শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ০৯:৫৫ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
মালয়েশিয়ায় অবৈধ বাংলাদেশিদের জন্য সুখবর হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু এইচএসসি পরীক্ষার প্রতিটি কক্ষে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের নির্দেশ বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক সর্বোচ্চ ধাপে পৌঁছেছে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী ‘সম্মিলিত উদ্যোগে টেকসই অঙ্গদান ও কিডনি প্রতিস্থাপন ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব’ করিডরে বাংলাদেশ যুক্ত হলে ২৪ ঘণ্টায় চীনে পণ্য পৌঁছানো যাবে : বাণিজ্যমন্ত্রী ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’, যা কিছু অর্জন তা দেশের মানুষের : সংসদে প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া-চীন সফর পররাষ্ট্রনীতির মানদণ্ড নিশ্চিত করেছে দেশে ফিরে বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত প্রধানমন্ত্রীর রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে চীন ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়েছে : মির্জা ফখরুল

এপির প্রতিবেদন: চাকরির প্রলোভনে বাংলাদেশিদের ইউক্রেন যুদ্ধে যেতে বাধ্য করছে রাশিয়া

বাংলা৭১নিউজ,ডেস্ক
  • আপডেট সময় মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৬১ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশি শ্রমিকদের বেসামরিক চাকরির মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে জোরপূর্বক ইউক্রেন যুদ্ধে যেতে বাধ্য করছে রাশিয়া। এমনকি যুদ্ধে যাওয়ার জন্য অনেককে নির্যাতন, কারাদণ্ড বা মৃত্যুর হুমকি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।

মার্কিন বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)–এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, এপি রাশিয়ান সেনাবাহিনী থেকে পালিয়ে আসা তিন বাংলাদেশির সাথে কথা বলেছে, যার মধ্যে লক্ষ্মীপুরের মাকসুদুর রহমানও রয়েছেন।

রুশ সেনাবাহিনীতে নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, পরিচ্ছন্নতাকর্মীর চাকরির আশায় রাশিয়া গেলেও মস্কোতে পৌঁছানোর পর তাকে ও একদল বাংলাদেশি শ্রমিকদের এমন কিছু নথিতে স্বাক্ষর করানো হয়, যেগুলো পরে সামরিক চুক্তি বলে জানা যায়। এরপর তাদের একটি সামরিক প্রশিক্ষণ শিবিরে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে ড্রোন পরিচালনা, আহতদের সরিয়ে নেওয়া এবং ভারী অস্ত্র ব্যবহারের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

মাকসুদুর রহমান অভিযোগ করেন, তিনি প্রথমে সামরিক কাজ করতে রাজি হননি। তখন একজন রাশিয়ান কমান্ডার একটি অনুবাদ অ্যাপ ব্যবহার করে বলেন, ‘তোমাদের এজেন্টই এখানে পাঠিয়েছে। আমরা তোমাদের কিনেছি।’

মাকসুদুরসহ রাশিয়ার সেনাবাহিনী থেকে বেচে ফেরা অন্য দুই বাংলাদেশি তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে সম্মুখ সারির কাজে জোরপূর্বক বাধ্য করার বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেছেন, যুদ্ধের সম্মুখভাগে তাদের রাশিয়ান বাহিনীর আগে এগিয়ে যেতে বলা হত। এছাড়া রসদ সরবরাহ পরিবহন, আহত সৈন্যদের সরিয়ে নেওয়া এবং মৃতদের উদ্ধার করার মতো ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করতেও বাধ্য করা হতো।

নিখোঁজ আরও তিন বাংলাদেশির পরিবারও একই রকম তথ্য জানিয়েছে।

মাকসুদুর রহমান আরও বলেন, কাজ করতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে এবং তার সঙ্গে থাকা দলের অনান্য কর্মীদের ১০ বছরের জেল এবং মারধরের হুমকি দেওয়া হয়েছিল।

সাত মাস পর পালিয়ে দেশে ফিরে আসতে পারেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তারা (রাশিয়ার সেনারা) বলত, তুমি কাজ করো না কেন? কাঁদছো কেন? এবং আমাদের লাথি মারতো’।

কতজন বাংলাদেশিকে জোরপূর্বক যুদ্ধে পাঠানো হয়েছিল তা স্পষ্ট নয়। তবে সাক্ষাতকারে তিন বাংলাদেশি এপিকে জানিয়েছেন, তারা ইউক্রেনে রাশিয়ান বাহিনীর সাথে শত শত বাংলাদেশিকে দেখেছেন। এছাড়াও ভারত ও নেপালসহ দক্ষিণ এশীয় ও আফ্রিকার বেশ কয়েকটি দেশের নাগরিকদেরও একইভাবে ইউক্রেন যুদ্ধে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন তারা।

এপি জানিয়েছে, ভুক্তভোগীদের অভিযোগের পক্ষে তারা ভ্রমণসংক্রান্ত নথি, রুশ সামরিক চুক্তি, চিকিৎসা ও পুলিশ প্রতিবেদন এবং যুদ্ধক্ষেত্রের ছবিসহ নানা প্রমাণ সংগ্রহ করেছে। এসব নথিতে স্পষ্টভাবে দেখা যায়, কীভাবে বাংলাদেশি শ্রমিকদের যুদ্ধের সঙ্গে যুক্ত হতে বাধ্য করা হয়েছে।

তবে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা বাংলাদেশর সরকার কেউই এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি বলে জানিয়েছে এপি।

বাংলা৭১নিউজ/এএস

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2015-2026
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com