ঢাকা ০৪:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে অনিয়ম হলে কঠোর ব্যবস্থা: তথ্যমন্ত্রী Logo বৈষম্যহীন দেশ গড়তে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: পানিসম্পদ মন্ত্রী Logo সরকারের ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের নির্ভুল অগ্রগতি প্রতিবেদন তৈরির নির্দেশনা Logo যশোরে জামায়াতের এমপির বাড়ি ভাঙচুর, মহাসড়ক অবরোধ Logo রান্নার জাদুতে অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশের সংস্কৃতি ছড়ালেন প্রবাসীরা Logo দক্ষিণ আফ্রিকার অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৬ জনের ৫ জনই নারায়ণগঞ্জের Logo ১৬ ডিসেম্বর তৃতীয় টার্মিনাল উদ্বোধনে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি যথাসময়ে শেষ হবে Logo চট্টগ্রামে ১২ ভরি স্বর্ণ চুরির ঘটনায় গ্রেপ্তার ২, উদ্ধার ১০ ভরি Logo সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে বসবে এক হাজার ‘প্লাগ অ্যান্ড প্লে’ ক্যামেরা Logo স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আইওএমের নবনিযুক্ত চিফ অব মিশনের সাক্ষাৎ

রান্নার জাদুতে অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশের সংস্কৃতি ছড়ালেন প্রবাসীরা

প্রবাসের ব্যস্ত জীবনের সীমানা ছাড়িয়ে বিদেশের মাটিতে দেশীয় ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সুবাস ছড়িয়ে দিলেন ক্যানবেরার প্রবাসী বাঙালিরা। শুধু দৈনন্দিন প্রয়োজন হিসেবে নয়, রান্নাবান্নাকে সৃজনশীল শিল্প ও সামাজিক আনন্দের মাধ্যম হিসেবে উপস্থাপন করে অস্ট্রেলিয়ায় এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করা হয়েছে।

ক্যানবেরাসহ সমগ্র অস্ট্রেলিয়ার প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির ইতিহাসে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ব্যতিক্রমধর্মী রন্ধন প্রতিযোগিতা ‘মি. শেফ বিডি কুলিনারি কম্পিটিশন ২০২৬’। ‘বাংলাদেশি কমিউনিটি ক্যানবেরা’র বিশেষ উদ্যোগে আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্প্রতি এই মেগা আয়োজন সম্পন্ন হয়।

মনোমুগ্ধকর এই প্রতিযোগিতায় মোট ৯ জন প্রবাসী রন্ধনশিল্পী অংশগ্রহণ করেন। প্রতিযোগিতার নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি প্রতিযোগীকে একটি ঐতিহ্যবাহী বাংলাদেশি মাংসের পদ (আইটেম) এবং একটি নিজস্ব পছন্দের পদ প্রস্তুত করতে হয়। প্রতিযোগীদের চমৎকার রন্ধনশৈলী, সুনিপুণ কৌশল ও শৈল্পিক পরিবেশনা উপস্থিত বিচারকদের গভীরভাবে মুগ্ধ করে।

কঠোর ও পুঙ্খানুপুঙ্খ মূল্যায়ন শেষে প্রতিযোগিতায় সেরার মুকুট অর্জন করেন জামির হোসেন। প্রতিযোগিতায় নিজের অসাধারণ রন্ধন নৈপুণ্য দেখিয়ে প্রথম রানার-আপ হন সাজ্জাদুর রহমান এবং দ্বিতীয় রানার-আপের গৌরব অর্জন করেন আনোয়ারুল ইসলাম।

জমকালো এই আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিজয়ীদের হাতে সম্মাননা তুলে দেন অস্ট্রেলিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের মাননীয় হাই কমিশনার এফ. এম. বোরহান উদ্দিন। তিনি বিজয়ী, প্রতিযোগী, বিচারক, উদ্যোক্তা ও স্বেচ্ছাসেবকদের আন্তরিক অভিনন্দন জানান। বক্তব্যে তিনি বলেন, এ ধরনের নান্দনিক আয়োজন বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং প্রবাসীদের মধ্যকার সামাজিক ও পারস্পরিক বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

