ফিফা প্রীতি ম্যাচে তপু বর্মণের জোড়া গোলে সান মারিনোর বিপক্ষে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ সময় শুক্রবার (৫ জুন) রাত ১১টার দিকে ইউরোপীয় দেশ সান মারিনোর অন্যতম শহর সেরাভেল্লেতে ‘সান মারিনো স্টেডিয়ামে’ খেলতে নামেন ডুলির শিষ্যরা।
ম্যাচের শুরুতেই তপু বর্মণের গোলে এগিয়ে ছিল লাল-সবুজ দল। তবে বিরতির আগেই ম্যাচে সমতায় ফেরে স্বাগতিকেরা। আবার শেষ দিকে এসে তপুই বাংলাদেশের ত্রাতা। তার জোড়া গোলেই ইউরোপের মাঠে ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ। এই প্রথমবার ইউরোপের মাঠে ইউরোপের দল সান মারিনোকে ২-১ গোলে হারালো বাংলাদেশ। এরই সঙ্গে কোচ থমাস ডুলিরও অভিষেক হলো জয় দিয়ে।
সান মারিনোর মাঠ ছিল আজ বাংলাদেশি দর্শকে ঠাসা। পুরো সময়জুড়ে তারা লাল-সবুজ দলকে মাতিয়ে রাখে। যদিও শুরুতে স্বাগতিকরাই বল দখলে এগিয়ে ছিল। তবে একটু গুছিয়ে বাংলাদেশ আক্রমণে আসে। ম্যাচের ১৭ মিনিটে বক্সের ভিতরে বল পেয়ে জামাল ভূঁইয়ার লক্ষ্যে শট রক্ষণে বাধা পায়। এর দুই মিনিট পরেই তপু বর্মণের গোলে বাংলাদেশ এগিয়ে যায়। ডান দিক থেকে শেখ মোরসালিনের মাপা ক্রসে তপু অন্য প্রান্তে বুদ্ধিদ্বীপ্ত হেডে জাল কাঁপান। গোলকিপার জায়গা থেকে ঝাঁপালেও গোল বাচাতে পারেননি।
৩১ মিনিটে সান মারিনো ম্যাচে সমতা ফেরায়। বেরাদিকে ডান প্রান্তে আটকাতে গিয়ে বাই লাইন পেরিয়ে যান তপু বর্মণ। বেরাদি সুযোগ পেয়ে দেখে শুনে দারুণ এক পাস দেন নিকোলাস জিয়াওকোপেত্তিকে। ১১ নম্বর জার্সিধারি ফুটবলার প্লেসিং করে গোলকিপার মিতুলকে পরাস্ত করেন। যদিও মিতুল ডান দিকে বলের লাইনে ঝাঁপিয়েছিলেন। বল হাত স্পর্শ করলেও গোল হজম থেকে দলকে বাঁচাতে পারেননি।
৩৭ মিনিটে বাংলাদেশ এগিয়ে যেতে পারতো। মোরসালিনের পাসে বক্সে ঢুকে সাদ উদ্দিন গোলকিপার কে একা পেয়ে ওপর দিয়ে মেরে দারুণ সুযোগ নষ্ট করেন।
শেষ দিকে স্বাগতিকরা সুযোগ পেয়েছিল। তবে বাংলাদেশের রক্ষণে বাধার কারণে আর এগিয়ে যাওয়া হয়নি।
বিরতির পর শমিত-জায়নরা মাঠে নামেন। ৪৮ মিনিটে বাংলাদেশ ভালো সুযোগ নষ্ট করে। সোহেল রানা জুনিয়র বক্সের ভিতরে পা ছোঁয়াতে ব্যর্থ হন। ৫৩ মিনিটে বাংলাদেশের দুর্ভাগ্য। সাদ উদ্দিনের ডান প্রান্তের ক্রসে ফায়সাল আহমেদ ফাহিমের প্রচেষ্টা সাইড বারে লেগে প্রতিহত হয়।
দুই মিনিট পর বেরাদির ফ্রি কিক অল্পের জন্য ক্রস বারের ওপর দিয়ে যায়। ৬০ মিনিটে স্বাগতিকদের একজনের শট গোলকিপার পাঞ্চ করে ফেরান। পরের মিনিটে লাজারির ফ্রিকিক মিতুল এক হাত দিয়ে ক্লিয়ার করেন।
৬৭ মিনিটে বিশ্বনাথ ঘোষ একক প্রচেষ্টায় বল নিয়ে জোরালো শট নিলেও তা পোস্টের বাইরে দিয়ে যায়। ৮৬ মিনিটে বাংলাদেশ আবারও এগিয়ে যায়। হামজা চৌধুরীর ফ্রি কিকে বিশ্বনাথের সাইড ভলি বক্সের ভিতরেই থেকে তপুর বুদ্ধিদ্বীপ্ত হেডে জাল কাঁপে।
শেষ দিকে যোগ করা সময়ে স্বাগতিকদের একজনের চেষ্টা মিতুল কোনমতে বাঁচান। যদিও গোললাইন পেরেনো নিয়ে বিতর্ক আছে। ভিএআর থাকার কথা থাকলেও তা ব্যবহার হয়েছে কিনা সংশয় থেকে যায়। রেফারির শেষ বাঁশি বাজতেই ইতিহাস গড়ার আনন্দ করেছে বাংলাদেশের ফুটবলাররা।
বাংলা৭১নিউজ/জেএস