ঢাকা ০৮:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo পশ্চিমবঙ্গে কংগ্রেস নেতা ও তার ছেলেকে কুপিয়ে-গুলি করে হত্যা Logo বাংলাদেশের এই জয় বিশ্বের কাছে একটি বার্তা : তামিম ইকবাল Logo তেলের বাজারের নিয়ন্ত্রণ ওপেক নয়, এখন চীনের হাতে Logo জার্মানির সঙ্গে বিশাল অঙ্কের সাবমেরিন চুক্তির দ্বারপ্রান্তে ভারত, বৈঠকের সম্ভাবনা শিগগিরই Logo শেখ হাসিনাকে কোন প্রক্রিয়ায় ফেরত পাঠাবে সেটা ভারতের সিদ্ধান্ত: চিফ প্রসিকিউটর Logo ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে ১৭ দিনের মাথায় সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের পদত্যাগ Logo রিকশা শ্রমিকদের মানবিক জীবন নিশ্চিত না হলে গণতন্ত্র অর্থহীন : সাইফুল হক Logo নেত্রকোনায় দুই পক্ষের সংঘর্ষে নারীসহ আহত ৩০ Logo ইউক্রেনজুড়ে মস্কোর হামলায় হতাহতসহ ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি Logo বাংলাদেশে প্রতিটি মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার হবে : আইনমন্ত্রী

তেলের বাজারের নিয়ন্ত্রণ ওপেক নয়, এখন চীনের হাতে

দীর্ঘদিন ধরে বৈশ্বিক তেলের বাজারে সবচেয়ে প্রভাবশালী শক্তি হিসেবে পরিচিত ছিল পেট্রোলিয়াম রপ্তানিকারক দেশগুলোর সংগঠন ওপেক। তবে সাম্প্রতিক ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে সেই চিত্র বদলাতে শুরু করেছে। তেলের বাজারে এখন সরবরাহ ও দামের ওপর চীনের প্রভাব ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

দ্য ইকোনমিস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান যুদ্ধের অন্যতম বড় অর্থনৈতিক বিস্ময় হলো হরমুজ প্রণালি প্রায় অচল হয়ে পড়লেও আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বড় ধরনের সংকটে পড়েনি। যুদ্ধ শুরুর পর গত ৩০ এপ্রিল ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম সর্বোচ্চ ১২৬ ডলারে উঠেছিল। তবে পরবর্তী সময়ে বাজারে সাময়িক উদ্বৃত্ত তৈরি হওয়ায় তেল আমদানিকারক দেশগুলো বড় ধরনের সংকটে পড়েনি।

এ পরিস্থিতি সামাল দিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে চীন। ইরান হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী তেলবাহী জাহাজে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করলে প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল উপসাগরীয় অঞ্চলে আটকে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। এটি বিশ্বের মোট দৈনিক তেল উৎপাদনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত পাইপলাইনের মাধ্যমে প্রায় ৫০ লাখ ব্যারেল তেল বিকল্প পথে সরিয়ে নেয়। যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানসহ কয়েকটি ধনী দেশও কৌশলগত মজুত থেকে তেল বাজারে ছাড়ে। এতে বৈশ্বিক সরবরাহের ওপর চাপ কিছুটা কমে।

তবে সবচেয়ে বড় ধাক্কাটি সামাল দেয় চীন। দেশটি দৈনিক অপরিশোধিত তেল আমদানি প্রায় অর্ধেকে নামিয়ে ৫৫ লাখ ব্যারেলে নিয়ে আসে। পাশাপাশি নিজেদের মজুত থেকে তেল সরবরাহ, পরিশোধিত জ্বালানি রপ্তানি সীমিত করা এবং অভ্যন্তরীণ চাহিদা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে বাজারে চাপ কমিয়ে রাখে বেইজিং।

চীনের এই পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে দেশটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল আমদানিকারক হওয়ায়। নিজেদের আমদানি কমিয়ে চীন বৈশ্বিক বাজারের চাহিদার ওপর চাপ কমিয়েছে। একই সঙ্গে পরিশোধিত জ্বালানি রপ্তানি সীমিত করায় আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহের ভারসাম্যও কিছুটা বজায় থেকেছে।

