ঢাকা ১১:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo  ১৭ দিনে রেমিট্যান্স এলো ২৩ হাজার কোটি টাকা Logo তারেক রহমানের জন্য অধীর অপেক্ষায় দিল্লি: ভারতীয় হাইকমিশনার Logo তারেক রহমানের সফর নিয়ে ঢাকার শর্ত ‘রূঢ় ও অহংকারী’: বীণা সিক্রি Logo প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফর নিয়ে আমার কাছে নতুন তথ্য নেই: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী Logo ‘বাংলাদেশের সঙ্গে গঠনমূলক ও ইতিবাচক সম্পর্ক চায় ভারত’: জয়সওয়াল Logo ৫ ধরনের ভাতা দিচ্ছে সরকার, বাড়লো আবেদনের সময় Logo দুদক: বুধবার থেকে কাজ শুরু করবে নতুন কমিশন Logo তারেক রহমান ভারত না এলে যোগাযোগের সুযোগ বন্ধ হয়ে যাবে: সাবেক কূটনীতিক Logo শিক্ষকদের জন্য সুখবর: স্বতন্ত্র পে-স্কেলের কথা ভাবছে সরকার Logo কখনো ভাবিনি রাষ্ট্রপতি হবো, জনগণের পাশে থেকেই সেবা করব: ফখরুল

শিশু নিবিড় হত্যায় দুজনের মৃত্যুদণ্ড, একজনের ২১ বছরের আটকাদেশ

শরীয়তপুরে আলোচিত পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী হৃদয় খান নিবিড়কে হত্যার দায়ে দুজনের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একজনকে ২১ বছরের আটকাদেশ দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) দুপুরে এ রায় ঘোষণা করেন শরীয়তপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক শেখ হাফিজুর রহমান।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি হলেন শাকিল হোসেন গাজী (১৯) ও সিয়াম হোসেন (২০)। ১৬ বছর বয়সী কিশোর আসামিকে ২১ বছরের আটকাদেশ দেওয়া হয়েছে।

আদালত সূত্র জানায়, ২০২৩ সালের ১ আগস্ট বিকেলে খেলাধুলার জন্য বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয় সদর উপজেলার ডোমসার ইউনিয়নের খিলগাঁও এলাকার প্রবাসী মনির খান ও নিপা আক্তার দম্পতির ছেলে শিশু হৃদয় খান নিবিড়।

সেদিন সন্ধ্যায় নিবিড়ের মা নিপা আক্তারের ফোনে কল করে ৫০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন অপহরণকারীরা। বিষয়টি পুলিশকে জানালে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সদর উপজেলার খিলগাঁও এলাকার শাকিল হোসেন গাজী, পাবনার সিংঙ্গা এলাকার সিয়াম হোসেন ও খিলগাঁও এলাকার ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরকে আটক করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরদিন সকালে বাড়ির অদূরে পরিত্যক্ত জমি থেকে উদ্ধার করা হয় নিবিড়ের মাটিচাপা দেওয়া মরদেহ।

এ ঘটনায় নিহতের দাদা মমিন আলী খান বাদী হয়ে থানায় হত্যা মামলা করেন। পরে শরীয়তপুর চিফ জুডিসিয়াল আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন আসামিরা।

মামলাটি প্রথমে পালং মডেল থানার এক কর্মকর্তা তদন্ত করেন। এরপর মামলাটি তদন্ত করে ২০২৪ সালের ১ জুন আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। দীর্ঘ দুই বছর ৫ মাস পর ২১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক শেষে মঙ্গলবার দুপুরে বিচারক এই রায় ঘোষণা করেন।

 

এদিকে আসামিদের এজলাস থেকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়ার সময় বিক্ষুব্ধ জনতা হামলার চেষ্টা চালায়। এসময় পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

নিহত শিশু হৃদয় খান নিবিড়ের বাবা মনির হোসেন খান বলেন, ‌‘আমি দীর্ঘদিন প্রবাসী ছিলাম। হত্যাকারীরা আমার ছেলেকে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি করে। মুক্তিপণ দেওয়ার আগে তারা আমার ছেলেকে হত্যা করে মাটিচাপা দিয়ে রাখে।’

তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ দুই বছর ৫ মাস পর আমার ছেলের হত্যার রায় হয়েছে। দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ায় আমরা খুশি। অতিদ্রুত যেন এই রায় কার্যকর করা হয়।’

