শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ১১:৫১ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
১১ জুন বাজেট পেশ, ১৫ জুন সম্পূরক বাজেট পাস ঢাকা ছাড়লেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, দিয়ে গেলেন গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বিএনপির সংসদীয় দলের ৩ ঘণ্টার বৈঠক, যেসব বিষয়ে আলোচনা হলো না হ্যাটট্রিকের ইতিহাস, ভারতের কাছে স্বপ্নভঙ্গ বাংলাদেশের বিশ্ববাজারে ফের কমল জ্বালানি তেলের দাম টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে বিএসটিআইকে শক্তিশালী করা হবে: শিল্পমন্ত্রী শিশু নির্যাতন রোধে জাতীয় শিশু নিরাপত্তা টাস্কফোর্স গঠন করতে হবে আদ্‌-দ্বীন হাসপাতাল শোকজ নোটিশের জবাব না দিলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা: স্বাস্থ্যমন্ত্রী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রয়োজনে আইনের প্রয়োগ: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

ভূমি কর্মকর্তাদের আবারও সতর্কবার্তা, বদলির জন্য তদবির না করার নির্দেশ

বাংলা৭১নিউজ ঢাকা:
  • আপডেট সময় শনিবার, ৬ জুন, ২০২৬
  • ১২ বার পড়া হয়েছে

ভূমি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বদলি বা কর্মস্থল পরিবর্তনের জন্য রাজনৈতিক ব্যক্তি, প্রভাবশালী মহল কিংবা গণমাধ্যমের মাধ্যমে তদবির না করার নির্দেশনা আবারও স্মরণ করিয়ে দিয়েছে ভূমি মন্ত্রণালয়। এ ধরনের তদবির সরকারি কর্মচারীদের আচরণবিধির পরিপন্থি উল্লেখ করে সংশ্লিষ্টদের কঠোরভাবে নির্দেশনা মেনে চলতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে নির্দেশনা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বদলি বা কর্মস্থল পরিবর্তনের জন্য কোনো ধরনের তদবির না করার নির্দেশনা আবারও দিয়েছে মন্ত্রণালয়। এ বিষয়ে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে জারি করা নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণের জন্য সংশ্লিষ্ট সব দপ্তর ও কর্মকর্তাদের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) ভূমি মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত একটি চিঠি ভূমি আপিল বোর্ডের চেয়ারম্যান, ভূমি সংস্কার বোর্ডের চেয়ারম্যান, ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, দেশের সব বিভাগীয় কমিশনার এবং সব জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কাছে পাঠিয়েছে।

চিঠির অনুলিপি মন্ত্রিপরিষদ সচিব, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, সব জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসার, সব উপভূমি সংস্কার কমিশনার, সব চার্জ অফিসার, সব উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং সব সহকারী কমিশনার (ভূমি)-সহ সংশ্লিষ্টদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

মাঠ পর্যায়ে সরকারি কর্মচারীরা বদলি বা কর্মস্থল পরিবর্তনের ক্ষেত্রে তদবির না করা সংক্রান্ত চিঠিতে বলা হয়েছে, ভূমি মন্ত্রণালয়ের গত ২০২৪ সালের ১০ ডিসেম্বর দিক নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণ করার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে অনুরোধ করা হলো।

ওই পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছিল, সম্প্রতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে ভূমি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন মাঠ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মচারীরা রাজনৈতিক ব্যক্তি, সুশীল সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তি, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার ব্যক্তি এবং সরকারি-বেসরকারি ও সামরিক বাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মাধ্যমে বদলি বা কর্মস্থল পরিবর্তনের তদবির করা হচ্ছে।

বিষয়টি অনভিপ্রেত এবং সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯ এর বিধি ২০ এবং ৩০ এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলেও এতে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়।

পরিপত্রে জানানো হয়, সরকারি কর্মচারী থেকে এ ধরনের কার্যকলাপ সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী অসদাচরণের শামিল।

বদলি বা তদবির শোনার ফলে মূল্যবান কর্মঘণ্টা নষ্ট হয় এবং অফিসের কাজকর্মে মনোনিবেশ করা কষ্টকর হয়ে পড়ে উল্লেখ করে পরিপত্রে আরও বলা হয়, মাঠ প্রশাসনের অধীনে বিভিন্ন পর্যায়ের সরকারি কর্মচারীদের বদলি বা কর্মস্থল পরিবর্তনের তদবির না করার জন্য কঠোর সতর্কতা জারি করা হলো।

