ঢাকা ১১:১২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম

বাড়িতে ফিরেছে আহত ফাইজা, জানে না বাবা-মা ও দুই বোন বেঁচে নেই

সৌদি আরবে ওমরাহ হজ শেষে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জের শিশু শিক্ষার্থী ফাইজা আক্তার (১০) বাড়িতে ফিরেছে। তবে সে জানে না তার বাবা-মা ও দুই বোন আর বেঁচে নেই। সে জানে তার বাবা-মা ও বোনরা বাড়িতে ফিরবে, তারা একসঙ্গে সবাই ঈদ করবে। সে বলেছে- তার মতো তার বাবা-মা ও দুই বোন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে।

সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ফাইজা সাংবাদিকদের এসব কথা বলে। তবে মানসিকভাবে সবাই ভেঙে পড়ায় কাউকে ভিডিও করতে দেয়নি পরিবারের লোকজন।

ফাইজা আরও বলেছে, নতুন জামা পড়ে তার বাবার সঙ্গে সে ঈদ মেলায় যাবে। সঙ্গে তার দুই বোনও থাকবে। ঈদে তারা অনেক আনন্দ করবে।

জানা গেছে, রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৩টার দিকে ফাইজাকে নিয়ে তার মামা তানভীর হোসেন দেশের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেন। সোমবার ভোর রাতে তারা রামগঞ্জ উপজেলার ভাটরা ইউনিয়নের নলচরা গ্রামের বাড়িতে পৌঁছান। ফাইজা ওই গ্রামের ওশিম উদ্দিন বেপারী বাড়ির প্রয়াত সৌদি প্রবাসী মিজানুর রহমানের মেজো মেয়ে। আসার পথে ফাইজার কিছু ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও ছড়িয়ে পড়ে।

ফাইজা রামগঞ্জ ভাটরা ইউনিয়নের টিউরি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যারয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী। ১৫ ফেব্রুয়ারি সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে ৫ দিন সে জেদ্দা শহরের কিংস ফয়সাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল। চিকিৎসা শেষে মামা তানভীর হোসেনের সঙ্গে সে বাড়িতে ফিরেছে।

তানভীর হোসেন জানান, ফাইজা এখনো জানে না তার বাবা-মা ও দুইবোন মারা গেছে। সে জানে তার বাবা-মা হাসপাতালে তার মতো চিকিৎসাধীন রয়েছে। তারা সুস্থ হয়ে বাড়িতে ফিরবে। সবার সাথে সে ঈদ করবে। নিহতদের মরদেহ এখনো জেদ্দা হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। মরদেহ আনার প্রক্রিয়া চলছে।

প্রসঙ্গত, মিজানুর রহমান মিজান (৪০) সৌদি প্রবাসী ছিলেন। ৩ ফেব্রুয়ারি তার স্ত্রী ও ৩ মেয়েকে নিয়ে বাড়ি থেকে সৌদিতে ওমরাহ হজে যান। ওমরাহ শেষে ১৫ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ সময় রাত ৩টার দিকে জেদ্দা থেকে সৌদির বাসায় ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান মিজান, তার স্ত্রী ফারজানা আক্তার সুমি (৩০), স্কুলপড়ুয়া মেয়ে মেহের আফরোজ (১৩) ও দেড় বছর বয়সী মেয়ে সুবহা আক্তার। দুর্ঘটনা একই গাড়ির ড্রাইভার মো. জিলানী বাবর (৩০) মারা যান। ওই দুর্ঘটনায় ফাইজা আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল।

বাংলা৭১নিউজ/এবি

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

বিভীষিকাময় মাইলস্টোন ট্র্যাজেডির এক বছর আজ

বাড়িতে ফিরেছে আহত ফাইজা, জানে না বাবা-মা ও দুই বোন বেঁচে নেই

আপডেট সময় ০৫:১৫:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সৌদি আরবে ওমরাহ হজ শেষে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জের শিশু শিক্ষার্থী ফাইজা আক্তার (১০) বাড়িতে ফিরেছে। তবে সে জানে না তার বাবা-মা ও দুই বোন আর বেঁচে নেই। সে জানে তার বাবা-মা ও বোনরা বাড়িতে ফিরবে, তারা একসঙ্গে সবাই ঈদ করবে। সে বলেছে- তার মতো তার বাবা-মা ও দুই বোন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে।

সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ফাইজা সাংবাদিকদের এসব কথা বলে। তবে মানসিকভাবে সবাই ভেঙে পড়ায় কাউকে ভিডিও করতে দেয়নি পরিবারের লোকজন।

ফাইজা আরও বলেছে, নতুন জামা পড়ে তার বাবার সঙ্গে সে ঈদ মেলায় যাবে। সঙ্গে তার দুই বোনও থাকবে। ঈদে তারা অনেক আনন্দ করবে।

জানা গেছে, রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৩টার দিকে ফাইজাকে নিয়ে তার মামা তানভীর হোসেন দেশের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেন। সোমবার ভোর রাতে তারা রামগঞ্জ উপজেলার ভাটরা ইউনিয়নের নলচরা গ্রামের বাড়িতে পৌঁছান। ফাইজা ওই গ্রামের ওশিম উদ্দিন বেপারী বাড়ির প্রয়াত সৌদি প্রবাসী মিজানুর রহমানের মেজো মেয়ে। আসার পথে ফাইজার কিছু ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও ছড়িয়ে পড়ে।

ফাইজা রামগঞ্জ ভাটরা ইউনিয়নের টিউরি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যারয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী। ১৫ ফেব্রুয়ারি সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে ৫ দিন সে জেদ্দা শহরের কিংস ফয়সাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল। চিকিৎসা শেষে মামা তানভীর হোসেনের সঙ্গে সে বাড়িতে ফিরেছে।

তানভীর হোসেন জানান, ফাইজা এখনো জানে না তার বাবা-মা ও দুইবোন মারা গেছে। সে জানে তার বাবা-মা হাসপাতালে তার মতো চিকিৎসাধীন রয়েছে। তারা সুস্থ হয়ে বাড়িতে ফিরবে। সবার সাথে সে ঈদ করবে। নিহতদের মরদেহ এখনো জেদ্দা হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। মরদেহ আনার প্রক্রিয়া চলছে।

প্রসঙ্গত, মিজানুর রহমান মিজান (৪০) সৌদি প্রবাসী ছিলেন। ৩ ফেব্রুয়ারি তার স্ত্রী ও ৩ মেয়েকে নিয়ে বাড়ি থেকে সৌদিতে ওমরাহ হজে যান। ওমরাহ শেষে ১৫ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ সময় রাত ৩টার দিকে জেদ্দা থেকে সৌদির বাসায় ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান মিজান, তার স্ত্রী ফারজানা আক্তার সুমি (৩০), স্কুলপড়ুয়া মেয়ে মেহের আফরোজ (১৩) ও দেড় বছর বয়সী মেয়ে সুবহা আক্তার। দুর্ঘটনা একই গাড়ির ড্রাইভার মো. জিলানী বাবর (৩০) মারা যান। ওই দুর্ঘটনায় ফাইজা আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল।

বাংলা৭১নিউজ/এবি