রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৪২ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
একনেকে ১৩ হাজার ৪৪৫ কোটি টাকার ১৪ প্রকল্প অনুমোদন গণতন্ত্রে নতুন দিগন্তের উন্মোচন করেছে ত্রয়োদশ সংসদ: স্পিকার পুলিশের জ্বালানি রেশনিং তুলে নেওয়া হয়েছে : সংসদে প্রধানমন্ত্রী পাটকলগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সরকার নানামুখী সহায়তা করছে : মন্ত্রী রেল দুর্ঘটনা কমাতে আধুনিক হচ্ছে পূর্বাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চলের রেলপথ বাংলাদে‌শি শিক্ষার্থী‌র হত্যাকারীদের বিচা‌র হবে, প্রত্যাশা বাংলাদেশের একনেকে অনুমোদন পেলো না সচিবালয়ে ২১ তলা ভবন নির্মাণ প্রকল্প সোমবার যশোর যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সুষ্ঠু হচ্ছে এসএসসি, ডিসেম্বরেই সব পরীক্ষা শেষ করার পরিকল্পনা সরকারের না ফেরার দেশে সাবেক শিক্ষা উপমন্ত্রী গোলাম সারোয়ার মিলন

বিরোধী মত দমনে পুরোনো সংস্কৃতিতে ফিরছে সরকার : হাসনাত আবদুল্লাহ

বাংলা৭১নিউজ ঢাকা:
  • আপডেট সময় রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৬ বার পড়া হয়েছে

কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, ক্যাম্পাসগুলো আবার অস্থিতিশীলতার দিকে যাচ্ছে, অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। বিরোধী মত দমনের জন্য মামলা করা হচ্ছে। প্রতিমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ফেসবুকে লেখার কারণে বাসা থেকে তুলে নিয়ে আসা হচ্ছে। হুইপকে সমালোচনা করলে বাসা থেকে তুলে নিয়ে আসা হচ্ছে। আবার আমরা আগের সংস্কৃতিতে চলে যাচ্ছি।

রোববার (২৬ এপ্রিল) বিকেলে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ২১তম দিনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবে তিনি এসব কথা বলেন।

হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, যেখানে প্রধানমন্ত্রী নিজে কার্টুন শেয়ার করে বিভিন্ন স্যাটায়ার, বিভিন্ন মকারিকে প্রমোট করছেন। বিরোধী মতকে প্রমোট করছেন, সেখানে এই সংসদ ঘটিত হওয়ার পর থেকে আজকে পর্যন্ত ৯টা ঘটনা ঘটেছে, যেখানে মত প্রকাশের জন্য বাসা থেকে তুলে নিয়ে আসা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আমরা খুব আশাহত হই। এত রক্ত, এত লড়াই, এত ত্যাগের পরে যখন এই সংসদটি গঠিত হয়েছে। কিন্তু এই সংসদ আবার আগের যেই বিষে সাইকেল, দোষারোপের যেই সাইকেল, একজন একজনকে বিভিন্ন ট্যাগিংয়ের যেই সাইকেল, মত দমনের নামে, বিরোধী মত দমনের নামে, মামলার যে সাইকেল আমরা সেখানে আবার চলে গিয়েছি।

হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, আমরা মত প্রকাশের স্বাধীনতা চাই। মত প্রকাশের স্বাধীনতা আগেও ছিল। মত প্রকাশের স্বাধীনতা আওয়ামী লীগের সময়ও ছিল। তবে সেটা সহমত প্রকাশের স্বাধীনতা। আমরা এই পার্লামেন্টের পরে শুধু মত প্রকাশের স্বাধীনতা নয়, আমরা দ্বিমত প্রকাশের স্বাধীনতা চাই।

আমরা এখানে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনা করতে চাই। আমরা নির্ভয়ে ফেসবুকে ব্যাকপেজ ব্যবহার করতে চাই না। কিন্তু আবার একটা ভয়ের পরিবেশ সৃষ্টি করা হচ্ছে, আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি করা হচ্ছে। 

আমরা লক্ষ্য করছি যে, সমাজে এক ধরনের ‘সিলেক্টিভ’ বা বৈষম্যমূলক বিরোধিতার পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে। যখন আমাদের সমাজের তথাকথিত ‘পলিটিক্যাল এলিট’ বা প্রভাবশালী শ্রেণির নারীদের সমালোচনা করা হয়, তখন সেটিকে তাৎক্ষণিকভাবে নারীবিদ্বেষ হিসেবে গণ্য করা হয়।

