সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:১৩ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
শিক্ষকদের উৎসবভাতা নিয়ে যা বললেন শিক্ষামন্ত্রী মানবিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ শুরু করেছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী প্রত্যেক নাগরিকের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ : রাষ্ট্রপতি নতুন সরকারের প্রথম একনেকে অনুমোদন পেল ৬ প্রকল্প সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপি ৩৬, জামায়াত পাচ্ছে ১৩ আসন পুঁজিবাজারের উন্নয়নে বড় পরিকল্পনা সরকারের, আসছে নতুন ৩ আইন হামের টিকা ‘সংকটে’ সাড়ে ৫ বছর ক্যাম্পেইন হয়নি, দায় গত সরকারের ‘বাংলাদেশ-পাকিস্তানের মধ্যে যৌথভাবে কাজ করার নতুন সুযোগ সৃষ্টি করেছে’ ভারত থেকে পাইপলাইনে ডিজেল আমদানিসহ নানা ইস্যুতে আলোচনা ড. ইউনূসসহ অন্তর্বর্তী সরকারের সব উপদেষ্টার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে লিগ্যাল নোটিশ

শালীনতার সঙ্গে পহেলা বৈশাখে র‌্যালি করার আহ্বান হেফাজতের

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় সোমবার, ৬ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৭ বার পড়া হয়েছে

আসন্ন বাংলা নববর্ষের পহেলা বৈশাখে শিরকমুক্ত ও শালীনভাবে সাংস্কৃতিক র‌্যালি করার আহ্বান জানিয়েছেন হেফাজতে ইসলামের যুগ্মমহাসচিব মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী। 

সোমবার (৬ এপ্রিল) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, আমরা জেনেছি, পহেলা বৈশাখ উদযাপনে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ‘মঙ্গল’ ও ‘আনন্দ’ নাম বাদ দিয়ে ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সাংস্কৃতিক আগ্রাসন থেকে এই বৈশাখী শোভাযাত্রা কতটা মুক্ত থাকবে আমরা সন্দিহান। তবে পহেলা বৈশাখে আমরা শিরকমুক্ত ও শালীনভাবে সাংস্কৃতিক র‌্যালি করার আহ্বান জানাচ্ছি। 

তিনি বলেন, তাওহিদের চেতনারসঙ্গে সাংঘর্ষিক না হলে শালীন আনন্দ ও শিল্প চর্চায় ইসলামের কোনো গুরুতর আপত্তি নেই। একজন ঈমানদার মুসলমান বৈশাখকেন্দ্রিক ‘মঙ্গল’ ধারণার মতো শিরক লালন করতে পারেন না। সব কল্যাণ শুধু আল্লাহর পক্ষ থেকেই আসে।  

‘বৈশাখে বাঙালি মুসলমানদের স্বতন্ত্র ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি তুলে ধরে মিছিল করা যেতে পারে। কিন্তু মনে রাখতে হবে, মূর্তিবাদী সংস্কৃতি মুসলমানদের সংস্কৃতি নয়। কোনো প্রাণীর মূর্তি বা প্রতিকৃতি বানানো ও প্রদর্শন ইসলামে মৌলিকভাবে নিষিদ্ধ। তাই পহেলা বৈশাখ উদযাপনে আগ্রহী বাঙালি মুসলিমরা শালীন পরিবেশ ও তাওহিদের চেতনা অক্ষুণ্ন রেখে কালচারাল র‌্যালিসহ বিভিন্ন মননশীল সাংস্কৃতিক আয়োজন করতে পারেন।

হেফাজত নেতা বলেন, বাংলা সন (বঙ্গাব্দ) মূলত আরবি হিজরী বর্ষপঞ্জির গণনা অনুসারেই প্রবর্তিত হয়েছিল। মুসলিম শাসকরা ভারতবর্ষে হাজার বছরের শিল্প-সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, রন্ধনশৈলী, স্থাপত্যকলা ও জ্ঞান চর্চার নিদর্শন রেখে গেছেন। বাঙালি মুসলমানদের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির ইতিহাসও বেশ সমৃদ্ধ। বাংলার স্বর্ণযুগখ্যাত সুলতানি আমলে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের ব্যাপক উৎকর্ষ সাধিত হয়। কিন্তু নিজেদের আত্মপরিচয় ভুলে হীনমন্যতাপ্রসূত বিজাতীয় সংস্কৃতির ধ্বজাধারী হওয়া দুঃখজনক।

তিনি আরও বলেন, কথিত সেক্যুলার সার্বজনীনতার নামে আমাদের সাংস্কৃতিকভাবে দাস বানিয়ে রাখতে চায় এদেশের ইসলামবিদ্বেষী কালচারাল ফ্যাসিস্টরা। ২০২১ সালে ঢাকায় একজন হেফাজতকর্মী জাতীয় পতাকা হাতে ঘোড়ায় চড়ে মোদিবিরোধী আন্দোলনে এলে সেটি নিয়ে তারা হট্টগোল করে।

সেই হেফাজতকর্মীকে পরে গ্রেপ্তারও করা হয়। বাংলায় মুসলিম রাজত্বের সূচনাকারী কিংবদন্তী তুর্কি সেনাপতি বখতিয়ার খিলজির ঐতিহাসিক ঘোড়াকে তারা ঘৃণার চোখে দেখে। তাই সাংস্কৃতিক মিছিলে মুসলিম ঐতিহ্যের প্রতীক হিসেবে ঘোড়াকেও নিয়ে আসতে হবে। 

তিনি বলেন, বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সাম্প্রতিক বিবৃতিতে মঙ্গল শোভাযাত্রাকে ‘বাঙালির সার্বজনীন ঐক্যের শক্তিশালী প্রতীক’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে তাদের উগ্র বাঙালি জাতিবাদী ফ্যাসিস্ট মনোভাব স্পষ্ট। এদেশের নাগরিক বিহারী ও পাহাড়ি নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীগুলোকেও তারা আমাদের জাতীয় সংস্কৃতিতে স্থান দিতে নারাজ। 

বাংলা৭১নিউজ/এলিস

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2018-2025
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com