দীর্ঘদিন ধরে তেলের বাজারে সরবরাহ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করে আসছে ওপেক। সৌদি আরবসহ সংগঠনটির সদস্য দেশগুলো উৎপাদন কমিয়ে কিংবা বাড়িয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম প্রভাবিত করে থাকে। রাশিয়াসহ মিত্র দেশগুলোকে নিয়ে যুদ্ধের আগে বিশ্বের অপরিশোধিত তেল উৎপাদনের প্রায় অর্ধেকের ওপর এই জোটের নিয়ন্ত্রণ ছিল।

তবে চীনের বর্তমান ভূমিকা ওপেকের প্রচলিত কৌশলের চেয়ে ভিন্ন। ওপেক মূলত উৎপাদন নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে বাজারে প্রভাব ফেলে। অন্যদিকে চীন বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ক্রেতা হিসেবে নিজের চাহিদা ও মজুত ব্যবস্থাপনাকে ব্যবহার করে বাজারে প্রভাব তৈরি করছে।

চীনের এই বাজারক্ষমতা নতুন নয়। বার্লির মতো বিভিন্ন পণ্যের সবচেয়ে বড় ক্রেতা হওয়ার পাশাপাশি বিরল মৃত্তিকা পরিশোধনেও দেশটির বড় ধরনের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে নিজেদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা ব্যবহার করে চীন অন্য দেশগুলোর ওপর চাপ তৈরির নজিরও রেখেছে।

তবে তেলের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন। বড় ক্রেতা হিসেবে চীন নিজের বাজারক্ষমতা ব্যবহার করায় অন্যান্য তেল আমদানিকারক দেশও এর সুফল পাচ্ছে। চীনের মজুত থেকে তেল সরবরাহ এবং আমদানি কমানোর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহের ঘাটতি তুলনামূলকভাবে কমেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ভবিষ্যতে চীন যদি তেলের দামের ওঠানামা নিয়ন্ত্রণে এমন ভূমিকা ধরে রাখতে পারে, তাহলে তেল আমদানিকারক দেশ ও বিনিয়োগকারীরা লাভবান হতে পারেন। তবে একই সঙ্গে তেলের বাজারের ওপর একটি দেশের অতিরিক্ত প্রভাব তৈরি হওয়াও উদ্বেগের বিষয়।

তবে দীর্ঘ মেয়াদে তেলের বাজারে ক্ষমতার ভারসাম্য আবার পরিবর্তিত হতে পারে। উপসাগরীয় সংকট কাটলে বাজারে বড় ধরনের অপরিশোধিত তেল উদ্বৃত্ত তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একই সময়ে ওপেকও আগের তুলনায় দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। সংযুক্ত আরব আমিরাত ইতোমধ্যে সংগঠনটি থেকে বেরিয়ে গেছে এবং অন্যান্য সদস্য দেশের মধ্যেও উৎপাদন বাড়ানোর আগ্রহ রয়েছে।

অন্যদিকে দীর্ঘ মেয়াদে তেলের সরবরাহ কমার হার চাহিদার তুলনায় বেশি হয়ে যেতে পারে। নতুন তেলক্ষেত্রে পর্যাপ্ত বিনিয়োগ না হলে ২০৩০ সালের পর বৈশ্বিক বাজারে বড় ধরনের ঘাটতি দেখা দিতে পারে। সে ক্ষেত্রে ওপেকের প্রভাব আবারও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে উপসাগরীয় দেশগুলোর রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন তেল কোম্পানিগুলোর নতুন বড় প্রকল্পে বিনিয়োগের সক্ষমতা রয়েছে।

চীনের তেলের চাহিদাও ভবিষ্যতে কমতে পারে। দেশটিতে বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানি, উচ্চগতির রেল এবং কয়লাভিত্তিক বিকল্প শিল্পের বিস্তারের কারণে পরিবহন ও শিল্প খাতে তেলের ওপর নির্ভরতা কমছে।

ফলে ভবিষ্যতে চীন হয়তো আগের মতো বিপুল পরিমাণ তেল মজুত করবে না। বাজারে উদ্বৃত্ত দেখা দিলে তারা কম তেল কিনতে পারে এবং সংকটের সময়ও আমদানি কমানোর প্রবণতা তুলনামূলকভাবে সীমিত থাকতে পারে। এতে বৈশ্বিক তেলের বাজারে চীনের বর্তমান প্রভাবও ধীরে ধীরে কমে আসতে পারে।