মা নিপা আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার ফুলের মতো শিশু ছিল। ওকে এভাবে হত্যা করা হয়েছে আমি কখনো মানতে পারিনি। আমার ছেলেকে যেভাবে হত্যা করা হয়েছে, অপরাধীদের যেন সেভাবে দ্রুত ফাঁসি দেওয়া হয়।’

বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান রোকন বলেন, ‘আমার মক্কেল সঠিক রায় পেয়েছেন। তবে যাকে আটকাদেশ দেওয়া হয়েছে, তার ব্যাপারে বাদীপক্ষের সঙ্গে কথা বলে আপিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

বাংলা৭১নিউজ/এসএকে

Tag :

 ১৭ দিনে রেমিট্যান্স এলো ২৩ হাজার কোটি টাকা

শিশু নিবিড় হত্যায় দুজনের মৃত্যুদণ্ড, একজনের ২১ বছরের আটকাদেশ

আপডেট সময় ০৫:৩৪:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬

শরীয়তপুরে আলোচিত পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী হৃদয় খান নিবিড়কে হত্যার দায়ে দুজনের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একজনকে ২১ বছরের আটকাদেশ দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) দুপুরে এ রায় ঘোষণা করেন শরীয়তপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক শেখ হাফিজুর রহমান।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি হলেন শাকিল হোসেন গাজী (১৯) ও সিয়াম হোসেন (২০)। ১৬ বছর বয়সী কিশোর আসামিকে ২১ বছরের আটকাদেশ দেওয়া হয়েছে।

আদালত সূত্র জানায়, ২০২৩ সালের ১ আগস্ট বিকেলে খেলাধুলার জন্য বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয় সদর উপজেলার ডোমসার ইউনিয়নের খিলগাঁও এলাকার প্রবাসী মনির খান ও নিপা আক্তার দম্পতির ছেলে শিশু হৃদয় খান নিবিড়।

সেদিন সন্ধ্যায় নিবিড়ের মা নিপা আক্তারের ফোনে কল করে ৫০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন অপহরণকারীরা। বিষয়টি পুলিশকে জানালে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সদর উপজেলার খিলগাঁও এলাকার শাকিল হোসেন গাজী, পাবনার সিংঙ্গা এলাকার সিয়াম হোসেন ও খিলগাঁও এলাকার ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরকে আটক করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরদিন সকালে বাড়ির অদূরে পরিত্যক্ত জমি থেকে উদ্ধার করা হয় নিবিড়ের মাটিচাপা দেওয়া মরদেহ।

এ ঘটনায় নিহতের দাদা মমিন আলী খান বাদী হয়ে থানায় হত্যা মামলা করেন। পরে শরীয়তপুর চিফ জুডিসিয়াল আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন আসামিরা।

মামলাটি প্রথমে পালং মডেল থানার এক কর্মকর্তা তদন্ত করেন। এরপর মামলাটি তদন্ত করে ২০২৪ সালের ১ জুন আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। দীর্ঘ দুই বছর ৫ মাস পর ২১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক শেষে মঙ্গলবার দুপুরে বিচারক এই রায় ঘোষণা করেন।

 

এদিকে আসামিদের এজলাস থেকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়ার সময় বিক্ষুব্ধ জনতা হামলার চেষ্টা চালায়। এসময় পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

নিহত শিশু হৃদয় খান নিবিড়ের বাবা মনির হোসেন খান বলেন, ‌‘আমি দীর্ঘদিন প্রবাসী ছিলাম। হত্যাকারীরা আমার ছেলেকে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি করে। মুক্তিপণ দেওয়ার আগে তারা আমার ছেলেকে হত্যা করে মাটিচাপা দিয়ে রাখে।’

তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ দুই বছর ৫ মাস পর আমার ছেলের হত্যার রায় হয়েছে। দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ায় আমরা খুশি। অতিদ্রুত যেন এই রায় কার্যকর করা হয়।’

মা নিপা আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার ফুলের মতো শিশু ছিল। ওকে এভাবে হত্যা করা হয়েছে আমি কখনো মানতে পারিনি। আমার ছেলেকে যেভাবে হত্যা করা হয়েছে, অপরাধীদের যেন সেভাবে দ্রুত ফাঁসি দেওয়া হয়।’

বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান রোকন বলেন, ‘আমার মক্কেল সঠিক রায় পেয়েছেন। তবে যাকে আটকাদেশ দেওয়া হয়েছে, তার ব্যাপারে বাদীপক্ষের সঙ্গে কথা বলে আপিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

বাংলা৭১নিউজ/এসএকে