ঢাকা ১০:২৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পুশইন : শুভেন্দুর দাবি প্রত্যাখ্যান বিজিবির

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার গঠনের পর ৪ হাজার ৮০০ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠানো হয়েছে বলে দাবি করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তবে এ দাবি সরাসরি নাকচ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

গতকাল সোমবার (৮ জুন) জার্মানির সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বিজিবির উপ-মহাপরিচালক (মিডিয়া) কর্নেল আবুল হাসনাত মোহাম্মদ মাহমুদ বলেন, পশ্চিমবঙ্গে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ভারত থেকে কাউকে বাংলাদেশে পুশইন করা সম্ভব হয়নি। যদিও এ ধরনের চেষ্টা হয়েছে, তবে বিজিবি তা প্রতিহত করেছে। কিছু সংবাদমাধ্যম পুশইনের যে খবর দিচ্ছে তা পুরোপুরি গুজব।

তিনি আরও বলেন, ‘সীমান্তে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। কোনোভাবেই আমরা পুশইন করতে দেব না। আমরা সীমান্তে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টাই পাহারা দিচ্ছি। আমাদের সঙ্গে সীমান্ত এলাকার স্থানীয় মানুষও রাত জেগে পাহারা দিচ্ছে।’

মে মাসে নির্বাচনে বিপুল জয় নিয়ে পশ্চিমবঙ্গে সরকার গঠন করে নরেন্দ্র মোদির হিন্দু-জাতীয়তাবাদী দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)।

১০ কোটিরও বেশি জনসংখ্যার এই পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্তবর্তী রাজ্যে নির্বাচনি প্রচারণার সময়ই দলটি অবৈধ অভিবাসীদের ‘শনাক্ত, তালিকা থেকে বাদ এবং বহিষ্কার’ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। এরই ধারাবাহিকতায় রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর নথিপত্রহীন বাংলাদেশি এবং মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের আটকে রাখার জন্য বিশেষ কেন্দ্র (ডিটেশন সেন্টার) স্থাপনের নির্দেশ দেয় বিজেপি সরকার।

গত রবিবার কলকাতায় শুভেন্দু অধিকারী বলেন, আমরা নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের (সিএএ) আওতায় না আসা বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের ফেরত পাঠানোর কাজ শুরু করেছি।

তিনি জানান, মে মাসে রাজ্যের সব জেলায় হোল্ডিং সেন্টার স্থাপন করেছে সরকার।

তিনি দাবি করেন, এই কেন্দ্রগুলো থেকে এ পর্যন্ত ৪ হাজার ৮০০ জন বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীকে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

বর্তমানে ৮৩৬ জন এই আটককেন্দ্রগুলোতে রয়েছেন জানিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, আমরা এই ৮৩৬ জনকে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করছি। তার এমন বক্তব্য নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

বিজিবি-র উপ-মহাপরিচালক (মিডিয়া) কর্নেল আবুল হাসনাত মোহাম্মদ মাহমুদ দাবি করেন, ভারত থেকে বাংলাদেশে কোনো মানুষ পাঠানোর তথ্যের ভিত্তি নেই।

পুশইনের প্রয়াস সম্পর্কে তিনি বলেন, কোনোভাবেই পুশইন গ্রহণযোগ্য নয়। যদি কোনো দেশে অন্য কোনো দেশের নাগরিকরা অবৈধভাবে থেকে থাকেন, তাদের সেই দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যাপারে স্ট্যান্ডার্ড প্রসিডিউর আছে। সেটা দুই দেশ একটা ভেরিফিকেশন প্রসেসের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু পুশইন বেআইনি এবং অবৈধ।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশকে যদি ভারতের পক্ষ থেকে সেখানে অবৈধভাবে বসবাসকারী কোনো বাংলাদেশি নাগরিকের তালিকা দেওয়া হয়ে থাকে সেটা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিষয়। এটা আমাদের জানা নেই।

বাংলা৭১নিউজ/এসএএইচ

Tag :

