নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনীর প্রধান প্রবেশ করেছেন বঙ্গভবনে। শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টা ২৫ মিনিটের দিকে বঙ্গভবনে প্রবেশ করেন তারা।
তিন বাহিনীর প্রধানরা হলেন- সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান ভাইস অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম এবং বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন।
জানা যায়, রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের শপথ গ্রহণকে কেন্দ্র করে বঙ্গভবনে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতা, সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাসহ আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত হচ্ছেন।
আজ সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। শপথ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আনুষ্ঠানিকভাবে দেশের নতুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি একইসঙ্গে সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
শপথ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে বঙ্গভবনের প্রধান ফটক ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। বঙ্গভবনের সামনের সড়কসহ বিভিন্ন পয়েন্টে অতিরিক্ত পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। আমন্ত্রিত অতিথিদের প্রবেশের সময় পরিচয় ও আমন্ত্রণপত্রও যাচাই করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য, কূটনীতিক, রাজনৈতিক নেতা এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, শপথ অনুষ্ঠানে ১২ শতাধিক অতিথিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করবেন। আর নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে শপথবাক্য পাঠ করাবেন জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল।
শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করবেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
এদিকে রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠান নির্বিঘ্ন করতে ঢাকার বিভিন্ন সড়কে বিশেষ ট্রাফিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশ বিকেল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত বঙ্গভবনকেন্দ্রিক এলাকায় বিশেষ ট্রাফিক নির্দেশনা জারি করেছে।
এর আগে, বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৫৫ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল অলি আহমদ পান ৮৮ ভোট। মোট ৩৪৯ জন সংসদ সদস্য ভোট দেওয়ার যোগ্য থাকলেও ভোট দেন ৩৪৩ জন; ছয়জন ভোটদানে বিরত ছিলেন।
ভোট গণনা শেষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা এ এম এম নাসির উদ্দিন ফল ঘোষণা করেন। ফল ঘোষণার পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ফুল দিয়ে মির্জা ফখরুলকে শুভেচ্ছা জানান এবং তাকে আলিঙ্গন করেন।
১৯৯১ সালের পর এবারই প্রথম প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
এর আগে, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করায় নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রয়োজন তৈরি হয়।
বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ






















