
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক কঠোর হুমকির মুখেও নিজেদের অনড় অবস্থানের কথা জানিয়েছে ইরান। তেহরান ও কারাজের আশপাশের বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্রগুলোতে গত তিন দিন ধরে চলা অব্যাহত মার্কিন বিমান হামলার প্রেক্ষাপটে এই উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে।
বিশেষ করে গত রাতে তৃতীয়বারের মতো বড় ধরনের হামলার ফলে বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক বিদ্যুৎ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। ইরানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা ট্রাম্পের এই হুমকিগুলোকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে, কারণ ইতোমধ্যেই অবকাঠামো ধ্বংসের সেই প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে এবং তারা সামনে আরও বড় ধরনের হামলার আশঙ্কা করছে।
তবে এই সামরিক চাপকে ইরান ‘বেসামরিক জনগণের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে অভিহিত করেছে। তেহরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ৯ কোটি ইরানি নাগরিকের জীবনযাত্রার সঙ্গে জড়িত বিদ্যুৎ ও অন্যান্য জনসেবামূলক স্থাপনায় হামলা চালিয়ে আসলে মানবতাবিরোধী অপরাধ করা হচ্ছে।
যারা এই যুদ্ধের মাধ্যমে ইরানিদের মুক্তি ও স্বাধীনতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তাদের এই ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের তীব্র সমালোচনা করেছে দেশটির প্রশাসন। ইরান স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে যে, এ ধরনের অপরাধ বা ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে তাদের আলোচনার টেবিলে বসানো সম্ভব হবে না।
ইরানি কর্মকর্তাদের মতে, জবরদস্তি এবং হুমকির মুখে কোনো ধরনের চুক্তিতে আসা ইরানের জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী। তারা মনে করেন, চাপের মুখে করা কোনো চুক্তি কখনোই দেশের জন্য মঙ্গলজনক হয় না।
ফলে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে অবকাঠামো ধ্বংসের হুমকি এবং সরাসরি আক্রমণ সত্ত্বেও ইরান এখনই নতি স্বীকার করতে রাজি নয়। এই অনড় অবস্থান এবং পাল্টাপাল্টি হামলার ফলে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এক ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা।
সূত্র: আল জাজিরা
বাংলা৭১নিউজ/এসএএইচ