিকল্প নেই।

নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে ফখরুল ইসলাম আলমগী বলেন, আমরা নতুন করে দেশ গড়ার স্বপ্ন দেখছি। এ কাজে দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। আমরা কোনো দল দেখতে চাই না, বাংলাদেশকে দেখতে চাই। ঢাকার নাগরিক হিসেবে যে দায়িত্ব আমাদের, তা সবাইকে আন্তরিকতার সঙ্গে পালন করতে হবে।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, প্রতি বছর বর্ষা মৌসুম শুরু হলেই রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে খোঁড়াখুঁড়ি শুরু হয়। কারণ, এ সময় উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ ছাড় হয়। এই বাস্তবতা পরিবর্তন করা কঠিন হলেও পরিকল্পিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

বুড়িগঙ্গা নদীর দূষণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, এক সময় বুড়িগঙ্গার পানি ছিল স্বচ্ছ। এখন নদীর দুর্গন্ধের কারণে তীরে দাঁড়ানোও কঠিন হয়ে পড়েছে। নদীর তলদেশে প্রায় ৬ মিটার পলিথিনের স্তর জমেছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

তিনি বলেন, বুড়িগঙ্গাসহ রাজধানীকে ঘিরে থাকা নদীগুলোকে রক্ষা করা গেলে ঢাকার পরিবেশ ও জীবনযাত্রার মান অনেক উন্নত হবে। বুড়িগঙ্গা নদী পুনরুদ্ধারের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং এ বিষয়ে তিনি ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন। বুড়িগঙ্গার পানি ব্যবহারযোগ্য করা গেলে ভবিষ্যতে মেঘনা নদী থেকে পানি এনে ঢাকায় সরবরাহের প্রয়োজন কমে যাবে।

মন্ত্রী বলেন, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে গন্ধর্বপুর পানি শোধনাগার প্রকল্প চালু হলে প্রতিদিন মেঘনা নদীর ৫০ কোটি লিটার পানি বিশুদ্ধ করে ঢাকা শহরে সরবরাহ করা সম্ভব হবে। তবে রাজধানীর নিজস্ব নদীগুলোকে রক্ষা করাই দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই সমাধান।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান।

বাংলা৭১নিউজ/এসএএইচ

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

নিউইয়র্কে তিন দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক

দায়িত্ববোধ-সচেতনতা তৈরি করা গেলে পরিচ্ছন্ন শহর গড়ে তোলা যাবে: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী

আপডেট সময় ০১:৩৮:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬

পরিচ্ছন্ন, বাসযোগ্য ও আধুনিক ঢাকা গড়তে নাগরিক সচেতনতার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, নগরের আয়তন ও জনসংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন সমস্যাও বাড়ছে। এসব সমস্যা সমাধানে নাগরিকদের সবার মধ্যে দায়িত্ববোধ-সচেতনতা তৈরি করতে হবে।

তিনি বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকেই শিশুদের মধ্যে শহর পরিচ্ছন্ন রাখার শিক্ষা, দায়িত্ববোধ ও সচেতনতা তৈরি করতে পারলে ভবিষ্যতে একটি পরিচ্ছন্ন শহর ও দেশ গড়ে তোলা অনেক সহজ হবে। 

বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুরে গুলশান-২ এর নগর ভবনে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) আয়োজিত ‘নগরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা : আমার-আপনার সবার দায়িত্ব’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, দেশে এখনো নির্ধারিত স্থানে ময়লা ফেলার সংস্কৃতি গড়ে ওঠেনি। অথচ বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে মানুষ নিয়ম মেনে নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য ফেলে। এ পরিবর্তনের জন্য জনসচেতনতার বিকল্প নেই।

নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে ফখরুল ইসলাম আলমগী বলেন, আমরা নতুন করে দেশ গড়ার স্বপ্ন দেখছি। এ কাজে দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। আমরা কোনো দল দেখতে চাই না, বাংলাদেশকে দেখতে চাই। ঢাকার নাগরিক হিসেবে যে দায়িত্ব আমাদের, তা সবাইকে আন্তরিকতার সঙ্গে পালন করতে হবে।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, প্রতি বছর বর্ষা মৌসুম শুরু হলেই রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে খোঁড়াখুঁড়ি শুরু হয়। কারণ, এ সময় উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ ছাড় হয়। এই বাস্তবতা পরিবর্তন করা কঠিন হলেও পরিকল্পিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

বুড়িগঙ্গা নদীর দূষণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, এক সময় বুড়িগঙ্গার পানি ছিল স্বচ্ছ। এখন নদীর দুর্গন্ধের কারণে তীরে দাঁড়ানোও কঠিন হয়ে পড়েছে। নদীর তলদেশে প্রায় ৬ মিটার পলিথিনের স্তর জমেছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

তিনি বলেন, বুড়িগঙ্গাসহ রাজধানীকে ঘিরে থাকা নদীগুলোকে রক্ষা করা গেলে ঢাকার পরিবেশ ও জীবনযাত্রার মান অনেক উন্নত হবে। বুড়িগঙ্গা নদী পুনরুদ্ধারের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং এ বিষয়ে তিনি ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন। বুড়িগঙ্গার পানি ব্যবহারযোগ্য করা গেলে ভবিষ্যতে মেঘনা নদী থেকে পানি এনে ঢাকায় সরবরাহের প্রয়োজন কমে যাবে।

মন্ত্রী বলেন, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে গন্ধর্বপুর পানি শোধনাগার প্রকল্প চালু হলে প্রতিদিন মেঘনা নদীর ৫০ কোটি লিটার পানি বিশুদ্ধ করে ঢাকা শহরে সরবরাহ করা সম্ভব হবে। তবে রাজধানীর নিজস্ব নদীগুলোকে রক্ষা করাই দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই সমাধান।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান।

বাংলা৭১নিউজ/এসএএইচ