ঢাকা ০১:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo পোশাক কারখানায় সবুজ প্রযুক্তি ব্যবহারের তাগিদ Logo নতুন পে-স্কেল চূড়ান্ত, যেকোনো সময় ঘোষণা: প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব Logo প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের আগে অনুকূল পরিবেশ চায় ঢাকা Logo কলকাতার রাজপথে জয়া আহসান, মিশ্র প্রতিক্রিয়া Logo নারায়ণগঞ্জে নির্মীয়মাণ ভবন থেকে পুলিশের লুট হওয়া পিস্তল উদ্ধার Logo জনগণের জীবনমানের উন্নয়নই সরকারের লক্ষ্য : প্রধানমন্ত্রী Logo এমপিদের স্বাধীনভাবে ভোটের সুযোগ দিতে ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন করতে হবে Logo গাইবান্ধায় দ্বিগুন দামে চারা কিনে ধান রোপন করছে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা Logo প্রধানমন্ত্রী-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হোটেল বলে পর্যটককে হুমকি সী-গালের ম্যানেজার গ্রেপ্তার Logo ‘টক্সিক’-এর ঘনিষ্ঠ দৃশ্য নিয়ে বিতর্ক, যশ বললেন ‘অশালীন কিছু নেই’

স্বামীর পরিচিত থেকে বাসায় যাতায়াত, সুগারবিহীন চা পান করতেন খুনি

টাঙ্গাইল পৌর এলাকার শিবনাথপাড়ায় গৃহবধূ নাজমা আলম (৫১) হত্যাকাণ্ডের রহস্য ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই উদঘাটন করেছে পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডে জড়িত এক মসজিদের মুয়াজ্জিন ও এক স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে লুট করা স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন— দেলদুয়ার উপজেলার মৃত মোতালেব সরকারের ছেলে ও একটি মসজিদের মুয়াজ্জিন মোশারফ হোসেন (৪২) এবং স্বর্ণ ব্যবসায়ী সন্তোষ কর্মকার (৪৫)।

মঙ্গলবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে টাঙ্গাইল সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এ.এস.এম. মাহবুব রেজওয়ান সিদ্দিকী এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণ ও সোর্সের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা চালানো হয়। তদন্তে জানা যায়, হত্যার সময় নিহত নাজমা আলমের গলার স্বর্ণের চেইন ও হাতের বালা লুট করা হয়েছিল। এ ঘটনায় প্রথমে স্বর্ণ ব্যবসায়ী সন্তোষ কর্মকারকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার সন্ধ্যায় মূল অভিযুক্ত মোশারফ হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে মোশারফ হোসেন জানান, তিনি হাতুড়ি দিয়ে নাজমা আলমের মাথায় আঘাত করেন। পরে তার গলায় ও হাতে থাকা স্বর্ণালংকার নেয়ার চেষ্টা করলে নাজমা বাধা দেন। একপর্যায়ে তিনি নাজমা আলমের হাত বেঁধে গলায় রশি পেঁচিয়ে হত্যা করেন। হত্যার পর ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজের প্রমাণ নষ্ট করতে তিনি সিসিটিভি ক্যামেরা ভেঙে পাশের একটি পুকুরে ফেলে দেন। এছাড়া স্বর্ণালংকার, হত্যায় ব্যবহৃত হাতুড়ি এবং সিসিটিভির ডিভিআর সঙ্গে নিয়ে পালিয়ে যান।

পুলিশ জানায়, মোশারফ হোসেন নিহতের স্বামী চিকিৎসক শফিউল আলম শাহীনের পরিচিত ছিলেন। তিনি প্রায়ই ওই বাসায় যাতায়াত করতেন এবং মাঝে-মধ্যে সেখানে সুগারবিহীন চা পান করতেন। সেই পরিচিতির সুযোগ নিয়েই তিনি হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করেন। মঙ্গলবার দুপুরে গ্রেফতার দুই আসামিকে টাঙ্গাইল আদালতে পাঠানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত রবিবার দুপুরে টাঙ্গাইল পৌর শহরের শিবনাথপাড়া এলাকায় নিজ বাসা থেকে চিকিৎসক শফিউল আলম শাহীনের স্ত্রী নাজমা আলমের (৫১) হাত বাঁধা, গলায় রশি পেঁচানো ও রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে পুলিশের ধারণা ছিল, তাকে নিজ বাসাতেই হত্যা করা হয়েছে। তদন্তের একদিনের মধ্যেই হত্যার রহস্য উদঘাটন করে জড়িতদের গ্রেফতার করা হয়।