ইরান যুদ্ধের সময় চীন মূলত নিজেদের স্বার্থেই তেলের বাজারে স্থিতিশীলতা এনেছে। তবে এর ফলে অন্যান্য আমদানিকারক দেশগুলো কিছুটা সময় পেয়েছে। এই সময় কাজে লাগিয়ে তাদের তেলের সরবরাহের উৎস বহুমুখী করার পাশাপাশি জ্বালানি হিসেবে তেলের ওপর নির্ভরতা কমানোর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

বিশ্লেষকদের মতে, কোনো একক দেশ বা শাসনব্যবস্থার ওপর জ্বালানি নির্ভরতা কমানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো তেলের প্রয়োজনই কমিয়ে আনা।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ

Tag :

পশ্চিমবঙ্গে কংগ্রেস নেতা ও তার ছেলেকে কুপিয়ে-গুলি করে হত্যা

তেলের বাজারের নিয়ন্ত্রণ ওপেক নয়, এখন চীনের হাতে

আপডেট সময় ০৭:২৩:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬

দীর্ঘদিন ধরে বৈশ্বিক তেলের বাজারে সবচেয়ে প্রভাবশালী শক্তি হিসেবে পরিচিত ছিল পেট্রোলিয়াম রপ্তানিকারক দেশগুলোর সংগঠন ওপেক। তবে সাম্প্রতিক ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে সেই চিত্র বদলাতে শুরু করেছে। তেলের বাজারে এখন সরবরাহ ও দামের ওপর চীনের প্রভাব ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

দ্য ইকোনমিস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান যুদ্ধের অন্যতম বড় অর্থনৈতিক বিস্ময় হলো হরমুজ প্রণালি প্রায় অচল হয়ে পড়লেও আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বড় ধরনের সংকটে পড়েনি। যুদ্ধ শুরুর পর গত ৩০ এপ্রিল ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম সর্বোচ্চ ১২৬ ডলারে উঠেছিল। তবে পরবর্তী সময়ে বাজারে সাময়িক উদ্বৃত্ত তৈরি হওয়ায় তেল আমদানিকারক দেশগুলো বড় ধরনের সংকটে পড়েনি।

এ পরিস্থিতি সামাল দিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে চীন। ইরান হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী তেলবাহী জাহাজে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করলে প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল উপসাগরীয় অঞ্চলে আটকে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। এটি বিশ্বের মোট দৈনিক তেল উৎপাদনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত পাইপলাইনের মাধ্যমে প্রায় ৫০ লাখ ব্যারেল তেল বিকল্প পথে সরিয়ে নেয়। যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানসহ কয়েকটি ধনী দেশও কৌশলগত মজুত থেকে তেল বাজারে ছাড়ে। এতে বৈশ্বিক সরবরাহের ওপর চাপ কিছুটা কমে।

তবে সবচেয়ে বড় ধাক্কাটি সামাল দেয় চীন। দেশটি দৈনিক অপরিশোধিত তেল আমদানি প্রায় অর্ধেকে নামিয়ে ৫৫ লাখ ব্যারেলে নিয়ে আসে। পাশাপাশি নিজেদের মজুত থেকে তেল সরবরাহ, পরিশোধিত জ্বালানি রপ্তানি সীমিত করা এবং অভ্যন্তরীণ চাহিদা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে বাজারে চাপ কমিয়ে রাখে বেইজিং।

চীনের এই পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে দেশটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল আমদানিকারক হওয়ায়। নিজেদের আমদানি কমিয়ে চীন বৈশ্বিক বাজারের চাহিদার ওপর চাপ কমিয়েছে। একই সঙ্গে পরিশোধিত জ্বালানি রপ্তানি সীমিত করায় আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহের ভারসাম্যও কিছুটা বজায় থেকেছে।

দীর্ঘদিন ধরে তেলের বাজারে সরবরাহ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করে আসছে ওপেক। সৌদি আরবসহ সংগঠনটির সদস্য দেশগুলো উৎপাদন কমিয়ে কিংবা বাড়িয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম প্রভাবিত করে থাকে। রাশিয়াসহ মিত্র দেশগুলোকে নিয়ে যুদ্ধের আগে বিশ্বের অপরিশোধিত তেল উৎপাদনের প্রায় অর্ধেকের ওপর এই জোটের নিয়ন্ত্রণ ছিল।

