ঢাকা ০২:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশ, দুই দালালসহ আটক ৭ Logo নাগরিক সেবা নিশ্চিতে ডিএসসিসির সমন্বিত অভিযান Logo নড়াইলে ৫ বছরের শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি মৃত্যুদণ্ড Logo হালাল শিল্পের সম্প্রসারণে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া একসঙ্গে কাজ করতে পারে Logo স্মার্টফোনের দাম ৫০–৬০ ডলারে নামানোর উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার Logo মরদেহের অঙ্গ প্রত্যঙ্গ চুরির মামলা, ‘বড় অঙ্কে’র ক্ষতিপূরণ দেবে হার্ভার্ড Logo চট্টগ্রামে বকেয়া বেতনের দাবিতে পোশাক শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ Logo ১৪ লাখ কৃষকের ঋণ মওকুফের ঘোষণা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী বিজয় Logo উত্তর সিটির রিকশা ঢুকতে পারবে না দক্ষিণে : ডিএসসিসি প্রশাসক Logo গভীর রাতে পিৎজার দোকানে তিন সেকেন্ডে ৩ রাউন্ড গুলিবর্ষণ

অসময়ে পাহাড়ি ঢল, ধুনটে ভেসে গেল কৃষকের সোনালি স্বপ্ন

উজানে পাহাড়ি ঢলে বগুড়ার ধুনট উপজেলায় যমুনা নদীতে অসময়ে পানি বেড়েছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় চরের নিম্নাঞ্চল তলিয়ে গেছে। এতে ধান, পেঁয়াজ, চিনাবাদামসহ বিভিন্ন ফসলের ক্ষেত তলিয়ে গেছে। ফসল নষ্ট হওয়ায় দিশাহারা হয়ে পড়েছেন যমুনাপাড়ের কৃষকেরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, যমুনায় জেগে উঠেছে অসংখ্য চর। সেই বালুচরে কৃষিবিপ্লব ঘটিয়েছেন নদীভাঙা মানুষ। বালুতেই ফলাচ্ছেন সোনার ফসল। মাঠজুড়ে এখন সবুজের হাতছানি। চাষ হচ্ছে গম, ভুট্টা, আলুসহ নানান জাতের ফসল ও সবজি।

আগে যেখানে শুধু হাতেগোনা কয়েকটি ফসল চাষাবাদ হতো; সেখানে এখন সবজিসহ প্রায় সব ধরনের ফসল চাষ হচ্ছে। অনেক অনাবাদি জমিও এসেছে চাষের আওতায়। কৃষিতে নির্ভর করেই সুদিনের স্বপ্ন বুনছেন নদীভাঙনসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে লড়াই করা চরের মানুষ।

কিন্তু কয়েক দিন ধরে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে যমুনায় আকস্মিক পানি বাড়ায় নদীর ঢালে ও চরের নিচু জমিতে লাগানো ধান, বাদাম, পেঁয়াজসহ বিভিন্ন ধরনের ফসল তলিয়ে গেছে। দিশাহারা হয়ে অনেক কৃষক অপরিপক্ব বোরো ধান কেটে গরু-মহিষকে খাওয়াচ্ছেন।

যমুনাপাড়ের পুখুরিয়া গ্রামের কৃষক বাবুল শেখ বলেন, ‌‘বন্যার পানি দেখলেই ভয় করে। চরের নিচা জমিতে পানি উঠতে শুরু করছে। এক বিঘা জমিতে পেঁয়াজ আবাদ করছি। যেভাবে নদীর পানি বাড়তেছে; তাতে ফসল ঘরে তুলতে পারবো কি না জানি না। এ ছাড়া বাদাম নিয়াও দুশ্চিন্তায় পড়তে হইছে।’

একই এলাকার ভুতবাড়ি গ্রামের কৃষক ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘চরের জমিতে চাষাবাদ করে সারাবছর চলতে হয় আমাগোরে। প্রত্যেক বচ্ছর বন্যায় আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হই। এক বিঘা জমিতে ধান ও পেঁয়াজের আবাদ করছি। ভাবছিলাম লাভ হইবো। এখন দেহি পানি বাড়ছে। এভাবে পানি বাড়লে ৪-৫ দিনের মধ্যে জমি তলাইয়া যাইবো।’

কৃষক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘ধারদেনার ১০ হাজার টাকা খরচাপাতি করে জমিতে কালো বোরো ধান লাগাইছিলাম। ধান পাকতে এখনো ম্যালা দিন বাকি। তার আগেই ঢলে সব শ্যাষ হয়ে গেল।’