বাংলা৭১নিউজ/এসএএইচ

Tag :

পোশাক কারখানায় সবুজ প্রযুক্তি ব্যবহারের তাগিদ

স্বামীর পরিচিত থেকে বাসায় যাতায়াত, সুগারবিহীন চা পান করতেন খুনি

আপডেট সময় ০৫:২১:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

টাঙ্গাইল পৌর এলাকার শিবনাথপাড়ায় গৃহবধূ নাজমা আলম (৫১) হত্যাকাণ্ডের রহস্য ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই উদঘাটন করেছে পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডে জড়িত এক মসজিদের মুয়াজ্জিন ও এক স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে লুট করা স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন— দেলদুয়ার উপজেলার মৃত মোতালেব সরকারের ছেলে ও একটি মসজিদের মুয়াজ্জিন মোশারফ হোসেন (৪২) এবং স্বর্ণ ব্যবসায়ী সন্তোষ কর্মকার (৪৫)।

মঙ্গলবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে টাঙ্গাইল সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এ.এস.এম. মাহবুব রেজওয়ান সিদ্দিকী এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণ ও সোর্সের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা চালানো হয়। তদন্তে জানা যায়, হত্যার সময় নিহত নাজমা আলমের গলার স্বর্ণের চেইন ও হাতের বালা লুট করা হয়েছিল। এ ঘটনায় প্রথমে স্বর্ণ ব্যবসায়ী সন্তোষ কর্মকারকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার সন্ধ্যায় মূল অভিযুক্ত মোশারফ হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে মোশারফ হোসেন জানান, তিনি হাতুড়ি দিয়ে নাজমা আলমের মাথায় আঘাত করেন। পরে তার গলায় ও হাতে থাকা স্বর্ণালংকার নেয়ার চেষ্টা করলে নাজমা বাধা দেন। একপর্যায়ে তিনি নাজমা আলমের হাত বেঁধে গলায় রশি পেঁচিয়ে হত্যা করেন। হত্যার পর ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজের প্রমাণ নষ্ট করতে তিনি সিসিটিভি ক্যামেরা ভেঙে পাশের একটি পুকুরে ফেলে দেন। এছাড়া স্বর্ণালংকার, হত্যায় ব্যবহৃত হাতুড়ি এবং সিসিটিভির ডিভিআর সঙ্গে নিয়ে পালিয়ে যান।

পুলিশ জানায়, মোশারফ হোসেন নিহতের স্বামী চিকিৎসক শফিউল আলম শাহীনের পরিচিত ছিলেন। তিনি প্রায়ই ওই বাসায় যাতায়াত করতেন এবং মাঝে-মধ্যে সেখানে সুগারবিহীন চা পান করতেন। সেই পরিচিতির সুযোগ নিয়েই তিনি হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করেন। মঙ্গলবার দুপুরে গ্রেফতার দুই আসামিকে টাঙ্গাইল আদালতে পাঠানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত রবিবার দুপুরে টাঙ্গাইল পৌর শহরের শিবনাথপাড়া এলাকায় নিজ বাসা থেকে চিকিৎসক শফিউল আলম শাহীনের স্ত্রী নাজমা আলমের (৫১) হাত বাঁধা, গলায় রশি পেঁচানো ও রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে পুলিশের ধারণা ছিল, তাকে নিজ বাসাতেই হত্যা করা হয়েছে। তদন্তের একদিনের মধ্যেই হত্যার রহস্য উদঘাটন করে জড়িতদের গ্রেফতার করা হয়।

বাংলা৭১নিউজ/এসএএইচ