তবে চীনের বর্তমান ভূমিকা ওপেকের প্রচলিত কৌশলের চেয়ে ভিন্ন। ওপেক মূলত উৎপাদন নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে বাজারে প্রভাব ফেলে। অন্যদিকে চীন বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ক্রেতা হিসেবে নিজের চাহিদা ও মজুত ব্যবস্থাপনাকে ব্যবহার করে বাজারে প্রভাব তৈরি করছে।

চীনের এই বাজারক্ষমতা নতুন নয়। বার্লির মতো বিভিন্ন পণ্যের সবচেয়ে বড় ক্রেতা হওয়ার পাশাপাশি বিরল মৃত্তিকা পরিশোধনেও দেশটির বড় ধরনের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে নিজেদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা ব্যবহার করে চীন অন্য দেশগুলোর ওপর চাপ তৈরির নজিরও রেখেছে।

তবে তেলের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন। বড় ক্রেতা হিসেবে চীন নিজের বাজারক্ষমতা ব্যবহার করায় অন্যান্য তেল আমদানিকারক দেশও এর সুফল পাচ্ছে। চীনের মজুত থেকে তেল সরবরাহ এবং আমদানি কমানোর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহের ঘাটতি তুলনামূলকভাবে কমেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ভবিষ্যতে চীন যদি তেলের দামের ওঠানামা নিয়ন্ত্রণে এমন ভূমিকা ধরে রাখতে পারে, তাহলে তেল আমদানিকারক দেশ ও বিনিয়োগকারীরা লাভবান হতে পারেন। তবে একই সঙ্গে তেলের বাজারের ওপর একটি দেশের অতিরিক্ত প্রভাব তৈরি হওয়াও উদ্বেগের বিষয়।

তবে দীর্ঘ মেয়াদে তেলের বাজারে ক্ষমতার ভারসাম্য আবার পরিবর্তিত হতে পারে। উপসাগরীয় সংকট কাটলে বাজারে বড় ধরনের অপরিশোধিত তেল উদ্বৃত্ত তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একই সময়ে ওপেকও আগের তুলনায় দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। সংযুক্ত আরব আমিরাত ইতোমধ্যে সংগঠনটি থেকে বেরিয়ে গেছে এবং অন্যান্য সদস্য দেশের মধ্যেও উৎপাদন বাড়ানোর আগ্রহ রয়েছে।

অন্যদিকে দীর্ঘ মেয়াদে তেলের সরবরাহ কমার হার চাহিদার তুলনায় বেশি হয়ে যেতে পারে। নতুন তেলক্ষেত্রে পর্যাপ্ত বিনিয়োগ না হলে ২০৩০ সালের পর বৈশ্বিক বাজারে বড় ধরনের ঘাটতি দেখা দিতে পারে। সে ক্ষেত্রে ওপেকের প্রভাব আবারও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে উপসাগরীয় দেশগুলোর রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন তেল কোম্পানিগুলোর নতুন বড় প্রকল্পে বিনিয়োগের সক্ষমতা রয়েছে।

চীনের তেলের চাহিদাও ভবিষ্যতে কমতে পারে। দেশটিতে বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানি, উচ্চগতির রেল এবং কয়লাভিত্তিক বিকল্প শিল্পের বিস্তারের কারণে পরিবহন ও শিল্প খাতে তেলের ওপর নির্ভরতা কমছে।

ফলে ভবিষ্যতে চীন হয়তো আগের মতো বিপুল পরিমাণ তেল মজুত করবে না। বাজারে উদ্বৃত্ত দেখা দিলে তারা কম তেল কিনতে পারে এবং সংকটের সময়ও আমদানি কমানোর প্রবণতা তুলনামূলকভাবে সীমিত থাকতে পারে। এতে বৈশ্বিক তেলের বাজারে চীনের বর্তমান প্রভাবও ধীরে ধীরে কমে আসতে পারে।

ইরান যুদ্ধের সময় চীন মূলত নিজেদের স্বার্থেই তেলের বাজারে স্থিতিশীলতা এনেছে। তবে এর ফলে অন্যান্য আমদানিকারক দেশগুলো কিছুটা সময় পেয়েছে। এই সময় কাজে লাগিয়ে তাদের তেলের সরবরাহের উৎস বহুমুখী করার পাশাপাশি জ্বালানি হিসেবে তেলের ওপর নির্ভরতা কমানোর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

বিশ্লেষকদের মতে, কোনো একক দেশ বা শাসনব্যবস্থার ওপর জ্বালানি নির্ভরতা কমানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো তেলের প্রয়োজনই কমিয়ে আনা।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