ঢাকা ০৮:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo পশ্চিমবঙ্গে কংগ্রেস নেতা ও তার ছেলেকে কুপিয়ে-গুলি করে হত্যা Logo বাংলাদেশের এই জয় বিশ্বের কাছে একটি বার্তা : তামিম ইকবাল Logo তেলের বাজারের নিয়ন্ত্রণ ওপেক নয়, এখন চীনের হাতে Logo জার্মানির সঙ্গে বিশাল অঙ্কের সাবমেরিন চুক্তির দ্বারপ্রান্তে ভারত, বৈঠকের সম্ভাবনা শিগগিরই Logo শেখ হাসিনাকে কোন প্রক্রিয়ায় ফেরত পাঠাবে সেটা ভারতের সিদ্ধান্ত: চিফ প্রসিকিউটর Logo ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে ১৭ দিনের মাথায় সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের পদত্যাগ Logo রিকশা শ্রমিকদের মানবিক জীবন নিশ্চিত না হলে গণতন্ত্র অর্থহীন : সাইফুল হক Logo নেত্রকোনায় দুই পক্ষের সংঘর্ষে নারীসহ আহত ৩০ Logo ইউক্রেনজুড়ে মস্কোর হামলায় হতাহতসহ ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি Logo বাংলাদেশে প্রতিটি মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার হবে : আইনমন্ত্রী

ভারতের ওপর ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের বিলে সম্মতি দিলেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়ার তেল কেনে—এমন দেশগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের একটি বিলে সমর্থন দিয়েছেন। প্রস্তাবিত এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় চীন, ভারত, ব্রাজিলের মতো দেশগুলোর পণ্যের ওপর সর্বোচ্চ ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা পেতে পারে হোয়াইট হাউজ। এ তথ্য জানিয়েছেন প্রভাবশালী রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসি গ্রাহাম।

বুধবার (৭ জানুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রের সাউথ ক্যারোলাইনা অঙ্গরাজ্যের সিনেটর গ্রাহাম বলেন, ট্রাম্পের সঙ্গে একটি ‘খুবই ফলপ্রসূ’ বৈঠকের পর তিনি এই দ্বিদলীয় বিলের অনুমোদন বা ‘গ্রিনলাইট’ দিয়েছেন।

ডেমোক্র্যাট সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথালের সঙ্গে যৌথভাবে প্রণীত ‘স্যানকশনিং রাশিয়া অ্যাক্ট’ নামে এই বিলটি পাস হলে রাশিয়ার জ্বালানি খাতের সঙ্গে ব্যবসা করা দেশগুলোর আমদানির ওপর উচ্চমাত্রার শুল্ক আরোপের এখতিয়ার পাবে হোয়াইট হাউজ।

গ্রাহাম এক বিবৃতিতে বলেন, ‘এই বিল প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে সেই দেশগুলোকে শাস্তি দেওয়ার সুযোগ দেবে, যারা সস্তা রুশ তেল কিনে ভ্লাদিমির পুতিনের যুদ্ধযন্ত্রকে জ্বালানি জোগাচ্ছে।’ তার কথায়, ‘চীন, ভারত ও ব্রাজিলের মতো দেশগুলোর ওপর এই বিল প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে বিপুল চাপ প্রয়োগের ক্ষমতা দেবে, যাতে তারা রাশিয়ার সস্তা তেল কেনা বন্ধ করে—যে তেল ইউক্রেনের বিরুদ্ধে পুতিনের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের অর্থ জোগাচ্ছে।’

রুশ তেলের বড় ক্রেতা চীন-ভারত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও চীন ও ভারত রাশিয়ার তেলের বড় ক্রেতা হিসেবেই রয়ে গেছে। জ্বালানি ও পরিবেশবিষয়ক গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর রিসার্চ অন এনার্জি অ্যান্ড ক্লিন এয়ারের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, নভেম্বর মাসে রাশিয়ার মোট অপরিশোধিত তেল রপ্তানির প্রায় অর্ধেক কিনেছে চীন, আর ভারতের ভাগ ছিল প্রায় ৩৮ শতাংশ। ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের পর ব্রাজিলও ভর্তুকিযুক্ত রুশ তেল কেনা বাড়ালেও সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সেই আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

রাশিয়ার ওপর চাপ বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের এই উদ্যোগ এমন এক সময়ে এলো, যখন ওয়াশিংটনের মধ্যস্থতায় মস্কো ও কিয়েভের মধ্যে প্রায় চার বছর ধরে চলা যুদ্ধের অবসান ঘটাতে আলোচনা চলছে।

মঙ্গলবার প্রথমবারের মতো ট্রাম্প প্রশাসন ইউক্রেনের জন্য বাধ্যতামূলক নিরাপত্তা নিশ্চয়তার ইউরোপীয় প্রস্তাবগুলোতে সমর্থন জানায়। এসব প্রস্তাবের মধ্যে যুদ্ধ-পরবর্তী অস্ত্রবিরতি পর্যবেক্ষণ এবং ইউরোপের নেতৃত্বে একটি বহুজাতিক বাহিনী মোতায়েনের বিষয়ও রয়েছে।

তবে রাশিয়া এরই মধ্যে জানিয়েছে, ইউক্রেনে ন্যাটো সদস্য দেশগুলোর সেনা মোতায়েন তারা মেনে নেবে না। এ বিষয়ে মস্কোর সমর্থনের কোনো ইঙ্গিত এখনো পাওয়া যায়নি।

