মহানাটকীয় এক লড়াই দেখল ফুটবল বিশ্ব। এমন নাটকীয় দ্বিতীয়ার্ধ শেষ কবে দেখা গিয়েছিল? যে লড়াইয়ে শেষ হাসি হাসল রোনালদোর পর্তুগাল। প্রথমার্ধে আক্রমণে দাপট দেখিয়ে ফিনিশিংয়ের ব্যর্থতায় জালের দেখা পেল না পর্তুগাল। এই সময়ে কিছুই করতে না পারা ক্রোয়েশিয়া বিরতির পর দারুণ খেলল।
এগিয়েও গেল তারা। ধাক্কা সামলে ঘুরে দাঁড়াল পর্তুগাল। রেকর্ড গড়া ম্যাচ রেকর্ড গোলে রাঙালেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। যোগ করা সময়ে গসালো রামোসের গোল এগিয়ে নিল তাদের। তবে নাটকীয়তার তখনও ঢের বাকি। যোগ করা ১০ মিনিট পেরিয়ে, ত্রয়োদশ মিনিটে পর্তুগালের জালে বল পাঠাল ক্রোয়েশিয়া! কিন্তু তাদের উদযাপন থেমে গেল ভিএআরে গোল বাতিল হওয়ায়।
টরন্টো স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় শুক্রবার সকালে শেষ বত্রিশের ম্যাচটি ২-১ গোলে জিতেছে রবের্তো মার্তিনেসের দল।
ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে ইভান পেরিসিচের গোলে এগিয়ে গিয়েছিল ক্রোয়েশিয়া। পরে পেনাল্টি থেকে রোনালদো সমতা ফেরালে ম্যাচ গড়ায় রুদ্ধশ্বাস শেষ সময়ে।
নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষে যোগ করা সময়েও দুই দল মরিয়া হয়ে আক্রমণ চালাতে থাকে। ম্যাচ যখন অতিরিক্ত সময়ের দিকে যাচ্ছে বলেই মনে হচ্ছিল, ঠিক তখনই কোচ রবার্তো মার্তিনেজের বদলি খেলোয়াড় নামানোর সিদ্ধান্ত কাজে দেয়।
৯৪তম মিনিটে বাম প্রান্তে বল পান রাফায়েল লিয়াও। ধৈর্য ধরে নিখুঁত একটি ক্রস ভাসিয়ে দেন বক্সের ভেতরে। সেখানে দুই ডিফেন্ডারের মাঝখান থেকে দারুণ উচ্চতায় লাফিয়ে উঠে শক্তিশালী হেডে বল জালে পাঠান বদলি ফরোয়ার্ড গনসালো রামোস।
লিভাকোভিচের কোনো সুযোগ ছিল না। রামোসের গোলে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় পর্তুগাল। বেঞ্চ থেকে নেমেই ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেন তিনি।
গোল হজমের পর মরিয়া হয়ে ওঠে ক্রোয়েশিয়া। যোগ করা সময় পেরিয়ে গেলেও খেলার সমাপ্তি টানেননি রেফারি। অতিরিক্ত ১০ মিনিট পেরিয়ে খেলা গড়ায় ১৪ মিনিটে। শেষ দিকে তারা কর্নার আদায় করে এবং সেখান থেকেই শুরু হয় অবিশ্বাস্য নাটক।
পেরিসিচের ভাসিয়ে দেওয়া বলে বক্সে জটলার সৃষ্টি হয়। বলটি ইগর মাতানোভিচ কিংবা রেনাতো ভেইগার গায়ে লেগে মারিও পাশালিচের কাছে যায়। পাশালিচ সেখান থেকে বল বাড়িয়ে দেন যশকো জিভার্দিওলের দিকে। বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে জোয়াও নেভেস নিজের জালেই বল পাঠিয়ে দেন।
ক্রোয়েশিয়ার খেলোয়াড়রা সমতার উদযাপন শুরু করলেও ভিএআরের ইঙ্গিতে মাঠের পাশের মনিটরে যান রেফারি। রিপ্লেতে দেখা যায়, মাতানোভিচ বল স্পর্শ করেছিলেন এবং সেই মুহূর্তে পাশালিচ অফসাইড অবস্থানে ছিলেন। ফলে পুরো আক্রমণটি অফসাইড হিসেবে গণ্য হয় এবং গোল বাতিল করে দেন রেফারি।
গোল বাতিল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পর্তুগিজ খেলোয়াড় ও সমর্থকদের উল্লাসে ফেটে পড়ে স্টেডিয়াম, আর হতাশায় ভেঙে পড়ে ক্রোয়েশিয়া।
গোল বাতিলের পরও হাল ছাড়েনি ক্রোয়েশিয়া। ৯৯তম মিনিটে আরেকটি কর্নার পায় তারা। কর্নার থেকে মাতানোভিচ হেড করলেও বল লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।
এর আগে লুকা মদরিচ শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আক্রমণ গড়ে তোলার চেষ্টা চালান। অন্যদিকে ফ্রান্সিসকো কনসেইসাও কর্নার ফ্ল্যাগের কাছে সময় নষ্ট করার বদলে শট নিয়ে বল বাইরে পাঠান। তবে দ্রুত পাল্টা আক্রমণে ওঠা ক্রোয়েশিয়ার শেষ ক্রসটি সহজেই তালুবন্দি করেন গোলরক্ষক দিয়োগো কস্তা। এরপরই শেষ বাঁশি বাজান রেফারি।
বাংলা৭১নিউজ/জেএস