ধুনট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ছামিদুল ইসলাম বলেন, ‘এ মৌসুমে চরের জমিতে বোরো ধান, পেঁয়াজ ও চিনাবাদামের আবাদ ছিল। অসময়ে যমুনার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বেশ কিছু বোরো ধানের ক্ষেত তলিয়ে গেছে। আমরা সব সময় খবর রাখছি। কৃষক যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়; সেদিকে খেয়াল রাখা হচ্ছে।’

বাংলা৭১নিউজ/এসএম

Tag :

সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশ, দুই দালালসহ আটক ৭

অসময়ে পাহাড়ি ঢল, ধুনটে ভেসে গেল কৃষকের সোনালি স্বপ্ন

আপডেট সময় ০১:০২:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬

উজানে পাহাড়ি ঢলে বগুড়ার ধুনট উপজেলায় যমুনা নদীতে অসময়ে পানি বেড়েছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় চরের নিম্নাঞ্চল তলিয়ে গেছে। এতে ধান, পেঁয়াজ, চিনাবাদামসহ বিভিন্ন ফসলের ক্ষেত তলিয়ে গেছে। ফসল নষ্ট হওয়ায় দিশাহারা হয়ে পড়েছেন যমুনাপাড়ের কৃষকেরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, যমুনায় জেগে উঠেছে অসংখ্য চর। সেই বালুচরে কৃষিবিপ্লব ঘটিয়েছেন নদীভাঙা মানুষ। বালুতেই ফলাচ্ছেন সোনার ফসল। মাঠজুড়ে এখন সবুজের হাতছানি। চাষ হচ্ছে গম, ভুট্টা, আলুসহ নানান জাতের ফসল ও সবজি।

আগে যেখানে শুধু হাতেগোনা কয়েকটি ফসল চাষাবাদ হতো; সেখানে এখন সবজিসহ প্রায় সব ধরনের ফসল চাষ হচ্ছে। অনেক অনাবাদি জমিও এসেছে চাষের আওতায়। কৃষিতে নির্ভর করেই সুদিনের স্বপ্ন বুনছেন নদীভাঙনসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে লড়াই করা চরের মানুষ।

কিন্তু কয়েক দিন ধরে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে যমুনায় আকস্মিক পানি বাড়ায় নদীর ঢালে ও চরের নিচু জমিতে লাগানো ধান, বাদাম, পেঁয়াজসহ বিভিন্ন ধরনের ফসল তলিয়ে গেছে। দিশাহারা হয়ে অনেক কৃষক অপরিপক্ব বোরো ধান কেটে গরু-মহিষকে খাওয়াচ্ছেন।

যমুনাপাড়ের পুখুরিয়া গ্রামের কৃষক বাবুল শেখ বলেন, ‌‘বন্যার পানি দেখলেই ভয় করে। চরের নিচা জমিতে পানি উঠতে শুরু করছে। এক বিঘা জমিতে পেঁয়াজ আবাদ করছি। যেভাবে নদীর পানি বাড়তেছে; তাতে ফসল ঘরে তুলতে পারবো কি না জানি না। এ ছাড়া বাদাম নিয়াও দুশ্চিন্তায় পড়তে হইছে।’

একই এলাকার ভুতবাড়ি গ্রামের কৃষক ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘চরের জমিতে চাষাবাদ করে সারাবছর চলতে হয় আমাগোরে। প্রত্যেক বচ্ছর বন্যায় আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হই। এক বিঘা জমিতে ধান ও পেঁয়াজের আবাদ করছি। ভাবছিলাম লাভ হইবো। এখন দেহি পানি বাড়ছে। এভাবে পানি বাড়লে ৪-৫ দিনের মধ্যে জমি তলাইয়া যাইবো।’

কৃষক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘ধারদেনার ১০ হাজার টাকা খরচাপাতি করে জমিতে কালো বোরো ধান লাগাইছিলাম। ধান পাকতে এখনো ম্যালা দিন বাকি। তার আগেই ঢলে সব শ্যাষ হয়ে গেল।’

ধুনট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ছামিদুল ইসলাম বলেন, ‘এ মৌসুমে চরের জমিতে বোরো ধান, পেঁয়াজ ও চিনাবাদামের আবাদ ছিল। অসময়ে যমুনার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বেশ কিছু বোরো ধানের ক্ষেত তলিয়ে গেছে। আমরা সব সময় খবর রাখছি। কৃষক যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়; সেদিকে খেয়াল রাখা হচ্ছে।’

বাংলা৭১নিউজ/এসএম