ঢাকা ০৪:৫৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬, ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাজধানীতে নিজ বাসায় শিক্ষিকার লাশ

রাজধানীর পল্লবীতে নিজ বাসায় এক শিক্ষিকাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সকালে তার লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতের নাম ফিরোজা খানম জোসনা (৬৮)।

পুলিশ জানায়, পল্লবী থানার ডি ব্লকের আট নম্বর সড়কের ২৯ নম্বর হোল্ডিংয়ের একটি ছয়তলা ভবনের দ্বিতীয় তলায় একাই বসবাস করতেন ফিরোজা খানম। যৌবনে তার বিয়ে হলেও তা টেকেনি, এরপর থেকে তিনি আলাদাভাবে জীবনযাপন করছিলেন। পরিবারের সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল না। জীবিকা হিসেবে তিনি শিক্ষার্থীদের পড়াতেন।

তার ব্যবহৃত তিন কক্ষের ফ্ল্যাটের একটি কক্ষে তিনি থাকতেন। পাশের একটি কক্ষে রাজু মুন্সি নামে এক ভাড়াটে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে বসবাস করতেন এবং অন্য কক্ষটি ভাড়া দেওয়ার জন্য খালি রাখা হয়েছিল।

ফিরোজা প্রতিদিন সকালে বাসা থেকে বের হয়ে শিক্ষার্থীদের পড়াতে যেতেন। কখনো দুপুরে ফিরলেও অধিকাংশ দিন রাত ১০টার দিকে বাসায় ফিরতেন। বৃহস্পতিবার রাতেও তিনি একই সময় বাসায় ফেরেন।

বাড়ির নিরাপত্তাকর্মী আব্দুল মান্নান জানান, শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত ফিরোজা বাসা থেকে বের না হওয়ায় সন্দেহ হয়। খোঁজ নিতে গিয়ে দরজা খোলা দেখতে পান তিনি। পরে স্থানীয় একজনকে সঙ্গে নিয়ে ঘরে প্রবেশ করে ফিরোজাকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেওয়া হয়।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করে। পরে অপরাধ তদন্ত বিভাগের ক্রাইমসিন ইউনিট এসে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে। দুপুরে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়।

ঢাকা মহানগর পুলিশের মিরপুর বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মোস্তাক সরকার জানান, লাশের পাশে একটি হাতুড়ি ও একটি ওড়না পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মাথায় আঘাত করে তাকে হত্যা করা হয়েছে, এতে তার মাথা গুরুতরভাবে থেঁতলে যায়।

বাংলা৭১নিউজ/জেএস

Tag :

রাজধানীতে নিজ বাসায় শিক্ষিকার লাশ

আপডেট সময় ১১:০২:০৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

রাজধানীর পল্লবীতে নিজ বাসায় এক শিক্ষিকাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সকালে তার লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতের নাম ফিরোজা খানম জোসনা (৬৮)।

পুলিশ জানায়, পল্লবী থানার ডি ব্লকের আট নম্বর সড়কের ২৯ নম্বর হোল্ডিংয়ের একটি ছয়তলা ভবনের দ্বিতীয় তলায় একাই বসবাস করতেন ফিরোজা খানম। যৌবনে তার বিয়ে হলেও তা টেকেনি, এরপর থেকে তিনি আলাদাভাবে জীবনযাপন করছিলেন। পরিবারের সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল না। জীবিকা হিসেবে তিনি শিক্ষার্থীদের পড়াতেন।

তার ব্যবহৃত তিন কক্ষের ফ্ল্যাটের একটি কক্ষে তিনি থাকতেন। পাশের একটি কক্ষে রাজু মুন্সি নামে এক ভাড়াটে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে বসবাস করতেন এবং অন্য কক্ষটি ভাড়া দেওয়ার জন্য খালি রাখা হয়েছিল।

ফিরোজা প্রতিদিন সকালে বাসা থেকে বের হয়ে শিক্ষার্থীদের পড়াতে যেতেন। কখনো দুপুরে ফিরলেও অধিকাংশ দিন রাত ১০টার দিকে বাসায় ফিরতেন। বৃহস্পতিবার রাতেও তিনি একই সময় বাসায় ফেরেন।

বাড়ির নিরাপত্তাকর্মী আব্দুল মান্নান জানান, শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত ফিরোজা বাসা থেকে বের না হওয়ায় সন্দেহ হয়। খোঁজ নিতে গিয়ে দরজা খোলা দেখতে পান তিনি। পরে স্থানীয় একজনকে সঙ্গে নিয়ে ঘরে প্রবেশ করে ফিরোজাকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেওয়া হয়।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করে। পরে অপরাধ তদন্ত বিভাগের ক্রাইমসিন ইউনিট এসে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে। দুপুরে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়।

ঢাকা মহানগর পুলিশের মিরপুর বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মোস্তাক সরকার জানান, লাশের পাশে একটি হাতুড়ি ও একটি ওড়না পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মাথায় আঘাত করে তাকে হত্যা করা হয়েছে, এতে তার মাথা গুরুতরভাবে থেঁতলে যায়।

বাংলা৭১নিউজ/জেএস