ঢাকা ১২:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬, ৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo মিয়ানমার থেকে আনা অস্ত্র-গুলি নাফ নদীতে আটক, যাওয়ার কথা ছিল রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের কাছে Logo আক্রান্ত হওয়ার পর চিকিৎসার চেয়ে রোগ প্রতিরোধই সরকারের মূল লক্ষ্য Logo দেশের প্রতিটি উপজেলায় ১৫০ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হবে : স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী Logo বাবাকে হারানোর পর প্রথমবার গোল পেলেন মেসি, ফিলাডেলফিয়ার বিপক্ষে মিয়ামির ড্র Logo কক্সবাজারে বিজিবির অভিযানে ৬ লাখ ৭২ হাজার ইয়াবা উদ্ধার Logo ৫৫ বছর পর বদলাচ্ছে অর্থবছর, কী কী পরিবর্তন আসছে Logo ঈশ্বরদীতে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা গুলিবিদ্ধ, কুপিয়ে জখম Logo একবছরের বেশি বয়সী শিশুদের দেওয়া যাবে কলেরা ভ্যাকসিন : স্বাস্থ্যমন্ত্রী Logo দেশে স্বর্ণের দামে বড় লাফ, ভরিতে বাড়ল কত? Logo দেড় হাজার টাকা পাওনা নিয়ে দুপক্ষের সংঘর্ষ, আহত ৭

পাম্প থেকে জ্বালানি গায়েব, বিএনপি নেতা বহিষ্কার

দেশের চলমান জ্বালানি সংকটের মধ্যে ময়মনসিংহের গৌরীপুরে প্রায় ৫০ হাজার লিটার জ্বালানি তেল গায়েব হওয়ার ঘটনায় উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব হাফেজ আজিজুল হককে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

বুধবার (৮ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ বহিষ্কারাদেশ দেওয়া হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে হাফেজ আজিজুল হককে দলের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

ময়মনসিংহ উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোতাহার হোসেন তালুকদার জানান, কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে পাঠানো সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই বহিষ্কার কার্যকর করা হয়েছে।

প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় মনিটরিংয়ের অংশ হিসেবে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সার্টিফিকেট সহকারী মো. আফসারুল ইসলাম গৌরীপুর উপজেলার কলতাপাড়া বাজারে অবস্থিত হাফেজ আজিজুল হকের মালিকানাধীন মেসার্স সোয়াদ ফিলিং স্টেশন পরিদর্শন করেন।

এ সময় ভৈরব বাজার ডিপো থেকে সরবরাহকৃত চালান ও নথিপত্র যাচাই করে দেখা যায়, চলতি মাসের ১ থেকে ৭ এপ্রিল পর্যন্ত মোট ৫৮ হাজার ৫০০ লিটার জ্বালানি সরবরাহ করা হয়েছে।

তবে মজুত ও বিক্রির হিসাব চাইলে স্টেশন ম্যানেজার মো. জলিল হোসেন রিফাত সন্তোষজনক কোনো তথ্য দিতে পারেননি। তিনি দাবি করেন, গত ৩ এপ্রিল মাত্র ৯ হাজার লিটার পেট্রোল এসেছে। বাকি তেলের কোনো রেকর্ড তার কাছে নেই।

তার বক্তব্যে অসঙ্গতি ধরা পড়লে প্রশাসনের সন্দেহ আরও বাড়ে। পরে স্থানীয়দের অভিযোগ ও প্রাথমিক তদন্তে বিপুল পরিমাণ তেল অবৈধভাবে মজুত এবং কালোবাজারির প্রমাণ পাওয়া যায়। মাত্র ছয় দিনের ব্যবধানে প্রায় ৫০ থেকে ৫৮ হাজার লিটার তেলের কোনো হিসাব পাওয়া যায়নি।

এ ঘটনায় মো. আফসারুল ইসলাম বাদী হয়ে গৌরীপুর থানায় মামলা করেছেন। মামলায় ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ২৫/২৫ডি ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। পুলিশ ওই মামলায় স্টেশন ম্যানেজার মো. জলিল হোসেন রিফাতকে গ্রেপ্তার করেছে।