প্রতিযোগিতার পুরো বিচারকাজ পরিচালনা করেন স্থানীয় কয়েকজন প্রখ্যাত বাংলাদেশি শেফ ও বিশিষ্ট রন্ধনপ্রেমী ব্যক্তিত্ব। খাবারের আসল স্বাদ, পরিবেশনার নন্দনতত্ত্ব, সৃজনশীলতা, দেশীয় ঐতিহ্য রক্ষা এবং সামগ্রিক গুণগত মানের ওপর ভিত্তি করে বিজয়ী নির্বাচন করা হয়।

বিদেশের মাটিতে এই ব্যতিক্রমধর্মী আয়োজনের পেছনের গল্প তুলে ধরে আয়োজক ও স্বেচ্ছাসেবক কমিটির প্রতিনিধি সৈয়দ আস-সাঈদ জানান, নিয়মিত রান্না করেন এমন কয়েকজন প্রবাসী ও আয়োজক দলের অনানুষ্ঠানিক আড্ডাই ছিল এই আয়োজনের মূল উৎস। সেই ছোট ভাবনাই পরবর্তীতে সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও কঠোর পরিশ্রমে এক পূর্ণাঙ্গ রূপ নিয়েছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, আয়োজক দলের অধিকাংশ সদস্যই অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন সরকারি বিভাগ ও সংস্থায় উচ্চপদে দায়িত্ব পালন করছেন। পেশাগত ব্যস্ততা সত্ত্বেও রন্ধনশিল্পের প্রতি গভীর ভালোবাসা এবং বিদেশের মাটিতে দেশের ভাবমূর্তি তুলে ধরার ব্যাকুলতাই তাঁদের এই কাজ বাস্তবায়নে অনুপ্রাণিত করেছে।

প্রায় ১০০ জন আমন্ত্রিত অতিথির উপস্থিতিতে আয়োজনের শেষভাগে পরিবেশিত হয় এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। আয়োজকদের বিশ্বাস, ‘মি. শেফ বিডি’ কেবল একটি সাধারণ রান্নার প্রতিযোগিতা নয়; এটি বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি বজায় রাখার এক অনন্য মাধ্যম। ক্যানবেরার প্রবাসী বাঙালিদের ঐক্যবদ্ধ ও প্রাণবন্ত রাখতে ভবিষ্যতেও এমন আয়োজন অব্যাহত থাকবে বলে তারা প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

বাংলা৭১নিউজ/এসএএইচ

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে অনিয়ম হলে কঠোর ব্যবস্থা: তথ্যমন্ত্রী

রান্নার জাদুতে অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশের সংস্কৃতি ছড়ালেন প্রবাসীরা

আপডেট সময় ০৩:৪৩:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

প্রবাসের ব্যস্ত জীবনের সীমানা ছাড়িয়ে বিদেশের মাটিতে দেশীয় ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সুবাস ছড়িয়ে দিলেন ক্যানবেরার প্রবাসী বাঙালিরা। শুধু দৈনন্দিন প্রয়োজন হিসেবে নয়, রান্নাবান্নাকে সৃজনশীল শিল্প ও সামাজিক আনন্দের মাধ্যম হিসেবে উপস্থাপন করে অস্ট্রেলিয়ায় এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করা হয়েছে।

ক্যানবেরাসহ সমগ্র অস্ট্রেলিয়ার প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির ইতিহাসে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ব্যতিক্রমধর্মী রন্ধন প্রতিযোগিতা ‘মি. শেফ বিডি কুলিনারি কম্পিটিশন ২০২৬’। ‘বাংলাদেশি কমিউনিটি ক্যানবেরা’র বিশেষ উদ্যোগে আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্প্রতি এই মেগা আয়োজন সম্পন্ন হয়।

