টোটাল একলিপস অফ দ্য হার্ট’, ‘হোল্ডিং আউট ফর আ হিরো’ এবং ‘ইটস আ হার্টেক’-এর মতো জনপ্রিয় গানের জন্য পরিচিত গায়িকা বনি টাইলার মৃত্যুবরণ করেছেন। স্থানীয় সময় বুধবার(৮ জুলাই) রাতে পর্তুগালের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর।
বিবিসি-র বরাতে ‘নিউজ ডট এজেড’ জানিয়েছে, দক্ষিণ ওয়েলসের স্কিউয়েনের বাসিন্দা এই শিল্পী গত মে মাসে পর্তুগালে অন্ত্রের জরুরি অস্ত্রোপচারের পর ‘ইনডিউসড কোমা’ বা কৃত্রিমভাবে আচ্ছন্ন অবস্থায় ছিলেন। এর আগে বনি টাইলারের মুখপাত্র জানিয়েছিলেন, তিনি কোমা থেকে বেরিয়ে এসেছেন, তবে তখনও তিনি ‘অত্যন্ত অসুস্থ এবং নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন ছিলেন।
বৃহস্পতিবার(৯ জুলাই) সকালে প্রকাশিত আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আমরা শিগগিরই পরবর্তী বিবৃতি দেব, তবে আপাতত এই মর্মান্তিক পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য আমরা গোপনীয়তা রক্ষার অনুরোধ করছি। এই গায়িকার মৃত্যুর পর ওয়েলসের মন্ত্রী জো স্টিভেন্স তার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।
এক্সে দেওয়ার পোস্টে তিনি বলেন, বনি টাইলারের মৃত্যুর খবর শুনে খুবই খারাপ লাগছে। তিনি ছিলেন ওয়েলসের সঙ্গীত জগতের এক আইকন, গ্র্যামি ও ব্রিট পুরস্কার বিজয়ী এবং আমার কৈশোরের সুরের সঙ্গী।
ওয়েলসের ফার্স্ট মিনিস্টার রুন আপ ইয়োরওয়ার্থ বলেছেন, এই গায়িকা ছিলেন এক ‘প্রকৃত আইকন’ এবং এই খবরে তিনি ‘গভীরভাবে শোকাহত’। চলতি মৌসুমে ওরচেস্টারের সানশাইন ফেস্টিভ্যাল এবং ইউরোপের আরও কয়েকটি স্থানে টাইলারের অনুষ্ঠান করার কথা ছিল বনি টাইলারের। এছাড়া ১৭ ডিসেম্বর কার্ডিফের ইউটিলিটা অ্যারেনাতেও তার গান গাওয়ার কথা ছিল।
টাইলার এর প্রকৃত নাম গেনর হপকিন্স নিথ-এর একটি কাউন্সিল হাউসে বেড়ে উঠেছিলেন। সোয়ানসির একটি ক্লাবে ট্যালেন্ট স্কাউট রজার বেল তাকে আবিষ্কার করেন এবং ১৯৭৭ সালে তিনি তার প্রথম একক গান ‘লস্ট ইন ফ্রান্স’ প্রকাশ করেন। ওই বছর প্রকাশিত তার কান্ট্রি-পপ ঘরানার গান ‘ইটস আ হার্টেক’ যুক্তরাজ্যের সিঙ্গেলস চার্টে চতুর্থ এবং যুক্তরাষ্ট্রের ‘বিলবোর্ড হট ১০০’ তালিকায় তৃতীয় স্থান অধিকার করে।
ছয় বছর পর ১৯৮৩ সালে মুক্তি পায় তার সবচেয়ে জনপ্রিয় গান রক ঘরানার ‘টোটাল একলিপ্স অফ দ্য হার্ট’। যা আটলান্টিকের উভয় পাড়েই চার্টের শীর্ষে উঠে আসে। এর মাধ্যমে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের চার্টে এক নম্বর স্থান অর্জনকারী প্রথম ওয়েলশ শিল্পী হওয়ার গৌরব অর্জন করেন।
নাটকীয় মেজাজের এই গানটির কথা লিখেছিলেন মিট লোফ এর গীতিকার জিম স্টেইনম্যান। গানটির মূল শিরোনাম ছিল ‘ভ্যাম্পায়ারস ইন লাভ’। কারণ এটি ‘নসফেরাতু’-র একটি মিউজিক্যাল সংস্করণের জন্য লেখা হয়েছিল।
বাংলা৭১নিউজ/জেএস

