এদিকে সদ্য বহিষ্কৃত হাফেজ আজিজুল হক অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তেল মজুত বা কালোবাজারির অভিযোগ সঠিক নয়। একটি মহল পরিকল্পিতভাবে রাজনৈতিকভাবে তাকে ক্ষতিগ্রস্ত করার জন্য এ ঘটনা সাজিয়েছে।

বাংলা৭১নিউজ/এবি

Tag :

মিয়ানমার থেকে আনা অস্ত্র-গুলি নাফ নদীতে আটক, যাওয়ার কথা ছিল রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের কাছে

পাম্প থেকে জ্বালানি গায়েব, বিএনপি নেতা বহিষ্কার

আপডেট সময় ০৭:০১:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬

দেশের চলমান জ্বালানি সংকটের মধ্যে ময়মনসিংহের গৌরীপুরে প্রায় ৫০ হাজার লিটার জ্বালানি তেল গায়েব হওয়ার ঘটনায় উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব হাফেজ আজিজুল হককে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

বুধবার (৮ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ বহিষ্কারাদেশ দেওয়া হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে হাফেজ আজিজুল হককে দলের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

ময়মনসিংহ উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোতাহার হোসেন তালুকদার জানান, কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে পাঠানো সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই বহিষ্কার কার্যকর করা হয়েছে।

প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় মনিটরিংয়ের অংশ হিসেবে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সার্টিফিকেট সহকারী মো. আফসারুল ইসলাম গৌরীপুর উপজেলার কলতাপাড়া বাজারে অবস্থিত হাফেজ আজিজুল হকের মালিকানাধীন মেসার্স সোয়াদ ফিলিং স্টেশন পরিদর্শন করেন।

এ সময় ভৈরব বাজার ডিপো থেকে সরবরাহকৃত চালান ও নথিপত্র যাচাই করে দেখা যায়, চলতি মাসের ১ থেকে ৭ এপ্রিল পর্যন্ত মোট ৫৮ হাজার ৫০০ লিটার জ্বালানি সরবরাহ করা হয়েছে।

তবে মজুত ও বিক্রির হিসাব চাইলে স্টেশন ম্যানেজার মো. জলিল হোসেন রিফাত সন্তোষজনক কোনো তথ্য দিতে পারেননি। তিনি দাবি করেন, গত ৩ এপ্রিল মাত্র ৯ হাজার লিটার পেট্রোল এসেছে। বাকি তেলের কোনো রেকর্ড তার কাছে নেই।

তার বক্তব্যে অসঙ্গতি ধরা পড়লে প্রশাসনের সন্দেহ আরও বাড়ে। পরে স্থানীয়দের অভিযোগ ও প্রাথমিক তদন্তে বিপুল পরিমাণ তেল অবৈধভাবে মজুত এবং কালোবাজারির প্রমাণ পাওয়া যায়। মাত্র ছয় দিনের ব্যবধানে প্রায় ৫০ থেকে ৫৮ হাজার লিটার তেলের কোনো হিসাব পাওয়া যায়নি।

এ ঘটনায় মো. আফসারুল ইসলাম বাদী হয়ে গৌরীপুর থানায় মামলা করেছেন। মামলায় ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ২৫/২৫ডি ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। পুলিশ ওই মামলায় স্টেশন ম্যানেজার মো. জলিল হোসেন রিফাতকে গ্রেপ্তার করেছে।

এদিকে সদ্য বহিষ্কৃত হাফেজ আজিজুল হক অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তেল মজুত বা কালোবাজারির অভিযোগ সঠিক নয়। একটি মহল পরিকল্পিতভাবে রাজনৈতিকভাবে তাকে ক্ষতিগ্রস্ত করার জন্য এ ঘটনা সাজিয়েছে।

বাংলা৭১নিউজ/এবি