মনোমুগ্ধকর এই প্রতিযোগিতায় মোট ৯ জন প্রবাসী রন্ধনশিল্পী অংশগ্রহণ করেন। প্রতিযোগিতার নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি প্রতিযোগীকে একটি ঐতিহ্যবাহী বাংলাদেশি মাংসের পদ (আইটেম) এবং একটি নিজস্ব পছন্দের পদ প্রস্তুত করতে হয়। প্রতিযোগীদের চমৎকার রন্ধনশৈলী, সুনিপুণ কৌশল ও শৈল্পিক পরিবেশনা উপস্থিত বিচারকদের গভীরভাবে মুগ্ধ করে।

কঠোর ও পুঙ্খানুপুঙ্খ মূল্যায়ন শেষে প্রতিযোগিতায় সেরার মুকুট অর্জন করেন জামির হোসেন। প্রতিযোগিতায় নিজের অসাধারণ রন্ধন নৈপুণ্য দেখিয়ে প্রথম রানার-আপ হন সাজ্জাদুর রহমান এবং দ্বিতীয় রানার-আপের গৌরব অর্জন করেন আনোয়ারুল ইসলাম।

জমকালো এই আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিজয়ীদের হাতে সম্মাননা তুলে দেন অস্ট্রেলিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের মাননীয় হাই কমিশনার এফ. এম. বোরহান উদ্দিন। তিনি বিজয়ী, প্রতিযোগী, বিচারক, উদ্যোক্তা ও স্বেচ্ছাসেবকদের আন্তরিক অভিনন্দন জানান। বক্তব্যে তিনি বলেন, এ ধরনের নান্দনিক আয়োজন বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং প্রবাসীদের মধ্যকার সামাজিক ও পারস্পরিক বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

প্রতিযোগিতার পুরো বিচারকাজ পরিচালনা করেন স্থানীয় কয়েকজন প্রখ্যাত বাংলাদেশি শেফ ও বিশিষ্ট রন্ধনপ্রেমী ব্যক্তিত্ব। খাবারের আসল স্বাদ, পরিবেশনার নন্দনতত্ত্ব, সৃজনশীলতা, দেশীয় ঐতিহ্য রক্ষা এবং সামগ্রিক গুণগত মানের ওপর ভিত্তি করে বিজয়ী নির্বাচন করা হয়।

বিদেশের মাটিতে এই ব্যতিক্রমধর্মী আয়োজনের পেছনের গল্প তুলে ধরে আয়োজক ও স্বেচ্ছাসেবক কমিটির প্রতিনিধি সৈয়দ আস-সাঈদ জানান, নিয়মিত রান্না করেন এমন কয়েকজন প্রবাসী ও আয়োজক দলের অনানুষ্ঠানিক আড্ডাই ছিল এই আয়োজনের মূল উৎস। সেই ছোট ভাবনাই পরবর্তীতে সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও কঠোর পরিশ্রমে এক পূর্ণাঙ্গ রূপ নিয়েছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, আয়োজক দলের অধিকাংশ সদস্যই অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন সরকারি বিভাগ ও সংস্থায় উচ্চপদে দায়িত্ব পালন করছেন। পেশাগত ব্যস্ততা সত্ত্বেও রন্ধনশিল্পের প্রতি গভীর ভালোবাসা এবং বিদেশের মাটিতে দেশের ভাবমূর্তি তুলে ধরার ব্যাকুলতাই তাঁদের এই কাজ বাস্তবায়নে অনুপ্রাণিত করেছে।

প্রায় ১০০ জন আমন্ত্রিত অতিথির উপস্থিতিতে আয়োজনের শেষভাগে পরিবেশিত হয় এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। আয়োজকদের বিশ্বাস, ‘মি. শেফ বিডি’ কেবল একটি সাধারণ রান্নার প্রতিযোগিতা নয়; এটি বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি বজায় রাখার এক অনন্য মাধ্যম। ক্যানবেরার প্রবাসী বাঙালিদের ঐক্যবদ্ধ ও প্রাণবন্ত রাখতে ভবিষ্যতেও এমন আয়োজন অব্যাহত থাকবে বলে তারা প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

বাংলা৭১নিউজ/এসএএইচ