শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১০:২৬ পূর্বাহ্ন

বিশ্বাসঘাতক জেনারেলকে ফাঁসি দিল ইরান?

বাংলা৭১নিউজ ডেস্ক:
  • আপডেট সময় সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬
  • ৭৮ বার পড়া হয়েছে

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যেই ইরানের প্রভাবশালী কুদস ফোর্সের প্রধান জেনারেল ইসমাইল কানিকে ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন রহস্য ও জল্পনা। কয়েকদিন ধরে তাকে প্রকাশ্যে দেখা না যাওয়ায় নানা তথ্য সামনে আসছে, যা তেহরানের রাজনৈতিক ও সামরিক অন্দরে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, এই শক্তিশালী সেনা কমান্ডারকে নিয়ে এমন কিছু দাবি উঠেছে যা ইরানের ভেতরে বড় আলোচনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

খবরে বলা হয়েছে, জেনারেল কাসেম সোলাইমানির উত্তরসূরি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া ইসমাইল কানির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। কিছু সূত্র দাবি করছে, তিনি নাকি ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন। ইরানের আঞ্চলিক সামরিক কৌশলের সঙ্গে যুক্ত এমন একজন নেতার বিরুদ্ধে এই ধরনের অভিযোগ সামনে আসায় বিষয়টি আরও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

সবচেয়ে আলোচিত দাবি হলো, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির বাসভবনে যে বিমান হামলা হয়েছিল তার পেছনে নাকি কানির দেওয়া তথ্য ছিল। সেই হামলায় খামেনির মৃত্যু ইরানের ভেতরে বড় ধাক্কা তৈরি করেছে।

কিছু প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, হামলার কয়েক মিনিট আগে কানি ওই এলাকা থেকে বেরিয়ে গিয়েছিলেন কি না তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এর ফলে অনেকেই জানতে চাইছেন, তিনি কি আগেই পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত ছিলেন।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমগুলো এই বিষয় নিয়ে এখনো বিস্তারিত কিছু প্রকাশ করেনি। তবে আরব বিশ্বের বিভিন্ন গণমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে, কানিকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল।

সেই জিজ্ঞাসাবাদের পর নাকি তার বিরুদ্ধে গোপন তথ্য পাচারের অভিযোগ উঠে এসেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হচ্ছে। কিছু প্রতিবেদনে এমনও দাবি করা হয়েছে, গত কয়েক বছর ধরে তিনি ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের কাছে গোপন সামরিক তথ্য পৌঁছে দিচ্ছিলেন।

এ ধরনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সেটিকে ইরানের নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হবে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

ইসমাইল কানিকে আগে অনেকেই নয় প্রাণের মানুষ বলতেন। কারণ বিভিন্ন সময় তিনি বিপজ্জনক পরিস্থিতি থেকে বেঁচে ফিরেছেন বলে খবর এসেছে। হাসান নাসরুল্লাহর মৃত্যুর সময়ও তিনি অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছিলেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল।

তবে বর্তমান পরিস্থিতি ভিন্ন বলে আলোচনা চলছে। নিজের দেশের ভেতরেই সন্দেহের মুখে পড়েছেন তিনি। খামেনির মতো নেতার মৃত্যু ঘিরে ওঠা প্রশ্ন পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

এই ঘটনার পর ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর ভেতরেও অস্বস্তি তৈরি হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হচ্ছে। যদি সত্যিই এমন কোনো ঘটনা ঘটে থাকে, তবে তা ইরানের গোয়েন্দা কাঠামোর জন্য বড় ধাক্কা হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

অন্যদিকে ইসরায়েল বা যুক্তরাষ্ট্র এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত সরাসরি কোনো মন্তব্য করেনি। খামেনির মৃত্যুর পর ইরানের নেতৃত্ব এবং সামরিক কাঠামোতে কী পরিবর্তন আসবে তা নিয়েও বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে।

সূত্র: সান

বাংলা৭১নিউজ/এসএএইচ

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2015-2026
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com