নির্দেশনা লঙ্ঘনকারী সরকারি কর্মচারীদের বিরুদ্ধে বিধিমালা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্দেশনা দেওয়া হয় পরিপত্রে।

পরিপত্রটি ভূমি আপিল বোর্ডের চেয়ারম্যান, ভূমি সংস্কার বোর্ডের চেয়ারম্যান, ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, দেশের সব বিভাগীয় কমিশনার এবং সব জেলা প্রশাসককে (ডিসি) পাঠানো হয়।

পরিপত্রের অনুলিপি মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, সব উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী কমিশনার (ভূমি)-সহ সংশ্লিষ্টদের পাঠানো হয়।

সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯- এর ২০ নম্বর বিধিতে বলা হয়, কোনো সরকারি কর্মচারী প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে তার পক্ষে কোনো বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার জন্য কোনো সংসদ সদস্য বা অসরকারি ব্যক্তির দ্বারস্থ হবেন না।

৩০ নম্বর বিধিতে বলা হয়, কোনো সরকারি কর্মচারী তার চাকরি প্রসঙ্গে কোনো দাবির সমর্থনে সরকার বা কোনো সরকারি কর্মচারীর ওপর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কোনো রাজনৈতিক বা অন্যান্য বাইরের প্রভাব প্রয়োগ বা প্রয়োগের চেষ্টা করবেন না।

৩২ নম্বর বিধিতে বলা হয়, যে কোনো বিধি লঙ্ঘন করলে তা অসদাচরণ বলে গণ্য হবে। এ লঙ্ঘনের জন্য কোনো সরকারি কর্মচারী দোষী সাব্যস্ত হলে শৃঙ্খলামূলক কার্যক্রমের আওতায় আসবেন।

অসদাচরণের শাস্তি প্রসঙ্গে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এ বলা হয়েছে, অসদাচরণের জন্য লঘুদণ্ড বা গুরুদণ্ড যে কোনো দণ্ড দেওয়া যাবে।

এ বিষয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঢাকা পোস্টকে বলেন, ভূমি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী বদলির জন্য তদবির করছেন। সেজন্য এ বিষয়ে আবারও সতর্ক করা হয়েছে।

সম্পদের হিসাব দিচ্ছেন না কর্মচারীরা, ডিসিদের চিঠি

এদিকে মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্পদের হিসাব বিবরণী জমা দিতে নতুন করে সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে মন্ত্রণালয়। এর আগে ২০২৪ সালের ২২ সেপ্টেম্বর সম্পদের হিসাব দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়া যায়নি।

এ কারণে গত ৩ জুন জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) কাছে পাঠানো পৃথক চিঠিতে নির্ধারিত ছক অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের সম্পদের হিসাব আগামী ২৫ জুনের মধ্যে বাধ্যতামূলকভাবে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়, ভূমি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন মাঠ পর্যায়ের ব্যবস্থাপনা বিভাগে কর্মরত কানুনগো, সার্ভেয়ার, ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা, ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা, প্রসেস সার্ভার, অফিস সহায়ক, চেইনম্যান এবং নিরাপত্তা প্রহরীসহ উপজেলা ভূমি অফিস/রাজস্ব সার্কেল অফিস এবং ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সব কর্মচারীদের (সহকারী কমিশনার (ভূমি) ব্যতীত) সম্পদের হিসাব বিবরণী নির্ধারিত ছক মোতাবেক ভূমি মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য অনুরোধ করা হলেও এ তথ্য এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।

এ অবস্থায় ভূমি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন মাঠ পর্যায়ের রাজস্ব প্রশাসনে কর্মরত কানুনগো, সার্ভেয়ার, ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা ও ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তাদের সম্পদের হিসাব বিবরণী নির্ধারিত ছক মোতাবেক আগামী ২৫ জুনের মধ্যে আবশ্যিকভাবে ভূমি মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য চিঠিতে পুনর্নির্দেশ দেওয়া হয়।

বাংলা৭১নিউজ/এবি

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2015-2026
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com