শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ০৮:৫৬ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
মালয়েশিয়ায় অবৈধ বাংলাদেশিদের জন্য সুখবর হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু এইচএসসি পরীক্ষার প্রতিটি কক্ষে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের নির্দেশ বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক সর্বোচ্চ ধাপে পৌঁছেছে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী ‘সম্মিলিত উদ্যোগে টেকসই অঙ্গদান ও কিডনি প্রতিস্থাপন ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব’ করিডরে বাংলাদেশ যুক্ত হলে ২৪ ঘণ্টায় চীনে পণ্য পৌঁছানো যাবে : বাণিজ্যমন্ত্রী ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’, যা কিছু অর্জন তা দেশের মানুষের : সংসদে প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া-চীন সফর পররাষ্ট্রনীতির মানদণ্ড নিশ্চিত করেছে দেশে ফিরে বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত প্রধানমন্ত্রীর রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে চীন ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়েছে : মির্জা ফখরুল

তারেক রহমানের চীন সফরে ভারতীয় গণমাধ্যমে উদ্বেগ

বাংলা৭১নিউজ, ডেস্ক
  • আপডেট সময় শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬
  • ৮ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম চীন সফরকে দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মোড় এবং ভারতের জন্য উদ্বেগের কারণ হিসেবে ব্যাখ্যা করছে দেশটির মূলধারার গণমাধ্যমগুলো। তাদের প্রতিবেদনে মূলত ঢাকা-বেইজিংয়ের নিরাপত্তা, অর্থনীতি ও ভৌগোলিক প্রভাবের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে- বিশেষ করে মোংলা বন্দর, তিস্তা প্রকল্প, বাংলাদেশ-চীন অর্থনৈতিক করিডোর এবং সম্ভাব্য প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে নয়াদিল্লির কৌশলগত উদ্বেগের বিষয়টি উঠে এসেছে।

ভারতীয় গণমাধ্যমগুলোর বিশ্লেষণে এটি স্পষ্ট যে, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের পর ঢাকার সাথে দিল্লির সম্পর্কে যে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল, তারেক রহমানের এই সফর সেটিকে আরও প্রভাবিত করতে পারে।

দেশটির অন্যতম প্রভাশালী সংবাদমাধ্যম দ্য প্রিন্ট-এ ভারতের প্রথাগত কূটনৈতিক চর্চাকে এড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান কেন প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরে মালয়েশিয়া ও চীনকে বেছে নিলেন, তা নিয়ে দীর্ঘ বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, তিস্তা প্রকল্প ভারতের কাছে সংবেদনশীল, কারণ নদীটি পশ্চিমবঙ্গ ও সিকিম হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে এবং এর অবস্থান শিলিগুড়ি করিডোর বা ‘চিকেনস নেক’-এর খুব কাছাকাছি। ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের একমাত্র স্থল সংযোগ এই করিডোর। ফলে সেখানে চীনের যেকোনো ধরনের উপস্থিতি নয়াদিল্লির উদ্বেগের কারণ।

টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাগেরহাটের মোংলা বন্দরের পাশে ১১০ একর জমিতে একটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (ইপিজেড) গড়ে তোলার চুক্তি চূড়ান্ত করেছে বাংলাদেশ ও চীন। এই কৌশলগত বন্দরে ভারতের প্রভাব কমিয়ে চীনের প্রবেশকে নয়াদিল্লি তাদের ভৌগোলিক বলয়ে একটি বড় ধরনের ঝুঁকি হিসেবে দেখছে।

‘বাংলাদেশের নজর চীনা যুদ্ধবিমানের ওপর, ভারত কেন কড়া নজর রাখছে’ শিরোনামে একটি বিশেষ প্রতিবেদন করেছে দেশটির আরেক সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।

প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বাংলাদেশ চীনের কাছ থেকে ২৪টি ‘জে-১০সিই’ অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান কেনার পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে। আর এটি বাস্তবায়িত হলে পাকিস্তানের পর এই মডেলের দ্বিতীয় বিদেশি ব্যবহারকারী হবে বাংলাদেশ, যা ভারতের সামরিক ও নীতিনির্ধারক মহলে ব্যাপক উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

এনডিটিভি আরও বলছে, ভারতের ক্ষেত্রে, দুটি ঘটনা রয়েছে যার ওপর নয়াদিল্লি নিবিড়ভাবে নজর রাখবে। যদি চুক্তিটি সম্পন্ন হয় এবং বিমানগুলো শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশে এসে পৌঁছায়, তবে সেগুলোকে কোথায় রাখা হবে তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হবে।

দেশটির আরেক দৈনিক পত্রিকা ইন্ডিয়া টুডে তাদের শিরোনামেই সরাসরি প্রশ্ন তুলেছে—‘ভারত বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ বন্দর প্রকল্প চীনের কাছে হারালো, এতে দিল্লির কি উদ্বিগ্ন হওয়া উচিত?’

প্রতিবেদনে বলা হয়, এটি শুধু একটি অর্থনৈতিক প্রকল্প হাতছাড়া হওয়ার ঘটনা নয়; বরং ভারতের পূর্ব উপকূলের কাছাকাছি চীনের দীর্ঘমেয়াদি উপস্থিতির পথ খুলে দিতে পারে। অপরদিকে চীনের বাণিজ্যিক বিনিয়োগ সামরিক উপস্থিতিতে রূপ নেবে—এমন প্রমাণ না থাকলেও অতীতে বিদেশি বন্দরে বিনিয়োগকে গোয়েন্দা ও নজরদারি কার্যক্রমে ব্যবহার করার নজির রয়েছে।

টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়, চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিংপিং বলেছেন, বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ সহযোগিতার রূপরেখা তৈরি করতে এবং অবকাঠামো উন্নয়ন, ডিজিটাল অর্থনীতি, তথ্য প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও অন্যান্য ক্ষেত্রে সহযোগিতার সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে আগ্রহী বেইজিং।

এছাড়াও আইউটলুক, নিউজ১৮, হিন্দুস্তান টাইমস, আনন্দবাজারসহ একাধিক ভারতীয় গণমাধ্যম গুরুত্বের সঙ্গে সংবাদটি প্রকাশ করেছে।

বিশ্লেষকরা ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন থেকে বোঝা যাচ্ছে যে, দিল্লির মূল মাথাব্যথা বাংলাদেশ বা চীনের অর্থনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে নয়, বরং ভারতের একদম ঘরের কাছে বেইজিংয়ের এই ভৌগোলিক ও কৌশলগত নিরাপত্তার বিস্তার নিয়ে।

বাংলা৭১নিউজ/জেএস

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2015-2026
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com