ঢাকা ০৯:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo পশ্চিমবঙ্গে কংগ্রেস নেতা ও তার ছেলেকে কুপিয়ে-গুলি করে হত্যা Logo বাংলাদেশের এই জয় বিশ্বের কাছে একটি বার্তা : তামিম ইকবাল Logo তেলের বাজারের নিয়ন্ত্রণ ওপেক নয়, এখন চীনের হাতে Logo জার্মানির সঙ্গে বিশাল অঙ্কের সাবমেরিন চুক্তির দ্বারপ্রান্তে ভারত, বৈঠকের সম্ভাবনা শিগগিরই Logo শেখ হাসিনাকে কোন প্রক্রিয়ায় ফেরত পাঠাবে সেটা ভারতের সিদ্ধান্ত: চিফ প্রসিকিউটর Logo ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে ১৭ দিনের মাথায় সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের পদত্যাগ Logo রিকশা শ্রমিকদের মানবিক জীবন নিশ্চিত না হলে গণতন্ত্র অর্থহীন : সাইফুল হক Logo নেত্রকোনায় দুই পক্ষের সংঘর্ষে নারীসহ আহত ৩০ Logo ইউক্রেনজুড়ে মস্কোর হামলায় হতাহতসহ ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি Logo বাংলাদেশে প্রতিটি মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার হবে : আইনমন্ত্রী

কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট যুক্তরাষ্ট্র অন্য দেশকে নিজেদের সাম্রাজ্য মনে করে

কলম্বিয়ার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের বাস্তব হুমকি এখনো বিদ্যমান বলে মন্তব্য করেছেন কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো। বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেছেন।

পেত্রো বলেন, যুক্তরাষ্ট্র অন্যান্য দেশকে একটি মার্কিন সাম্রাজ্যের অংশ হিসেবে দেখছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কলম্বিয়ার বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দেওয়ার পরই এ মন্তব্য আসে।

তিনি মার্কিন অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা আইস-এর এজেন্টদের আচরণকে নাৎসি ব্রিগেড-এর সঙ্গে তুলনা করেন। ট্রাম্প প্রশাসন অপরাধ দমন ও অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযানের অংশ হিসেবে আইসের কার্যক্রম ব্যাপকভাবে বাড়িয়েছে।

ভেনেজুয়েলায় মার্কিন হামলা ও দেশটির নেতা নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, কলম্বিয়াকে লক্ষ্য করে সামরিক অভিযান ভালো ধারণা বলে মনে হচ্ছে।

এ ছাড়া ট্রাম্প একাধিকবার পেত্রোকে উদ্দেশ করে নিজের পিঠ বাঁচিয়ে চলতে বলেছেন বলে জানান পেত্রো, যা তিনি তীব্রভাবে নিন্দা করেন।

বুধবার সন্ধ্যায় ট্রাম্প ও পেত্রোর মধ্যে ফোনালাপ হয়। এরপর ট্রাম্প জানান, তিনি হোয়াইট হাউজে কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। ফোনালাপের পর নিজের ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে ট্রাম্প এই কথোপকথনকে একটি বড় সম্মান হিসেবে উল্লেখ করেন। সে সময় এক কলম্বিয়ান কর্মকর্তা জানান, উভয় পক্ষের বক্তব্যে ১৮০ ডিগ্রি পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে।

তবে বৃহস্পতিবার পেত্রোর বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি।

 

পেত্রো জানান, ফোনালাপটি এক ঘণ্টার কিছু কম সময় স্থায়ী হয়েছিল এবং এর বেশিরভাগ সময় আমি কথা বলেছি। আলোচনায় কলম্বিয়ায় মাদক পাচার, ভেনেজুয়েলার পরিস্থিতি এবং লাতিন আমেরিকায় যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে যা ঘটছে— এসব বিষয় উঠে আসে।

পেত্রো যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক অভিবাসনবিরোধী অভিযানের কড়া সমালোচনা করেন এবং আইস এজেন্টদের নাৎসি ব্রিগেডের মতো আচরণের অভিযোগ তোলেন।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রায়ই যুক্তরাষ্ট্রে অপরাধ ও মাদক পাচারের জন্য অভিবাসনকে দায়ী করে থাকেন এবং এ যুক্তিতে বড় পরিসরের অভিযান চালাচ্ছেন। তিনি কলম্বিয়া ও ভেনেজুয়েলার মতো দেশগুলোকে মাদক পাচার দমনে যথেষ্ট উদ্যোগ না নেওয়ার অভিযোগও করেছেন।

হোয়াইট হাউজে ফেরার পর ট্রাম্প দেশের বিভিন্ন শহরে আইস এজেন্ট মোতায়েন করেছেন। সংস্থাটি অভিবাসন আইন প্রয়োগ, অবৈধ অভিবাসন তদন্ত এবং অনথিভুক্ত অভিবাসীদের যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রত্যাবাসনে ভূমিকা রাখে।

পেত্রো বলেন, আইস এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে তারা শুধু লাতিন আমেরিকানদের রাস্তায় হয়রানি করছে না— যা আমাদের জন্য অপমানজনক— বরং তারা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদেরও হত্যা করছে।

