ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচেই দুর্দান্ত এক জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। আগে ব্যাট করে মোসাদ্দেক হোসেনের ৮৬ রানের অপরাজিত ইনিংসের সুবাদে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ২৮৪ রানের সংগ্রহ গড়েছিল টাইগাররা। লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে লাল-সবুজের দলের বোলারদের সামনে সুবিধা করে ওঠতে পারেননি অজি ব্যাটাররা। ৪৭ রান করে অ্যালেক্স ক্যারি কিছুটা আশা দেখালেও নাহিদ রানা-মোসাদ্দেকদের বোলিং নৈপুণ্যে শেষ পর্যন্ত অল আউটের দিকেই ঝুঁকছিল অস্ট্রেলিয়া। স্বাগতিকরা যখন জয় থেকে মাত্র ১ উইকেট দূরে তখনই বাগড়া দেয় বৃষ্টি। এরপর খেলা এক ঘন্টারও বেশি সময় বন্ধ থাকার পর ডিএলএস মেথডে বাংলাদেশকে ৮৬ রানে জয়ী ঘোষণা করা হয়।
এর আগে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশ সর্বশেষ ওয়ানডে জিতেছে ২০০৫ সালে। ২১ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে একদিনের ক্রিকেটে প্রথম জয় পায় বাংলাদেশ।স ২০০৫ সালের সেই জয়টি এসেছিল কার্ডিফে।সেরপর এবারই প্রথম আবার এই সংস্করণে জয়ের মুখ দেখল টাইগাররা। তাই দেশের মাটিতেও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এটিই বাংলাদেশের প্রথম ওয়ানডে জয়।
২৮৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই বিপাকে পড়ে অজিরা। তাসকিন আহমেদের ফুল লেন্থে করা বল বুঝে ওঠতে পারেনি অজি ওপেনার শর্ট। বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফিরেন। উইকেট হারানোর ধারা অব্যাহত থাকে দ্বিতীয় ওভারেও। এবার নায়ক মুস্তাফিজুর রহমান। অজিদের অভিজ্ঞ ব্যাটার মার্নাস লাবুশেনকে সাজঘরের পথ দেখান তিনি। কাটার মাস্টারের বলে লেগ বিফোর উইকেটের ফাঁদে পড়ে আউট হন তিনি।
দ্বিতীয় ওভারেই ২ রানে ২ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে অজিরা। এরপর দলের হাল ধরেন কুপার কনোলি ও অধিনায়ক জশ ইংলিশ। দুজনে মিলে টাইগার বোলারদের বিপক্ষে দেখেশুনে খেলে দলকে এগিয়ে নেন সামনের দিকে।
এ জুটিতে ৪৯ রান তুলে আশার আলো দেখছিল অজিরা। তবে জুটি ভেঙে বাংলাদেশকে আবার ব্রেক থ্রু এনে দেন নাহিদ রানা। তরুণ এই পেসারের বলে কট বিহাইন্ড হয়ে সাজঘরের পথ ধরেন অজি অধিনায়ক ইংলিস। ফেরার আগে তিনি করেন ২৫ বলে ১৯ রান।
এদিকে ইংলিস ফেরার পর অ্যালেক্স ক্যারিকে নিয়ে দলের হাল ধরেন কনোলি। এ জুটিতেও স্কোরবোর্ডে ওঠে ৪০ রান। তবে ৫০ বলে ৩৫ রান করে কনোলি মোসাদ্দেকের বলে বোল্ড হলে ভাঙে জুটি। এরপর ক্যারি জুটি গড়েন ক্যামেরনের গ্রিনের সঙ্গে। দুজনের ৩৭ রানের জুটিতে ম্যাচের ফেরার চেষ্টায় ছিল অজিরা। কিন্তু নাহিদ রানার বলে ক্যারি ফিরলে ফের উইকেট হারায় অজিরা। ১২৮ রানেই ৫ উইকেট হারিয়ে তখন ম্যাচ থেকে অনেকটাই ছিটকে যায় সফরকারীরা।
এরপর আর কেউই দলের হাল ধরতে পারেননি। গ্রিন একপ্রান্তে টিকলেও অপরপ্রান্তে মোসাদ্দেক ম্যাট রেনশো এবং পরে রানা জাভিয়ের বার্টলেট ও লিয়াম স্কটকে সাজঘরের পথ দেখান। এদিকে অজিদের শেষ ভরসা হয়ে ক্রিজে টিকে ছিলেন ক্যামেরন গ্রিন। ৬৬ বলে ৫২ রান করে ক্রিজে ছিলেন তিনি, এমন সময়ই বজ্রপাতের কারণে বন্ধ হয় খেলা। এরপর মিরপুরে বৃষ্টি নামলে এক ঘন্টা পর ডিএলএস মেথডে বাংলাদেশ ম্যাচ জিতে ৮৬ রানে।
বাংলা৭১নিউজ/জেএস