গ্রাহাম বলেন, ইউক্রেন পরিস্থিতির বর্তমান প্রেক্ষাপটে এই বিল অত্যন্ত সময়োপযোগী। তার দাবি, ‘শান্তির স্বার্থে ইউক্রেন ছাড় দিচ্ছে, আর পুতিন কেবল কথাই বলে যাচ্ছেন—নিরীহ মানুষ হত্যা অব্যাহত রেখেছেন।’

সূত্র: আল-জাজিরা

Tag :

পশ্চিমবঙ্গে কংগ্রেস নেতা ও তার ছেলেকে কুপিয়ে-গুলি করে হত্যা

ভারতের ওপর ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের বিলে সম্মতি দিলেন ট্রাম্প

আপডেট সময় ১২:২৫:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়ার তেল কেনে—এমন দেশগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের একটি বিলে সমর্থন দিয়েছেন। প্রস্তাবিত এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় চীন, ভারত, ব্রাজিলের মতো দেশগুলোর পণ্যের ওপর সর্বোচ্চ ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা পেতে পারে হোয়াইট হাউজ। এ তথ্য জানিয়েছেন প্রভাবশালী রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসি গ্রাহাম।

বুধবার (৭ জানুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রের সাউথ ক্যারোলাইনা অঙ্গরাজ্যের সিনেটর গ্রাহাম বলেন, ট্রাম্পের সঙ্গে একটি ‘খুবই ফলপ্রসূ’ বৈঠকের পর তিনি এই দ্বিদলীয় বিলের অনুমোদন বা ‘গ্রিনলাইট’ দিয়েছেন।

ডেমোক্র্যাট সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথালের সঙ্গে যৌথভাবে প্রণীত ‘স্যানকশনিং রাশিয়া অ্যাক্ট’ নামে এই বিলটি পাস হলে রাশিয়ার জ্বালানি খাতের সঙ্গে ব্যবসা করা দেশগুলোর আমদানির ওপর উচ্চমাত্রার শুল্ক আরোপের এখতিয়ার পাবে হোয়াইট হাউজ।

গ্রাহাম এক বিবৃতিতে বলেন, ‘এই বিল প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে সেই দেশগুলোকে শাস্তি দেওয়ার সুযোগ দেবে, যারা সস্তা রুশ তেল কিনে ভ্লাদিমির পুতিনের যুদ্ধযন্ত্রকে জ্বালানি জোগাচ্ছে।’ তার কথায়, ‘চীন, ভারত ও ব্রাজিলের মতো দেশগুলোর ওপর এই বিল প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে বিপুল চাপ প্রয়োগের ক্ষমতা দেবে, যাতে তারা রাশিয়ার সস্তা তেল কেনা বন্ধ করে—যে তেল ইউক্রেনের বিরুদ্ধে পুতিনের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের অর্থ জোগাচ্ছে।’

রুশ তেলের বড় ক্রেতা চীন-ভারত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও চীন ও ভারত রাশিয়ার তেলের বড় ক্রেতা হিসেবেই রয়ে গেছে। জ্বালানি ও পরিবেশবিষয়ক গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর রিসার্চ অন এনার্জি অ্যান্ড ক্লিন এয়ারের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, নভেম্বর মাসে রাশিয়ার মোট অপরিশোধিত তেল রপ্তানির প্রায় অর্ধেক কিনেছে চীন, আর ভারতের ভাগ ছিল প্রায় ৩৮ শতাংশ। ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের পর ব্রাজিলও ভর্তুকিযুক্ত রুশ তেল কেনা বাড়ালেও সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সেই আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

রাশিয়ার ওপর চাপ বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের এই উদ্যোগ এমন এক সময়ে এলো, যখন ওয়াশিংটনের মধ্যস্থতায় মস্কো ও কিয়েভের মধ্যে প্রায় চার বছর ধরে চলা যুদ্ধের অবসান ঘটাতে আলোচনা চলছে।

মঙ্গলবার প্রথমবারের মতো ট্রাম্প প্রশাসন ইউক্রেনের জন্য বাধ্যতামূলক নিরাপত্তা নিশ্চয়তার ইউরোপীয় প্রস্তাবগুলোতে সমর্থন জানায়। এসব প্রস্তাবের মধ্যে যুদ্ধ-পরবর্তী অস্ত্রবিরতি পর্যবেক্ষণ এবং ইউরোপের নেতৃত্বে একটি বহুজাতিক বাহিনী মোতায়েনের বিষয়ও রয়েছে।

তবে রাশিয়া এরই মধ্যে জানিয়েছে, ইউক্রেনে ন্যাটো সদস্য দেশগুলোর সেনা মোতায়েন তারা মেনে নেবে না। এ বিষয়ে মস্কোর সমর্থনের কোনো ইঙ্গিত এখনো পাওয়া যায়নি।

গ্রাহাম বলেন, ইউক্রেন পরিস্থিতির বর্তমান প্রেক্ষাপটে এই বিল অত্যন্ত সময়োপযোগী। তার দাবি, ‘শান্তির স্বার্থে ইউক্রেন ছাড় দিচ্ছে, আর পুতিন কেবল কথাই বলে যাচ্ছেন—নিরীহ মানুষ হত্যা অব্যাহত রেখেছেন।’

সূত্র: আল-জাজিরা