তিনি আরও বলেন, এভাবে চলতে থাকলে বিশ্ব শাসনের স্বপ্ন দেখা যুক্তরাষ্ট্র শেষ পর্যন্ত বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন একটি দেশে পরিণত হবে। বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে কোনো সাম্রাজ্য গড়ে ওঠে না।

পেত্রোর অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র বহু দশক ধরে, বিশেষ করে লাতিন আমেরিকায়, আইন উপেক্ষা করে অন্যান্য সরকারকে একটি সাম্রাজ্যের দৃষ্টিতে দেখছে।

সূত্র: বিবিসি

বাংলা৭১নিউজ/এসএম

Tag :

পশ্চিমবঙ্গে কংগ্রেস নেতা ও তার ছেলেকে কুপিয়ে-গুলি করে হত্যা

কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট যুক্তরাষ্ট্র অন্য দেশকে নিজেদের সাম্রাজ্য মনে করে

আপডেট সময় ০৪:৩১:৪৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ জানুয়ারী ২০২৬

কলম্বিয়ার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের বাস্তব হুমকি এখনো বিদ্যমান বলে মন্তব্য করেছেন কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো। বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেছেন।

পেত্রো বলেন, যুক্তরাষ্ট্র অন্যান্য দেশকে একটি মার্কিন সাম্রাজ্যের অংশ হিসেবে দেখছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কলম্বিয়ার বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দেওয়ার পরই এ মন্তব্য আসে।

তিনি মার্কিন অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা আইস-এর এজেন্টদের আচরণকে নাৎসি ব্রিগেড-এর সঙ্গে তুলনা করেন। ট্রাম্প প্রশাসন অপরাধ দমন ও অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযানের অংশ হিসেবে আইসের কার্যক্রম ব্যাপকভাবে বাড়িয়েছে।

ভেনেজুয়েলায় মার্কিন হামলা ও দেশটির নেতা নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, কলম্বিয়াকে লক্ষ্য করে সামরিক অভিযান ভালো ধারণা বলে মনে হচ্ছে।

এ ছাড়া ট্রাম্প একাধিকবার পেত্রোকে উদ্দেশ করে নিজের পিঠ বাঁচিয়ে চলতে বলেছেন বলে জানান পেত্রো, যা তিনি তীব্রভাবে নিন্দা করেন।

বুধবার সন্ধ্যায় ট্রাম্প ও পেত্রোর মধ্যে ফোনালাপ হয়। এরপর ট্রাম্প জানান, তিনি হোয়াইট হাউজে কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। ফোনালাপের পর নিজের ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে ট্রাম্প এই কথোপকথনকে একটি বড় সম্মান হিসেবে উল্লেখ করেন। সে সময় এক কলম্বিয়ান কর্মকর্তা জানান, উভয় পক্ষের বক্তব্যে ১৮০ ডিগ্রি পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে।

তবে বৃহস্পতিবার পেত্রোর বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি।

 

পেত্রো জানান, ফোনালাপটি এক ঘণ্টার কিছু কম সময় স্থায়ী হয়েছিল এবং এর বেশিরভাগ সময় আমি কথা বলেছি। আলোচনায় কলম্বিয়ায় মাদক পাচার, ভেনেজুয়েলার পরিস্থিতি এবং লাতিন আমেরিকায় যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে যা ঘটছে— এসব বিষয় উঠে আসে।

পেত্রো যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক অভিবাসনবিরোধী অভিযানের কড়া সমালোচনা করেন এবং আইস এজেন্টদের নাৎসি ব্রিগেডের মতো আচরণের অভিযোগ তোলেন।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রায়ই যুক্তরাষ্ট্রে অপরাধ ও মাদক পাচারের জন্য অভিবাসনকে দায়ী করে থাকেন এবং এ যুক্তিতে বড় পরিসরের অভিযান চালাচ্ছেন। তিনি কলম্বিয়া ও ভেনেজুয়েলার মতো দেশগুলোকে মাদক পাচার দমনে যথেষ্ট উদ্যোগ না নেওয়ার অভিযোগও করেছেন।

হোয়াইট হাউজে ফেরার পর ট্রাম্প দেশের বিভিন্ন শহরে আইস এজেন্ট মোতায়েন করেছেন। সংস্থাটি অভিবাসন আইন প্রয়োগ, অবৈধ অভিবাসন তদন্ত এবং অনথিভুক্ত অভিবাসীদের যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রত্যাবাসনে ভূমিকা রাখে।

পেত্রো বলেন, আইস এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে তারা শুধু লাতিন আমেরিকানদের রাস্তায় হয়রানি করছে না— যা আমাদের জন্য অপমানজনক— বরং তারা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদেরও হত্যা করছে।

তিনি আরও বলেন, এভাবে চলতে থাকলে বিশ্ব শাসনের স্বপ্ন দেখা যুক্তরাষ্ট্র শেষ পর্যন্ত বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন একটি দেশে পরিণত হবে। বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে কোনো সাম্রাজ্য গড়ে ওঠে না।

পেত্রোর অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র বহু দশক ধরে, বিশেষ করে লাতিন আমেরিকায়, আইন উপেক্ষা করে অন্যান্য সরকারকে একটি সাম্রাজ্যের দৃষ্টিতে দেখছে।

সূত্র: বিবিসি

বাংলা৭১নিউজ/এসএম