পুশইন : শুভেন্দুর দাবি প্রত্যাখ্যান বিজিবির

আপডেট সময় ০১:০২:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার গঠনের পর ৪ হাজার ৮০০ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠানো হয়েছে বলে দাবি করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তবে এ দাবি সরাসরি নাকচ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

গতকাল সোমবার (৮ জুন) জার্মানির সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বিজিবির উপ-মহাপরিচালক (মিডিয়া) কর্নেল আবুল হাসনাত মোহাম্মদ মাহমুদ বলেন, পশ্চিমবঙ্গে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ভারত থেকে কাউকে বাংলাদেশে পুশইন করা সম্ভব হয়নি। যদিও এ ধরনের চেষ্টা হয়েছে, তবে বিজিবি তা প্রতিহত করেছে। কিছু সংবাদমাধ্যম পুশইনের যে খবর দিচ্ছে তা পুরোপুরি গুজব।

তিনি আরও বলেন, ‘সীমান্তে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। কোনোভাবেই আমরা পুশইন করতে দেব না। আমরা সীমান্তে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টাই পাহারা দিচ্ছি। আমাদের সঙ্গে সীমান্ত এলাকার স্থানীয় মানুষও রাত জেগে পাহারা দিচ্ছে।’

মে মাসে নির্বাচনে বিপুল জয় নিয়ে পশ্চিমবঙ্গে সরকার গঠন করে নরেন্দ্র মোদির হিন্দু-জাতীয়তাবাদী দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)।

১০ কোটিরও বেশি জনসংখ্যার এই পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্তবর্তী রাজ্যে নির্বাচনি প্রচারণার সময়ই দলটি অবৈধ অভিবাসীদের ‘শনাক্ত, তালিকা থেকে বাদ এবং বহিষ্কার’ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। এরই ধারাবাহিকতায় রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর নথিপত্রহীন বাংলাদেশি এবং মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের আটকে রাখার জন্য বিশেষ কেন্দ্র (ডিটেশন সেন্টার) স্থাপনের নির্দেশ দেয় বিজেপি সরকার।

গত রবিবার কলকাতায় শুভেন্দু অধিকারী বলেন, আমরা নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের (সিএএ) আওতায় না আসা বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের ফেরত পাঠানোর কাজ শুরু করেছি।

তিনি জানান, মে মাসে রাজ্যের সব জেলায় হোল্ডিং সেন্টার স্থাপন করেছে সরকার।

তিনি দাবি করেন, এই কেন্দ্রগুলো থেকে এ পর্যন্ত ৪ হাজার ৮০০ জন বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীকে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

বর্তমানে ৮৩৬ জন এই আটককেন্দ্রগুলোতে রয়েছেন জানিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, আমরা এই ৮৩৬ জনকে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করছি। তার এমন বক্তব্য নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

বিজিবি-র উপ-মহাপরিচালক (মিডিয়া) কর্নেল আবুল হাসনাত মোহাম্মদ মাহমুদ দাবি করেন, ভারত থেকে বাংলাদেশে কোনো মানুষ পাঠানোর তথ্যের ভিত্তি নেই।

পুশইনের প্রয়াস সম্পর্কে তিনি বলেন, কোনোভাবেই পুশইন গ্রহণযোগ্য নয়। যদি কোনো দেশে অন্য কোনো দেশের নাগরিকরা অবৈধভাবে থেকে থাকেন, তাদের সেই দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যাপারে স্ট্যান্ডার্ড প্রসিডিউর আছে। সেটা দুই দেশ একটা ভেরিফিকেশন প্রসেসের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু পুশইন বেআইনি এবং অবৈধ।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশকে যদি ভারতের পক্ষ থেকে সেখানে অবৈধভাবে বসবাসকারী কোনো বাংলাদেশি নাগরিকের তালিকা দেওয়া হয়ে থাকে সেটা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিষয়। এটা আমাদের জানা নেই।

বাংলা৭১নিউজ/এসএএইচ