কিন্তু যারা আর্থ-সামাজিকভাবে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী, বিশেষ করে পোশাককর্মী কিংবা গ্রামগঞ্জের যে মায়েরা দেশের অর্থনৈতিক চাকাকে সচল রাখতে দিনরাত পরিশ্রম করছেন—তাদের যখন গালি দেওয়া বা অবমাননা করা হয়, তখন সেটিকে আমরা ‘নারীবিদ্বেষ’ হিসেবে আমলে নিই না। এই ধরনের দ্বৈতনীতি বা সিলেক্টিভ সমালোচনা করার প্রবণতা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে।

সংসদ সদস্য বলেন, আজকে ক্যাম্পাসগুলোতে এক ধরনের অস্থিতিশীলতা তৈরি করা হচ্ছে। অতীতে আমরা গেস্টরুম ও গণরুমের অপসংস্কৃতি দেখেছি। শিক্ষার্থীরা অনেক স্বপ্ন নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে আসত; কিন্তু আমরা দেখেছি ক্ষমতাসীন দলগুলো কীভাবে তাদের ক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ী করতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের পুঁজি করে বাধ্যতামূলক রাজনীতিতে বাধ্য করত। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে আবারও সেই গেস্টরুম-গণরুম কালচার এবং বাধ্যতামূলক রাজনীতির ধারা ফিরিয়ে আনার অপচেষ্টা চলছে।

তিনি আরও বলেন, আমরা দেখেছি, ক্ষমতাবান রাজনীতিবিদরা নিজেদের সন্তানদের বিদেশে পাঠিয়ে নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করেন। অথচ কল-কারখানায় কাজ করা শ্রমজীবী বা মধ্যবিত্ত মানুষের সন্তানদের তারা নিজেদের ক্ষমতার ভিত শক্ত করতে ব্যবহার করেন। নিজেদের সন্তানদের নিরাপদ রেখে অন্যের সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিনিমিনি খেলার এই অপরাজনীতি থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে।

আমরা এই সংস্কৃতির পরিবর্তন চাই। আমরা চাই, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শুধু নেতা তৈরির হাতিয়ার হবে না। এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলো গবেষণা, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো পাঠ চর্চা, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সেখানে এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক সমৃদ্ধি এবং সেখানে হচ্ছে আমরা যেখানে গবেষণা হবে।

আমরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে বুদ্ধিজীবী, গবেষক বাংলাদেশকে এবং জাতিকে উপহার দিতে পারব। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক বিষয় আজকে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শুধু নেতা উৎপাদন করার এক ধরনের বিশেষ সার্কেলে পরিণত হয়েছে।

হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, আজকে মানবাধিকার কমিশনকে অকার্যকর করে রাখা হয়েছে। বারবার বলা হচ্ছে যে, মানবাধিকার কমিশনকে আরও শক্তিশালীভাবে পুনর্গঠন করা হবে। অন্যদিকে, পুলিশ সংস্কার কমিশনের অর্ডিন্যান্স বাতিল করা হয়েছে এবং বলা হচ্ছে যে, পুনর্বিবেচনা সাপেক্ষে তা সংসদে উত্থাপন করা হবে।

বর্তমান সবকিছুই তো সংশোধনের প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু কর্তৃপক্ষের সদিচ্ছা যদি থাকত, তবে এই অর্ডিন্যান্সটি গ্রহণ করেও পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় সংশোধন করা সম্ভব ছিল।

হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, আমাদের জনগণের কাছে যেতে হবে জনগণের আশাগুলোকে, সময়গুলোকে, স্বপ্নগুলোকে আমরা রাজনৈতিক ভাষার মধ্য দিয়ে, কর্মসূচির মধ্য দিয়ে সেগুলোকে বাস্তবায়নের জন্য আমাদের সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

আবার যদি আমরা বিভাজনের রাজনীতিতে যাই তাহলে সেখান থেকে বিএনপি বেনিফিটেড হবে না, এনসিপি হবে না, জামায়াতে ইসলাম বেনিফিটেড হবে না, সেখান আমরা জুলাইতে যাদেরকে আমরা পরাজিত করেছি তারা বেনিফিটেড হবে।

তিনি আরও বলেন, নির্মূলের রাজনীতি, বিনাশের রাজনীতি, দমনের রাজনীতি, পীড়নের রাজনীতি যদি আমরা বাংলাদেশে আবার পরিচয় করাই। সেখান থেকে এই সংসদের কেউ বেনিফিটেড হবে না, বেনিফিটেড হবে আমাদের এই বাংলাদেশটাকে যারা ঝুঁকির দিকে ঠেলে দিয়েছে। সেই অপশক্তি বেনিফিটেড হবে। সেজন্য আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

বাংলা৭১নিউজ/এসএএইচ

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2018-2025
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com